স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ (-)ve (+)ve হলেই সন্তানের বিপদ!

স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ (-)ve (+)ve হলেই সন্তানের বিপদ!

স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ (-)ve (+)ve হলেই সন্তানের বিপদ!

Blood Group 




স্বামীর রক্তের গ্রুপ পজিটিভ হলে স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ ও অবশ্যই পজিটিভ হতে হবে৷ যদি নেগেটিভ হয় তাহলে সন্তান হবে বিপদমূখী। আর স্বামীর রক্তের গ্রুপ যদি নেগেটিভ হয় তাহলে স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ পজিটিভ বা নেগেটিভ যেকোনো একটি হলেই চলবে। তবে নেগেটিভ হলে ভালো হয়৷

স্বামী এবং স্ত্রী উভয়ের রক্তের গ্রুপ পজিটিভ অথবা উভয়ের নেগেটিভ হলে কোনো সমস্যা হবে না৷ কিন্তু স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ যদি নেগেটিভ আর স্বামীর রক্তের গ্রুপ যদি পজিটিভ হয় তাহলে নতুন একটি জিনের সৃষ্টি হয়৷ লিথাল জিন নামের এই জিনটি বাচ্চা সৃষ্টির জাইগোটকে মেরে ফেলে৷ তাই, বাচ্চার সৃষ্টি হয় না অথবা মৃত বাচ্চার জন্ম হয়৷ বাচ্চা হলেও অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়। যেমন – বাচ্চা বর্ণান্ধ হতে পারে৷

মায়ের রক্তের গ্রুপ নেগেটিভ এবং তার ফিটাসের রক্তের গ্রুপ যদি পজিটিভ হয় তাহলে প্রথম বাচ্চা সুস্থভাবে জন্ম নিবে৷ কোনো প্রকার সমস্যা হবে না। কিন্তু বাচ্চা ডেলিভারির সময় ফিটাসের রক্ত মায়ের শরীরে প্রবেশ করে৷ যা পরবর্তীতে মায়ের শরীরে Rh এন্টিবডি তৈরি করে৷

কিন্তু দ্বিতীয় সন্তানের রক্তের গ্রুপও যদি পজিটিভ হয় সেক্ষেত্রে মারাত্মক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। কারণ প্রথম সন্তানের জন্মের পরে মায়ের শরীরে যে এন্টিবডি তৈরি হয়েছিল তা দ্বিতীয় ফিটাসের ভেতরে  প্রবেশ করে রক্তকণিকা ভেঙ্গে দিবে৷ ফলে সন্তান মৃত হবে এবং মায়ের জন্যেও মারাত্মক বিপদ ডেকে আনবে৷

যদি পূর্বে অ্যাবরশন না করে থাকেন তাহলে  কিছু সমাধান থাকে। স্বামীর রক্তের গ্রুপ পজিটিভ এবং স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ নেগেটিভ হলে, প্রথম সন্তান জন্মের পরেই সন্তানের রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করতে হবে।

যদি নেগেটিভ হয় তাহলে কোনো সমস্যা হবে না৷ কিন্তু পজিটিভ হলে প্রথম বাচ্চা ডেলিভারির পরেই একটি ইনজেকশন নিতে হয়৷ এন্টি ডী নামের এই ইনজেকশনটি  ডেলিভারির ৭২ ঘন্টার মধ্যেই নিতে হবে৷ হেপাটাইটিস বি বা যে কোনো ধরনের যৌন রোগ পিতা মাতার দেহ থেকে সন্তানের দেহে সংক্রমিত হতে পারে৷ তাই বিয়ের আগে ছেলে মেয়ে দুজনকেই পরীক্ষা করে দেখতে হবে এরকম কোনো রোগে আক্রান্ত কিনা৷


প্রথম সন্তান সুস্থ, দ্বিতীয় থেকে সমস্যা

স্বামীর রক্তের গ্রুপ পজিটিভ এবং স্ত্রীর নেগেটিভ হলে কী হতে পারে ?
স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ মিলে গেলে কোনো সমস্যা হয় না । তবে স্ত্রী যদি নেগেটিভ হয় আর স্বামী যদি পজিটিভ হয় তাহলে ‘লিথাল জিন´ বা ‘মারন জিন´ নামে একটি জিন তৈরি হয় যা পরবর্তীতে জাইগোট তৈরিতে বাঁধা দেয় বা জাইগোটকে মেরে ফেলে । সেক্ষেত্রে মৃত বাচ্চার জন্ম হতে পারে । বাচ্চা হতে পারে বর্ণান্ধ । এছাড়া যখন কোনো নেগেটিভ গ্রুপের মা পজিটিভ ফিটাস (ভ্রূণ) ধারণ করে তখন সাধারণত প্রথম বাচ্চার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না । কিন্ত ডেলিভারির সময় পজিটিভ ভ্রূণের রক্ত, সেন্টার ( গর্ভফুল ) এর বাঁধা ভেদ করে মায়ের শরীরে প্রবেশ করবে। মায়ের শরীরেও প্রসবের যে রক্ত প্রবেশ করবে, তা প্রসবের কয়েক মাসের মধ্যেই মায়ের শরীরে আরএইচ এন্টিবডি তৈরি করবে । যখন মা দ্বিতীয় সন্তান বহন করবেন । তখন যদি তার ভ্রূণের ব্লাডগ্রুপ পুনরায় পজিটিভ হয়, তাহলে মায়ের শরীরে আগে যে এন্টিবডি তৈরি হয়েছিল সেটা প্লাসেন্টার বাঁধা ভেদ করে বাচ্চার শরীরে প্রবেশ করবে । আর  যখন এটি ভ্রূণের শরীরে ঢুকবে তখন ভ্রূণের লোহিত রক্তকণিকার সেল ভেঙ্গে যাবে । এ সমস্যাকে চিকিৎসা বিদ্যায় বলা হয় আরএইচ ইনকমপ্যাটিবিলিটি ।

একটি উপায়

আগে কখনো অ্যাবরশন না হয়ে থাকলে অনেক সমস্যা এড়ানো যাবে । শুধু সচেতন থাকতে হবে । স্বামীর ব্লাডগ্রুপ পজিটিভ হলে, বাচ্চা জন্মের পরপরই বাচ্চার ব্লাড গ্রুপ পরীক্ষা করতে হবে । যদি নেগেটিভ হয় মায়ের মতো, তবে কিছু করার দরকার হয় না। আর পজিটিভ হলে এন্টি ডী ইনজেকশন নিতে হবে ডেলিভারির ৭২ ঘন্টার মধ্যে । আরো বিস্তারিত জানতে এবং বাচ্চা ধারণের আগেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন । সুখে থাকুন ।

রক্তগ্রহণে সচেতনতা

যখন কোনো নেগেটিভ গ্রুপের ব্যক্তিকে পজিটিভ গ্রুপের রক্ত দেওয়া হয় তখন প্রথমবার সাধারণত কিছু হয়না ।তবে এর বিরুদ্ধে রোগীর শরীরে একটি এন্টিবডি তৈরি হবে। যার ফলে এই রোগী আবার কখনও যদি পজিটিভ গ্রুপের রক্ত নেয়, তবে তার রক্তের কোষগুলো ভাঙতে শুরু করবে । এ কারণে কাঁপুনি, জ্বর কিংবা কিডনি অকেজো থেকে শুরু করে মারাত্মক সব শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে । এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে । এই সমস্যাকে চিকিৎসা বিদ্যায় বলা হয় এবিও ইনকমপ্যাটিবিলিটি ।

হেপাটাইটিস-বি

হেপাটাইটিস-বি মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি । পাত্র বা পাত্রী যে কোনো একজনের দেহে এ ভাইরাস থাকলে অন্যজনের আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে । সেই সঙ্গে অনাগত সন্তানের মধ্যেও রোগটি সংক্রমিত হতে পারে । এটি অন্যতম এক ঘাতক ব্যাধি । তাই বিয়ের আগেই রক্ত পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হওয়া উচিৎ পাত্র কিংবা পাত্রীর হেপাটাইটিস-বি আছে কি না । রক্ত পরীক্ষা করলেই জানা যাবে পাত্র-পাত্রী কেউ সিফিলিসের জীবাণু বহন করছে কি না । ভিডিআরএল পরীক্ষায় যৌন রোগ আছে কি না জানা যাবে।


Tags:- স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ (-)ve (+)ve হলেই সন্তানের বিপদ!,গ্রুপ কি,বিয়ের আগে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা,রক্তের গ্রুপ জানা কেন প্রয়োজন,রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের প্রয়োজনীয়তা,রক্তের আর এইচ ফ্যাক্টর কি,বি পজিটিভ,সর্বজনীন দাতা রক্তের গ্রুপ,রক্তের প্রকারভেদ
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author
1 comment
Sort by