Golpo - গল্পঃনির্দোষ লেখকঃরনি হাসান পর্বঃ৪

গল্পঃনির্দোষ

লেখকঃরনি হাসান

Golpo - গল্পঃনির্দোষ  লেখকঃরনি হাসান  পর্বঃ৪
Golpo - গল্পঃনির্দোষ  লেখকঃরনি হাসান  পর্বঃ৪



পর্বঃ৪
ছি তোর জন্য একজন নির্দোষ মানুষকে শুধু শুধু শাস্তি পেতে হলো আমি তোকে কোনোদিন ও ভালোবাসবো না ঘৃণা করি তোকে (রিদিতা রেগে)
আমাকে যখন ভালো বাসবিই নাহ তাহলে তোকে সেই ব্যবস্থাই করছি দাড়া (দুর্জয় এই বলে যখন রিদিতার দিকে কুমন্ত্রণা নিয়ে এগিয়ে যেতে লাগলো ঠিক তখনই তানিশা বলে উঠলো
দুর্জয় ভালোই ভালোই রিদিতাকে ছেড়ে দে নইত কিন্তু এই পাথর দিয়ে তোর মাথা ফাটিয়ে ফেলবো (কাপা কাপা সুরে বলে উঠলো তানিশা)
কি তুই আমাকে মাথা ফাটাবি দাড়া আগে তোকেই দেখে নিচ্ছি (এই বলে রিদিতাকে ছেড়ে দিয়ে তানিশার দিকে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে যেতেই তানিশা অনেকটা ভয় পেয়ে বলে উঠলো
আমার দিকে আরেক পা এগুলে এই পাথরটা তোর মাথায় পড়বে কিন্তু (তানিশা ভয়ে কান্না করার অবস্থা প্রায় বেস দুর্জয় তানিশার কথা কোনো কর্নপাত না করে তানিশার দিকে যেতেই দুর্জয়ের চোখে সজোরে পাথরটি আঘাত করতেই দুর্জয় চোখ ধরে মাটি বসে পড়ে এই সুযোগে রিদিতা তানিশা সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে দুরুত্ব প্রিন্সিপাল স্যারের কাছে গিয়ে দুর্জয়ের নামে নালিশ করেন। ফলে প্রিন্সিপাল স্যারও দুর্জয় নামে আইন গত ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করেন।
সেদিন রিদিতা কিংবা তানিশা তাদের দুইজনের একজনের ও শিক্ষা সফরে কোনো আনন্দ উল্লাস করতে পারেনি। তাদের দুইজনের ভুল ভেঙেছে। রিদিতা তো কান্না করে তানিশাকে বলে ফেললো
তানিশা বিশ্বাস কর আমি সত্যি এসব জানতাম না। জানলে কখনও তোর ভাইয়ের সঙ্গে এমনটা করতাম না (কান্না করে বলল রিদিতা)
এখন এসব বলে কি হবে। আমিও তো তোর পক্ষ নিয়ে আমার ভাইকে অনেক অপমান করেছি। বোন হয়ে যে কথা গুলো ভাইকে বলা যায় না। সেগুলো ও তো বলেছি (অনুশোচনায় তানিশা বলে উঠলো)
তানিশা তুই কি পারবি না তোর ভাইকে এক্টু বুঝাতে (রিদিতা অনুরোধে সুরে বলল)
কি বুঝাবো বল। অইদিন যে কথা গুলো বলছি এর পর থেকে আমার সঙ্গে কথাই বলে না। আগে তো ওর জ্বালায় বাড়িতে শান্তি মতো বসতেই পারতাম না। কোনো না কোনো বিষয় নিয়ে দুষ্ট মিষ্টি ঝগড়া লেগে যেতো। কিন্তু অইদিন এসব বলার পর আমার সঙ্গে কথা বলবে তো দুরের বিষয়। আমি যেখানে থাকি তার আশে পাশেই থাকে না। এখন তো আমারি খারাপ লাগছে কোন মুখ নিয়ে তাকে সরি বলে সবকিছু সমাধান করে নিবো (তানিশা)
আচ্ছা আমার সঙ্গে কি তোর ভাইকে বাড়িতে গিয়ে এক্টু দেখা করিয়ে দিতে পারবি (রিদিতা)
আমার মনে হই না ও তোর সঙ্গে দেখা করবে। তাছাড়া আমি তো ওকে ছোট থেকেই চিনি।ওযদি একবার কাউকে মন থেকে বের করে দেই তো তাকে কখনো আপন করে কাছে নেই নাহ (তানিশা)
যেভাবেই হক তুই একটু তোর ভাইকে মেনেজ কর নইত অনুতপ্তের আগুনে জ্বলে পুড়ে শেষ হয়ে যাবো (তানিশার হাত জড়িয়ে রিদিতা কান্না করে বলে উঠলো)
রিদিতার এমন অবস্থা দেখে তানিশা বলে উঠলো
থাক আর কান্না করতে হবে না। আমি তোকেই আমার ভাইয়ার বউ বানিয়ে নিয়ে যাবো কি যাবি না আমার ভাইয়ার বউ হয়ে (তানিশা দুষ্টমীর হাসি দিয়ে বলল)
ধুর কি যে বলিস না লজ্জা লাগে তো (রিদিতা লজ্জা লাল হয়ে )
আমার বান্ধবী তো দেখছি লজ্জা অনেক লাল হয়ে গেছে তাহলে তো তোদের সেটিংটা তাড়াতাড়ি করতে হই(তানিশা হেসে বলে উঠলো)
তানিশা রিদিতাকে এসব বললেও কেন জানি তার ও অনেক খারাপ লাগা কাজ করছে। মিথ্যা একটা চিঠি জন্য আপন ভাইকে এসব চরিত্রহীন বলে গালি দিয়েছে সে। এসব ভাবতে তানিশার নিজেকে ছোট মনে করছে
অপরদিকে
ঢাকায় এসে পৌছিলাম দীর্ঘ ৬ ঘন্টা জার্নি করার পর। তারপর কোনো কিছু না ভেবে রাকিবের বাসায় ঠিকানায় চলে গেলাম
দরজায় কলিং বেল বাজাতেই একটা সুন্দরী স্মার্ট মেয়ে দরজা খুলে দিয়ে বলল
কাকে চাই (সুন্দরী মেয়েটা)
ইয়ে মানে এটা কি রাকিবের বাসা (আমি)
জি রাকিবেরই বাসা কিন্তু আপনি কে..? (সুন্দরী মেয়েটা)
রাকিব আমার বেস্ট ফেন্ড গ্রামে আমরা ওয়ান থেকে দশম শ্রেণি পযন্ত একসঙ্গে পড়ালেখা করেছি।যার দারুণ বন্ধুত্বের সম্পর্কটা অনেক গভীর। আচ্ছা এখন রাকিব কি বাসায় আছে..? (আমি)
অহহ তার মানে আপনার নাম নিশ্চয়ই রনি রাইট (সুন্দরী মেয়েটা)
জি হ্যা কিন্তু আপনি কেমনে আমার নামটা উপলব্ধি করতে পারলেন সেটা আগে বলুন (আমি)
সবই বলবো তার আগে ভিতরে আসুন.
এই শুনছো বাহিরে এসে দেখো কে আসছে
কে আসছে (রাকিব এই বলে যেই আমাকে দেখল বেস তখনই আনন্দ সহিত বলে উঠলো
আরে দোস্ত কেমন আছিস (রাকিব)
হুম ভালো সেই যে গ্রাম থেকে এসে পড়লি কই একদিন ও তো ফোন দিয়ে খুঁজ খবর নিলি নাহ (আমি)
সরি দোস্ত ভুল হয়ে গেছে। এছাড়া আমার এইদিকে অনেক ধকল গিয়েছে আচ্ছা এসব কথা পড়ে হবে। তার আগে ফ্রেশ হয়ে আই। এই নিলা যাও রনির জন্য ভালো কিছু খাবারের আয়োজন করো (রাকিব)
আচ্ছা ঠিক আছে তোমরা গল্প করো আমি বরং এর মধ্যে রান্নার কাজটা সরে নেই (নিলা এই বলে চলে গেলো)
এখন বল ঢাকায় কেন আসছিস (রাকিব)
অই একটা চাকরির ইন্টারভিউ দিতে কিন্তু তার আগে বল নিলা নামে যাকে এতক্ষণ ডাকলি সে তোর কে হই (রাকিবের কাছে গ্রামের বিষয়টি গোপন রেখে অন্য টপিকে নিয়ে গেলাম)
ও হচ্ছে আমার স্ত্রী নিলা গতমাসেই পারিবারিক ভাবেই বিয়েটা হয়েছে (রাকিব)
বিয়েটা করলি ভালো কথা কিয়আমাদের ফোন করে ও তো জানাতে পারতি জানালি না কেন (আমি)
বিয়ে চাপে সব কিছু কেমন জানি গুলিয়ে ফেলছিলাম (এসব আলোচনা করতেই
রাকিবের স্ত্রী নিলা এসে বলতে লাগলো
এই তোমরা খেতে এসো খাবার রেডি হয়েছি (নিলা)
ব্যস রাকিবের সঙ্গে খেতে বসলাম। রাকিবের স্ত্রী ও ভালো মানের রাধুনি সেটা খাবার মুখে দিয়েই বুঝতে পারলাম। খাবার খাওয়ার মাঝে ই রাকিবের উদ্দেশ্য করে বলে উঠলাম
রাকিব ভাবি কিন্তু ভালোই রান্না করতে পারে দেখছি। তাছাড়া আজ কাল যুগে মেয়েরা ভালো মানে রান্না করবে তো দুরের কথা কিচেনের কাছেই যায় না। সেদিক থেকে নিলা ভাবি স্মার্ট হলেও রান্না বান্না কিন্তু ভালোই শিখেছে (আমি)
হুম আর বলিস না। দিনে হাজার রকম আইটেমের খাবার সে আমাকে রান্না করে খাওয়াবে। তাছাড়া নিলা রান্না বান্না করতে অনেক ভালোবাসে এর জন্য তো নিলার রান্না করা খাবারে এতটা যাদু (রাকিব)
খুব পাম দেওয়া হচ্ছে তাই না (নিলা রাকিবকে এক্টু খুজা মেরে বলল)
ভাবি সত্যিই আপনার রান্নার হাতটা অনেক ভালো (আমি)
ধন্যবাদ ভাইয়া (নিলা)
খাবারের পর্ব শেষ করে উঠতেই রাকিব বলল
তো এখন কার কাছে যাবি...? (রাকিব)
না মানে দুইটা দিন তোর এখানেই আপতত আমাকে থাকতে হবে (একথা বলতেই নিলা রাকিবকে ইশারা করে কি যেনো বলল
বেস রাকিব কিছুক্ষন দম নিয়ে বলতে লাগলো
সরি দোস্ত এখানে মনে তোর থাকা হবে না (রাকিব)
কেন..? (আমি অনেকটাই অবাক জিজ্ঞেস করলাম)
আজ রাত ৯টাই নিলা কে নিয়ে তাদের বাসায় যেতে হবে।একা বাসায় তুই কেমনে থাকবি। তার থেকে আমার এক পরিচিত হোস্টেল আছে নাম বলে দিচ্ছি সেখানে গিয়ে আমার নাম বললেই ডিস্কাউট পাবি (রাকিব)
রাকিবের কথা শুনে এবার বুঝতে পারলাম।প্রকৃতি পক্ষে সে আমাকে বাসায় আশ্রয় দিতে নারাজ।কিন্তু আমার মুখের উপর না করতে পারছে না দেখে। আমাকে এখান থেকে তারানো একটা বাহানা বানাচ্ছে সেটা রাকিব কে দেখেই স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে (এসব আনমনে ভাবতে রাকিব বলে উঠলো
কিরে ভাবছিস ওখানে কোনো সমস্যা হবে না
।আমি ফোন করে সব ঠিক করে দিচ্ছি তুই বরং সেখানেই চলে যা (রাকিব)
রাকিবের আচরনে কেমন জানি নিজে অসহায় লাগছে।মুখের উপর না করতে পারছে না দেখে বাহানা ধরে আমাকে তারাচ্ছে। না এখানে থাকাতে হইত ওদের সমস্যা হচ্ছে আমি বরং এখান থেকে এখনি চলে যাই এসব ভেবে রাকিবের উদ্দেশ্য করে বলে উঠলাম
নারে দোস্ত সেটা আর প্রয়োজন হবে না। ভালো থাকিস চললাম (মন খারাপ করে ব্যাগটা হাতে নিয়ে দরজায় সামনে যেতেই ব্যাগে রাখা চেইনটীর কথা মনে পড়ে গেলো। এই চেইনটা রিদিতাকে দিবার জন্য অনেক শখ করে কিনেছিলাম কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস সেই সুযোগ আর আমার হলো না। বেস দরজার অখান থেকে আবার ফিরে নিলা ভাবির কাছে গিয়ে দাড়াতেই রাকিব জিজ্ঞেস করে উঠলো
কিরে কিছু বলবি (রাকিব)
না তেমন কিছু না এই চেইন্টা ভাবিকে দিতেই ভুলেই গেছিলাম তাই দিতে আসলাম। তাছাড়া আমার কোনো প্রিয়জন নেই যে তাকে চেইনটা দিবো তাই ভাবিকেই দিচ্ছি (চেইন্টা নিলার হাতে দিয়ে চলে আসতে যাবো এরমধ্যে নিলা আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো
ভাইয়া দাড়ান (নিলা)
হ্যা বলেন (আমি)
ভাইয়া আপনি চাইলে যতদিন খুশি ততদিন থাকতে পারবেন আমাদের কোনো সমস্যা হবে না। (নিলা)
নিলার এমন কথাই কেমন জানি এক্টা শক খেলাম কিছুক্ষন আগে রাকিব কে ইশারা করে এখানে থাকতে মানা করলো আর এখন আমাকে থাকতে বলছে কি আজব একটা ব্যাপার। তারপর রাকিব ও নিলার সঙ্গে বলে উঠলো
দোস্ত নিলা যখন বলছে তাহলে তোর যতদিন খুশি থাকতে পারিস আমার কোনো অসুবিধা নেই (রাকিব)
নারে দোস্ত সেটা আর লাগবে না। ঢাকা শহরে আমার থাকার জায়গার অভাব হবে না। কোথাও না কোথাও জায়গা হবেই আসি ভালো থাকিস (এই বলে রাকিবদের বাসা বের হয়ে আসলাম। ঘড়িতে লক্ষ্য করলতেই বুঝলাম রাত প্রায় ১১ বাজতে ৯ মিনিট বাকি
এমন সময় রাস্তায় একাই হাটছি আর রাকিব কথা ভাবছি
গ্রামে থাকতে কতই না বন্ধুত্ব ছিলো। আর এখন বাসায় এসে যেই থাকার কথা বললাম অমনি তার রং পাল্টালো। এরা শুধু স্কুল কলেজ লাইফেরই বন্ধুত্ব থাকে। এরপর তোদের কোনো উপকারেই পাওয়া যায় না। রাকিবের বাসায় না গিয়ে যদি অন্য কোথাও জাইতাম তাহলেও ভালো হতো। শুধু শুধু মনটা খারাপ হয়ে গেলো এখন ফুতফাতে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায়েই নাই। যার আশা করি ঢাকাতে আসলাম। সেই তো রকম রিয়াক্ট করলো যা আমি স্বপ্নতে ও ভাবিনি
এসব ভেবে আনমনে রাস্তা হাটতেই হঠাৎ একটা বৃদ্ধ লোক দৌড়ে আমার কাছে এসে বলতে লাগলো
!
!
(চলবে)
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!