Choto Golpo - ডাইনির স্বীকার

ডাইনির স্বীকার

ডাইনির স্বীকার
ডাইনির স্বীকার


গ্রামটির নাম ছিল সন্দেশপুর। গ্রামটির পরিবেশ ছিল অত্যন্ত সুন্দর। ফল ফুল গাছপালায় ভরা ছিল গ্রামটি। গ্রামের মানুষেরা একে অপরের সঙ্গে বেশ ভালই মিলে ঝুলে থাকতো। আর গ্রামের এক প্রান্তে এক ডাইনি বুড়ি থাকতো, সেইখানে কেউ যেতো না। সবাই সেই ডাইনী কে ভয় পেত, কিন্তু সেই ডাইনিটি ছিল খুব ভালো। ডাইনিটি গ্রামের এক প্রান্তে একা থাকত, আর শীতকালে তার বোন তার বাড়িতে বেড়াতে আসত।

তার বোনটি ছিল খুব শয়তান। সে সবসময় ভালো ডাইনীটা কে বলতো যে- আমাদের ডাইনিদের অনেক ক্ষমতা, তুই সেই ক্ষমতা দিয়ে এই গ্রামের সমস্ত মানুষদের নিজের বশে করে নে। তুই যা যা বলবি ,ওরা তাই তাই শুনবে। কিন্তু ভালো ডাইনিটি এই সব কথায় রাজি হতো না, সে বলতো জীবনের আর কতটুকুই বা সময় বাকি আছে?? যেটুকু সময় আছে সেটুকু সময় এই গ্রামের এক প্রান্তে এই কুঁড়েঘরে কাটিয়ে দি।

ভালো ডাইনির মুখে এসব কথা শুনে, তার বোন সেই শয়তান ডাইনিটি মনে মনে ভাবতে লাগলো, কিভাবে এই গ্রামের মানুষদের নিজের বশে করা যায়। সেই দিন সারারাত এইসব ভাবতে ভাবতে শয়তান ডাইনিটির মাথায় একটা বুদ্ধি এলো। সে ভোর হতেই তার বোন ভালো ডাইনিটিকে কিছু না জানিয়ে বেরিয়ে পড়ল ওই গ্রামের উদ্দেশ্যে। সে গ্রামের মধ্যে তার আসল ডাইনির রূপটি নিয়ে যায়নি, সে ঐ গ্রামে এক সুন্দরী নারীর রূপ নিয়ে গিয়েছে। শয়তান ডাইনিটি ওই গ্রামে ঢুকতেই তার চোখের মায়াতে সেই গ্রামের সমস্ত লোক, বুড়ো, বাচ্চা, মহিলা সবাইকেই তার মায়ার বস করে ফেলল। এর ফলে ডাইনি যা বলে সবাই তাই শোনে। সেই সুন্দর ফল ফুলে ভরা গ্রামটা আর আগের মতন নেই। প্রতিদিন সেই গ্রামে ছাগল, মুরগি, গরু, সব মারা হতো। আর এইসব হত ডাইনির ভোজ। এই খবর আশেপাশের সব গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছিল, মানুষের মনে তখন খুব ভয়, সবাই সন্ধ্যা সন্ধ্যা ঘরে ফিরে আসতো, এই খবর কোনভাবে সেই ভালো ডাইনির কানে পৌঁছে ছিল।

ভালো ডাইনি তার বোন সেই শয়তান ডাইনিটি কে বলল- তুমি যা করছো তা একদমই উচিত কাজ করছ না। এই অসহায় মানুষগুলো তো তোমার কোন ক্ষতি করেনি, তাহলে তুমি কেন এমন করছো? শয়তান ডাইনিটি তখন ভালো ডাইনি কে তাড়িয়ে দিল। শয়তান ডাইনিটি ভোগ বিলাসে মত্ত হয়ে এই কথাটা ভুলে গিয়েছিল যে তার প্রাণ ভোমরা তার দিদি সেই ভালো ডাইনির কাছেই আছে।

রাত তখন গভীর, হঠাৎ শয়তান ডাইনিটির বুকের ভিতর খুব ব্যথা শুরু হল। কিছুতেই সেই ব্যথা কমছে না। ডাইনির প্রবল আর্তনাদের আওয়াজে সমস্ত গ্রামটি গমগম করে কাঁপছিল। যত সময় যাচ্ছে ততই যেন তার শরীরে ব্যথা আরো ছড়িয়ে পড়ছে। শয়তান ডাইনিটি ব্যথায় ছটফট করতে লাগলো। এমন সময় তার মনে পড়ল যে তার প্রাণ ভোমরা তো তার দিদির কাছে আছে। সে কি তবে আমার প্রাণভোমরা দের, অর্থাৎ আমাকে মেরে ফেলল? এই ভেবে শয়তান ডাইনিটি কোনভাবে গ্রামের মাঝপথে অবধি এসেছে।

সে আর চলতে পারছে না। ব্যাথায় যেন তার শরীর ছিড়ে যাচ্ছে। আস্তে আস্তে সেই ডাইনির সারা শরীর কালো হয়ে যেতে লাগল, আর সেই ডাইনী আর্তনাদ করতে করতে মারা গেল। যেই সেই ডাইনিটি মারা গেল, অমনি গ্রামের মানুষ গুলোর উপর দিয়ে তার মায়া কেটে গেল। তখন সেই স্থানে ভালো ডাইনিটি উপস্থিত হল। ভালো ডাইনিটি কে দেখে গ্রামের সমস্ত লোক ভয় পেয়ে গিয়েছিল। তখন সেই ভালো ডাইনিটি তাদের সমস্ত ঘটনা খুলে বললো। এবং সমস্ত গ্রামের মানুষের ভালো ডাইনিটি ওপর বিশ্বাস হলো, এরপর থেকে সে ভালো ডাইনিটি আর গ্রামের এক প্রান্তে থাকেনা, সমস্ত মানুষের সাথে একই গ্রামে মিলেমিশে থাকে। আবার সেই গ্রামটা আগের মতন ফুল ফল,সবুজে ভরে উঠলো

ইতি- অঙ্কিতা রায়।

পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!