এলোকেশীর জন্য এক চিলতে হাসি

এলোকেশীর জন্য এক চিলতে হাসি

এলোকেশীর জন্য এক চিলতে হাসি
এলোকেশীর জন্য এক চিলতে হাসি


[1]

মুখে বিরক্তি ভাব নিয়ে এক
পেশেন্টের কপালের পার্শ্বে আঘাত
পাওয়া স্থানে একটু জোরেই ডেটল
লাগিয়ে দিচ্ছেন লাল শাড়ির উপর
সাদা এপ্রন পরিহিতা একজন
ডাক্তারনী।
.
ডাক্তারনীর কাছে আঘাত পাওয়া
ব্যক্তির পরিচয় কোন সাধারণ পেশেন্ট
নয়। একজন ক্রাইমার বা সন্ত্রাসী টাইপ
কেউ।
.
পূর্ণ মনযোগ দিয়ে ডেটল দিয়ে আঘাত
পাওয়া স্থানটা ড্রেসিং করছে। আর
আহত ক্রিমিনাল পেশেন্টটা লালচে
আভা পড়া লাজুক বিরক্তিমাখা
ডাক্তারনীকে নিষ্পলক দেখেই
যাচ্ছে।
.
সেদিকে খেয়াল নেই ডাক্তারনী
ম্যাডামের। মুখ না তুলেই ডাক্তারনী
বললো,
.
"এতোটা বখে যাবে কেউ। কোনদিন
ভাবিই নি"
.
ঘোর কাটিয়ে ডাক্তারনী কি বললো
সেটা কিছুক্ষণ ভেবে কি উত্তর দিবে
তা খুঁজে পাচ্ছে না। কিছুটা আমতা
আমতা করে বললো,
"হ্যা, এতোটা বখে না গেলে হয়তো
কোনদিনই এই দিনটার খোজ পাওয়া
যেত না"
.
ডাক্তারনী বিরক্তি বা অভিমানে
জিদ করে একটু জোরে ডেটল লাগিয়ে
দিয়ে
বলল,
"খুব ভাল লাগছে বুঝি এই দিনটা
পেয়ে?"
.
"আউচ! উহ্ হু"
.
পেশেন্টের ক্ষত স্থানটা জ্বলে
উঠেছে ডেটলের স্পর্শে। হালকা করে
ফু দিয়ে দিল ডাক্তারনীটা। বললো,
"আমি বলেই পুলিশ ডাকার আগেই
চেকআপ করে দিলাম। নাহলে আগে
ডায়েরী তারপর..... "
.
মুখ লুকিয়ে মুচকি হাসি দিল
পেশেন্টটা। বড্ড একগুয়ে হৃদয়হীন একটা
ছেলে বা পেশেন্ট অথবা
ডাক্তারনীর কাছে পরিচয় একজন
কুখ্যাত ক্রিমিনাল।
হাতে ডেটল মাখানো তুলাটা
ধরিয়ে দিয়ে
বললো,
"একটাআদিম ধরা পরেছে। বাহিরে
লোক অপেক্ষা করে আছে যেন কুখ্যাত
কোন প্রাণীটাকে দেখে চোখ
জুড়াবে বলে।"
ড্রেসিং ট্রে টা গুছিয়ে আবার বলল,
"যান বাহিরের রুমে যান। আসছি"
.
ডেটল মাখানো তুলটা চেপে ধরে
উঠতে যাচ্ছিল পেশেন্ট ছেলেটা।
কিন্তু কিভাবে যেন মাথা ঘুরিয়ে
পরে যাচ্ছিল ছেলেটা।
.
ড্রেসিং ট্রে টা রাখা হলো না আর।
ঝনঝন করে একটা শব্দ। দ্রুত হাত ধরে
ফেললো ডাক্তারনী। বললো,
"গন্ডারের চামরা তো। টের পাবে কি
করে যে কতটা গুলি শরীরে ঢুকলো আর
কতটা সুচ। দুই ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়েছে।
শরীর একটু দূর্বল দেয়াল ঘেসে হেটে
চলুন। আসছি আমি"
.
শরীরটা পুরো দস্তুর ব্যাথা করছে। ডান
হাতের কনুইয়ের কিছুটা উপরের ব্যাথা
করছে। আঘাতটা কিভাবে লাগলো
খেয়াল নেই। ব্যান্ডেজ করা। ও হ্যা
একটা গুলি এসে বিঁধেছিল। এরপর আর
মনে নেই ঠিক। তারপর ডাক্তারনীর
ডেটল মাখা তুলোতে হুঁশ ফিরে
পাওয়া।
.
পিছনে ফিরে ঘুরে দেখলো
ড্রেসিং ট্রে টার রক্তমাখা সব
ইন্সট্রুমেন্টস গুলো উঠেয়ে রাখছে।
এরপর একজন নার্স এসে হাতে ধরে
নিয়ে গেল বাহিরে।
.
"ইভু ভাইয়া আসছে, ইভু ভাইয়া আসছে"
কিছু বাচ্চা ছেলেমেয়ে বুলি শুনা
যাচ্ছে। যেন অনেক প্রত্যাশা আর
অনেক খুশিতে ফিরে পেয়েছে আপন
কাউকে। বেশ কৌতুহল হয়ে হাতের
গ্লাবস খুলে বাহিরের রুমে হেটে
গেল ডাক্তারনী ম্যাডাম
.
"ইভু ভাইয়া কেমন আছো?
"কই ছিলে এতদিন?
"কি হয়েছে তোমার ওখানে?
ডাক্তারনীর ইভু নামক আদিম এক
ক্রিমিনালকে একের পর এক তীব্র
আকাঙ্খাময় প্রশ্নের ভীরে ঠেলে
দিচ্ছে অতৃপ্ত নিষ্পাপ মুখে বাচ্চা
শিশুগুলি।
.
অবাক চোখে তাকিয়ে ডাক্তারনী।
পাশেই আছে প্রেস এর লোকজন। এবং
সরকারী কিছু কর্মকর্তা। একটু দুরে
ভেজা চোখে দাড়িয়ে আছে ইভু
নামের ক্রিমিনালের বাবা মা।
.
ডাক্তারনী সামনে এগিয়ে গিয়ে
খালুজানকে সালাম দিয়ে জড়িয়ে
ধরলো খালমনিকে। দীর্ঘ সাত বছর
দেখা। কত স্মৃতি, কত শাষণ, কত বারণ, কত
ভালবাসা। আজ সাত বছর পর দেখা
হলো তাদের।
.
প্রেসের লোকজনকে প্রশ্ন করার সময়
দেয়া হলো না একটুও। ইভু নামের
ক্রিমিনালকে চাচ্ছিল। উপরস্থ কোন
এক কর্মকর্তা তাদের মনঃক্ষুণ্ণ করলেন।
এদিকে ছোট ছোট বাচ্চা
ছেলেগুলিকে কি দুয়েক কথা বলে
পাঠিয়ে দেয়া হলো তাদের নিজ
গন্তব্যে।
.
ডাক্তারনীর বলা আদিম মানুষটা
একবার বললো,
"বিকেল সাড়ে তিনটায় আতাউল গণী
ওসমানি মিলনায়তনে দেখা হচ্ছে
যদি ডাক্তারনীর সময় হয়।"
.
ক্রিমিনাল ছেলাটা ইভান। ছোট্ট
বৃষ্টির ছোট্ট করে ডাকা নাম "ইভু"
ভাইয়া। পিচ্চি বৃষ্টিও আজ বড় হয়ে
গেছে সাথে ওই নামটাও। সাথে
ক্রিমিনাল পরিচয়। সাতবছরে নামটা
অযত্ন অবহেলায় মরীচা পরে বড় হয়ে
গেছে। আর বৃষ্টি! ডাক্তারনী একজন।
সে এক অবাধ্য একরোখা দস্যি মেয়ে।
নিজের ইচ্ছাই প্রাধান্য পাবে তার
কাছে। অপরের কথার যেন কোন দামই
নেই। সেই একরোখাটাই সাত বছর দুরে
সরিয়ে দিয়েছিল ইভান আর বৃষ্টিকে।
ইভান জানেনা সেই পিচ্ছি বৃষ্টিটার
একরোখা স্বভাবটা এখনো আছে
কিনা। থাকতেও পারে... কে জানে!
.
বিকেল ৪টা অতিক্রম।
সেই লাল শাড়ির উপর সাদা এপ্রন
পরিহিত ডাক্তারনী হাতে ছোট
একটা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে কেবল
নামছে গাড়ি থেকে। অনুষ্ঠান শেষ
করে এভিনিউ থেকে বের হয়ে
দেখলো ইভান। হাতে একটা ফাইল ও
ছোট্ট একটা ক্রেইচ। সাংবাদিকতা
তার পেশা। সেই ছোট থেকে এই
অভ্যাস। আজ পরিনত। দুঃসাহসিকতা
তাকে নিয়ে গেছে সম্মানিত
আসনে। সাংবাদিকতা করতে করতে
কোন এক রাষ্ট্র বিরোধী জটিল
গোপনীয়তার খোজ পেয়ে বসে।
প্রমান হাতাতে গিয়ে গুলি বিদ্ধ।
তারপর অজ্ঞান। তারপর লাল শাড়ির
উপর সাদা এপ্রনে ডাক্তারনীর বেশে
বৃষ্টি।
.
"সরি লেইট হয়ে গেল (বৃষ্টি)
"শুধু লেইট না। মিস হয়ে গেছে(ইভান)
বৃষ্টি বুঝলো ইভানের গম্ভীরতা এখনো
কাটেনি। হয়তো কাটবে কখনো। হয়ত
না।
"চল কোখাও বসি?
"জ্বী চলেন
.
[2]
"ইভু ভাইয়া!(বৃষ্টি)
"জ্বি?(ইভান)
"আপনার কি হইছে?
কিছু না জানার ভান করে খুব কঠিন
মুখে ইভানের জবাব,
"কই কিছু নাতো!
"না হয়েছে তো। জানি আমি
"ভাল করছো
"আমায় বলেন কি হইছে। এখন আর হাসেন
না। আমার সাথে ঠিক ভাবে কথা
বলেন না।
"নিশ্চুপ ইভান
"অন্যসবাই কথা বললে ঠিকই হাসেন,
কথা বলেন। আমি এত চেষ্টা করেও
পারি না। আমার খুব খারাপ লাগে
তখন।
"খারাপ লাগতে বলিনি কাউকে।
"কেন বুঝেন না? সবার কথায় আপনি
হাসেন। সবার মাঝে আমার কথায়
সবাই হাসে শুধু আপনি ছাড়া। কেমন
দেখায় দৃশ্যটা তখন? সবাই কি ভাবে
আমার সম্পর্কে বুঝেন কিছু?
"হাসি টাই মুখ্য বিষয়? আচ্ছা দিবো
তাহলে।
খুব অনুনয়ী হয়ে বৃষ্টি ছলছল চোখে
বললো,
"সেটা না।
আমার দোষটা কি বলুন প্লিজ!
"কোন দোষ নেই তো।
ইভানের চোখে মুখে রুক্ষতা
কঠোরতায় ভরপুর।
"আমি খুব সরি। আমি আর নিতে
পারছিনা এসব। আমি অবহেলা
অপমানে চরম রিক্ততায় দাড়িয়ে
"খুব সাজিয়ে কথা বলতে পারিস তো
তুই(ইভান)
বৃষ্টি আর পারলো না। হুট করে চলে
গেল ছাদ
থেকে।
কি করে পারলো বৃষ্টি এই জ্যোৎস্না
মাখা রাতটাকে উপেক্ষা করে?
হ্যা মেয়েরা সবই পারে। যে মেয়ে
আচল দিয়ে মুখ ঢাকতে পারে। সেই
মেয়ে আচল কোমড়েও গুজতে পারে।
(ইভান)
.
কি? পেয়েছেটা কি ইভুর বাচ্চা?
বোঝেইনা কিছু? এভাবে পারে
কিভাবে? ভুল তো মানুষ ই করে। তাও
বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠান। সামান্য হাত
ধরাকে এভাবে নেয়ার কি আছে?
অনেক হয়েছে। সবারই মান সম্মান
আছে। তিল পরিমাণ হলেও আছে।
(বৃষ্টি)
.
সাত বছর আগে। সায়মা আপির বিয়ের
অনুষ্ঠান। দুষ্টুমি করে বরের ছোট
ভাইয়ের হাত ধরে ছিল বৃষ্টি। আর তখন
থেকেই ইভানের হাসি বৃষ্টির জন্য না
হয়ে যায়। আর ইভানের এক চিলতে
হাসি মানেই বৃষ্টির সারাদিনের
চঞ্চলতার শক্তি
.
[3]
বিন্দু বিন্দু জল জড়ো হয়েছে ইভানের
নাকের ডগায়। শেষ
বিকেলের ক্লান্ত সূর্যের আলোয়
চিকচিক করছে।
অপলক চেয়ে আছে বৃষ্টি। এটা নিয়ে
কত মজা নিতো ইভু ভাইয়ার থেকে। খুব
লজ্জায় পরতো তখন ইভুটা। কত স্বপ্ন জড়ো
হতো এটুকু ঘিরে। এখন সবই নিয়তি।
.
"ভাবী খুব ভালবাসে আপনাকে
তাইনা?
কাপা গলায় কৃত্রিম হাসি এনে
জিজ্ঞেস করে বৃষ্টি। চোখে কি এক
শুণ্যতার
ছাপ।
অন্যদিকে তাকিয়ে থাকা ইভান
বৃষ্টির দিকে একবার তাকিয়ে শুকনো
হাসির চেষ্টা করে হাতের উল্টো
পিঠ দিয়ে মুছে নিল নাকের ডগায়
জমে থাকা বিন্দু গুলি।
.
খুব জিদ চাপে বৃষ্টির। মনে চায় ধরে
দুইটা লাগিয়ে দেয় নাকের উপর।
চ্যাপ্টা নাকটা আরো চ্যাপ্টা করা
হচ্ছে বৃষ্টির সামনেই? হুহ্!
পরক্ষনেই দমে যায় বৃষ্টি। এখন আর
অধিকার নেই তার। অপলকা হয়ে
ইভানকে দেখছে। ইভান চোখ নিচু করে
তাকিয়ে আছে। শক্তি নেই তার বৃষ্টির
দিকে তাকানোর।
.
"তা তোর হাজব্যান্ড কই? পরিচয়
করাবি না?
এটুকু বলে একটু থেকে বৃষ্টিকে বলার
সুযোগ না দিয়ে আবার বললো,
"ব্যাস্ত খুব। বুঝি বুঝি। ডাক্তারনীর
জামাই মানুষ, নিশ্চই ব্যস্ত তার ব্যবসা
বানিজ্য
নিয়ে।
বলেই হাহা করে হেসে দেয় ইভান।
.
ছোট বেলায় ইভান যখন পড়াশুনা নিয়ে
ব্যাস্ত। বৃষ্টি তখন এবাড়ির বরই গাছ,
ওবাড়ির তেতুল গাছ নিয়ে মহাব্যাস্ত।
তখন বলতো
"এত পড়াশুনা দিয়ে কি মহাপন্ডিত
হবেন? যদি বউকেই সময় না দেন না?
তাহলে মাথায় একটাও চুল থাকবেনা
বলে দিলাম। টাকলা করে ছেড়ে
দিবো।
বলেই চোখ বুঝে এক কামড় পাকা
তেতুলে।
গ্রাফ করছে একটা। তাই খাতা থেকে
মুখ না তুলেই ইভান বললো,
"আমার বউকে কি করবো না, না করবো
তা নিয়ে তোর এত মাথা ঘামাতে
হবে না।
"দপ করে আগুন ধরে যায় বৃষ্টির চোখে
.
চুপ করে নিষ্পলক তাকিয়ে আছে বৃষ্টি।
বৃষ্টির চুপ করা দেখে খারাপ
আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেয়ে যায়
ইভান। মুখ তুলে তাকায় আর সাথে
সাথে পেন্সিল বেঁকে গ্রাফের
আবিস্কার দাতাকে উদ্ধার হয়ে যায়।
.
তেতুল হাতে খিলখিল করে বাচ্চা
মেয়েটা হাসছে। ইভান বললো,
শুনেছি যে মেয়েরা তেতুল খায় আর
খিলখিলিয়ে হাসে তাদের নাকি
বউ পাগলা বর হয়।
লজ্জায় ডুবে যায় বৃষ্টি। লালচে আভা
পড়া লাজুক বিরক্তিমাখা মুখটা
লুকিয়ে বলে,
"যাহঃ দুষ্টু"
.
[4]
"আপনি আমার জামাইকে কই
পেলেন???
বেশ রেগে তিরিক্ষি মেজাজে বলল
বৃষ্টি। ইভান ভয় পেয়ে গেল। রাগলে
বৃষ্টি যে কি করতে পারে তা
কল্পনাতীত।
শান্ত গলায় ইনিয়ে বিনিয়ে ইভান
বললো,
"না মানে, শাড়ী পড়েছিস তো।
তাই...!
"আসলে কিজন্য হঠাৎ আজ শাড়ী পড়তে
গিয়েছিলাম নিজেই জানিনা।
সবসময় পড়িনা শখ করে আজ একটু পরলাম।
"কেন? বলতি না যে বিয়ের পর গাদা
গাদা শাড়ী কিনে দিতে হবে। পড়বি
তুই....!
"তখনকার কথা কে মনে রাখে...! ওসব
কথা মনে রাখার সময় নেই আমার
.
ইভানের সুরে মনঃক্ষুণ্ণতার স্পষ্ট ছাপ,
"ওহহ
বৃষ্টি মিটিমিটি হেসে লজ্জায়
অন্যদিক ফিরে বললো,
"আমি না বিয়ে করি নি।
চমকে তাকায় ইভান। বৃষ্টিকে বুঝার
চেষ্টি করে। কিন্তু ও যে মুখ ঘুরিয়ে
আছে!
"এদিক তাকা একবার বৃষ্টি
এডাকে তাকাবে না বৃষ্টি। কিছু বলে
বৃষ্টিকে ফিরাতেই হবে,
"আমিও না বিয়ে করিনি বৃষ্টি
ভীষণ অবিশ্বাস্যতায় চোখ তুলে
তাকায় বৃষ্টি। ইভুটার
চোখে আস্থা খুজছে। চোখের ভাষা
পড়ছে দুজনই। ইভুর চোখে প্রচন্ড
বিশ্বস্ততার অস্তিত্ব।
শুভ দৃষ্টি হচ্ছে দুজনের ঠিক সাত বছর পর।
.
এই ঝালমুড়ি, ঝালমুড়ি
.
ঝালমুড়ি ওয়ালার ডাকে ঘোর ভাঙে
ওদের
"যান, ঝালমুড়ি আনেন তো একটু ঝাল
বেশি দিয়ে(বৃষ্টি)
"পারবো না। তুমি করে বল। তাহলে
ভেবে দেখবো(ইভান)
"বাহঃরে নিজে একই থেকে যাবে
আর আমি তুমি করে বলতে যাবো কোন
দুঃখে? যান তারাতারি চলে যাচ্ছে
ঝালমুড়ি ওয়ালা
.
কানা, স্টুপিড, ব-ল-দ, গাধা, অকম্যা...
কিচ্ছু হবেনা তোমাকে দিয়ে।
ঝালমুড়ি আনছো নাকি শুধু মুড়ি? বলে
দিলাম ঝাল বেশি করে আনতে। কথার
কোন ভ্রুক্ষেপ নাই না??? 😕
.
বৃষ্টি ইভানকে বকছে। আর গুটিশুটি
মেরে চুপচাপ বকা হজম করে যাচ্ছে
ইভান।
.
শালা ঝালমুড়ি আর ফুসকা ওয়ালারা
আজকাল বেশ গুটিবাজ হয়ে গেছে।
ছেলেরা দুই দুইবার বলে যে ঝাল
আনতে পারেনা সেটা মেয়েরা না
চাইতেই দিয়ে দেয়। বরং মেয়েরা
অশান্ত হয়ে পড়ে ঝালে।
.
কি বকাটাই না দিল সবার সামনে।
ছিঃ লজ্জায় মাথা কাটা গেলো সব
ওই গুটিবাজ ঝালমুড়ি ওয়ালার জন্য।
.
"তা আমাদের বিয়ে কবে হচ্ছে?
"হচ্ছে না
"ওহ
"তরকারি তে বেশী ঝাল না দিলে
হতে
পারে
"আচ্ছা আচ্ছা কম দিবো। কবে হচ্ছে
বিয়েটা?
"হচ্ছে না
"কেন??
"আমার বেবিদের তুমি কোলেই তো
নিবা না
হিসু করে বলে
"আরে সেটা তো ছোট বেলায়
নিতামনা ওরা কেবল আমার কোলে
আসলেই হিসু দিতো যে। দিনে একশ
বার দিলেও কোলে নিবো... বিয়ে
হচ্ছে কবে
বলো?
"এই কি বলতে চাও তুমি? আমার
বেবিদের কি লিক আছে নাকি যে
একশ বার করতে যাবে?
"আরে সেটা বলি নাই। তোমার বেবি
আমার বেবি। আমার বেবির কি লিক
হতে পারে বলো?? বিয়ে কবে
আমাদের তাই
বলো
"হচ্ছে না
"কেন?
"তোমার কোলে আমার বেবিরা
উঠলেই তো কেদে দিবে
"ওহহহ বুঝছি। সরি। ইটস ওকে
"কি বুঝলা?
"আমাকে আপনার পছন্দ হয়নি। শুধু শুধু
বাহানা দিচ্ছেন। সরি। আসি
তাহলে...!!
"বাব্বা! ডাক্তারনীর এত অভিমান
কোথা থেকে আসে?
"নাইতো কোন অভিমান
"জানি অভিমানে ফুলে ফেপে ঢোল
হয়ে আছে। তুমিই বলো কবে হচ্ছে
বিয়ে?
"হচ্ছে না।
"কেনো?
.
বৃষ্টির বাচ্চামিটাা রয়ে গেছে সেই
আগের মতই। এতটুকুও বড় হয়নি সে। কেউ ইট
মারলে পাটকেল যেভাবেই হোক
দিতে হবে তার। তাতে যত বাচ্চামো
করতে হবে, করবে। বললো,
"আগে বলো মেয়েদের সাইকেল
চালানো দেখবা না আর?
"প্রতিশোধ নিচ্ছো?
"মোটেই না।
"আচ্ছা বাবা দেখবো না। এবার বলো
কবে হচ্ছে বিয়ে?
"হচ্ছে না।
"কেন? কি করতে হবে আর?
"হাসি দিবেন একটা? সাত বছর
দেখিনি। মুখটা আধার করে বলল বৃষ্টি।
"দিবো তার আগে আমার পাওনা শোধ
করো?
"কি?
"তোমার চুলের গন্ধ খাইনা অনেকদিন।
আগে ওটা খেতে দাও তাহলে দিবো।
"ইসস বয়েই গেছে আমার। লজ্জায়
কুটিকুটি হয়ে যাচ্ছে বৃষ্টি
আস্তে করে ঘাপটি মেরে মুখ লুকোয়
ইভুর বুকে। হাত দিয়ে খেলা করে
সারা বুকে।
ইভু বললো,
"আচ্ছা একটা জিনিস বুঝিনা
বলোতো?
"হুম?
"তোমাদের মেয়েদের চুলে এত গন্ধ
কিভাবে হয়? শ্যাম্পু করে না ধুয়ে
রেখে দাও। তাইনা? ছিঃ
ওয়াক!
এক ঝটকায় ইভুর বুক থেকে মুখ তুলে
এলোপাথারি মিষ্টি ঘুসি দিল বৃষ্টি।
"দুষ্টু বদ ফাজিল লুচু শয়তান পাজি
একটা
"সবই তোমার। আর একটা সুকন্যা শুধুই
আমার।
"হুমম
"আচ্ছা তোমার সেই টাকলা জামাই
এর খবর তো বললে
না?
"কোন জামাই?
"কিছুনা চলো বাসায় ফিরতে হবে।
কাজ অনেক।
"এইযে শুনেন জামাইটা এখনো টাকলা
হয়নি। এভাবে চললে তার টাকলা হতে
বেশিদিন বাকি নেই আর।
হিহিহি
বৃষ্টির হাসির সাথে তাল মিলিয়ে
টোল পড়া এক লাজুক হাসি দেয় ইভুটা।
এ হাসি লিখে প্রকাশ করার মত অবকাশ
নেই। এ হাসিটা একান্তই বৃষ্টির।
এলোকেশী বৃষ্টির।
.
"এলোকেশীর জন্য এক চিলতে হাসি"
লিখাঃ Munna JB
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!