Hindu - দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে বেশ্যালয়ের বা পতিতালয়ের মাটি লাগে কেন ?

দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে বেশ্যালয়ের বা পতিতালয়ের মাটি লাগে কেন ?

🌺🌺 আমরা সঠিকভাবে নিজের ধর্মকে জানার চেষ্টা করি না। তাই আমরা এমন অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হই। এমনই একটি প্রশ্ন- দুর্গা মূর্তি তৈরি করতে বেশ্যালয়ের মাটি লাগে কেন? অনেকের কাছে জানতে চাইলে তারা এমন উত্তর দেয়-


দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে বেশ্যালয়ের বা পতিতালয়ের মাটি লাগে কেন

দুর্গাপূজার প্রতিমা তৈরিতে বেশ্যালয়ের বা পতিতালয়ের মাটি লাগে কেন ? 




সমাজে যাঁদের দূরে ঠেলে দিয়েছে, অবজ্ঞা আর বঞ্চনার পাহাড় জমে উঠেছে যাঁদের দেওয়াল বেয়ে, ঘৃণা আর নোংরা দৃষ্টি ছাড়া যাঁদের ভাগ্যে আর কিছুই জোটেনি তাঁদের ঘরের মাটিই আবার দেবীমূর্তির অপরিহার্য অঙ্গ ৷ কিন্তু কেন ? 

বলা হয়, পুরুষ মানুষ পতিতালয়ে গিয়ে যখন বারাঙ্গনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন, তখন তিনি জীবনে সঞ্চিত সমস্ত পুণ্য সেখানেই ফেলে আসেন ৷ আর সংগ্রহ করেন ঘড়া ভর্তি পাপ ৷

চিরাচরিতভাবে মানুষ বিশ্বাস করেন যে, মানুষের মধ্যে যে কামনা, বাসনা, লালসার বাস। পতিতারা তা নিজেদের মধ্যে নিয়ে নেন। তাঁরা নিজেদের অশুদ্ধ, অপবিত্র করে সমাজকে শুদ্ধ রাখতে চান। পবিত্র রাখতে চান। ফলে হাজার হাজার পুরুষের পুণ্যে বেশ্যাদ্বারের মাটি হয়ে ওঠে পবিত্র ৷ সে কারণেই এই মাটি দিয়ে গড়তে হয় দেবী মূর্তি ৷

 এই আচার থেকে বোঝানো হয় যে, নারী মায়ের জাতি। নারীর ওরসেই পুরুষের জন্ম। নারীকে পতিতা বানায় পুরুষরাই।

 তাই ঐ পুরুষরাই অপবিত্র। মায়ের প্রতিমা তৈরীতে পতিতালয়ের মাটি দিতে হয় অর্থাৎ যাঁরা এই পরিস্থিতির শিকার তাঁদের সন্মান করতে হবে। নারী কোখনো অপবিত্র হতে পারে না এই ধারণাটিই লুকিয়ে থাকে এই রীতির আড়ালে ৷

সত্যই কি তাই। উত্তর তা না। কারণ আমাদের ধর্মীয় শব্দগুলো সংস্কৃত শব্দ থেকে এসেছে। আমরা না জেনেই এগুলোকে বাংলায় টেনে আনি আর ধর্মের অবমাননা করি। আজ এর প্রকৃত অর্থ জানাচ্ছি। 

🌺🌺দুর্গাপূজার মহাস্নানে "বেশ্যাদ্বয়ের মাটি লাগে। সংস্কৃত শব্দের অর্থ না জানার ফলে অনেকেই পড়েছে বিভ্রান্তিতে। 

" অভিষিক্তা ভবেৎ বেশ্যা ন বেশ্যা কুলটা প্রিয়ে---মহানির্বান তন্ত্র।
পূর্ণাভিষেকো দেবেশি দশ বিদ্যাবিধোস্মৃত--

অর্থ্যাৎ দশ মহাবিদ্যার উপাসকগনই পূর্ণাভিষেকের অধিকারী, অন্য কেউ নহে--কুলার্ণব তন্ত্র। দীক্ষা পুরশ্চরণঃ পূর্নাভিষেক মন্ত্রচৈতন্য হওয়ার ফলে যিনি দেবত্বে উন্নিত হয়েছেন, এমন অভিষিক্তাকে বেশ্যা বলা হয়েছে।

আর তাহারা যেখানে বাস করেন সেই দ্বারের মাটিকে পতিতালয়ের মাটি বলা হয়েছে। বর্তমান সমাজের কুলটা বারবনিতাকে পতিতালয়ের মাটির কথা বলা হয় নি। এই ঘৃণিত মহাপাপকে আমাদের সনাতন শাস্ত্র কখনোই প্রশ্রয় দেয় নি আর দিবে ও না বরং প্রায়শ্চিত্ত করতে বলা হয়েছে🌺🌺

🌺🌺 বৈদিকযুগে এই আদ্যা ব্রহ্মশক্তির কথা আবার কোন কোন উপনিষদে ও উমা-হৈমবতীরূপে আমরা জেনেছি। সেখানে তিনি জ্যোতিঃস্বরূপ সচ্চিদানন্দ ব্রহ্ম তা দেবতাদের বুঝিয়েছেন। করুনাময়ী জননী মূর্তিতে ইন্দ্রাদি দেবতাদের অহংকার নাশ করে তাদের ব্রহ্মজ্ঞান তত্ত্ব উপলব্ধিতে সাহায্য করেছেন। অহংকারই জীবের অজ্ঞানের কারণ। এই অহংকার নাশ হলেই তবেই তত্ত্ব উপলব্ধি হয়। আর আদি জননীর কৃপাতেই দেবসন্তানদের সেই অহং নাশ হয়ে ব্রহ্ম সম্পর্কে ধারণা জন্মায়

Collected By Facebook Group
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!