বৈদিক শাস্রে বিগ্রহ পূজা ও নিরাকার উপাসনা ব্যাক্তিদের কি গতি হয় ?

বৈদিক শাস্রে বিগ্রহ পূজা ও সাকার  উপাসনা করার  কথা কোথায় আছে ? নিরাকার  উপাসনা ব্যাক্তিদের কি গতি হয় ?
শ্রীবিগ্রহ আরাধনা  সম্পর্কে শ্রী উদ্ধব ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে প্রশ্ন করছেন - 


বৈদিক শাস্রে বিগ্রহ পূজা ও নিরাকার  উপাসনা ব্যাক্তিদের কি গতি হয় ?

বৈদিক শাস্রে বিগ্রহ পূজা ও নিরাকার  উপাসনা ব্যাক্তিদের কি গতি হয় ? 


🌻 শ্রীমদ্ভাগবত (১১/২৭/১)- 
অনুবাদ👉হে প্রভু আপনি আমার  নিকট আপনার শ্রী বিগ্রহ অর্চনের অনুমোদিত পদ্ধতি অনুগ্রহ পূর্বক বর্ণনা করুণ। শ্রী বিগ্রহ আরাধনা করার  জন্য, তাঁদের বিশেষ কী যোগ্যতা থাকা উচিত। 
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলছেন- 

 শ্রীমদ্ভাগবত (১১/২৭/১২)
শৈলী দারুময় লোহী
লেপ্য লেখ্য চ সৈকতী
মনোময় মনিময়ী প্রতিমাষ্টবিধা স্মিতা।
অনুবাদ👉শিলা, দারু,ধাতু,ভূমি, আলেখ্য,বালুকা, মন এবং মণি এই অষ্ট প্রকারে শ্রী বিগ্রহ হতে পারে।

🌻ঋগ্বেদ সংহিতা ১/২২/২০-২১ মন্ত্র- তদ্ বিষ্ণোঃ পরমং পদং সদা পশ্যন্তি সূরয়ঃ। দিবীব চক্ষুরাততম্।।তদ্বিপ্রাসো বিপন্যাবো জাগৃবাংসঃ সমিন্ধতে। বিষ্ণো র্যৎ পরমং পদম্।।অনুবাদ 👉আকাশে সর্বতো বিচরণ কারী যে চক্ষু যেরুপ দৃষ্টি করে, সমস্ত দেবতারা বিষ্ণুর পরমপদ সর্বদা সেইভাবে দর্শন করেন। স্তুতি বাদক ও সদাজাগ্রত মেধাবী ব্রাহ্মণেরা বিষ্ণুর পরম পদ প্রদীপ্ত করেন।
ঋষিরা মন রুপ বিগ্রহের  ভগবানের আরাধনা করত।

🌻গীতা  ১২/২ নং 
শ্রীভগবানুবাচ
ম্যয়াবেশ্য মনো যে মাং নিত্যযুক্তা উপাসতে। শ্রদ্ধয়া পরয়োপেতাস্তে মে যুক্ততম মতাঃ।।
অনুবাদ 👉শ্রীভগবান বললেন - যাঁরা তাঁদের মনকে আমার সবিশেষ রূপে নিবিষ্ট করেন এবং অপাকৃত শ্রদ্ধা সহকারে নিরন্তর আমার উপাসনা করে সে আমার মতে তারাই সর্বশ্রেষ্ঠ যোগী। 

🌻শ্রীগোপাল তাপনী উপনিষদ্-(উওর ৪৭) নং শ্লোকে- শ্রীকৃষ্ণ বলছেন -
মথুরামন্ডলে যস্তু জম্বুদ্বীপে স্হিতোহপি বা যোহর্চ্চয়েৎ প্রতিমাং মাঞ্চ সে ম প্রিয় ভরো ভূবি।। 
অনুবাদ👉মথুরামন্ডলে তথা পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে - যে ব্যাক্তি আমার প্রতিমারুপে উপাসনা  করে, সে আমার অত্যন্ত প্রিয়। 

এর পরের শ্লোক  এ বলছেন - 
তস্যামধিষ্ঠতঃ কৃষ্ণরূপী পূজ্যস্ত্বয়া সদা। (উওর ৪৮)
অনুবাদ👉 হে ব্রহ্মা। আমি মথূরায় কৃষ্ণরূপে অধিষ্ঠিত হয়ে সর্বদা তোমার পূজা গ্রহন করছি। 

🌻শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত (মধ্য  ১৭/১৩১)- 
নাম, বিগ্রহ, স্বরূপ - তিন একরূপ। তিনে ভেদ নাহি তিন চিদানন্দ-রূপ।।

🌻 মহাভারত  ভীষ্ম পর্ব (২/২৬)- 
দেবতা প্রতিমাশ্চৈব কম্পন্তি চ হসন্তি চ।
অনুবাদ 👉 দেবতাদের  প্রতিমা গুলো কখনো কম্পন  হয় ও কখনো হাসছে। 

🌻শ্রী চৈতন্য চরিতামৃত মধ্য (৬/১৬৬) - 
ঈশ্বরের বিগ্রহ সচ্চিদানন্দাকার। সে বিগৃরহে কহ সত্বগুণের বিকার।। 

🌻শ্রীমদ্ভাগবত (৭/১৪/২৯)
যত্র যত্র হরেরর্চ্চা স দেশঃ শ্রেয়সাং পদম্। যত্র গঙ্গাদয়ো নদ্য পুরাণেষু চ বিশ্রুতাঃ।।
অনুবাদ 👉 যে যে স্থানে  শ্রীহরির প্রতিমা থাকে এবং যে স্থানে পুরাণ প্রসিদ্ধ গঙ্গানদী বর্তমান, সেই দেশ মঙ্গলের আশ্রয়। 

🌻শ্রীমদ্ভাগবত (৭/১৪/৪০)-
ত্রেতাদিষু হরেরর্চ্চা ক্রিয়ায়ৈঃ কবিভিঃ কৃতা।। 
অনুবাদ 👉ত্রেতাযুগে ঋষিগন শ্রীহরির বিগ্রহ আরাধনা করছেন।

🌻শ্রীমদ্ভাগবত ( ১২/৩/৫১-৫২)
কৃতে যৎ ধ্যায়তো বিষ্ণুং ত্রেতায়াং যজতো মখৈঃ।
দ্বাপরে পরিচর্যায়াং কলৌ তদ্ হরিকীর্তনাৎ।।
অনুবাদ - সত্যযুগে ধ্যান, ত্রেতাযুগে যজ্ঞ, আর দ্বাপরযুগে অর্চন দ্বারা যা লাভ হয়, কলি যুগে কেবলমাত্র শ্রী কৃষ্ণনাম সংকীর্তন দ্বারা তা লাভ হয়ে থাকে।

🌻স্কন্দপুরাণ 
যুগেহস্মিন্ তামসে তস্মাৎ সততং হরিমর্চয়েৎ।
অনুবাদ - এই কলিযুগ তমসার সমাচ্ছন্ন, সুতরাং এ সময়ে সর্বদা শ্রীহরির অর্চনা করণীয়। 

🌻স্কন্দপুরাণ
কলৌ কলিমলাক্রান্তা ন জানন্তি হরিং পরং।
যে অর্চয়ন্তি তমীশানং কৃতকৃত্যাস্ত এবং হি।।
অনুবাদ - কলি যুগে মানুষেরা পাপভারে সমাক্রান্ত হয়ে শ্রীহরিকে উপলব্ধি করতে পারে না। কিন্তু তারা যদি এই সময়েও শ্রীহরির অর্চনায় প্রবৃত্ত হয় তা হলে তাদের কৃতকৃত্য হবে।

🌻স্কন্দপুরাণ
যত্র বিষ্ণুকথা নিত্যং যত তিষ্ঠন্তি বৈষ্ণবাঃ।
কলিবাহ্যা নরাস্তে বৈ যেহর্চয়ন্তি সদা হরিং।।
অনুবাদ -.........., যারা শ্রীহরির অর্চনা করেন, কলি তাঁদের বাহন হয়ে থাকে।......... 

🌻 গীতা ১৮/৬৫ নং- 
মন্মনা ভব মদ্ভক্তো মদ্  যাজী মাং নমস্কুরু।মামেবৈষ্যসি সত্যং তে প্রতিজানে প্রিয়োহসি মে।।
অনুবাদ 👉তুমি আমাকে চিত্ত অর্পণ কর,আমার ভক্ত হও, আমার পূজা কর, এবং আমাকে নমস্কার কর।...... 

🌻ব্রহ্ম সংহিতা( ৫/১) 
ঈশ্বরঃ পরমঃ কৃষ্ণঃ সচ্চিদানন্দ বিগ্রহঃ।
অনাদিরাদির্গোবিন্দঃ সর্বকারণকারণম্।।
অনুবাদ 👉 ব্রজেন্দ্রনন্দন শ্রীকৃষ্ণই পরমেশ্বর ভগবান। তিনি সৎ,চিৎ ও আনন্দময় পুরুষ। তিনি সবকিছুর মূল রুপ অনাদিরও আদি, তিনি সমস্ত কারণের পরম কারণ। 

 🌻 ব্রহ্ম সংহিতা( ৫/৩৯)
রামাদিমূর্তিষু  কলানিয়মেন তিষ্ঠন্ নানাবতামকরোদ্ভুবনেষু কিন্তু। কৃষ্ণঃ স্বয়ং সমভবৎ পরমঃ পুমান্ যো গোবিন্দমাদিপুরুষং তমহং ভজামি।। 
অনুবাদ 👉যে পরম পরুষ স্বাংশ কলা নিয়মে রামাদিমূর্তিতে স্থিত হয়ে ভুবনে নানা অবতার রুপে প্রকাশ করেছিলেন এবং স্বয়ং কৃষ্ণও প্রকট হয়েছিলেন, সেই আদি পুরুষ গোবিন্দকে আমি ভজনা করি।

🌻 স্কন্দ পুরাণের বিষ্ণুখন্ডের পুরুষোত্তম (জগন্নাথ) মাহাত্ম্যম এর ১৬/৩৪ নং শ্লোকে ভগবানের মূর্তির প্রতিষ্ঠা করছেন স্বয়ং নারদ মুনি। 
নিরুপ্য সন্নিধিস্থান্তু নরসিংহাকৃতিংদ্বিজা ঃ। আদ্যমূর্ত্তৈনৃসিংহস্য প্রতিমামথ মেনিরে। 
অনুবাদ 👉হে দ্বিজগণ!অনন্তর সেই প্রতিমা সমীপে স্থাপিত হইল, সকলে নরসিংহের আকৃতি নিরুপণ করিয়া, সেই আদ্যমূর্তি নৃসিংহদেবের বলিয়াই নিশ্চয় করিলেন। 
এর পরে সেই বিগ্রহ পূজা করে স্থাপন করলেন।

🌻বরাহ পুরাণ ( ৫৪ /৯ ) 
বসন্তে শুক্লপক্ষস্য দ্বাদশী যা ভবেচ্ছুভা। তস্র্যামুপোষ্য বিধিবন্নিশায়াং হরিমর্চ্চয়েৎ।।
অনুবাদ👉নারদ বললেন - বসন্তকালে শুভ শুক্লপক্ষীয় দ্বাদশী সমাগত হলে ভক্তিসহকারে উপবাস করিয়া শ্রীহরির অর্চনা করিবে। 

🌻বরাহ পুরাণ( ৫০/১২) -
চত্বারঃ সাগরাশ্চৈব কল্পয়েদ্রাজসত্তম ।
তন্মধ্যে প্রাণিধানেন সৌর্বণং স্থাপয়েদ্ধরিম।।
অনুবাদ 👉ওই চারি পাত্র চারটি সাগর স্বরূপ। তাতে শ্রীহরির স্বর্ণ মূর্তি স্থাপন করে পূজা করো।
বিগ্রহ পূজা সম্পর্কে শিব পার্বতীকে বলছেন -

🌻নারদপঞ্চরাত্র, পঞ্চমরাত্র ৪/১ নং --
ইত্যর্চ্চন্মচ্যুতমাদরেণ যোহমুং জপেন্মন্ত্রেবরং ষতাত্মা। সোহভ্যর্চ্চ্যতে দিব্যজনৈর্জনানাং হ্নন্নেত্রপঙ্করুহতিগ্মভানুঃ।।
অনুবাদ👉শ্রীমহাদেব বললেন - যে কেহ আদর পূর্বক এই প্রকারে শ্রী কৃষ্ণের পূজা করিয়া একাগ্রচিত্তে এই মন্ত্র জপ করেন, তিনি সূর্যের ন্যায় তেজস্বী হয়ে দেবগণের পূজনীয় হয়ে থাকে।
 এর পূর্বে  তিনি বলেছেন, হে পার্বতী- ধ্যান পরায়ন হয়ে,  আমি  তাকে (গোবিন্দ) ভজনা ও স্তব করি। তাই আমি জগৎপূজ্য ও অদ্বিতীয় মহিমান্বিত হয়েছি।🌻(নারদপঞ্চরাত্র চতুর্থ রাত্র ৩/৪)।  
অনেক নব্য বেদবিদগণ প্রশ্ন তুলে বৈদিক যুগে কি বিগ্রহ পূজা ছিল।? 
উওর ঃ- হ্যাঁ, ছিলো।

♦রামায়ন, অযোধ্যা কান্ড
৬ষ্ঠ সর্গ ১১ নং শ্লোক - অযোধ্যানগরীর বর্ণনা 👉
সিতাভ্রশিখরাভেষু দেবতায়তনেষু চ।
অনুবাদ - পৌরজন শুভ্র মেঘের আভাযুক্ত পর্বতশিখরবৎ সুউচ্চ দেবালয় গুলোতে ,......... পতাকাগুলি সশব্দে উত্তমরূপে আন্দোলিত হচ্ছিল। 
এছাড়াও অযোধ্যা কান্ডের (৩/১৮),( ৬/৪), (৭/৪), (১৭/১৬) এ মন্দিরের বর্ণনা আছে।
এছাড়াও পাষন্ড স্বজাতি যে প্রতিমাপূজার বিরুদ্ধাচারণ করবে তা পূর্বেই ত্রিকালদর্শী মহর্ষি মার্কেন্ডেয় ভবিষ্যৎবাণী করেছেন। তিনি কলিযুগের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলছেন - 

♦ মহাভারতের বনপর্বে (১৬১/৬৪) বলা হয়েছে -  এড়ুকান্ পুজষিষ্যন্তি বর্জ্জষিষ্যন্তি দেবতাঃ। শূদ্রাঃ পরিচরিষ্যন্তি ন দ্বিজান্ যুগসংক্ষয়ে।।
অনুবাদ -  এই জগৎটাই বিপরীত হইয়া যাইবে, নীচ উচ্চ হইবে এবং উচ্চ নীচ হইবে। মানুষ দেওয়ালেব কাঠের পূজা করিবে ( মানে দেওয়াল মালা, কাঠ দ্বারা সজ্জিত করবে), কিন্তু দেব বিগ্রহ গুলো বর্জন করিবে। যুগ শেষে, শুদ্ররা দ্বিজাতিগণের সেবা করিবে না। 

♦এছাড়াও পরাশর সংহিতা তাতে হিমালয়ের  বদ্রিকাশ্রমের প্রকৃতি বর্ণনায় মন্দিরের  উল্লেখ পাওয়া যায়   (১/৬,৭) শ্লোকে-নানা বৃক্ষসমাকীর্ণ ফলপুষ্পোপশোভিতম্। নদীপ্রস্রবণাকীর্ণং পুণ্যতীর্রথৈরলঙ্কতম্।। ৬
মৃগ পক্ষিগণাঢ্যঞ্চ দেবতায়নাতাবৃতম্। যক্ষগন্ধর্বসিদ্ধৈশ্চ নৃত্যগীতসমাকূলম্।।৭
অনুবাদ - বদরিকাশ্রম ফলফুলে সুশোভিত বিবিধ বৃক্ষে পরিপূর্ণ,  নদী, প্রস্রবণ এবং পুণ্যতীর্থে সুন্দররূপে সজ্জিত তথায় হরিণ এবং পাখি বেড়াইতেছে, নানাস্থানে দেবালয় আছে, যক্ষ, গন্ধর্ব এবং সিদ্ধগণ চারিদিকে নাচ গান করিতেছে। 
হরি বংশের ১৩৩ অধ্যায়ে ও মন্দিরের কথা উল্লেখ আছে।
ভগবানের রূপের আরাধনা করলে কি হয় --

🌻গীতা ১২/৬-৭ নং- যারা সমস্ত কর্ম আমাতে সমর্পণ করে ভক্তিযোগের দ্বারা আমার ধ্যান করে, আমি তাদের এই সংসার থেকে অচিরেই উদ্ধার করি।

🌻গীতা ১৮/৬৫ - আমার পূজা কর। তাহলে তুমি  আমাকে অবশ্যই প্রাপ্ত হবে। এই জন্য আমি তোমার কাছে সত্যই প্রতিজ্ঞা করছি, যেহেতু তুমি আমার অত্যন্ত প্রিয়। 

🌻বরাহ পুরাণে বলা হয়েছে -
নয়ামি পরমং স্থানমর্চিরাদিগতিং বিনা। গরুড়স্কন্ধমারোপ্য যথেচ্ছমনিবারিতঃ।।
যে ভগবানের অর্চা করবে তাকে,ভবানের বাহন গড়ুরের কাঁধে করে ভগবদ ধাম নিয়ে যাবে।

🌻মাধ্যন্দিনায়ন শ্রুতি -
স বা এষ ব্রহ্মনিষ্ঠ ইদং শরীরং মর্ত্যমতিসৃজ্য ব্রহ্মাভিসম্পদ্য ব্রহ্মণা পশ্যতি ব্রহ্মণা শৃণোতি ব্রহ্মণৈবেদং সর্বমনুভবতি।
অনুবাদ 👉জীব যখন জড় শরীর ত্যগ করে চিন্ময় লোকে প্রবেশ করে তখন তার চিন্ময়শরীর পুনর্জীবিত হয়। তখন সে প্রতক্ষ্যভাবে ভগবানকে দর্শন করে, ভগবানে মুখোমুখি হয়ে কথা বলে ও ভগবানের কথা শুনতে পারে।

🌻গোপালতাপনী উপনিষদ (পূর্ব ২১)- 
তদিহ শ্লোকা ভবন্তি একো বশী সর্ব্বগঃ কৃষ্ণ ইড্য একোহপি সন্ বহুদা হো বিভাতি। তং পীঠস্থং যেহনুভজন্তি ধীরা স্তেষাং সুখং শাশ্বতং নেতরেষাম্।।
অনুবাদ 👉এক উপাস্য শ্রীকৃষ্ণই সব কিছুর নিয়ন্তা। তিনি এক, হয়েও বহু রুপেয়া অবতীর্ণ হন।সেই সমস্ত ঋষিরা, যাঁরা অবিরত ভাবে তাঁর উপাসনায় মগ্ন আছেন তাঁরাই চিরস্থায়ী সুখ অর্জন করতে সক্ষম হন,অন্য কেউ না।
যারা নিরাকার উপাসনা করে তাদের কি গতি হয় তা এখন জানুন --- 

🌻গীতা ১২/৫ নং- 
ক্লেশোহধিকতরস্তেষাম্ অব্যক্তাসক্তচেতসাম্। অব্যক্তা হি গতির্দুখং দেহবদ্ভিরবাপ্যতে।। 
অনুবাদ👉যাদের মন ভগবানের অব্যক্ত নির্বিশেষ রূপের প্রতি আসক্ত, তাদের ক্লেশ অধিকতর।কারণ,অব্যক্তের উপাসনার ফলে দেহধারী জীবদের কেবল দুঃখই লাভ হয়। 

🌻গীতা (৭/২৪)
অব্যক্তং ব্যক্তিমাপন্নং মন্যন্তে মামবুদ্ধয়ঃ। পরং ভাবমজানন্তো মমাব্যয়মনুত্তমম।।
অনুবাদ👉 বুদ্ধিহীন মানুষেরা, যারা আমাকে জানে না, মনে করে যে, আমি পূর্বে অব্যক্ত নির্বিশেষ ছিলাম, এখন ব্যক্তিত্ব পরিগ্রহ করেছি। তাদের  অজ্ঞতার ফলে তারা আমার অব্যয় ও সর্বোত্তম পরম ভাব সম্বন্ধে অবগত নয়।

🌻গীতা (৭/২৫)
নাহং প্রকাশঃ সর্বস্য যোগমায়াসমাদৃতঃ। মূঢ়োহয়ং নাভিজানাতি লোকো মামজমব্যয়ম্।।
অনুবাদ - আমি মূঢ় ও বুদ্ধিহীন ব্যাক্তিদের কাছে কখনও প্রকাশিত হই না। তাদের কাছে আমি আমার অন্তরঙ্গা শক্তি যোগমায়ার দ্বারা আবৃত থাকি। তাই, তাঁরা আমার অজ ও অব্যয় স্বরুপকে জানতে পারে না। 

🌻নারদ পঞ্চরাত্র, চতু্র্থ রাত ৩/২০৫ নং-
অহোবত মহৎ কৃষ্টং সমস্ত সুখদে হরৌ। বিদ্যামানোহপি সর্ব্বেশে মূঢ়াঃ ক্লিশ্যন্তি সংসৃতৌ।। 
অনুবাদ 👉পার্বতীদেবী বললেন - কিন্তু আশ্চর্য বিষয় এই যে সুখদাতা শ্রীহরিতে এইসমস্ত গুন বিদ্যমান থাকিলেও সেই সর্বেশ্বরকে না ভজিয়া মূঢ় জনেরা কষ্ট ভোগ করেন।

🌻 শ্রীভাগবতম (১০/২/৩২)
আরুহ্যকৃচ্ছ্রেণ পরং পদং ততঃ পতন্ত্যধঃ।
অনুবাদ 👉 বহু কষ্ট স্বীকার করে নির্বিশেষ ব্রহ্মরূপী পরম পদ প্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও তাকে পুনরায়  জড় জগতে অধঃপতিত হতে হয়। 

🌻 ব্রহ্মান্ডপুরণে বলা হয়েছে -
সিদ্ধলোকস্তু তমসঃ পারে যত্র বসন্তি হি। সিদ্ধা ব্রহ্মসুখে মগ্না দৈত্যাশ্চ হরিণা হতাঃ ।।
অনুবাদ👉যারা নিরাকার ব্রহ্ম উপাসনায়  সিদ্ধ হয়ে সেই ব্রহ্মসুখে নিমগ্ন হয়ে বাস করেন। শ্রীহরি  কর্তৃক নিহত অসুরেরা সেই ব্রহ্ম সুখ লাভ করেন। 

🌻শ্রী চৈতন্য চরিতামৃত মধ্য (৬/১৬৬) - 
শ্রী বিগ্রহ যে না মানে, সেই ত পাষণ্ড। 
অদৃশ্য অস্পৃশ্য, সেই হয় যমদন্ড্য।।

🌻পদ্মপুরাণে বলা হয়েছে - 
 অর্চ্যে বিষ্ণু শিলাধীঃ যস্য নারকী সঃ
অনুবাদ 👉যে শ্রীবিষ্ণুর বিগ্রহকে পাথর মনে করে, সে নারকী।

🌻পদ্মপুরাণ - 
যত্র কুত্রাপি প্রতিমাং বেদধর্ম সমন্বিতাং। ন পশ্যন্তি জনা গত্বা তে দন্ড্যা যম কিঙ্করৈঃ।।
অনুবাদ 👉 যেখানে হোক না কেন, বৈদিক ধর্ম দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ভগবানের শ্রীমূর্তি যারা দর্শন করে না, মৃত্যুকালে যমকিঙ্করেরা তাদের দন্ডিত করে থাকে।
 তাই  সবাই ভগবানের সাকার রূপের উপাসনা করুন।
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!