Life Story - গল্পঃনির্দোষ পর্বঃ২

গল্পঃনির্দোষ

লেখকঃরনি হাসান


গল্পঃনির্দোষ
গল্পঃনির্দোষ



পর্বঃ২

সব ভাগ্য বলে মেনে নিয়ে বাড়ির গেইটে ঢুকতেই আমার রুম থেকে ভাংচুর করার শব্দ পেলাম দুরুত্ব আমার রুমে গিয়ে লক্ষ্যে করতেই দেখলাম  তানিশা আমার ব্যবহাকৃত জিনিস গুলো ফ্লোরে ফেলে দিয়ে ভেঙে ফেলছে এবং সেটাতেই আগুন ও লাগিয়ে দিয়ে পুড়ছে 

তানিশাকে জিজ্ঞেস করেই ফেললাম

আমার এসব ব্যবহৃত জিনিস গুলো ভেঙে আগুন দিয়ে পুড়ে ফেলছিস কেন..? (আমি)

কেন আগুন পুড়ছি বুঝতে পারছিস না (তানিশা)

নিশ্চুপ (আমি)

তোর জন্য বাবা আজ কতটা অপমানিত হতে হলো সেটা কি এক্টুও বুঝতে পেরেছিস (তানিশা)

তানিশ... (বলতেই তানিশা আমার কথা থামিয়ে বলল 

হইছে আর বলতে হবে না।আমাদের একটা সম্মান আছে যেটা তুই নিমিষেই শেষ করে ফেলছিস আর না। তাছাড়া আমি কেমনে রিদিতার সামনে গিয়ে দাড়াবো সেটাই তো ভাবতে পারছি না এসব তোর জন্য হয়েছে (তানিশা রেগে আগুন হয়ে বলে উঠলো) 

শুধু তোর বান্ধবীর দিকটাই দেখলি আমাকে যে সবার সামনে হেনোস্ত করলো সেটা দেখলি না (আমি)

তোকে যে মারটা দেওয়া হয়েছে সেটা অনেক কম হইছে। বিচারকের জায়গায় আমি থাকলে তোকে পিটিয়ে শেষই করে ফেলতাম এখন প্লিজ তুই আমাদের বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যা তো আর তোর জন্য আমরা অসম্মানী হতে পারবে না (তানিশা)

কি বলছিস এসব তোরা ছাড়া আমার আপন কে আছে (আমি)

তুই এতিম অসহায় বলে আমার বাবা মা তোকে সেই ছোটবেলা রাস্তা থেকে তুলে এনে পালন পালন করেছে এখন তো তুই আর ছোট নেই। যেদিকে খুশি সেদিকে চলে যা (তানিশা)

তানিশার শুনে নিমিষেই চোখে কোনে জল জমে গেলো।তারমানে কাকা আমার রক্তের কেউ নাহ এসব ভাবতেই কাকা আমার রুমে এসে বলতে লাগলো 

তানিশা মা এবার ওকে এই বাসা থেকে বের হয়ে যেতে বল (কাকা রেগে)

কাকার কথা শুনে নিমিষেই মাথাটা কেমন চক্কর দিয়ে উঠলো তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম 

কাকা আজ একটা সত্য কথা বলবা..? (আমি)

নিশ্চুপ (কাকা)

আমি কি সত্যিই এতিম তোমরা আমার আপন কেউ না।  শুনলাম আমাকে নাকি রাস্তা থেকে এনে তোমাদের বাসায় আশ্রয় দিয়েছো সেটা কি সত্যি..? (আমি)

হ্যা তানিশা যেটা বলছে সেটা সত্যি (কাকা)

অহহ তারমানে আমি তোমাদের রক্তের কেউ নাহ (আমি)

না (কাকা)

এবার বুঝতে পারলাম।এর জন্য  কাকিমা আমার বাবা-মার সম্পর্কে কিছু জানাইনি।কথাটা শুনে কষ্ট পাবো বলে আমাকে জানাইনি। কিন্তু এমন একটা দিনে জানতে পারবো সেটা আমি কল্পনা ও করেনি। (এসব  আনমনে ভেবে যাচ্ছি এরমধ্যে তানিশা বলে উঠলো 

এখন বল কবে আমাদের বাড়ি থেকে বের হয়ে যাবি সবই তো শুনলি (তানিশা রেগে)

চিন্তা করিস নাহ কলেজ থেকে টিসি নিয়ে তারপর এখান থেকে সারাজীবনের জন্য চলে যাবো। আপতত কটা দিন আমাকে তোদের এখানে থাকতে দে অনেক তো করুনা করেছিস এবার নই এটাই শেষ বারের মতো (এই কথা বলা মাত্রই তানিশা আমার রুম থেকে রাগে হনহন করে চলে গেলো)

আজ সত্যি নিজেকে খুব একা মনে হচ্ছে। কি থেকে কি হয়ে গেলো কিছুই বুঝতে পারলাম না। সবচেয়ে বড় ভুল হয়েছে রিদিতাকে ভালোবাসে তার পিছনে যদি না জাইতাম আজ আমার এমন পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হতো না। রিদিতাকে যতটা ভালোবাসতাম এখন থেকে তার দ্বিগুণ ঘৃণা করবো

উপরে দিকে

রিদিতা মামুনি খেতে আই সে কখন থেকে কি ভাবছিস বলতো (রিদিতার মা)

মা কিছু ভালো লাগছে না যাও তো (রিদিতা) 

কি হয়েছে সেটা বলবি তো (রিদিতার মা)

রিদিতা কোনো কিছু না বলেই কান্না করে তার মাকে জড়িয়ে ধরে বলল

মা এখন কেন জানি নিজেকে অপরাধীবোধ কাজ করছে কিছুই ভালো লাগছে না (রিদিতা কান্না)

অহহ এই-ব্যাপার তাহলে তোর বাবার কাছে নালিশ করলি কেন..? (রিদিতার মা)

আমি কি জানতাম বাবা জাবেদ আংকেলকে দিয়ে এইভাবে ওকে মার খাওয়াবে (রিদিতা কান্না করে) 

তোর জাবেদ আংকেল তো মানুষকে মারলে কম মারে না সেটা তো এই এলাকার সবাই জানে আচ্ছা যাই হক এখন এসব চিন্তা বাদ দিয়ে খেতে আই (রিদিতা মা)

ওকে যাচ্ছি তুমি যাও (রিদিতা)

প্রতিদিনকার মতো আজ ও সকাল ৮টায় 

টেবিলে খেতে বসছি এর মধ্যে তানিশা ও এসে পাশের চেয়ারটা টেনে বসলো। কাকিমা খাবার পরিবেশন করছে এরমধ্যে তানিশা বলে উঠলো 

মা ওকে পোলাও মাংস সব খাওয়াও ও কথা দিয়েছে সপ্তাহ খানেক এখানে থাকবে তারপর এখান থেকে চলে যাবে। কিরে ঠিক বলতাম তো (তানিশা আমাকে উদ্দেশ্য করে বলল) 

হুম কথা যখন দিয়েছি তখন আমি আমার কথা অবশ্যই রাখবো (হাসি মুখে বললাম)

এই তানিশা কিসব বলছিস ও আমাদের ছেড়ে কোথায় যাবে হ্যা..! আমরা ছাড়া কে আছে ওর (কাকিমা)

মা তুমি ওর হয়ে এখনো সাফাই দিচ্ছো। বুঝতে পারছো না। কেন ওকে আমাদের বাড়ি ছাড়তে বলছি (তানিশা)

কেন..? (কাকিমা)

কারন আজকাল ওকে দেখে আমার কেমন জানি ভয় হই। যদি আমার দিকেই কুনজরে তাকাই তখন। তাছাড়া ও তো আর আমাদের রক্তের কেউ না। আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে ও তো একটা চরিত্রহীন। চরিত্রহীন ব্যাক্তি রা তারা পশুর সমান হই। তারা কাউকে ছেড়ে কথা বলে না। আমি ও তো মাঝে মধ্যে বাসায় একাই থাকি সেটার সুযোগ যদি ও নিয়ে ফেলে তখন আমার কি হবে (তানিশা কথা শেষ করতেই কাকিমা ঠাসস করে তানিশার গালে একটা থাপ্পড় মেরে বলতে লাগলো 

ছি কিসব বলছিস ও তোর ভাই হই যদিও তোরা সমো বয়সি তারপরও ও তোকে ছোট বোনের মতো স্নেহ করে আর তুই কিনা এসব উল্টো পাল্টা কথা বলছিস (কাকিমা) 

হ্যা আমি ঠিকই বলছি ও যদি আমাদের বাসায় থাকে তাহলে আমি নানুর বাসায় চলে যাবো এটাই ফাইনাল কথা (তানিশা)

তানিশার কথা শুনে বুকের বা পাশে কেউ যেনো ধারালো ছুরি দিয়ে অবিরাম আঘাত করেই চলেছে এমন অনুভব হতে লাগলো। সমো বয়সি হবার পরও যাকে ছোট বোনের মতো দেখে আসলাম আজ সে আমাকে এসব নোংরা কথা বলছে নিজেকে আর সামলাতে  পারলাম না। কান্না করেই তানিশার উদ্দেশ্য বলে উঠলাম

ছোট থেকেই জেনে আসছি তোর বাবা মা আমার আপন কাকা কাকিমা সেই সঙ্গে তোকেও আমার নিজের বোন ভেবেছিলাম। একটা দুর্ঘটনার কারনে নিজের আসল পরিচয়টা বুঝতে পারলাম। কিন্তু তুই আজ যে কথা গুলো বললি একথা বলার আগে যদি এক গ্লাস পানির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে এনে বলতি তাহলে আমি নিসন্দেহে সেটা খেয়ে ফেতাম সেটাতে আমার বিন্দুমাত্র কষ্ট হতো না।  কিন্তু আজ যেটা বললি সেটা আমি কোনোদিন ভুলবো না আর হ্যা যদি কোনো কালে কোনো জায়গায় দেখা হই তবে আমার সঙ্গে কথা বলতে আছিস না। দুইটা দিন সময় দে কলেজ থেকে টিসি নিয়ে একবারে চলে যাবো (এই বলে খাবার খাওয়া বাদ দিয়ে রুমে চলে আসলাম। আর ভাবতে লাগলাম 

নাহ এখানে আর থাকা আমার পক্ষে সম্ভব না। তাছাড়া তানিশার বাবা মা আমাকে যতটুকু আদর যত্নে বড় করেছে এতেই অনেক। তাদের ঋন আমি কোনদিন শোধ করতে পারবো না।আমি বরং অন্য কোথাও চলে যাবো এই শহর ছেড়ে অন্য কোনো শহরে চলে যাবো তার আগে আমাকে থেকে টিসিটা যেভাবেই হক স্যারকে রিকুয়েষ্ট করে হাতে নিতেই হবে 

বেস একটা দিন কেটে গেলো তারপর কলেজে গিয়ে লক্ষ্য করলাম দুইটা বাস কলেজের মাঠে কিছুই বুঝতে পারলাম না তারপর ক্লাসে বসতেই লক্ষ্য করলাম তানিশা আর রিদিতা অনেক হাসাহাসি করছে কিন্তু আমাকে দেখেই চুপ হয়ে গেলো বেস তারপর  

ক্লাসে স্যার এসে বলতে লাগলো 

তোমার জন্য কিন্তু একটা সারপ্রাইজ আছে (স্যার)

কি সারপ্রাইজ স্যার (ছাত্রছাত্রী একসাথে বলে উঠলো) 

সারপ্রাইজটা হচ্ছে কাল তোমরা কলেজ থেকে শিক্ষা সফরে যাচ্ছো তাও আবার একদম ফ্রীতে। এবার প্রিন্সিপাল স্যারের  মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে শিক্ষাসফরে যাওয়া সকল ছাত্রছাত্রীদের জন্য একদম ফ্রী (স্যার)

স্যারের কথা শুনে সবাই খুশি হলেও আমি খুশি হতে পারিনি। আগের মুডমেন্ট থাকলে হইতো এতক্ষণ হৈচৈ করে ক্লাস কাপিয়ে ফেলতাম কিন্তু এখন কেন জানি সেই আনন্দটা মন থেকে আসছে না সেদিন আর ক্লাস হলো না অল্প কিছুক্ষনের মধ্যেই ছুটি হয়ে গেলো তারপর প্রিন্সিপাল স্যারের কাছে টিসি কথা বলতেই তিনি অনেক্টা রেগে যান তারপর প্রিন্সিপাল কে এক্টু বুঝিয়ে বললাম তারপর স্যার ও রাজি হয়ে গেলো এবং বলল কাল সকালে টিসি  নিয়ে যেয়ো। 

স্যারের সঙ্গে কথা শেষ করে তারপর বাড়িতে চলে আসলাম 

এখন তানিশার সঙ্গে কথা তো বলবো দুরের কথা তার ছায়া পযন্ত দেখি না। রাতে ঘুমানোর আগে  আমার  ব্যবহৃত যা আছে সব আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেললাম। তারপর বাস স্টেশনে গিয়ে সকাল ১১ টার  টিকেট কেটে আসলাম। গেইটে আসতেই কাকিমা আমাকে দেখে বলে উঠলো 

কিরে বাপ এতরাতে কই গেছিলি (কাকিমা)

লিজানের সঙ্গে বিয়ের দাওয়াত খেতে গেছিলাম এর জন্য এক্টু লেট হয়ে গেলো (কাকিমাকে মিথ্যা বলে বিষয়টা এড়িয়ে গেলাম) 

এই দুইহাজার টাকা রাখ কাল আবার তোদের কলেজ থেকে নাকি শিক্ষাসফরে যেতে হবে। তানিশাও টাকা নিয়েছে এখন তোরটা নে (কাকিমা টাকা পকেটে গুজে দিয়ে বলল) 

কাকিমার কান্ড দেখে চোখের কোনে পানি জমে গেলো। আমার বিশ্বাস করতেই কষ্ট হচ্ছে যে এরা কেউ আমার রক্তের নাহ। বেস নিজেকে আর সামলাতে না পেরে বলেই ফেললাম

তোমরা আমার সত্যিকারের বাবা মা কেন হলে না বলোতো (আমি)

পাগল ছেলে। তুই আমার পেটের সন্তান না হলে কি হবে। তানিশাকে যেভাবে আদর যত্নে করে মানুষ করেছি তোকেও সেভাবে মানুষ করেছি।শুধু সন্তান জন্ম দিলেই মা হওয়া যাই এমনে হওয়া যায় না (কাকিমা)

হ্যা তাই তো তুমি আমার কাকিমা না। শুধু মা (আমি)

হ্যা এবাব ঠিক আছে যা ফ্রেশ হয়ে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড় গিয়ে (কাকিমা এই বলে চলে গেলো) 

কাল সকালে স্যারের কাছ থেকে টিসি নিয়ে এসব মায়া আমাকে ত্যাগ করে এই শহর ছেড়ে চলে যেতে হবে।ভাবতেই কেমন জানি বুকের বা পাশে ধুমড়ে মুচড়ে উঠছে

!

!

(চলবে)

পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!