অহিংসা পরম ধর্ম , প্রাণী হত্যা জগন্য কাজ

 অহিংসা পরম ধর্ম  , প্রাণী হত্যা জগন্য কাজ 


অহিংসা পরম ধর্ম  , প্রাণী হত্যা জগন্য কাজ

অহিংসা পরম ধর্ম  , প্রাণী হত্যা জগন্য কাজ  




🌹আত্মৌপম্যেন যন্তব্যং বুদ্ধিমদ্ভিঃ কৃতাত্মভিঃ। 
মৃত্যুতো ভয়মস্তীতি বিদুষাং ভূতিমিচ্ছতাম॥
কিং পুনর্হন্যমানানাং তরসা জীবিতার্থিনাম। 
আরোগাণামপাপানাং পাপৈর্মাংসােপজীবিভিঃ ॥
তম্মাদ্বিদ্ধি মহারাজ ! মাংস্য পরিবর্জ্জনম। 
ধৰ্ম্মস্যাযতনং শ্রেষ্ঠং স্বর্গস্য চ সুখস্য চ ॥
🏵[মহাভারত অনুশাসন পর্ব, অধ্যায় ১০০, শ্লোক ৫১-৫৩]🏵

🌿অনুবাদঃ
শিক্ষিত চিত্ত বুদ্ধিমানদের নিজের সাথে তুলনা করে ভাবা উচিত যে, জীবনে সুখসম্পদের অভিলাষী জ্ঞানীদেরও মৃত্যু হতে ভয় আছে।। সুতরাং নীরোগ, নিষ্পাপ ও জীবনার্থী মৃগ প্রভৃতিকে মাংসােপজীবী পাপাত্মা ব্যাধপ্রভৃতি বধ করতে লাগলে, সেই মৃগপ্রভৃতির কি ভয় হয় না? অতএব মহারাজ (যুধিষ্ঠির)! মাংস বর্জনকেই ধৰ্ম, স্বর্গ ও সুখের শ্রেষ্ঠ কারণ বলে তুমি অবগত হও।।🌼

🌹সর্বভূতেষু যো বিদ্বান দদাত্যভযদক্ষিণাম।
দাতা ভবতি লোকে স প্রাণানাং নাত্র সংশয় ॥
এবং বৈ পরমং ধম্মং প্রশংসন্তি মনীষিণঃ। 
প্রাণা যথাত্মনেহভীষ্টা ভূতানামপি বৈ তথা।।
🏵[মহাভারত অনুশাসন পর্ব, অধ্যায় ১০০, শ্লোক ৪৯,৫০]🏵
অনুবাদঃ
🌿যে বিদ্বান মানুষ সমস্ত প্রাণীকে অভয়দান করেন , সেই মানুষ জগতে প্রাণিগণের প্রাণদাতাই হন , এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই। জ্ঞানীরা এই মাংস বর্জনরূপ পরম ধর্মের প্রশংসা করে থাকেন কারণ,নিজের প্রাণ যেমন নিজের অভীষ্ট, তেমন অন্য প্রাণীর প্রাণও তার অভিষ্ট।।🌹

🌹দুষ্করঞ্চ রসজ্ঞানে মাংস্য পরিবর্জ্জনম ।
চত্তুংব্রতমিদং শ্রেষ্ঠং সর্ব্বপ্রাণ্যভয়প্রদম্ ॥
🏵[মহাভারত অনুশাসন পর্ব, অধ্যায় ১০০, শ্লোক ৪৮]🏵
🌿অনুবাদঃ
একবার মাংসে আসক্তি হলে তা বর্জন করা দুষ্কর বটে ; তথাপি মানুষ সমস্ত প্রাণীর অভয়জনক এই মাংস বর্জনরূপ শ্রেষ্ঠ ব্ৰত করার চেষ্টা করবে।।🌹
🌹সর্বে বেদা ন তৎকুর্য্যুঃ সর্ব্বে যজ্ঞাশ্চ ভারত।। 
যাে ভক্ষয়িত্বা মাংসানি পশ্চাদপি নিবৰ্ত্ততে ॥
🌼[মহাভারত অনুশাসন পর্ব, অধ্যায় ১০০, শ্লোক: ৪৭]🌼
🌿অনুবাদঃ
ভরতনন্দন (যুধিষ্ঠির)! মাংসাহারী ব্যক্তি যদি মাংস ভক্ষণ হতে নিবৃত্ত হন , তবে তার যে ফল হয়, সেরূপ ফল সমস্ত বেদ পঠন এবং সমস্ত যজ্ঞ দ্বারাও সম্ভব নয় ॥🌿

🌹মাসি মাস্যশ্বমেধেন যো যজেত শতং সমাঃ । 
ন খাদতি চ যাে মাংসং সমমেতন্মতং মম ॥
সদা যজতি সত্ৰেণ সদা দানং প্রযচ্ছতি। 
সদা তপস্বী ভবতি মধুমাংসবিব্বর্জনাৎ ॥
🌼[মহাভারত অনুশাসন পর্ব, অধ্যায় ১০০, শ্লোক: ৪৫-৪৬]🌼
🌿অনুবাদঃ
যিনি শত বছর যাবৎ প্রত্যেক মাসে অশ্বমেধ যজ্ঞ করেন , আর যিনি মাংস ভক্ষণ করেন না -এই দুইজনই সমান পুণ্যবান, এটিই আমার মত॥ যে মানুষ মধু ও মাংস ত্যাগ করেন তিনি সর্বদাই যজ্ঞ, দান ও তপস্যা করার ফল পান।।
🌹স্বমাংসং পরমাংসেন যো বর্দ্ধযয়িতুমিচ্ছতি।
নারদঃ প্ৰাহ ধৰ্মাত্মা নিয়তং সোহবসীদতি ॥
দদাতি যজতে চাপি তপস্বী চ ভবত্যপি। 
মধুমাংস নিবৃত্তে হি প্রাহ চৈবং বৃহস্পতিঃ ॥
💮[মহাভারত অনুশাসন পর্ব, অধ্যায় ১০০, শ্লোকঃ ৪৩-৪৪]💮
🌿অনুবাদঃ
নারদ বলেন—যে লোক, পরমাংস দ্বারা নিজের মাংস বর্দ্ধিত করার ইচ্ছা করে; নিশ্চয়ই সে অবসন্ন হয় ॥ বৃহস্পতি বলেন- সজ্জনেরা মধু  ও মাংসভক্ষণ রহিত হয়েই দান, যজ্ঞ ও তপস্যা করে থাকে।

🌹অধৃষ্যঃ সর্বভূতানাং বিশ্বাস্যঃ সর্বজন্তুষু । 
সাধূনাং সম্মতো নিত্যং ভবেশম্মাংসং বিবর্জ্জযন॥
🌼[মহাভারত অনুশাসন পর্ব অধ্যায় ১০০, শ্লোক ৪২]🌼
🌿অনুবাদঃ
যে সকল মানুষ সর্বদা মাংস বর্জ্জন করেন তারা সকল প্রাণীর অনভিভবনীয়, সমস্ত জন্তুর বিশ্বাসযােগ্য এবং সাধুগণের প্রিয় হয় ॥🌿
🌹সপ্তর্ষয়ো বালখিল্যাস্তথৈব চ মরীচিপাঃ।
অমাংসভক্ষণং রাজন! প্রশংসন্তি মনীষিণঃ॥
ন ভক্ষয়তি যো মাংসং ন চ হন্যাম ঘাতযেৎ। 
তম্মিত্রং সর্বভূতানাং মনুঃ স্বায়ম্ভুবোহব্রবাৎ।। 
🌼[মহাভারত অনুশাসন পর্ব অধ্যায় ১০০ শ্লোক ৪০-৪১]🌼
🌿অনুবাদঃ
রাজা,জ্ঞানী সপ্তর্ষিগণ, বালখিল্য মুনিগণ ও মরীচিপায়ী ঋষিগণ মাংস ভক্ষণ না করার প্রশংসা করেন ॥ যিনি মাংস ভক্ষণ ও পশুহত্যা করেন না কিংবা পশুহত্যা করান না, তিনি সমস্ত প্রাণীর মিত্র, এটি স্বয়ম্ভু মনু বলেছেন।
🌹রূপমব্যঙ্গতামায়ুর্বুদ্ধিং সত্ত্বং বলং স্মৃতিম।
প্রাপ্ত কামৈর্ন বৈহিংসা বর্জ্জিতা বৈ মহাত্মভিঃ ॥
🌼[মহাভারত অনুশাসন পর্ব, অধ্যায় ১০০, শ্লোক ৩৭]🌼
🌿অনুবাদঃ
মহাত্মাগণ সৌন্দর্য, পূর্ণাঙ্গতা, আয়ু, বুদ্ধি, অধ্যবসায়, বল ও স্মৃতি-শক্তি লাভের জন্য জীবহিংসা বর্জন করেছেন।🌿
🌹অচিন্তিতমনির্দিষ্টমসংকল্পিতমেব চ।
রসগৃদ্ধ্যাভিভূতা যে প্রশংসস্তি ফলাথিনঃ।
প্রশংসা হেব মাংস্য দোষকর্মফলাম্বিতা।।
🏵[মহাভারত অনুশাসন পর্ব, অধ্যায় ১০০, শ্লোক ২৭]🌼
🌿অনুবাদঃ
রসলোভে অভিভূত ও রসাস্বাদাভিলাষী যে সকল লোক মাংসের প্রশংসা করে (প্রশংসা করিয়া মাংস ভক্ষণ করে); তাদের স্থান অচিন্তিত, অনির্দিষ্ট, অসঙ্কল্পিত অর্থাৎ ঘোরনরক ; অতএব মাংসের প্রশংসা করা দোষরূপ কর্মফলের সূচক।।🌿
🌹পুত্ৰমাংসোপমং জানন খাদতে যােহবিচক্ষণ।
মাংসং মেহসমাবিষ্টঃ পুরুষঃ সােহধমঃ স্মৃতঃ ॥
পিতৃমাতৃসমাযোগে পুত্রত্বং জাযতে যথা। 
হিংসাং বৃত্বাবশঃ পাপো ভূমিষ্ঠং জাযতে তথা ॥
🏵[মহাভারত, অনুশাসন পর্ব, অধ্যায়-১০০, শ্লোক ২২-২৩]🏵
🌿অনুবাদঃ
যে মুঢ় লোক, পরের মাংসকে পুত্রের মাংসের সমান জেনেও তা ভক্ষণ করে, সেই মােহাবিষ্ট লোককে অধম বলেই জানবে।। পিতা ও মাতার সংযােগে যেমন পুত্রের জন্ম হয় , তেমন মােহবশীভূত পাপাত্মা মাংস জন্য হিংসা করিয়া পাপযোনিতে বহুবার জন্মে থাকে। 
🌹ত্রিকারণস্তু নির্দিষ্টং শ্রূষতে ব্রহ্মবাদিভিঃ | 
মনো বাচি তথাস্বাদে দোষা হ্যেষু প্রতিষ্ঠিতঃ ॥
ন ভক্ষযন্ত্যতে মাংসং তপোযুক্তা মনীষিণঃ। 
দোষাস্তুঃ ভক্ষণে রাজন্ ! মাংসস্যেহ নিবোধ মে ॥
🏵[মহাভারত, অনুশাসন পর্ব, অধ্যায় ১০০, শ্লোক ২০-২১]🏵
🌿অনুবাদঃ
বেদবাদীরা মন, বাক্য ও কর্ম এই তিনটিকে হিংসার কারণ বলে চিহ্নিত করেছেন, শুনা যায় , সুতরাং মন, বাক্য, ভক্ষণ এই তিনটিতেই হিংসা দোষ প্রতিষ্ঠিত থাকে।। এই জন্যই তপস্বী বিচক্ষণেরা মাংস ভক্ষণ করেন না। রাজা! তুমি আমার নিকট মাংস ভক্ষণের দোষ শ্রবণ কর।।
🌹পূর্বং তু মনসা ত্যক্তা তথা বাচাখ কর্মী। 
ন ভক্ষতি যাে মাংসং ত্রিবিধং স বিমুচ্যতে ॥
🏵[মহাভারত, অনুশাসন পর্ব, অধ্যায়-১০০, শ্লোক ১৯]🏵
🌿অনুবাদঃ
ধার্মিক লােক প্রথমে মন(চিন্তা) দ্বারা, পরে বাক্য দ্বারা, তৎপরে দেহ(কর্ম) দ্বারা হিংসা ত্যাগ করে থাকেন। এই তিন প্রকারে যিনি মাংস ভক্ষণ বর্জন করেন, তিনি মুক্ত হন।🌿
🌹ঋষয়ো ব্রাহ্মণা দেবাঃ প্রশংসন্তি মহামতে।
অহিংসা লক্ষণং ধর্ম্মং বেদপ্রামাণ্যদর্শনাৎ ॥
🏵[মহাভারত, অনুশাসন পর্ব, অধ্যায়-১০০, শ্লোক ১৩]🏵
🌿অনুবাদঃ
মহামতি! দেবগণ, ঋষিগণ ও ব্রাহ্মণগণ বেদের প্রামাণ্য দেখে অহিংসারূপ ধর্মের প্রশংসা করে থাকেন।
🌹সৰ্বভূতাত্মভূত সর্বভূতানি পশ্যতে ।
দেবাপি মার্গে মুহুত্তি অপদস্য পদৈষিণঃ।।
ন তৎ পরস্য সন্দধ্যাৎ প্রতিকূলং যদাত্মানঃ।
এষ সংক্ষেপতো ধর্মঃ কামাদন্যঃ প্রবর্ত্ততে ॥
🏵[মহাভারত অনুশাসন পর্ব, অধ্যায় -১০০, শ্লোকঃ ৭-৮]🏵
🌿অনুবাদঃ
যিনি সমস্ত প্রাণীকেই নিজের তুল্য মনে করেন অর্থাৎ অন্য সকলকেই নিজের তুল্য দেখেন, তার স্থান সাধারণের মধ্যে নয় অর্থাৎ তিনি সর্বাপেক্ষা উচ্চ এবং ব্রহ্ম পদ অভিলাষী; অতএব দেবতারাও তার ব্যবহারে মুগ্ধ হন॥ যা নিজের প্রতিকূল, তা অন্য জীবের সাথে করবে না—এই আমি সংক্ষেপে ধৰ্ম বললাম; অহিংসা ধর্ম পালন করার পরেই ইচ্ছানুসারে(সক্ষমতা অনুসারে) অন্যান্য ধর্মাচরণ করা উচিত।।🌿
🌹আত্মােপমস্ত ভূতেষু যাে বৈ ভবতি পূরুষঃ।
 ন্যস্তদণ্ডো জিতক্রোধঃ স প্ৰেত্য সুখমেধতে ॥

🏵[মহাভারত অনুশাসন পর্ব, অধ্যায় -১০০, শ্লোকঃ ৬]🏵
🌿অনুবাদঃ যে মানুষ অন্যান্য প্রাণীকে নিজের সমান মনে করে কারো উপরে দণ্ড দান করে না (অন্য জীবে আঘাত করে না) এবং ক্রোধ বিজয়ী হয়, সেই মানুষই পরলােকে গিয়ে সুখ লাভ করে।
🌹অহিংসকানি ভূতানি দণ্ডেন বিনিহন্তি যঃ।
আত্মনঃ সুখমন্বিচ্ছন্ স প্রেত্য ন সুখী ভবেৎ॥

🏵[মহাভারত অনুশাসন পর্ব, অধ্যায় -১০০, শ্লোকঃ ৫]🏵
🌿অনুবাদঃ যে মানুষ নিজের সুখের ইচ্ছায় দণ্ড (আঘাত) দ্বারা  হিংসাশূন্য প্রাণীদের বিনষ্ট (হত্যা) করে; সেই মানুষ পরলােকে গিয়ে সুখী হয় না॥
🌹আমি মানুষের সর্বোত্তম মঙ্গলের বিষয় বলছি-  যে মানুষ সর্বদা অন্য সৰ্ব্বভূতে(জীবে) মােহ, মদ ও মাৎসর্য—এই তিনটি দোষ হতে বিরত থাকে এবং কাম, ক্রোধ ও লােভকে সংযত রেখে অহিংসাশ্রিত ধৰ্ম্মের সাধনা করেন, তিনি তাঁর এরূপ কর্মের দ্বারা-ই সিদ্ধি লাভ করে থাকেন ॥🌹
🏵[মহাভারত অনুশাসন পর্ব, অধ্যায় -১০০, শ্লোকঃ ৩–৪]🏵
🌿যিনি পশুবধ করতে অনুমতি দেন, যিনি অস্ত্রাদির দ্বারা পশুর অঙ্গপ্রতঙ্গ খন্ড খন্ড করেন, যিনি পশু বধ করেন, যিনি সেই প্রাণীর মাংস ক্রয় করে, যিনি তা বিক্রয় করেন, যিনি মাংস পাক করেন, যিনি পরিবেশন করেন এবং যিনি মাংস ভক্ষণ করেন তারা সকলেই সেই পশুর ঘাতক রূপে অভিহিত হন ৷🌿

🙏🌹🌹[বিষ্ণুস্মৃতি ৫১/৭৪)🌷🌹🙏
🌺🌹আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ অক্টোবর মহান পুরুষোত্তম মাস🌹🌺
👉👉পুরুষোত্তম মাসে মাংস, মাছ, মসুর ডাল ভক্ষণ নিষেধ👈👈👈
🌹যাহারা মাসে মাসে ও পক্ষে পক্ষে মাংস বর্জন করেন, হিংসা হইতে নিবৃত্ত সেই সজ্জনগণের জন্য ব্ৰহ্মলােক নির্দিষ্ট থাকে।।🌹
🏵[মহাভারত অনুশাসন পর্ব, অধ্যায় ১০০, শ্লোক--৯৫]🏵
🌹বৎস! এই জগতে শুক্র হইতেই মাংসের উৎপত্তি হয় এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই; কিন্তু সেই মাংস ভক্ষণে গুরুতর দোষ(পাপ) হয় এবং মাংস বর্জনে পুণ্য হইয়া থাকে, ইহা মুনিরা বলেন ॥🌹
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!