গল্পঃনির্দোষ লেখকঃরনি হাসান পর্বঃ১৮

গল্পঃনির্দোষ

লেখকঃরনি হাসান
পর্বঃ১৮

গল্পঃনির্দোষ -18
গল্পঃনির্দোষ 18



ধ্যাৎ মেজাজ টাই খারাপ করে দিলো। এমনিতেই আজ বাজে একটা দুর্স্বপ্ন দেখলাম তারমধ্যে রিদিতা বাবা আজ সত্যিই বিয়ের সম্মন্ধ নিয়ে আসছিলো। তারমানে দুপুরে যে স্বপ্নটি দেখলাম তার কিছুটা অংশ মিলে যাচ্ছে। স্বপ্নের মতো যদি রিদিতা কোনো ইমোশনাল ব্যাকমেইল করে তখন তো বাধ্য হয়ে তাকেই বিয়ে করতে হবে....? না না সেটা কোনো ভাবেই সম্ভব না। (চেয়ারে বসে আনমনে ভাবছি এরমধ্যে কাকিমা এসে বিনয়ের সুরে বলল..
বাবা রাগ কিন্তু শয়তানের ভাই। আজ হইত তোর রাগ প্রধান্য দিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে করলি বুঝলাম। কিন্তু রিদিতার কি হবে বল..? (কাকিমা)
নিশ্চুপ (আমি)
রিদিতাকে বউমা হিসেবে আমার অনেক পছন্দ হয়েছে। তুই যদি এই বিয়েতে মত না দিস তাহলে আমি ভেবে নিবো। আমার পছন্দের তোর কাছে কোনো মূল্য নেই ( কাকিমা)
কাকিমা প্লিজ রিদিতাকে আমি বিয়ে করতে পারবো না। বিয়ে যদি করতে হই তো এলাকার আরও অনেক মেয়ে আছে তাদের দেখো কিন্তু আমার স্ত্রী হিসাবে রিদিতাকে বেচে নিও না প্লিজ (শান্ত সুরে)
ওহ তারমানে আমার পছন্দের তোর কাছে সত্যিই কোনো মুল্য নেই। মূল্য থাকবেই বা কেন। তুই তো আর আমাকে নিজের মা ভাবিস না। যদি তোর নিজের মা হতাম তাহলে তো আমার মুখে উপর না করে দিতে পারতি না (কাকিমা মুখ কালো করে বলে উঠলো)
কাকিমার কথা শুনে আমি তো রীতিমতো অবাক হয়ে গেলাম। কাকিমা এসব কি বলছে। এতোদিন যেটা শুনিনি আজ সেটা বলছে
আচ্ছা ঠিক আছে তোর পছন্দের যে কাউকে ঘরে আনতে পারিস। আমি তো শুধু কাকিমাই মাত্র " আমার পছন্দের কি বা গুরুত্ব থাকতে পারে (কাকিমা এই বলে মন খারাপ করে চলে যেতে লাগলো এমন সময় আমি বললাম
মা দাড়াও (কাকিমা আমার মুখে মা ডাক শুনে অবাক হয়ে বলে উঠলো
কে তোর মা। আমি তো মা নাহ। মা হলে অবশ্যই আমার পছন্দের মুল্য দিতি। সমস্যা নাই আগে যেমন আমাকে কাকিমা বলে ডাকতি সেই নামেই ডাকিস।আমি তো অইটারি যোগ্য (ছলছল চোখে)
তুমিই তো আমার মা। মা তো ছেলের সঙ্গে এই মুহুর্ত অভিমান করে চলে যাচ্ছে। তার ছেলে কি এতোই বোকা তার মায়ের অভিমান না ভাঙিয়ে এখান থেকে চলে যেতে দিবে (আমি)
কই আমি তো কোনো অভিমান করেনি (কাকিমা চোখের পানি মুছে)
ছোট থেকে যার কোলে পিটে মানুষ হয়েছি। যে মানুষটার নিজের সন্তান থাকার পর ও আমাকে যে এতো আদর যত্নে বড় করেছে। তার পছন্দের মুল্য যে আমার কাছে নেই সেটা তাকে কে বলল... হ্যা। আচ্ছা যাই হক এখন বলোতো রিদিতাকে তোমার বউমা হিসাবে অনেক পছন্দ.? (কাকিমা প্রশ্ন করে)
বললেই কি..? তুই তো তোর ইগোর কাছে একদম অটুট। আমার পছন্দের হলেই কি.. বা না হলেই কি.. রিদিতাকে তো আর বিয়ে করবি না (কাকিমা)
আচ্ছা ঠিক আছে তুমি রিদিতার বাবার সঙ্গে কথা বলে দেখতে পারো।আমার কোনো দ্বিমত নেই (আমি)
আমার কথা শোনামাত্রই কাকিমা খুশি হয়ে বলে উঠলো
বাবা তুই সত্যিই এই বিয়েতে মত দিয়েছিস।আমার তো বিশ্বাসী হচ্ছে না। (কাকিমা খুশি হয়ে)
হ্যা (হাসি মুখে বললেও মন থেকে খারাপ লাগার বিষয়টা কাকিমাকে বুঝতে দিলাম না)
আমি বরং রিদিতার বাবাকে বলি তুই এই বিয়েতে মত দিয়েছিস। (কাকিমা অনেক্টা খুশি হয়ে তার রুমে চলে গেলো)
কাকিমা যে আমাকে এমন ইমোশনাল ব্যাকমেইল করবে তা কখনো কল্পনা করেনি। এ নিশ্চয়ই রিদিতার কোনো চাল নইত কাকিমা আমাকে এমন ইমোশনালে ফেলতো না। রিদিতা হইত জানতো কাকিমা আমাকে এমন ইমোশনাল চক্রে ফেললে না করবো না অবশ্যই। রিদিতা তুমি যতই প্ল্যান করে আমার স্ত্রী হবার চেষ্টা করো না কেন। আমি কখনো তোমাকে আমার স্ত্রী হিসাবে মেনে নিবো না। আমার কাছে আসা মানে নিজের কপালে নিজেই দুঃখ কষ্ট বয়ে আনা...! (আনমনে এসব ভেবে)
অপরদিকে
মা তানিশাকে এমন ভাবে প্ল্যানিং টা বুঝিয়ে বলছি আন্টি যদি সেমভাবে ওকে এসব বলে । ও এই বিয়েতে রাজি হতে বাধ্য (রিদিতা খুশি হয়ে )
তোর মাথায় ভালোই বুদ্ধি আছে দেখছি। আমি তো ভেবে নিয়েছিলাম। তুই কোনো সুসাইট করে বসবি (রিদিতার মা)
মা আমি জানতাম ও আমার সুসাইট হবার কথা শুনলে সেটা তার আমলে নিতে না। উল্টো তার ইগো নিয়েই পড়ে থাকতো। আমার জন্য তার মনে যে ঘৃণা জন্মেছে সেটা আমি শেষ করতে চাই মা (রিদিতা)
মারে সবই বুঝলাম।কিন্তু পরে যদি কোনো সমস্যা হই তখন (রিদিতা মা)
সেটা আমি মেনেজ করে নিবো। টেনশন করো না (রিদিতা)
এইদিকে
কাকাই কাকিমা তানিশা তারা অনেক আনন্দ উল্লাসে মেতে আছে। তাদেরকে বুঝতে দিচ্ছি না যে এই বিয়েতে আমি খুশি নই।ব্যস পারিবারিকভাবেই সব নিয়ম কানুন মেনে বিয়েটা সম্পুর্ন হলো। বাড়িতে আজ সবাই আনন্দ উল্লাস করছে অথচ আমি ছাদে বসে আকাশ দিকে তাকিয়ে ভাবছি যে মেয়েটা আমাকে গ্রাম বাসীর সামনে অপমান অপদস্ত করলো। আজ তাকেই বিয়ে করতে হলো। পরিস্থিতি আমাকে এরকম একটা দিন দেখাবে। তা আমি স্বপ্নেও ভাবিনি। (ছাদে বসে এসব ভাবছি এরমধ্যে তানিশা এসে বলতে লাগলো
কী ব্যাপার বিয়ে করে বউকে ঘরে একা রেখে ছাদে চলে আসলি কেন (তানিশ)
এমনি ভালো লাগছে না যা তো এখান থেকে (রেগে)
যাচ্ছি তো এমন রাগ দেখিয়ে কথা বলার কি আছে মা তোকে খুজতে বলছে দেখে তো এখানে আসছি এমনি এমনি তো আর আসিনি (তানিশাও রাগ দেখিয়ে)
এখন খুজে পেয়েছিস তো এবার আমাকে এক্টু একা থাকতে দে প্লিজ (আমি)
তানিশা কোনো কথা না বলে চলে গেলো। ও হইত বুঝতে পেরেছে কেন..? আমি একা থাকতে চাচ্ছি। তাছাড়া তানিশাও খুব ভালো করেই জানে এই বিয়েটা শুধুমাত্র কাকিমার মতকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য রিদিতাকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছি। তো ছাদে এভাবেই কিছুক্ষণ সময় কেটে গেলো। ঘড়ির দিকে লক্ষ্য করলাম রাত প্রায় ১২ টায় বেজে গেলো। যেই বসা থেকে উঠতে যাবো এরমধ্যে কাকিমা এসে বলল
কিরে বাপ আর কতক্ষণ ছাদে বসে থাকবি এবার তো রুমে যা" রিদিতা কখন থেকে তোর অপেক্ষায় বসে আছে (কাকিমা)
হ্যা যাচ্ছি (আমি)
তারপর রুম গিয়ে দরজায় একটা থাপ্পড় মারতে ওপাশ থেকে রিদিতা তড়িঘড়ি করে দরজা খুলে দিলো। রিদিতাকে দেখে কোনো কথা না বলে খাটে গিয়ে কোলবালিশটা মাঝ খানে রেখে। চোখ দুটো বন্ধ করেই সুয়ে করলাম। কিছক্ষন পরেই
এই যে হেলো এত তারাতাড়ি ঘুমিয়ে পড়লে কেন..? (রিদিতা)
নিশ্চুপ (আমি)
আজ নাহ আমাদের বাসরাত আর এ সময় তুমি এভাবে ঘুমিয়ে পড়লে হবে উঠো প্লিজ (রিদিতা আমাকে এক্টু ঝাকিয়ে বলল)
এই তোমার সমস্যা কি আমাকে এভাবে বিরক্ত করছো কেনো(আমি)
এভাবে ঘুমিয়ে পড়লে আমি কার সঙ্গে গল্প করবো তাছাড়া আমাদের বাসর রাত এই রাতে এতো তাড়াতাড়ি ঘুমানো চলবে না (রিদিতা)
এই মেয়ে তোমার কি ধারণা তোমাকে বিয়ে করে আমি অনেক আনন্দ উল্লাসে মেতে আছি এরকম ধারণা করেছো নিশ্চয়ই ( চোখ রাঙিয়ে )
নিশ্চুপ (রিদিতা)
একটা কথা ভালো করে শুনে রাখো। এই বিয়েটা আমি করলেও নিজ ইচ্ছাই করেনি। কাকিমার পছন্দের গুরুত্ব দেওয়ার জন্য তোমাকেই বিয়ে করতে হয়েছে। জানি নাহ কাকিমা কেন আমাকে তোমাকে বিয়ে করতে এতো চাপ দিলো।এরমধ্যে নিশ্চয়ই তোমার কোনো হাত অবশ্যই রয়েছে। নইত কাকিমা আমাকে ইমোশনাল ব্যাকমেইল করতো না (আমি)
অতীতে যা হবার তা হয়েছেই এখন এসব মনে চেপে রেখে কেন এতো কষ্ট পাচ্ছো..? (রিদিতা)
আমার কি ভাগ্য যে মেয়েটা আমাকে গ্রামবাসীর সামনে ছোট করলো আজ সেই কিনা আমার স্ত্রী। তুমি কেন আমার লাইফে স্ত্রী হিসাবে আসলে বলোতো আমি তো তোমাকে কখনো স্ত্রী মেনে নিতে পারবো না (মন খারাপ করে বলে ফেললাম)
এমনটা বলো না প্লিজ..! আমি জেনে শুনে এসব করেনি..? (রিদিতা কান্না করে)
আসলে তুমি চাইতা আমি যেন এলাকার বাসীর সামনে ছোট হই। আর তোমাকে পিছনে ঘুরাফেরা করা বাদ দিই। এটাই তো ভেবে আমাকে সবার সামনে অপমান অপদস্ত করেছিলে তাই না (আমি)
আমার কথা শুনে রিদিতা শব্দ ছাড়াই চোখের জল ফেলতে লাগলো। সেদিকে লক্ষ্য না করে বললাম
অতীতকেও এতো সহজে ভুলবো। এবং তোমাকেও স্ত্রী হিসাবে মেনে নিবো না। যতদিন তুমি আমার কাছে থাকবে ততদিন অবহেলিত হয়েই থাকবে। কখনো আমার ভালোবাসাটা পাবে না। (এই বলে পাশের রুমে চলে যেতে ধরবো এমন সময় রিদিতা আমার পা জড়িয়ে কান্না করে বলতে লাগলো....?
!
!
(চলবে)
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!