বেদ, পুরাণ, গীতার কোথায় মাংস খেতে নিষেধ আছে?

বেদ, পুরাণ, গীতার কোথায় মাংস খেতে নিষেধ আছে ?

শ্রীরামচন্দ্র রাজা দশরথের সময় কালে অশ্বমেধ যজ্ঞের অশ্ব বলির প্রথার পক্ষে যে যুক্তি ততকালীন ব্রাহ্মনেরা দেখাতেন তার যুক্তি বেদ দিয়ে খন্ডন করেন এবং যজ্ঞে অশ্বের বদলে স্বর্ন নির্মিত অশ্ব নিবেদনের প্রথা চালু করেন। যজ্ঞের পর সে সোনা প্রজাদের মধ্যে বিলিয়ে দেয়া হত।
বিষ্ণুসংহিতায় উল্লেখ আছে,


বেদ, পুরাণ, গীতার কোথায় মাংস খেতে নিষেধ আছে

বেদ, পুরাণ, গীতার কোথায় মাংস খেতে নিষেধ আছে? 



পাখি হত্যা,জলচর হত্যা, মৎস্যাদি জলজ প্রাণীহত্যা, কৃমিহত্যা ও কীটহত্যা এবং মদ্যানুগত ভোজন, এই সমস্ত মহাপাপ।(বিষ্ণুসংহিতা ৪১/১-৪);;;
শ্রীকৃষ্ণ ১০০ রাজার নরবলি রুখেছিলেন এবং ভীমসেন দ্বারা জরাসন্ধকে বধ করেছিলেন।
ভগবান বুদ্ধদেব কলির প্রারম্ভে অবতার নিয়ে সমস্ত যাগ যজ্ঞে বলি নিষিদ্ধ করেছিলেন।
অর্থাৎ, বলি সম্পূর্ন নিষিদ্ধ।
নিরামিষভোজীরা মাংসাহারীদের চেয়ে দীর্ঘজীবী হোন--

(গবেষক- James Brown
গবেষনা-Aston University
গবেষনা ফলাফল প্রকাশকাল- 25 October,2016
সময়-স্থানীয় সময় সকাল 8.23)

মহাভারতে শ্রীকৃষ্ণ যুধিষ্ঠিরকে বল্লেন-
🎶আর যাহারা জ্ঞানদৃষ্টিতে আমাকে #সর্বপ্রানীতে দর্শন করেন সর্বদা যোগ সমন্বিত ও আমার ভক্ত সেই সকল লোককে আমি আমার নিকট লইয়া যাই।
(মহাভারত,অশ্বমেধিক পর্ব,শ্লোক-৩০)
গীতা-

সর্বভূতেষু যেনৈকং ভাবমব্যয়মীক্ষতে ।
অবিভক্তং বিভক্তেষু তজ্ জ্ঞানং বিদ্ধি সাত্ত্বিকম্ ॥গীতা১৮/২০॥
অর্থ:- যে জ্ঞানের দ্বারা সমস্ত প্রাণীতে এক অবিভক্ত চিন্ময় ভাব দর্শন হয়, অনেক জীব পরস্পর ভিন্ন হলেও চিন্ময় সত্তায় তারা এক, সেই জ্ঞানকে সাত্ত্বিক বলে জানবে।

🌍🌹ঈশ্বরঃ সর্বভূতানাং হৃদ্দেশেহর্জুন তিষ্ঠতি ।
ভ্রাময়ন্ সর্বভূতানি যন্ত্রারূঢ়ানি মায়য়া ॥গীতা ১৮/৬১॥🌹
🌹অর্থ:- হে অর্জুন ! পরমেশ্বর ভগবান সমস্ত জীবের হৃদয়ে অবস্থান করছেন এবং সমস্ত জীবকে দেহরূপ যন্ত্রে আহরণ করিয়ে মায়ার দ্বারা ভ্রমণ করান।🌍
🌹🌹শ্রীকৃষ্ণ শ্রীমদ্ভগবতগীতায় স্পষ্টরূপে বলেছেন যদি তঁাকে লাভ করতে হয় তবে কোন প্রানীর প্রতিই শত্রুভাবাপন্ন হওয়া যাবে না🌹🌹

মৎকর্মকৃন্মৎপরমো মদ্ভক্তঃ সঙ্গবর্জিতঃ ।
নির্বৈরঃ সর্বভূতেষু যঃ স মামেতি পাণ্ডব ॥॥১১/৫৫॥
অর্থ:- হে অর্জুন ! যিনি আমার অকৈতব সেবা করেন, আমার প্রতি নিষ্ঠাপরায়ণ, আমার ভক্ত, জড় বিষয়ে আসক্তি রহিত এবং সমস্ত প্রাণীর প্রতি শত্রুভাব রহিত, তিনিই আমাকে লাভ করেন।
♥অদ্ধেষ্টা সর্বভূতানাম্ মৈত্র করণঃ এব চ ।
নির্মম্ নিরহঙ্কারঃ সম্ দুঃখ সুখ ক্ষমী ।।সন্তুষ্টঃ সততম্ যোগী যতাত্মা দৃঢ়নিশ্চয় ।
ময়ি অর্পিত মনঃ বুদ্ধিঃ যঃ মত্ভক্তঃ স মে প্রিয়ঃ ।।গীতা১২/১৩,১৪||♥
♥অর্থ-যিনি সমস্ত জীবের প্রতি দ্বেষ শুন্য, বন্ধুভাবাপন্য, দয়ালু, মমতাবুদ্ধিশুন্য, নিরহঙ্কার, সুখ দঃুখ্য সমভাবাপন্য সর্বদা সন্তুষ্ট সবসময় ভক্তিযোগে যুক্ত, সংযত স্বভাব, তত্তবিষয় দৃঢ় নিশ্চয় এবং যার মন ও বুদ্ধি সর্বদা আমাতে অর্পিত তিনি আমার প্রিয় ভক্ত।♥

শ্লোক:৬/2:
যং সন্ন্যাসমিতি প্রাহুর্যোগং তং বিদ্ধি পাণ্ডব ৷
ন হ্যসংন্যস্তসংকল্পো যোগী ভবতি কশ্চন ॥২॥
যম্, সন্ন্যাসম্, ইতি প্রাহুঃ, যোগম্, তম্, বিদ্ধি, পাণ্ডব,
ন, হি, অসংন্যস্ত-সংকল্পঃ, যোগী, ভবতি, কশ্চন ॥২॥ অর্থ:- হে পাণ্ডব ! যাকে সন্ন্যাস বলা যায়, তাকেই যোগ বলা যায়, কারণ ইন্দ্রিয়সুখ ভোগের বাসনা ত্যাগ না করলে কখনই যোগী হওয়া যায় না।

শ্লোক:৬/4:
যদা হি নেন্দ্রিয়ার্থেষু ন কর্মস্বনুষজ্জতে ৷
সর্বসংকল্পসন্ন্যাসী যোগারূঢ়স্তদোচ্যতে ॥৪॥
যদা, হি, ন, ইন্দ্রিয়ার্থেষু, ন, কর্মসু, অনুষজ্জতে ৷
সর্ব-সংকল্প-সন্ন্যাসী, যোগ-আরূঢ়ঃ, তদা, উচ্যতে ॥৪॥ অর্থ:- যখন যোগী জড় সুখভোগের সমস্ত সংকল্প ত্যাগ করে ইন্দ্রিয়ভোগ্য বিষয়ে এবং সকাম কর্মের প্রতি আসক্তি রহিত হন, তখন তাঁকেই যোগারূঢ় বলা হয়।
🎶শ্লোক:5/18:
বিদ্যাবিনয়সম্পন্নে ব্রাহ্মণে গবি হস্তিনি ।
শুনি চৈব শ্বপাকে চ পণ্ডিতাঃ সমদর্শিনঃ ॥৫/১৮॥🎶
অর্থ:- জ্ঞানবান পণ্ডিতেরা বিদ্যা-বিনয়সম্পন্ন ব্রাহ্মণ, গাভী, হস্তী, কুকুর ও চণ্ডাল সকলের প্রতি সমদর্শী হন।
🎶শ্লোক:5/19:
ইহৈব তৈর্জিতঃ সর্গো যেষাং সাম্যে স্থিতং মনঃ ।
নির্দোষং হি সমং ব্রহ্ম তস্মাদ্ ব্রহ্মণি তে স্থিতাঃ ॥৫/১৯॥🎶
🌹অর্থ:- যাঁদের মন সাম্যে(সমস্ত জীবের প্রতি সমদর্শী)  অবস্থিত হয়েছে, তাঁরা ইহলোকেই জন্ম ও মৃত্যুর সংসার জয় করেছেন। তাঁরা ব্রহ্মের মতো নির্দোষ। তাই তাঁরা ব্রহ্মেই অবস্থিত হয়ে আছেন।🌹
শ্লোক:৬/29:
সর্বভূতস্থমাত্মানং সর্বভূতানি চাত্মনি ৷
ঈক্ষতে যোগযুক্তাত্মা সর্বত্র সমদর্শনঃ ॥২৯॥
সর্বভূতস্থম্, আত্মানম্, সর্বভূতানি, চ, আত্মনি,
ঈক্ষতে, যোগযুক্তাত্মা, সর্বত্র, সমদর্শনঃ ॥২৯॥ অর্থ:- প্রকৃত যোগী সর্বভূতে আমাকে দর্শন করেন এবং আমাতে সব কিছু দর্শন করেন ৷ যোগযুক্ত আত্মা সর্বত্রই আমাকে দর্শন করেন ।
শ্লোক:৬/31:
সর্বভূতস্থিতং যো মাং ভজত্যেকত্বমাস্থিতঃ ৷
সর্বথা বর্তমানোহপি স যোগী ময়ি বর্ততে ॥৩১॥
সর্বভূতস্থিতম্, যঃ, মাম্, ভজতি, একত্বম্, আস্থিতঃ,
সর্বথা, বর্তমানঃ, অপি, সঃ, যোগী, ময়ি, বর্ততে ॥৩১॥ অর্থ:- যে যোগী সর্বভূতে স্থিত পরমাত্মা রূপে আমাকে জেনে আমার ভজনা করেন, তিনি সর্ব অবস্থাতেই আমাতে অবস্থান করেন।
শ্লোক:32:
আত্মৌপম্যেন সর্বত্র সমং পশ্যতি যোহর্জুন ৷
সুখং বা যদি বা দুঃখং স যোগী পরমো মতঃ ॥গীতা ৬/৩২॥
অর্থ:- হে অর্জুন ! যিনি সমস্ত জীবের সুখ ও দুঃখকে নিজের সুখ ও দুঃখের অনুরূপ সমানভাবে দর্শন করেন, আমার মতে তিনিই সর্বশ্রেষ্ঠ যোগী।
শ্লোক:46:
তপস্বিভ্যোহধিকো যোগী জ্ঞানিভ্যোহপি মতোহধিকঃ ৷
কর্মিভ্যশ্চাধিকো যোগী তস্মাদ্ যোগী ভবার্জুন ॥৪৬॥
তপস্বিভ্যঃ, অধিকঃ, যোগী, জ্ঞানিভ্যঃ, অপি, মতঃ, অধিকঃ,
কর্মিভ্যঃ, চ, অধিকঃ, যোগী, তস্মাৎ, যোগী, ভব, অর্জুন ॥৪৬॥ অর্থ:- যোগী তপস্বীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, জ্ঞানীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ এবং সকাম কর্মীদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ ৷ অতএব, হে অর্জুন ! সর্ব অবস্থাতেই তুমি যোগী হও।
গীতা--
শ্লোক:16/11:
চিন্তামপরিমেয়াং চ প্রলয়ান্তামুপাশ্রিতাঃ৷
কামোপভোগপরমা এতাবদিতি নিশ্চিতাঃ ॥১১॥
অর্থ:- অপরিমেয় দুশ্চিন্তার আশ্রয় গ্রহণ করে মৃত্যুকাল পর্যন্ত ইন্দ্রিয়সুখ ভোগকেই তারা তাদের জীবনের চরম উদ্দেশ্য বলে মনে করে।
শ্লোক:২/42:
যামিমাং পুষ্পিতাং বাচং প্রবদন্ত্যবিপশ্চিতঃ ।
বেদবাদরতাঃ পার্থ নান্যদস্তীতি বাদিনঃ ॥৪২॥
যাম্, ইমাম্, পুষ্পিতাম্, বাচম্, প্রবদন্তি, অবিপশ্চিতঃ,
বেদবাদরতাঃ, পার্থ, ন, অন্যৎ, অস্তি, ইতি, বাদিনঃ, ॥৪২॥ অর্থ:- বিবেকবর্জিত লোকেরাই বেদের পুষ্পিত বাক্যে আসক্ত হয়ে স্বর্গসুখ ভোগ, উচ্চকুলে জন্ম, ক্ষমতা লাভ আদি সকাম কর্মকেই জীবনের চরম উদ্দেশ্য বলে মনে করে। ইন্দ্রিয়সুখ ভোগ ও ঐশ্বর্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তারা বলে যে, তার ঊর্ধ্বে আর কিছুই নেই।
শ্লোক:২/44:
ভোগৈশ্বর্যপ্রশক্তানাং তয়াপহৃতচেতসাম্।
ব্যবসায়াত্মিকা বুদ্ধিঃ সমাধৌ ন বিধীয়তে ॥২/৪৪॥
অর্থ:- যারা ভোগ ও ঐশ্বর্যসুখে একান্ত আসক্ত, সেই সমস্ত বিবেকবর্জিত মূঢ় ব্যক্তিদের বুদ্ধি সমাধি অর্থাৎ ভগবানে একনিষ্ঠতা লাভ হয় না।
শ্লোক:5/21:
বাহ্যস্পর্শেষ্বসক্তাত্মা বিন্দত্যাত্মনি যৎ সুখম্ ।
স ব্রহ্মযোগযুক্তাত্মা সুখমক্ষয়মশ্নুতে ॥২১॥
অর্থ:- সেই প্রকার(সমস্ত জীবের প্রতি সমদর্শী)  ব্রহ্মবিৎ পুরুষ কোন রকম জড় ইন্দ্রিয়সুখ ভোগের প্রতি আকৃষ্ট হন না, তিনি চিদ্গত সুখ লাভ করেন। ব্রহ্মে যোগযুক্ত হয়ে তিনি অক্ষয় সুখ ভোগ করেন।
শ্লোক:5/22:
যে হি সংস্পর্শজা ভোগা দুঃখযোনয় এব তে ।
আদ্যন্তবন্তঃ কৌন্তেয় ন তেষু রমতে বুধঃ ॥২২॥
যে, হি, সংস্পর্শজাঃ, ভোগাঃ, দুঃখযোনয়ঃ, এব, তে,
আদি-অন্তবন্তঃ, কৌন্তেয়, ন, তেষু, রমতে, বুধঃ ॥২২॥ অর্থ:- বিবেকবান পুরুষ দুঃখের কারণ যে ইন্দ্রিয়জাত বিষয়ভোগ তাতে আসক্ত হন না। হে কৌন্তেয় ! এই ধরনের সুখভোগ আদি ও অন্তবিশিষ্ট৷ তাই, জ্ঞানী ব্যক্তিরা তাতে প্রীতি লাভ করেন না।
শ্লোক:18:
অহঙ্কারং বলং দর্পং কামং ক্রোধং চ সংশ্রিতাঃ ।
মামাত্মপরদেহেষু প্রদ্বিষন্তোহভ্যসূয়কাঃ ॥১৮॥
অর্থ:- অহঙ্কার, বল, দর্প, কাম ও ক্রোধকে আশ্রয় করে অসুরেরা স্বীয় দেহে ও পরদেহে অবস্থিত পরমেশ্বর স্বরূপ আমাকে দ্বেষ করে এবং সাধুদের গুণেতে দোষারোপ করে।
♪ এবার ভগবান তাদের জন্য কি শাস্তির ব্যবস্থা করলেন - তা দেখে নেই:
¢♪ তানহং দ্বিষতঃ ক্রূরান্ সংসারেষু নরাধমান্ ।
ক্ষিপাম্যজস্রমশুভানাসুরীষ্বেব যোনিষু ॥গীতা: ১৬/১৯॥
£¢♪ অর্থ:- সেই বিদ্বেষী, ক্রূর ও নরাধমদের আমি এই সংসারেই অশুভ আসুরী যোনিতে অবিরত নিক্ষেপ করি।
মনুসংহিতা-
বৃথা মাংসভোজীরা মৃত্যুর পর যাদৃশ্য দুঃখসহ দুঃখরাশি ভোগ করে।(মনু সংহিতা ৫/৩৪)
যে ব্যক্তি হিংসাদিশূণ্য হরিণ এবং হরিণের ন্যায় হিংসাশূণ্য অন্যান্য পশুকে আপন সুখের জন্য হত্যা করে সে কি জীবিত অবস্থায়, কি পরলোকে উভয়েই সুখ পায় না।(মনুসংহিতা ৫/৪৫)
ইহলোকে আমি যার মাংস ভক্ষন করিতেছি,পরলোকে সে আমাকে ভক্ষন করবে।পন্ডিতেরা মাংস (মাং-আমায়,সঃ-ভক্ষন করিবে) শব্দের এইরূপ ব্যাখা করেছেন।(মনুসংহিতা ৫/৫৫)
যিনি পশুবধ করতে অনুমতি দেন, যিনি অস্ত্রাদির দ্বারা পশুর অঙ্গপ্রতঙ্গ খন্ড খন্ড করেন, যিনি পশু বধ করেন, যিনি সেই প্রাণীর মাংস ক্রয় করে, যিনি তা বিক্রয় করেন, যিনি মাংস পাক করেন, যিনি পরিবেশন করেন এবং যিনি মাংস ভক্ষণ করেন তারা সকলেই সেই পশুর ঘাতক রূপে অভিহিত হন ৷ (মনুসংহিতা ৫/৫১)
প্রাণি হিংসা না করিলে মাংস উতপন্ন হয় ,প্রাণিবধও নরকের কারণ,অতএব মাংস ভক্ষন করবে না(মনুসংহিতা ৫/৪৮)
শুক্রশোশিত দ্বারা মাংসের উতপত্তি।অতএব ইহা ঘৃণিত; বধ ও বন্ধন নিষ্ঠুর হৃদয়ের কর্ম;ইহা নিশ্চিত করিয়া সাধুরা বিহিত মাংস ভক্ষনেও হইতেও নিবৃত্ত হয়;অবৈধ মাংস ভক্ষনের কথা আর কিই বা বলিব?(মনু ৫/৪৯)অতএব মাংস ভক্ষন করবে না(৫/৪৮)।
জীবে দয়া, নামে রুচি, বৈষ্ণব সেবন।
ইহা হইতে বড় ধর্ম নাহি সনাতন।।
-চৈতন্যদেব
যিনি নিজের ন্যায় সকল প্রানীর সুখ দুঃখের কথা ভাবেন,সেই যোগী আমার প্রিয়।। (গীতা -৬/৩২)
.
বেদের বাণী →
যারা ওঁ শান্তি বলে জগতের সকল প্রাণী শান্তি লাভ করুক পার্থনা করে যজ্ঞ সমাপ্তি করেন কিন্তু যজ্ঞ শেষে মাংসের জন্য হাহাকার স্তুতি করেন তাদের জন্য বেদ যাহা উপদেশ করিতেছে ------
অথর্ববেদ,১মকান্ড,৫মসুক্ত,মন্ত্র৪::----
নৈব মাংসে ন পীবসি নৈব মজস্বাহতম্।
অবৈতু পৃশ্নি শেবনং শ্রুনে জরাযত্ত্ববেহব জরায়ু পদ্যতম।।
অনুবাদ: হে পরিত্রানকারী, শরীরগত মাংসের প্রতি আকাঙ্খা করো না, মজ্বার সাথে আবদ্ধ হয়ো না। জলের উপস্থিতি শৈবালের মত এ সংসারে সম্বন্ধ -তা বিবেচনা করে হৃদয়ে জ্ঞানকিরন ধারন কর অর্থাৎ সংসারে নিলির্প্তভাবে বিচরন করে ঈশ্বরের উদ্দ্যেশে কর্ম করে যাও।।
বেদ আরো বলছে :::;-------
অর্থববেদ, ৮ম কান্ড, ৩য়সুক্ত,মন্ত্র৫ম :--
অনুজিঘ্রং প্রমৃশন্তং ক্রব্যাদসুতে বেরিহম।
অরায়াং ছ্বকিষ্কিনো বজঃ পিঙ্গো অনীনশৎ।।
অনুবাদ :--যারা ঘ্রান গ্রহন করে, হিংসা করে, যারা বলাৎকার করে হত্যা করে,মাংস ভক্ষন করে, লেহন করে, হত্যাকারী সেই অসুরদের পীতবর্ণ সর্ষপ বিনাশ করুন।।
যর্জুবেদ ৬ষ্ঠ অধ্যায়, ১১নং মন্ত্র বলছে ----
ঘৃতেনাক্তৌ পশুস্ত্রায়েথাং।
বেরতি যজমান প্রিয়ং ধা তমবিশ।।
অনুবাদ : তোমরা ঘৃতযুক্ত হয়ে পশুদের রক্ষা করো। হে বাগদেবি যজমানকে ইস্ফিত ফল দ্বারা, তাকে জ্ঞানপ্রদ করো।।
যঃ পৌরষেযেণ ক্রবিষাং সমঙ্কতে
যো অশ্বয়েন পশুনাং যতুধান।
যো অঘ্ন্যায় ভরতি ক্ষীরমগ্নে
তেষাং শীর্ষাণি হরসাপি বৃশ্চ।।
সরলার্থ : যে দুঃখদায়ী জীব পুরুষ বধ
দ্বারা প্রাপ্ত মাংস, ঘোড়ার মাংস
এবং পশুর মাংস দ্বারা নিজেকে পুষ্ট
করে এবং যে হত্যার অযোগ্য গাভীর
দুধকে নষ্ট করে হে অগ্নি তাহার শির
কে নিজের বল দ্বারা ছিন্ন করো।
(অথর্ববেদ ৮/৩/১৫)
সর্বভূতের কল্যাণের জন্য নিজের মনস্থির করো। (যজুর্বেদ ৩৪/১)
" পাষণ্ড তারা যারা প্রানি-মাংসভোজন করে।
তারা যেন প্রকারান্তরে বিষপান করে। ইশ্বর তাদের
যেন উপযুক্ত শাস্তি প্রদান  করেন।" (ঋগ্বেদ ১০.৮৭.১৬-১৯)
"মানুষ তখনই কলুষিত হয় তখন যখন সে মাংস ভক্ষন,
সুরাপান ও জুয়া খেলায় লিপ্ত হয়।" (অথর্ববেদ ১.৬০.৭)
আরাদরাতি নির্ঋতিং পরো গাহিং ক্রব্যাদঃ পিশাচান্।
রক্ষো যৎসর্ব্বং দুর্ভূত তত্তম ইবাপ ইন্মাসি।
(অর্থববেদ ৮/২/১২)
অনুবাদ: কৃপণতা, দুঃখময় অবস্থা ও উৎকট পীড়া আমাদের নিকট হইতে দূর থাকুক। যাহারা #মাংস ভক্ষণ করে, শোণিতপায়ী এবং দুঃখময়ী দুষ্ট প্রাণী তাহাদিগকে অন্ধকারের ন্যায় দূর করিতেছি।
যশ্য চিত্তং দ্রবীভূতং কৃপয়া সর্ব্বজন্তুষূ।
তস্য জ্ঞানেন মোক্ষেণ কিং জটা ভস্মলেপনৈঃ।
অর্থঃ
যে ব্যক্তির হৃদয়ে সমস্ত মনুষ্য, পশু-পাক্ষী, জীব-জন্তুর, জন্য অগাধ দয়া, ভালোবাসা তিনিই প্রকৃত মানুষ। সেই জ্ঞানী ব্যক্তির মোক্ষে, জটায়, ভস্ম মাথায়, তিলক, চন্দনাদিতে কি প্রয়োজন।
এবার আসুন দেখে নেই ঈশ্বরের কোন খাদ্যদ্রব্য পছন্দ :::-----
দ্রন্নঃ সর্পিরাসুতিঃ প্রত্মে হোতা বনেণ্যঃ।
সহসস্পুত্রো অষ্ভূতঃ।
( যজুবেদ, ১১শ,মন্ত্র৭০)
অনুবাদ ::--- বৃক্ষ যার খাদ্য,ঘৃত যার খাদক দ্রব্য, যিনি পুরাতন, দেবগনের আহব্বানকারী,বরেণ্য,বলের পুত্র আশ্চর্যরুপ অগ্নিসমিধ ভক্ষন করুক।
এ সম্পর্কে ভগবান গীতায় বলছে :::---
গামাবিশ্য চ ভূতানি ধারয়াম্যহমোজসা৷
পুষ্ণামি চৌষধীঃ সর্বাঃ সোমো ভূত্বা রসাত্মকঃ৷৷১৫/১৩
অর্থ: প্রতিটি গৃহে প্রবৃষ্ট হয়ে আমি আমার শক্তির দ্বারা চরাচর সমস্ত প্রাণীদের ধারণ করি এবং রসাত্তক চন্দ্র রুপে ধান, যবাদি ঔষধী পুষ্টি দান করি।
অর্থাৎ আমরা প্রাণীদের রক্ষা করি আর পুষ্টি গ্রহন করি ধান, যবাদি, বৃক্ষ থেকে।।
ব্রীহিমন্নং যবমত্তমথো মাষমথো তিলম ।
এষ বাং ভাগো নিহিতো রত্নেধেয়ায় দন্তৌ মা হিংসিষ্ট পিতরং মাতরং চ।।
(অথর্ববেদ ৬।১৪০।২)
— হে দন্ত! অন্ন খাও যব খাও মাষ কালাই এবং তিল খাও তোমার এই ভাগ উত্তম পদার্থ ধারনের জন্য স্থাপন করা হয়েছে হে দন্ত! পিতা ও মাতাকে হিংসিত করো না
মাংসাহার ও বলির বিরোদ্ধে ভাগবত , ১১/১৫/১৩
১১/৫/১৪
১১/৫/২৫
৪/১৮/২১
নারদ উবাচ,
ভো ভোঃ প্রজাপতে রাজন্ পশূন্ পশ্য ত্বয়াধ্বরে।
সংজ্ঞাপিতাঞ্জীবসঙ্ঘা­ন্নির্ঘৃণেন সহস্রশঃ।।
(শ্রীমদ্ভাগবতম ৪/২৫/৭)
অনুবাদঃ- দেবর্ষি নারদ বললেন, হে প্রজা পালক রাজন! আপনি যজ্ঞস্থলে যে-সমস্ত পশুদের নির্দয়ভাবে বলি দিয়েছেন, গগনমার্গে সেই সমস্ত পশুদের দেখুন।
এতে ত্বাং সম্প্রতীক্ষন্তে স্মরন্তে বৈশসং তব।
সম্পরেতম্ অয়ঃকূটৈশ্ছিন্দন্ত্ত্­যত্থিতমন্যবঃ।।
(ভা ৪/২৫/৮)
অনুবাদঃ- আপনি যে তাদের পীড়ন করেছেন তা স্মরণ করে, এই সমস্থ পশুরা আপনার মৃত্যুর প্রতিক্ষা করছে। আপনার মৃত্যুর পর তারা ক্রোধে উদ্দীপ্ত হয়ে, লৌহময় শৃঙ্গের দ্বারা আপনার দেহ ছিন্নবিচ্ছিন্ন করবে।
শ্রীমদ্ভাগবদ(১১/৫/১৪) বলা হয়েছে-
যে ত্বনেবং বিদোহসন্তঃ স্তব্ধাঃ সদাভিমানিনঃ।
পশূন্ দ্রুহ্যন্তি বিশ্রব্ধাঃ প্রেত্য খাদন্তি তে চ তান্।।
অর্থাৎ ধর্মতত্ত্বে অনভিজ্ঞ, গর্বিত, সদা অভিমানী যে সব অসাধু নিঃশঙ্ক চিত্তে পশুদের হত্যা করে, সেই পশু পরকালে তাদেরকেও ভক্ষণ করে থাকে।
শ্রীমদ্ভাগবতে ৪/১৮/২১ বলা হয়েছে, যক্ষ রাক্ষাংসি ভূতানি পশচাঃ পিশিতাশনাঃ।
অর্থাৎ, যক্ষ, রাক্ষস, ভূত ও পিশাচেরা মাংস আহারে অভ্যস্ত।
শ্রীমদ্ভাগবতে (১১/৫/১৪) বলা হয়েছে-
যে ত্বনেবং বিদোহসন্তঃ স্তব্ধাঃ সদাভিমানিনঃ।
পশূন্ দ্রুহ্যন্তি বিশ্রব্ধাঃ প্রেত্য খাদন্তি তে চ তান্।।
অর্থাৎ ধর্মতত্তে অনভিজ্ঞ, গর্বিত, সদা অভিমানী যে সব অসাধু নিঃশঙ্ক চিত্তে পশুদের হত্যা করে, সেই সব পশু পরকালে তাদেরকেও ভক্ষন করে থাকে।
শ্রীমদ্ভাগবত (৫/২৬/৩১) শ্লোকে বলা হয়েছে -"যারা পশুবলি দিয়ে ভৈরব বা ভদ্রকালী প্রভৃতি দেবদেবীর পূজা করে , হিংসা কবলিত সেই পশু যমালয়ে রাক্ষস হয়ে ঘাতকের মতো সুতীক্ষ্ন অস্ত্র দিয়ে তাদের বধ করে । ইহলোকে যারা পশুর রক্তপান করে আনন্দে নৃত্যগীত , করে সেই সব হিংস্রাশ্রিত পশু সেইরূপে পরলোকে হিংসাকারীর রক্ত পান করে আনন্দে নৃত্যগীত করতে থাকে।
শ্রাদ্ধ সমন্ধ্যে ভাগবত বলছে - 
ন দদ্যাদামিষং শ্রাদ্ধে ন চাদ্যাদ ধর্মতত্ত্ববিৎ।
মনান্নৈ মৎপরা প্রীতির্যথা ন পশুহিংসয়া।।
নৈতাদৃশঃ পরো ধর্ম নৃণাৎ সদ্ধর্মমিচ্ছতাম্।
ন্যাসো দন্ডস্য ভূতেষু মনো বাক্কায়জস্য।।
(ভাগবত ৭।১৫।৭-৮)
--- ধর্মতত্বজ্ঞ ব্যক্তি পুরুষ শ্রাদ্ধকর্মে আমিষ(মাছ-মাংস) অর্পন করবেন না। এবং নিজেও ভোজন করবেন না। কারন পিতৃগণ মুনি ঋষিদের যোগ্য হবিষান্ন দ্বারা যেরুপ প্রসন্ন লাভ করেন, সেরূপ পশু হত্যার দ্বারা নয়। সৎ ধর্মপালনে অভিলাষী ব্যক্তির কাছে কোন জীবকে কায়মনোবাক্যে কোনরূপ কষ্ট না দেওয়ার মতো ধর্ম আর নেই। 
(ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ-কৃষ্ণজন্ম খন্ড ১৮৫/১৮০)বলা হয়েছে- "এই কলিযুগে অশ্বমেধ যজ্ঞ, গোমেধ যজ্ঞ, পশু বলি, সন্ন্যাস আশ্রম(একদন্ডী সন্ন্যাস), শ্রাদ্ধনুষ্ঠানে মাংস নিবেদন সম্পূর্ণ রূপে নিষিদ্ধ"।
অর্থাৎ শ্রাদ্ধে মাছ-মাংস নিষিদ্ধ, আর পিতৃগণ মাংসের চেয়ে হবিষান্ন তেই প্রসন্নতা বেশী লাভ করে এটাই ভাগবতের অভিমত। 
পৃথিবীতে প্রাণিহিংসা করলে নরকের কোন কুন্ডে কিভাবে তাকে শাস্তি ভোগ করতে হয় তা শুকদেব গোস্বামী সর্বশ্রেষ্ঠ পুরান শ্রীমদ্ভাগবতে বর্ণনা করেছেন। 
তার মধ্যে কয়েকটি নরক কুন্ডের বর্ননা দেখুন--
👿রৌরব--প্রাণীহত্যাকার­ীরা এই শাস্তি বিভাগে পতিত হয়। এখানে হিংসাত্মক জীবেরা অর্থাৎ পাপী যাদেরকে হত্যা করেছিল তারাই রুরু নামে এক ভয়ঙ্কর জন্তু রুপে জন্ম নিয়ে পাপীকে পীড়া দিতে থাকে। 👿
 👿মহা রৌরব--যে ব্যক্তি অন্যকে কষ্ট দিয়ে জীবন-যাপন করে ক্রোব্যাদ নামক রুরু তাকে অশেষ যাতনা দিয়ে তার মাংস খেতে থাকে। 👿
👿কুম্ভীপাক--যে ব্যক্তি পশুপাখি রান্না করেছিল তাকে এখানে ফুটন্ত তেলের মধ্যে যমদূতেরা পাক করে থাকেন।👿
👿কালসূত্র--ব্রহ্ম ঘাতক পাপী এখানে পতিত হয়। বিস্তীর্ণ উত্তপ্ত তামার মেঝেতে প্রচন্ড সূর্যতাপের মধ্যে ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় কাতর হয়ে অবস্থান করেন।👿
😰
শ্রীশ্রী ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ:: মাছ মাংস আহার করা এবং ক্রয় বিক্রয় করার শাস্তি কি,,
লোভবশে রোষবশে যেই দুষ্টজন। জীবের জীবন ধন করে বিনাশন।। মহাপাপী সেইজন অবনী ভিতরে। লক্ষবর্ষ মজ্জাকুন্ডে নিবসতী করে।। শশক হইয়া জন্মে ভূমে সাতবার। মৎস্য রূপী সপ্তজন্ম হৈবে পুনর্বার।। আপন তনয়া ধনে যেই অভাজন। বাল্যাবধি রক্ষা করে করিয়া যতন।। অবশেষে অর্থলোভী হইয়া অন্তরে। মনোমত ধন লৈয়া তারে বিক্রি করে।। মাংস কুন্ড নরকেতে পড়ি সেই জন। কত যে যাতনা পায় কে করে বর্ণন।।
এখানে আরো আছে যা ভোগ করতে হবে,,জীবের দেহে যত রোম ধরে তত বছর অত্যাচার চলবে নরকে,,ষাট হাজার বর্ষ নরকে থাকা,সপ্ত জন্ম ব্যাধরুপে, অবশেষে তিন জন্ম শূকর হয়ে,সপ্ত জন্ম মূর্খ হয়ে, তার পরে পাপের ক্ষয়,, শাস্ত্রের বচন,,,,
(ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ-কৃষ্ণজন্ম খন্ড ১৮৫/১৮০)বলা হয়েছে- "এই কলিযুগে অশ্বমেধ যজ্ঞ, গোমেধ যজ্ঞ, পশু বলি, সন্ন্যাস আশ্রম(একদন্ডী সন্ন্যাস), শ্রাদ্ধনুষ্ঠানে মাংস নিবেদন সম্পূর্ণ রূপে নিষিদ্ধ"।
ভীষ্ম যুধিষ্ঠির মহারাজকে কহিলেন--মদ্য ও মাংস বর্জন ব্রহ্মচর্য অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর ব্রত ও ধম্ম।(মহাভারত,অনুশাসন মহাপর্ব,অধ্যায় ২৩,শ্লোক ২৫)
তাই কলিযুগের শুরুতেই ভগবান বুদ্ধ অবতার রূপে অবতির্ণ হয়ে অহিংসা পরম ধর্ম প্রচারের মাধ্যমে জীব হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন। 
"দেবগনকে পুষ্প,যক্ষ ও রাক্ষসগনকে রক্ত মাংস, নাগগনকে সুরা, পদ্ন এবং ভূপগনকে গুড়তিল সমন্বিত বলি তথা উৎসর্গ করতে হয়"।(মহাভারত-অনুশাসন পর্ব-৯৮ অধ্যায়)
সুরা মৎসা মধুমাংসমাসবং কৃসরোদনম্।ধুর্তেঃ প্রবর্তিতং হোতন্নৈবদ্ বেদেষু কল্পিতম।।
(মহাঃ শান্তি পর্বঃ ২৬৫,শ্লোক ৯)
—সুরা, মৎস, মধু, মাংস, তালরস, স্বাগু এইসব বস্তুকে ধুর্তেরাই যজ্ঞে প্রচলিত করেছে। বেদে এসব উপযোগের বিধান নেই।
অব্যবস্থিতমর্যদৈবিমূঢর্নাস্তিকৈর্তবৈ।
সংশয়াত্মাভিরব্যক্তৈহিংসা সমনুবর্তিত।।
(মহাঃ শান্তি পর্বঃ অঃ ২৬৫, শ্লোক ৪)
— যে ধর্মের মর্যাদা থেকে ভ্রষ্ট হয়েছে মূর্খ, নাস্তিক তথা যার আত্মা সংশয়যুক্ত এবং যার কোন প্রসিদ্ধি নেই এইরূপ লোকই হিংসাকে সমর্থন করে।
মানান্মোহাচ্চ লোভাচ্চ লৌল্যমেত্যপ্রকল্পিতম্।।
(মহাঃ শান্তি পর্ব, অঃ ২৬৫, শ্লোক ১০)
— সেই ধূর্তেরা অভিমান, মোহ এবং লোভের বশীভূত হয়ে সেই সব বস্তুর প্রতি লোলুপতা প্রকট করে থাকে।
যজ্ঞের মহিমা বর্ণনার জন্য পিতামহ ভীষ্ম যুধিষ্ঠির কে এক উপ্যাখান শোনান। উপাখ্যান টি মহাভারতের শান্তি পর্বের ২৭২ নং অধ্যায়ে এসেছে। সেই উপখ্যানে এক ব্রাহ্মণ যিনি কি না যজ্ঞে পশু বলি দেবার কথা চিন্তা মাত্রেই তার সমস্ত তপস্যা নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো।
তস্য তেনামুভাবনো মৃগহিংমমসাত্মনস্তদা।
তপো মহৎসমুচ্ছিন্নং তস্মাদ্হিংসান যজ্ঞিয়া।।
(মহাঃ শান্তি পর্ব, অঃ২৭২, শ্লোক ১৮)
—-আমি সেই পশু কে বধ করে স্বর্গলোক প্রাপ্ত করবো।  এই ভেবে মৃগকে হিংসা করার জন্য উদ্যত সেই ব্রাহ্মণের মহান তপস্যা তৎক্ষণাৎ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এই জন্য হিংসা যজ্ঞের জন্য হিতকর নয়।
এই জন্য বেদ আমাদের সর্বদা হিংসারহিত কর্ম করার নির্দেশ দিয়েছেন। এবং আমাদের শরীর এবং দন্তের উপযোগী খাবার হিসেবে ভাত, ডাল,যব ইত্যাদি এসব খাবারের অনুমোদন দিয়েছে।
ব্রীহিমন্নং যবমত্তমথো মাষমথো তিলম ।
এষ বাং ভাগো নিহিতো রত্নেধেয়ায় দন্তৌ মা হিংসিষ্ট পিতরং মাতরং চ।।
(অথর্ববেদ ৬।১৪০।২)
— হে দন্ত! অন্ন খাও যব খাও মাষ কালাই এবং তিল খাও তোমার এই ভাগ উত্তম পদার্থ ধারনের জন্য স্থাপন করা হয়েছে হে দন্ত! পিতা ও মাতাকে হিংসিত করো না [মাংসাহার থেকে দূরে থাকো]
এবং বেদ মন্ত্রে সেই পরমেশ্বরের কাছে প্রার্থনা করা হচ্ছে যে, আমাদের দন্ত যেন ব্যাঘের ন্যায় না হয়। কারন বাঘের দন্ত সর্বদা মাংসাহার করে থাকে। সে জন্য আমাদের দন্ত কে ব্যাঘের ন্যায় না করে কল্যাণকারী করো।
যৌ ব্যাঘ্রাববরূঢৌ জিঘত্সতঃ পিতরং মাতরং চ।
তৌ দন্ত ব্রহ্মণস্পতে শিবৌ কৃণু জাতবেদঃ।।
(অথর্ববেদ ৬।১৪০।১)
— যে দন্ত ব্যাঘ্রের ন্যায় পিতা ও Oমাতাকে খাওয়ার জন্য চেষ্টা করে সেই দাঁত কে হে সর্বব্যাপক জ্ঞানের পরিপালক কল্যাণকারী করো।
অর্থাৎ বেদ আমাদের সর্বদাই কল্যাণকারী হওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। যাতে করে আমাদের কাছ থেকে কেউ যেন কষ্ট না পায়। আমরা যেন নিরীহ প্রাণীদের হিংসা না করি। কারন, “অহিংসা পরম ধর্ম ” (মহাঃ আদিঃ অঃ ১১, শ্লোঃ ১৩) এবং “হিংসা অধর্মস্তথহিত” (মহাঃ শান্তিঃ ২৭২, শ্লোক ১৮) হিংসা অধর্ম এবং অহিতকর। “প্রাণিনামবধস্তাত সর্বজায়ান্” (মহাঃ কর্ণ পর্ব, অঃ ২৬৯, শ্লোক ২৩) অর্থাৎ প্রাণীদের বধ না করাই শ্রেষ্ঠ ধর্ম।
জীবিতুং যঃ স্বযং চেচ্ছেত্ কথং সোন্যং প্রঘাতয়েত।
যদ যদাৎমসি চেচ্ছেত তত পরস্যাপি চিন্তয়েত।।
(মহাঃ শান্তি পর্ব, অঃ ২৫৯, শ্লোক ২২)🌹🌹
উপরিউক্ত মন্ত্রগুলি দ্বারা এটা স্পষ্ট যে, বেদ কোন নির্দোষ পশু কে হত্যার উপদেশ করে নি।বরং উপদেশ করেছে, পশুস্ত্রাঁয়েথাঙ (যজুর্বেদ ৬/১১) অর্থাৎ পশুদের রক্ষা করো এবং তাদের বর্ধিত করো।কারন বেদ সর্বদাই কল্যাণময়।
এবার আপনারাই বিবেচনা করুন যে কোন অবস্থাতেই বলি বা পশু হত্যা করা উচিত কি না।
যেদিন পশু বলি দিয়ে আবার জীবিত করতে পারবেন, সে দিন পশু বলি মেনে নিব। বেদের অনেক ঋষির সেই ক্ষমতা ছিল। তাই তারা বলি দিলে মানা যায়। আপনাদের নাই, এই কারনে পুজায় বলি সম্পুর্ন নিষিদ্ধ...
মাংসাহার ডায়াবেটিস এর কারন-

মাছ মাংস ভক্ষনে কি বলছে অন্যান্য ধর্ম-শাস্ত্র ও সনাতন ধর্ম শাস্ত্র?
"তুমি হত্যা করিও না" বাইবেল - Exodus ২০.১৩
ইশ্বরকে ধন্যবাদ যে, আমি যে দিন হতে মাংস ও মদ বর্জন করেছি, সেই দিন হতে আমি শারীরিক যন্তনা হতে মুক্ত হয়েছি, (জন ওয়লসি, মেথাডিষ্ট খিষ্টানদোর প্রতিষ্ঠাতা)
যখন তুমি আমার প্রীতির উদ্দেশ্যে ভিন্ন প্রার্থনা কর, তখন আমি শুনি না,কারন তোমার হাত রক্তে রণ্জিত।(Iasiah 1.15)
যে একটি ষাড়কে হত্যা করলো সে যেন একজন মানুষ কে হত্যা করল।(Iasiah 66.3)
এদের রক্ত আর মাংস আমার কাছে পৌছায় না, তোমার ভক্তিই আমার কাছে পৌছয়। (আল কোরান সুরা ২১/৩৭)
আমি কখনো মাংস ভক্ষন অনুমোদন করিনি, কখনো করিনা, কখনো করবো না। ভগবান বুদ্ধ (লঙ্কাবতার সূত্র)
সম্রাট আকবর সপ্তাহে তিনদিন নিরামিষ আহার করতেন (আইন ই আকবর)
এছাড়াও শেখ ইসমাইল, খ্বাজা মৈনুদ্দিন,হজরত নিজামুদ্দুন আউলিয়া,বু আলি ক্যলন্দস,সাহ ইলায়ৎ,মীর দদ,,সাহ আবদুল করিম প্রমুখ মুসল মান সাধু সন্তরাও নিরামিষাশী ছিলেন। তারা বলতেন---
"ত বয়বিন দর বহিস্তে আদেন জ,
শফকতে বুনময়ে ব খুলকে খুদা।
অর্থাৎ, যদি তুমি চিরকাল স্বগে বাস করতে চাও তবে  সমগ্র সৃষ্টির সাথে করুনা ও মৈত্রী র হ্রদয়বৃত্তি নিয়ে আচরন কর।
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!