গল্পঃনির্দোষ পর্বঃ১১

গল্পঃনির্দোষ

লেখকঃরনি হাসান
পর্বঃ১১

গল্পঃনির্দোষ পর্বঃ১১
গল্পঃনির্দোষ পর্বঃ১১



হটাৎ পরিচিত কন্ঠ কে যেনো আমার নাম ধরে ডেকে উঠলো। নিউজ ফিড দেখা বাদ দিয়ে তার দিকে তাকাতেই আমার চোখ যেনো কপালে উঠে গেলো। আজ এক মাস পর আরহীর সঙ্গে কলেজে এভাবে দেখা হবে সেটা কখনো আশা করেনি। নিশ্চয়ই এই কলেজেই পড়ে। ধুর ও পড়লেই কি না পড়লেই কি..? ওর সঙ্গে কথা না বলাই ভালো এসব ভেবে চলে আসতে যাবো এমন সময় আরহী আমার সামনে এসে বলতে লাগলো
কেমন আছেন...? (আরহী)
আরহী কথাতে কোনো রেসপন্স না করে চলে আসতে যাবো তো আমার পথ আটকিয়ে আরহী বলে উঠলো
সেদিন আপনার চলে যাওয়ার কথা শুনে কেন জানি নিজের চোখের জল আটকাতে পারেনি। নিজেকে অনেক অপরাধী বলে মনে হয়েছে।আমার জন্মদিনে আপনার সঙ্গে মিস বিহেব না করলে হইত আমাদের বাসা এভাবে ছেড়ে নিশ্চয়ই আসতেন না(আরহী করুন সুরে বলল)
আমাকে তাড়ানো জন্য তো উঠে পড়ে লেগেছিলেন। এখন আপনাদের বাসা ছেড়ে চলে আসছি এতে তো খারাপ লাগার কোনো কথা না (আমি)
আমার একটা ভুল ধারনা জন্য আপনার সঙ্গে মিস বিহেব করেছি। সেই ভুলটি এখন বুঝতে পারছি (আরহী)
নিশ্চুপ (আমি)
আপনি চাইলে আবার আমাদের বাসায় থাকতে পারেন আমার কোনো সমস্যা নাই।এবার কথা দিচ্ছি আপনার সঙ্গে আর কোনো মিস বিহেব করবো না (আরহী)
আপনি পারেন ও বটে। আপনার কি মনে হই এই মিষ্টিমাখা কথা বলেই আমি আপনার ওখানে যাবো..? কখনোই না। আপনাকে বলেছিলাম না ' আপনি শুধু দেখতেই সুন্দর কিন্তু আপনার এই চেহারার মতো যদি আচার ব্যবহার ভালো হতো তাহলে হইত আপনার প্রতি একটা ভালো লাগা কাজ করতো কিন্তু আপনি তো এরকম না তার উল্টো (আমি)
আপনি চাইলে আমি সব কিছু বদলে ফেলবো (আরহী আনমনে বলে উঠলো)
আমি চাইলে নিজে বদলাবেন মানে..? (আমি)
আরহী আমার কথার উত্তর না দিয়ে বলল
আমরা কি সবকিছু ভুলে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়তে পারি না (আরহী)
না... (আমি)
কেন (আরহী)
আমি আমার একাকিত্ব জীবনেই ভালো আছি এখানে কারো বন্ধুত্বের দরকার নেই (আমি)
আমার উপর রেগে এসব বলছেন তাই না তাছাড়া কলেজের সব ছেলেরাই কিন্তু আমার সঙ্গে বন্ধু করতে চাই কিন্তু তাদের সঙ্গে আমিই বন্ধুত্ব করি না। আচ্ছা ঠিক আছে আমি আগে আপনার সঙ্গে যা অন্যায় করেছি সেটার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি যে...
এতদিন আপনার সঙ্গে যা মিস বিহেব করেছি ' তার জন্য আমি সত্যিই অনেক লজ্জিত এবং অনুতপ্ত প্লিজ আমাকে আপনার বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে নিন। আর আমাকে ক্ষমা করে দিন প্লিজ (আরহী দুহাত জোর করে মুখে মিষ্টি হেসে বলল)
নিশ্চুপ (আমি)
আমাকে ক্ষমা করবেন না তাই তো। অনেকের কাছেই শুনেছি ক্ষমা করে দেওয়াও কিন্তু একটা মহৎ তের কাজ। আপনি কি এই মহৎ এর কাজটি করবেন না (আরহী জিজ্ঞাসার দৃষ্টিতে)
(আরহীকে যত দেখছি ততই অবাক হচ্ছি। এই মেয়েটি একেক সময় এককরুপ ধারন করে দেখছি।আগে যখন তাদের বাসায় থাকতাম তখন তো অকারনে মিস করতো। আর'এখন এসব মিষ্টিমাখা কথা বলে আমাকে কেন জানি নিমিষেই গলিয়ে ফেলছে। আনমনে এসব ভাবতেই আরহী বলে উঠলো
আমাকে কি মাপ করা যায় না..? (আরহী)
নিশ্চুপ (আমি)
কি হলো বলেন (আরহী)
আচ্ছা ঠিক আছে ভেবে দেখবো (এই বলে বাসায় চলে আসলাম)
বাসায় এসে শুধু আরহীর কথা বারবার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। আগে তো আমাকে সহ্যই করতে পারতো না।আর এখন তাদের বাসা ছেড়ে চলে আসাতে এতেই তিতাকে মিষ্টি লাগতে শুরু করেছে দেখছি।রাতে এসব চিন্তা ভাবনা করে কখনো যে ঘুমিয়ে পড়ছি খেয়ালই নেই মাঝরাতে স্বপ্ন ঘোরে দেখতে লাগলাম কাকিমাকে সাদা কাফনে খাটে করে কই যেন নিয়ে যাচ্ছে' আমি পিছন দিক থেকে তাদেরকে কান্নায় ভেঙে পড়ে বারন করে বলছি...
আমার কাকিমাকে তোমরা কোথায় নিয়ে যাচ্ছো... আমি থাকতে কাকিমাকে কোথাও নিয়ে যেতে দিবো না '' কেউ আমার কথা কানেই নিচ্ছে না" তো উপায় না পেয়ে জোরে কাকিমা বলে চিৎকার মেরে বলতেই ঘুম ভেঙে গেলো আমার রুমমেট জয় পাশে এসে বলতে লাগলো
ভাই আপনি ঘুমের মাঝে কাকিমা বলে হঠাৎ চিৎকার দিলেন নিশ্চয়ই কোনো দুর্স্বপ্ন দেখেছেন (জয়)
ভাই পানি হবে এক্টু (বলার মাত্রই জয় সামনে এক গ্লাস পানি এনে দিলো তারপর পানি টুকু খেয়ে জয়কে বলল
হ্যা ভাই অনেক বড় একটা দুর্স্বপ্ন দেখেছি। আসলে এই পৃথিবীতে আমার আপনজন বলতে কাকাই কাকিমা তারাই আমাকে আদর যত্নে বড় করেছেন। আজ প্রায় এক বছরই হয়ে গেলো তাদের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ নেই। (আমি)
তাদেরকে ছেড়ে ঢাকা শহরের পড়ে আছেন কেন (জয়)
সে এক লম্বা কাহিনি (আমি)
বলেন না ভাই কি কাহিনি..? (জয় কৌতুহলবশত জিজ্ঞেস করে বলে উঠলো)
এখন না ভাই আরেকদিন সময় নিয়ে বলবো নে (আমি)
আচ্ছা ঠিক আছে আমি অবশ্যই আপনার গল্পটা শুনবো এখন আপনার ঘুমের প্রয়োজন ঘুমিয়ে পড়েন (জয়)
হুম (আমি)
বাকি রাতটুকুতে ঘুমাতে আর পারলাম না। ফজরের আযান শুনে বিছানা থেকে উঠে ওযু করে মসজিদে নামাজ পড়তে গেলাম। কতদিন আগে যে নামাজ পড়তে গিয়েছিলাম তা ঠিক এখন মনে নেই। নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে মোনাজাতে বললাম
হ্যা আল্লাহ তুমি আমার কাকাই কাকিমাকে ভালো রেখো। তারা হইত আমার রক্তের কেউ না। তারপরও তারা আমার আপনজন। তারা যে অবস্থাই থাকুক না কেন ভালো যেন থাকে (এইটুকু বলে সংক্ষিপ্ত মোনাজাত পড়ে মসজিদের বাহিরে চলে আসলাম। ইতিমধ্যে বাহিরে সূর্যের আলোয় রক্তিম হয়ে উঠেছে...
বাসায় এসে কেন জানি মনে হলো কাকিমার সঙ্গে কথা বলা দরকার। পুরাতন সিমটা অপেন করে ফেললাম। এর আগে ও অনেক বারেই অপেন করেছি কিন্তু তাদের ওখানে ফোন দেওয়ার ইচ্ছা হইনি কিন্তু আজ দিতে হচ্ছে তো তানিশার কাছে ফোন দিলাম দুই এক বার রিং হবার পর তানিশা ফোনটা রিসিভ করেই বলল
হেলো কে বলছেন...? (তানিশা)
কাকিমার কাছে ফোন্টা দেন (আমার কন্ঠ শুনেই তানিশা বলল
ভাই তুই কেমন আছিস কতদিন ধরে তোর
ফোন নাম্বারে কল দিয়েছি তার কোনো হিসাব নেই কিন্তু প্রতিবারেই ফোন বন্ধ দেখায়। ফোনটা কেন বন্ধ করে রেখেছিলে বলতো (তানিশা একসঙ্গে কথা গুলো বলে উঠলো
তানিশার কথার উত্তর না বললাম..
আপনার সঙ্গে কথা বলার কোনো ইচ্ছায় আমার নেই। এখন যদি কাকিমার কাছে ফোনটা না দেন..' তো কথা বাড়িয়ে লাভ নেই ফোন রাখছি বাই (কিছুটা রেগে বললাম)
মাকে ফোন দিচ্ছি তবুও রাখিস না (তানিশা মন খারাপ করে বলল)
কাকিমার হাতে ফোন দিবার পর কাকিমা কান্না করেই বলে উঠলো
বাবা কেমন আছিস..? (কাকিমা)
আলহামদুলিল্লাহ ভালোই তোমরা কেমন আছো (আমি)
তুই কি আমাদের ভালো রেখেছিস (কাকিমা)
নিশ্চুপ (আমি)
বাবা অনেক দিন তো বাহিরে থাকলি এবার চলে আই না বাপ তোকে ছাড়া বাড়িটা কেমন শূন্যতাই ভরে গেছে (কাকিমা)
নিশ্চুপ (আমি)
তোকে খুজতে তোর কাকাই ঢাকা পযন্ত খুজে আসছে কিন্তু তোর সন্ধান ও পাইনি কোথায় আছিস কি করছিস । কিছুই জানতে পারেনি বাবা আমাকে বল তুই কোথায় আছিস(কাকিমা)
সরি কাকিমা সম্ভব না। ছোট থেকেই তোমাদেরকে অনেক বিরক্ত করে আসছি। তাই এখন ভাবছি বাকি জীবনে একাকিত্বই কাটিয়ে দিবো। তাছাড়া আমার তো কোনো অধিকার নেই তোমাদের ওখানে থাকবো। হাজার হক আমি তো তোমাদের রক্তের কেউ না (আমি)
আমার কথাটা শুনা মাত্রই কাকিমা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলল
তোকে ছোট থেকে বড় করেছি এসব শুনার জন্য। আমি জানি তোর এক্টু জিদ বেশি। এর জন্য কি আমাদের ছেড়ে সারাজীবন কাটিয়ে দিতে পারবি। তুই হইত আমাদেরকে ছাড়া ভালো আছিস কিন্তু আমরা তোকে ছাড়া ভালো নেই। সেটা কি বুঝিস না (কাকিমা)
নিশ্চুপ (আমি)
বাবা তুই আর জিদ করে বাহিরে থাকিস না। তোকে ছাড়া সত্যি আমরা ভালো নেই। (কাকিমা)
এভাবেই কাকিমার সঙ্গে ফোনে কথা বললাম। পরিশেষে বললাম..
কাকিমা ভালো থেকো আর নিজের যত্ন নিয়ো রাখছি (এইটু বলতেই কাকিমা বলল)
তানিশা তোর সঙ্গে কথা বলতে চাচ্ছে কথা বল (কাকিমা এই বলে তানিশার হাতে ফোনটা দিলো)
তানিশা হেলো বলা মাত্রই ওপাশ থেকে লাইন কেটে দিলো। তানিশা মন খারাপ করে তার মাকে বলতে লাগলো
মা ও আমার সঙ্গে কথা না বলেই ফোন কেটে দিলো। আজ প্রায় এক বছর পর ফোন দিলো অথচ আমার সঙ্গে কথাই বললো না (তানিশা মন খারাপ করে বলল)
থাক মা মন খারাপ করিস না। তুই বোন হয়ে ওকে বাজে কথা কথা বলছিস দেখে ও তোর উপর অভিমান করে আজ ও কথা বললো না (তানিশার মা)
ইতিমধ্যে তানিশা কান্না করা শুরু করে ফেলছে। তানিশার কান্না দেখে তার মা শান্তনা দিয়ে বলল
আবার যখন ফোন দিবে তখন রনিকে বুঝিয়ে বলবো নে যেনো তোর সঙ্গে কথা বলে।পাগলি মেয়ে ভাইয়ের জন্য যখন এতই খারাপ লাগছে তো সেদিন কেন ঝগড়া করতে গেলি (তানিশার মা)
মা আমার ভুল হয়েছে এবার ফিরে আসলে কখনো ওর সঙ্গে আর ঝগড়া করবো না (তানিশা কান্না করে)
উপরদিকে
তানিশার সঙ্গে এক্টু কথা বললে হইত ভালো হতো। পাগলীটা নিশ্চয়ই আমার আচরনে কষ্ট পেয়েছে। পেলেই বা কি বেচে থাকলে তো ওর সঙ্গে কথাই বলবো না। আজ ও তার বলা বাজে কথা গুলো কানে ভেসে আসে। এসব ভাবছি এরমধ্যে মেসেজের শব্দে ধ্যান ভেঙে গেলো
তারপর মেসেজেটি অপেন করে পড়তে লাগলাম
কেমন আছো তুমি নিশ্চয়ই ভালো নেই...! পরিবার ছাড়া কজনেই বা ভালো থাকতে পারে। সেদিক থেকে তুমিও ভালো নেই সেটা আমি জানি। তোমার দুই বছরের ভালোবাসাটা আমি বুঝতে পারেনি। কি করবো বলো যখন তোমাকে ভালো লাগতে শুরু করলো ঠিক তখনই দুর্জয় যে আমাদের মাঝে এমন দেয়াল তৈরি করবে সেটা আমি দিন কল্পনাও করেনি। মাঝখানে তোমাকে শুধু ভুল বুঝে গেলাম। জানি না আমার ক্ষমা হবে কিনা। তারপর ও বলবো প্লিজ আমাকে ক্ষমা দাও...!!
তোমার সঙ্গে না বুঝে যে অন্যায়টা করে ফেলছি। বিশ্বাস করো সত্যটা জানার পর তোমাকে অনেক খুজেছি কিন্তু কোথাও পাইনি।আব্বু ও অনেক অনুশোচনায় ভোগছেন । প্লিজ এবার গ্রামে ফিরে এসো জিদ করো না। আমি তোমার অপেক্ষায় থাকবো। কথাগুলো ফোনেই বলতাম কিন্তু সাহস পাচ্ছিলাম না।তাই মেসেজে বললাম।
মেসেজটা পড়ে কেমন জানি ঘোরের মধ্যে পড়ে গেলাম। আজ সিমটা অপেন করতেই অচেনা নাম্বার থেকে কে এসব মেসেজ দিচ্ছে। রিদিতা নইতো......কৌতুহলবশত সেই নাম্বারে কল দিলাম ফোনটা রিসিভ করে ওপাশ থেকে যখন হেলো শব্দটি আসলো তখন বুঝতে আর বাকি রইলো না কে এইটা। তারপর কথা না বলে দুরুত্ব লাইন কেটে দিলাম....! আর ওপাশ থেকে অবিরাম কল আসতেই লাগলো
!
!
(চলবে)
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!