রাত যখন গভীর Season:02 Part :41

 #রাত যখন গভীর 

#জান্নাতুল মাওয়া মহুয়া 

#(jannatul mawa moho)

Season:02

Part :41

************
রাত যখন গভীর Season:02 Part :41
রাত যখন গভীর Season:02 Part :41


রিনির বাসার সামনে গাড়ি থামিয়েছে ইনতিয়াজ।
তখনই, ইনতিয়াজ বলেঃ আরেকবার ধন্যবাদ রিনি। সত্যি, তোমার ভালোবাসি কথা টা আমার প্রাণে প্রশান্তি এনে দিয়েছে। এতোদিন যে কেমনে ছিলাম তা আমি এবং আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।জীবনের প্রাপ্তি। সারাজীবন ভালোবেসে যেও এভাবে রিনি।
রিনি বলেঃ স্বাগতম। ইনশাআল্লাহ এখন সব ঠিক হয়ে যাবে। ভালোবাসা দিয়ে পুষিয়ে দিবো সব।
রিনি গাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে। তখনই, আবার ইনতিয়াজ বলেঃ পেছনের সিটের দরজা টা খুলো।
রিনি দরজা খুলে দেখে, অনেক গুলো চকলেট এবং আইসক্রিম সাথে ফুচকা ও আছে। রিনি অনেক খুশি হয়ে গেছে।
রিনি বলেঃ ওয়াও।অনেক অনেক ধন্যবাদ। লাভ ও মাই প্রিন্স। বলে চিৎকার দিয়ে ইনতিয়াজ এর কাছে চলে আসে।ইনতিয়াজ এর কাছে এসে, ইনতিয়াজ এর গালে একটা চুমু দিয়ে দেয়।
ইনতিয়াজ বলেঃ তাড়াতাড়ি গাড়ি বের করে কষ্ট করে এসব নিয়েছি।আমার কষ্ট সার্থক হলো।এটা বলে একটা শয়তানি হাসি দেয়।
রিনি লজ্জা তে একদম শেষ হয়ে যাচ্ছে।রিনি তাড়াতাড়ি জিনিস গুলো বের করে নেই।
রিনি বলেঃ আমি যাচ্ছি।
ইনতিয়াজ বলেঃ আচ্ছা যাও।অতি শীঘ্রই আবার দেখা হবে। ঐশী কখন চলে যাবে?
আজ চলে গেলে, আজ রাতে তোমার সাথে গল্প করবো?
কি বলো?
রিনি বলেঃ একদম ই না।আমি ঘুমাবো।আর আপনি একদম চালাকি করবেন না কিন্তু। দেইখেন!!!
ইনতিয়াজ বলেঃ পালাও যতো পারো পালিয়ে যাও।বিয়ের পর কোন বাহানা কাজে আসবে না।রিনি, ভালোবাসি।
রিনি বলেঃ আমি ও ভালোবাসি।
ইনতিয়াজ বলেঃ আচ্ছা তাহলে যায়।
রিনি বলেঃ জি।
ইনতিয়াজ চলে গেল। রিনির খারাপ লাগছে। রিনির অনেক ভালো লাগে যখন ইনতিয়াজ আশেপাশে থাকে।রিনি বাসার বেল বাজালো।
ঐশী এসে দরজা খুলে দেয়।
ঐশী রিনিকে জড়িয়ে ধরে। রিনিও জড়িয়ে ধরে। বেস্ট ফ্রেন্ড কে জড়িয়ে ধরাতে একটা আলাদা প্রশান্তি পাওয়া যায়। যাদের বেস্ট ফ্রেন্ড আছে তারা ই বুঝতে পারে এটা।
ঐশী বলেঃ এখন কেমন আছিস?অনেক চিন্তা হচ্ছে লো তোর জন্য।
রিনি বলেঃ আলহামদুলিল্লাহ। দেখ কি আনছি?
চল একসাথে খাই।
ঐশী বলেঃ চল।আন্টি রা কখন আসবে?
রিনি বলেঃ জানি না। কখন যে আসে। মনে হচ্ছে কাল, পরশু চলে আসবে।
দুজন মিলে খাচ্ছে। হঠাৎ করে, ঐশী বলেঃ রিনি তোর মুখ দেখতে এতো হাসি খুশি লাগছে কেন?
কি ব্যাপার আমাকে বলবি না?
রিনি কিছু টা থতমত খেয়ে পড়ে। কি বলবে সে এখন।
রিনি বলেঃ কই না তো?
তোর জাস্ট মনে হচ্ছে এমন।
ঐশী বলেঃ মেরি জান।তেরি রাগ রাগছে ওয়াকিফ হো মে।
বলবি না?
যা কথা নাই তোর সাথে।
রিনি বলেঃ আসলে।
তোই কিন্তু মাইন্ড করবি না কিন্তু।
ঐশী বলেঃ আমি আবার মাইন্ড। তোর নেংটা কালের পিক দেখে মাইন্ড করিনি।কথা শুনে মাইন্ড করবো নাকি।
রিনি বলেঃ মাহমুদ স্যার আমাকে প্রপোজ করেছে।
রিনি ইচ্ছে করে, বাকি সব কিছু লুকিয়েছে।কারণ রিনি চাই না।এসব কেউ জানুক।
ঐশী বলেঃ হি হি।মাম্মা। আমি তো জানতাম।
রিনি কিছু টা অবাক হয়ে গেছে। কেমনে কি?
রিনি বলেঃ কেমনে জানলি?
ঐশী বলেঃ স্যার খুব অদ্ভুত ভাবে তোর দিকে তাকিয়ে থাকতো।স্যার এর চোখে তোর জন্য ভালোবাসা দেখছি।সবার চোখে ব্যাপারটা ধরা না পড়লে ও ঐশীর চোখে ধরা পড়েছে।এখন তো মনে হচ্ছে, তোরে স্যার ইচ্ছে করে বলেছিলো যে তোই ভার্সিটি তে চান্স পাবি।স্যার এমন বলাতে তোই যে হারে জেদি হয়ে গেছিলি পড়ালেখা নিয়ে। মাহমুদ স্যার তুক্কু মাহমুদ জিজু অনেক চালাক।হি হি
রিনি বলেঃ আমি তো বুঝতে ও পারিনি।হুম এখন বুঝতাছি।তোর স্যার আমার ও স্যার।
ঐশী বলেঃ তোই যে হাদারাম।না বুঝতে পারার ই কথা।ঢঙ্গি স্যার মারাইস না।তোর হবু জামাই সে।আর আমার জিজু।
তা তোই উত্তর কি দিলি?
রিনি বলেঃ আমি ও ভালোবাসি বলছি।
ঐশী বলেঃ বাহ।মিয়া বিবি রাজি আব কিয়া কারে গা কাজী!!!
তো বিয়ে কখন করবি?
বাসায় জানাবি না?
রিনি বলেঃ ধুর এখন না।সামনে জান্নাত কালামনির বিয়ে হবে।ততদিনে আমার ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হবে। তারপর মাহমুদ স্যার ই বলবে।
ঐশী বলেঃ হুম।তো চল একটা মুভি দেখি।
দুজন মুভি দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়লো।
💮
💮
মুগ্ধের ভালো লাগছে, রাতের দৃশ্য দেখতে।সাথে তো ঝর্ণার জলের শব্দ আছেই।
একটু পর, মুগ্ধ কারোর পদধ্বনির শব্দ শুনতে পেল।
মুগ্ধ পিছনে ফিরে দেখে,সুমি কফি মগ হাতে নিয়ে এগিয়ে আসছে মুগ্ধের দিকে।
সুমি বলেঃ জানতাম।তুমি না ঘুমিয়ে থাকবে!
মুগ্ধ বলেঃ রহমান কি ঘুমিয়ে পড়লো নাকি?
সুমি বলেঃ আরে নাহ।সে তার কফি বানিয়ে আসছে।
মুগ্ধ বলেঃ ওহ আচ্ছা।
সুমি বলেঃ নাও কফি খাও।মন খারাপ নাকি?
দেখতে উদাস মনে হচ্ছে?
মুগ্ধ বলেঃ
"এখন তার ধ্বনি শোনার বায়না মন আর নেইনা।
ইচ্ছে হলে ও সে প্রকাশ করে না।
হৃদয়ে পাথর চাপা দিয়ে আছে সে।
তার,তার অনেক ইচ্ছে করে তার ধ্বনি শুনবে।
কিন্তু সে অনেক দূরে।"
হয়তো হারিয়ে ফেলতে চলেছি?
কেমনে মন ভালো থাকবে বলো?
তখনই, পিছনে থেকে রহমান বলেঃ হার মানলে তো হবে না। মিস্টার ডাক্তার।
সব রোগের চিকিৎসা তো আছে তোমার কাছে। তবে নিজের রোগের চিকিৎসা নিজে করে নিতে পারছো না।
মুগ্ধ বলেঃ চেষ্টা তো অনেক করেছি।কিন্তু সফল হচ্ছিনা।
সুমি বলেঃ মুগ্ধ চিন্তা করিও না।তোমার ই হবে জান্নাত। আমি ও রহমান তোমার সাথে আছি।
রহমান বলেঃ মুগ্ধ, সুমি একদম ঠিক বলেছে।
সুমি বলেঃ মুগ্ধ চলো তাঁবু তে ফিরে যায়।
সকালে ফিরে যেতে হবে।
সবাই ফিরে আসে। মুগ্ধ ও ঘুমিয়ে পড়লো। খুব ভোরে সবাই ঘুম থেকে উঠে পড়ে। রাবেয়া ঘুম থেকে উঠে দেখে,তার পাশে একটা শাড়ি এবং কিছু গহনা রাখা।
সুমি ও ঘুম থেকে উঠে তাই দেখতে পেল।
জান্নাত ও তাই দেখতে পেল।
মেয়েরা রেডি হয়ে গেছে। সবাই বাইরে এসে দেখে ছেলেরা সবাই পাঞ্জাবি পড়ে আছে। রহমান বলেঃ কেমন লাগলো আমার সারপ্রাইজ।
সবাই বলেঃ অনেক ভালো লাগলো।
কামাল বলেঃ চলো সবাই। নৌকা রেডি?
সুমি বলেঃ নৌকা?
রহমান বলেঃ তোমাদের নৌকা ভ্রমণ করানোর পর ফিরে যাবো।
সবাই অনেক খুশি। সবাই নৌকা তে উঠে পড়ে।
সুমি রহমানের সামনে বসেছে।
সুমির পরনে কমলা রঙের শাড়ি, হাতের মধ্যে সবুজ রঙের চুড়ি, চুলের মধ্যে খোপা করেছে।
রহমান সুমির কানে কানে বলেঃ অসম্ভব সুন্দরী লাগছে।
সুমি বলেঃ তাই বুঝি?
রহমান বলেঃ হুম আমার বউ।
সুমি বলেঃ ধন্যবাদ, প্রিয় বর।
জান্নাত বসে আছে। তাকিয়ে আছে। দূরের সেই জল স্রোত। মুগ্ধ ও চুপচাপ বসে আছে।
রাবেয়া ও কামাল একসাথে বসে আছে। রাবেয়া ও অনেক খুশি। কামাল ও অনেক খুশি কারণ রাবেয়া খুশি তাই।
বেশ কিছু সময় পর,সবাই নৌকা থেকে নেমে যাই। কামাল বলেঃ চলো গাড়ি তে উঠে পড়ো।
সবাই গাড়ি তে উঠে পড়ে। দীর্ঘ ৪ ঘন্টা পর সবাই ফিরে আসে। যার যার বাসায় সে সে চলে গেল। রাবেয়া ও কামাল বাসার সামনে এসে দাড়িয়ে আছে।
অনেক্ক্ষণ ধরে, বেল টিপচে কেউ দরজা খুলে দিচ্ছে না। অবশেষে, কামার বলেঃ চাবি আরেকটা আছে মনে হয় আমার কাছে।
কামাল চাবি পেয়ে যায়। কামার দরজা খুলে। রাবেয়া বলেঃ রিনি কই?
কামাল বলেঃ রুমে গিয়ে দেখো?
রাবেয়া রুমে প্রবেশ করে দেখে,রিনি ও ঐশী ঘুমিয়ে আছে।
রাবেয়া দরজা বন্ধ করে দেয়।
রাবেয়া বলেঃ কামাল ওরা ঘুমিয়ে পড়লো।
কামাল বলেঃ তাহলে আমরা ও রেস্ট নিয়ে নি।
রাবেয়া ও কামাল রেস্ট নিয়ে নেই।
রাতে, রাবেয়া ঐশী ও রিনি কে ঘুম থেকে উঠিয়ে দেয়। দুজন ই উঠতে চাই ছিলো না।তাও জোর করে উঠিয়েছে।
সবাই রাতের খাবার খেয়ে নিলো।
সবাই ঘুমিয়ে পড়লো। সকালে ঐশী নিজের বাসায় চলে গেল।
রিনি মায়ের সাথে আড্ডা দেয়।রান্না করে। এভাবে বেশ কিছু দিন চলে গেল। ইনতিয়াজ এর সাথে তেমন কথা হয়নি দেখা ও হয়নি রিনির।কারণ রিনির সাথে সবসময় রাবেয়া থাকে।
কাল শুক্রবার। জান্নাত এর engagement. রিনি ও রাবেয়া যাওয়ার জন্য সব কিছু গুছিয়ে নিলো। কামাল বলেঃ কাল ভোরে রওনা দিবো।
রাবেয়া বলেঃ আচ্ছা।
মাঝ রাতে, মুগ্ধের ঘুম ভেঙ্গে গেলো। কেউ একজন কল দিয়েছে। মুগ্ধ দেখে জান্নাত এর কল।
মুগ্ধ তাড়াতাড়ি রিসিভ করে। মুগ্ধ বলেঃ জান্নাত টিক আছো?
জান্নাত বলেঃ মুগ্ধ, আমার মা সেন্স লেস হয়ে গেছে। আপনি তাড়াতাড়ি আসেন প্লিজ।
মুগ্ধ বলেঃআমি আসচি।তুমি চিন্তা করিও না।
মুগ্ধ অল্প কিছু সময়ের মধ্যে পৌঁছে গেল। জান্নাত এর মা অতিরিক্ত টেনশনের কারণে সেন্স লেস হয়ে গেছে। সুমি এবং রহমান ও আছে। জান্নাত নাকি তাদের বৃহস্পতিবারে আসতে বলছিলো।
সুমি বলেঃ জান্নাত চিন্তা করিস না ঠিক হয়ে যাবে।
মুগ্ধ বলেঃ রহমান ভাই,একটু এই দিকে আসেন।
রহমান বলেঃ জি।
মুগ্ধ বলেঃকি হয়েছিলো ঠিক?
একটু যদি বলতে?
রহমান বলেঃ আমরা সবাই আড্ডা দিচ্ছি লাম।জান্নাত ও ছিলো।তো,
জান্নাত এর মার কাছে হঠাৎ করে,একটা কল আসে এর পরপরই এই অবস্থা।
মুগ্ধ বলেঃ ওনার জন্য টেনশন নেয়া ওনার শরীরে মারাত্মক ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
মুগ্ধ চলে গেল। জান্নাত কিছু বলে নি।
জান্নাত এর মা বলেঃ জান্নাত যা ঘুমিয়ে পড়।
সুমি এদিকে আসো। কথা আছে।
জান্নাত চলে গেল। তখন,জান্নাত এর মা বলেঃ
চলবে.....
প্রিয় জনের দেয়া প্রথম উপহার কি ছিলো?
কমেন্ট করে জানাবেন!!!!
[গল্প কেমন হচ্ছে কমেন্ট করে বলেন প্লিজ ]
(বানান ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন)
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ ,
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!