Love Story - শেষ বিকালের মেয়ে-১১

শেষ বিকালের মেয়ে-১১

০৪. দুটাে ঘটনা

দুটাে ঘটনাই পরপর ঘটলো।
আগের দিন পুরো অফিসটা একটা চাপা উত্তেজনায় ভুগেছে। কারণটা তেমন অভাবিত কিছু নয়। বড় সাহেবের সঙ্গে তার বউয়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। বউ ডিভোর্স করেছে তাকে। হাজার হােক অফিসের বড় সাহেব, তাকে নিয়ে হাসির হুল্লোর ছড়ান যায় না। গলা কাটা যাওয়ার ভয় আছে। তবু কর্মচারীরা এ নিয়ে আলোচনা করতে ছাড়ে নি।



Love Story - শেষ বিকালের মেয়ে-১১

Love Story - শেষ বিকালের মেয়ে-১১ 



অবশেষে এমনি কিছু যে ঘটতে পারে তা সবাই আঁচ করছিলো। যেখানে স্বামী-স্ত্রীতে আদায়-কাচকলায় সম্পর্ক, সেখানে সকল সম্পর্ক বর্জন করাই বাঞ্ছনীয়।


তবু অনেকে সাহেবের জন্যে আফসোস করলো। বললো, বেচারা।
আবার কেউ কেউ বললো, ভালই হয়েছে, সাহেব বেঁচেছে। নইলে সারাটা জীবন ছারপোকা হয়ে থাকতে হতো।
কেউ বললো, বিয়ে করে বড় ঠিকেছে সাহেব! কি লোক ছিলো কেমন হয়ে গেছে।
সাহেবকে নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ না হতেই পরবতী ঘটনাটা ঘটলো।

মকবুল সাহেব, যিনি সারাদিন পান খেতেন আর অফিসটাকে জমিয়ে রাখতেন, তিনি হঠাৎ পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।
সেদিন অফিসে এসেই দারোয়ানের কাছ থেকে খবরটা শুনলো কাসেদ। প্ৰথমে চমকে গিয়েছিলো, পরে সামলে নিয়ে শুধালো, কার কাছ থেকে শুনলে?
দারোয়ান জানালো, তার ছেলের কাছ থেকে।
অফিসের সবাই জেনেছে একে একে।


দুঃখ করেছে, আহা লোকটা বড় ভালো ছিলো। তাদের শোক প্রকাশের ধরন দেখে মনে হলো, যেন বুড়ো মকবুলের মৃত্যু-সংবাদ শুনেছে তারা। তা পক্ষাঘাতে ভোগা আর মারা যাওয়া এক কথা। আফসোস জানাতে গিয়ে একাউনটেন্ট বলেন, যতদিন বেঁচে থাকবে একটানা কষ্ট করতে হবে। কাসেদ শুধালো, এখন তিনি আছেন কোথায়?
কনিষ্ঠ কেরানী বললো, হাসপাতালে। সকালবেলা নাকি মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।


একাউনটেন্ট বললেন, মেডিক্যাল গেলে কি হবে, ও রোগ ভালো হবার নয়। কথাটা বেশ জোরের সঙ্গে বললেন তিনি। গলাটা অস্বাভাবিক শোনালো। মনে হলো রোগটা না। সারুক তাই যেন চান তিনি।


টাইপরাইটারের উপর হাত জোড়া ছড়িয়ে দিয়ে চুপচাপ একাউন্‌টেন্টের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো কাসেদ।
মকবুল সাহেবের অনুপস্থিতে তাঁর কাজের দায়িত্ব পড়বে একাউন্‌টেন্ট সাহেবের হাতে। প্রমোশন হবে তাঁর। আয় বাড়বে। পদমর্যাদা বাড়বে।


খোদা করুন। তিনি ভালো হয়ে যান তাড়াতাড়ি। কাজের ফাঁকে এক সময় একাউনটেন্ট বললেন, আল্লা তাকে আবার আমাদের মাঝখানে ফিরিয়ে আনুক। এটা কি তার মনের কথা? সত্যি কি তিনি মনেপ্ৰাণে তাই চাইছেন? কাসেদের কেন যেন বিশ্বাস হলো না। মানুষ মাত্র স্বার্থপর। স্বার্থের প্রশ্নের সঙ্গে বিরোধ বাঁধে। বাবাতে ছেলেতে সম্পর্ক ছিন্ন হয়। ভাই ভাইয়ের বুকে ছুরি বসায়।


একাউনটেন্ট সাহেব ভালো করে জানেন, বুড়ো মকবুল যদি সুস্থ হয়ে আবার কাজে ফিরে আসে তাহলে তাঁর পক্ষে সেটা শুভ হবে না। এসব জানা সত্ত্বেও কি তিনি পক্ষাঘাত আক্রান্ত ব্যক্তিটির রোগমুক্তি কামনা করছেন? নাকি, এ তাঁর বাইরের কথা। মনে মনে হয়তো ভাবছেন অন্য কিছু। 

ভাবছেন বুড়ো আর সুস্থ না হােক। হয় মারা যাক কিম্বা অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকুক বিছানায়।
মানুষ তাই চায়। নিজের মঙ্গলের জন্যে অন্যের ক্ষতি চিন্তা করতে সে একটুও বিলম্ব করে না।
কাসেদ কাজে মন বসাতে চেষ্টা করলো।


কিন্তু বুড়ো মকবুলের কথা বারবার করে মনে হতে লাগলো তার।
বিকেলে অফিস শেষ হবার কিছু আগে বড় সাহেব ডেকে পাঠালো তাকে। স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে যাবার পর এ ক’দিন কারো সামনে আসেন নি। তিনি। কথা বলেন নি কারো সঙ্গে।

 অফিসে এসেছেন। থেকেছেন। কাজ করেছেন। কাসেদ যখন বড় সাহেবের রুমে এসে ঢুকলো, সাহেব তখন একগাদা ফাইলের মধ্যে মুখ গুজে আছেন। তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যে কয়েকবার কাশলো কাসেদ। তবু তিনি তাকাচ্ছেন না দেখে নীরবে সে দাঁড়িয়ে রইলো।

দেয়ালঘড়ির পেন্ডুলাম দুলছে, দোলনার মত শব্দ হচ্ছে।
বড় সাহেব ফাইলটা বন্ধ করে রাখলেন। তারপর কাসেদের দিকে চোখে পড়তে একটু অবাক হয়ে শুধালেন, আপনি এখানে কেন?
কাসেদ বললো, আপনি আমাকে ডেকে পাঠিয়েছেন।


Tags:- শেষ বিকেলের মেয়ে রিভিউ,শেষ বিকেলের মেয়ে নাটক,শেষ বিকেলের মেয়ে জহির রায়হান pdf,শেষ বিকেলের মেয়ে উক্তি,শেষ বিকেলের মেয়ে কবিতা,শেষ বিকেলের মেয়ে সারমর্ম,শেষ বিকেলের মেয়ে উপন্যাসটি কার লেখা,শেষ বিকেলের উক্তি,Love Story in Bengali - ১০টি সত্য ভালোবাসার,bangla love story,ভালবাসার-গল্প,Bangla Love story "বাংলা লাভ স্টোরি",Romantic Bangla Love Story,Bangla Golpo - শেষ দেখা - Romantic Bengali Love,ভালোবাসার গল্প, Bangla Love Story, Valobashar,Romantic love story,Bangla Story,জাদুর আম - Magical Mango,Rupkothar Golpo,Bangla
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author
2 comments
Sort by