Life story - গল্পঃনির্দোষ লেখকঃরনি হাসান পর্বঃ৩

গল্পঃনির্দোষ

লেখকঃরনি হাসান

Life story - গল্পঃনির্দোষ  লেখকঃরনি হাসান  পর্বঃ৩

Life story - গল্পঃনির্দোষ  লেখকঃরনি হাসান  পর্বঃ৩ 




পর্বঃ৩
কাল সকালে স্যারের কাছ থেকে টিসি নিয়ে এসব মায়া আমাকে ত্যাগ করে এই শহর ছেড়ে চলে যেতে হবে।ভাবতেই কেমন জানি বুকের বা পাশে ধুমড়ে মুচড়ে উঠছে
রাতে ঘুমানোর আগে দেয়ালে লক্ষ্য করলাম আমার কয়েকটা ছবি দেয়ালে লাগানো আছে। যখন আমিই এখানে থাকবো না। তখন আমার ছবি কেন এই দেয়ালে আটকে থাকবে। বেস ছবি গুলো দেয়াল থেকে সরিয়ে আগুন দিয়ে সেটাও পুড়িয়ে ফেললাম।এভাবে সব মেমোরিস গুলোকে শেষ করে ফেললাম। এখন কেউ রুমে আসলে বুঝতেই পারবে না। কেউ এখানে ছিলো কিনা তারা সেটা ধরতেই পারবে না।
রাতটা নির্ঘুমে কেটে গেলো সকালে উঠে ছাদে গিয়ে কিছুক্ষন ভাবলাম কোথায় যাবো কার কাছে যাবো তেমন তো যাওয়ার কোনো মাধ্যমেই পাচ্ছি না। আত্মীয়স্বজন বলতেই ও কেউ নেই তাহলে যাবোটা কোথায়..? ভাবতেই রাকিবের কথা মনে পড়ে গেলো সে হইত তো আমাকে কোনো একটা উপায় বের করে দিতে পারবে। এসব ভাবতেই দেখলাম তানিশা হাতে ব্রাশ নিয়ে আমার সামনে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে হইত কিছু বলতে চাচ্ছে কিন্তু কোনো এক সংকোচ বোধের জন্য কিছু বলতে পারছে না।
এখন তানিশার সামনে দাড়িয়ে থাকতে ও লজ্জা করছে।যাকে আপন বোন ভাবতাম
সে আমাকে চরিত্রহীন বলে অপবাদ দিলো তার সামনে কীভাবে থাকা যায়।
বেচে থাকলে তো ওর সঙ্গে কথাই বলবো না। ওর বলা কথাটা আমার মরনের আগ পযন্ত মনে রাখবো। এসব ভেবে কোনো কথা না বলে তানিশাকে ছাদে একা থাকতে দিয়ে চলে আসলাম। ফ্রেশ হয়ে খাবার খেয়ে
স্কুল কলেজ লাইফের কাগজ পত্র সব ফাইলে ভরে নিলাম। তারপর ব্যাগে দুইটা শার্ট দুইটা গেঞ্জি ভরে নিলাম। এখন কলেজে গিয়ে প্রিন্সিপাল স্যারের কাছ থেকে টিসিটা নিয়ে এই শহরের সব মায়া ছেড়ে যাবো।
তারপর রুম থেকে বের হতেই কাকিমা আমাকে দেখেই বলে উঠলো
কিরে বাপ কলেজে এখনো যাসনি (কাকিমা)
হ্যা যাচ্ছি (আমি)
তাহলে ব্যাগ নিয়েছিস কেন তানিশা তো ব্যাগ ছাড়াই কলেজে চলে গেলো (কাকিমা কিছু সন্দেহ করে বলে উঠলো)
না তেমন কিছু না কাকিমা ব্যাগে আমার নতুন টিশার্ট আছে সেটা ওখানে লাগবে তো এর জন্য নিয়ে যাচ্ছি (কাকিমাকে এমনি একটা মিথ্যা কথা বলে চলে গেলাম)
তারপর কলেজে আসতেই লক্ষ্য করলাম ক্লাসমেন্ট রা সবাই আনন্দ উল্লাসে মেতে আছে। লিজান আমাকে দেখেই বলে উঠলো
কিরে বন্ধু কই থাকিস কাল রাত থেকে তোকে ফোন দিয়ে যাচ্ছি আর তুই ফোন ধরছিলি না কেন (লিজান)
মুডমেন্ট ভালো নেই রে। আচ্ছা বাদ দে এসব কথা তোরা তাহলে যা আমার এক্টু প্রিন্সিপাল স্যারের সঙ্গে দেখা করতে হবে (আমি)
কি বলছিস এসব আমরা যাবো মানে তুই যাবি না আমাদের সঙ্গে (লিজান)
না রে মন ভালো নেই তোরাই যা (বেস তারপর প্রিন্সিপাল স্যারের কাছ থেকে টিসি নিয়ে বাহিরে বের হতে রিদিতার সঙ্গে দেখা হয়ে গেলো। রিদিতা আমার দিকে আড় চোখে কিছুক্ষন দেখলো ভাবছে আমিও তাদের সঙ্গে যাবো
ব্যস তারদিকে লক্ষ্য না করে কলেজ গেইটে পা রাখতেই তানিশা পিছন দিক থেকে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো
এই দাড়া তো (তানিশা)
হুম বল (আমি)
তুই কি আমাদের সঙ্গে যাচ্ছিস (তানিশা)
আমি গেলে কি সমস্যা (আমি)
না মানে লিজান যে বলল তুই নাকি শিক্ষা সফরে আমাদের সঙ্গে যাচ্ছিস না (তানিশা)
হুম সেটাই আমি যাচ্ছি না তোরা ভালোভাবে যাস আল্লাহ হাফেজ (এ বলে চলে আসতে যাবো এরমধ্যে তানিশা বলে উঠলো
তাহলে তোর কাছে ব্যাগ কেন (তানিশা)
না এমনি ভালো থাকিস আর কাকিমার দিকে খেয়াল রাখিস (এই বলে সেদিনই চলে আসলাম ঢাকা
অপরদিকে
কলেজ থেকে তানিশা রিদিতা তারা শিক্কা সফরে সবাই আনন্দ উল্লাসে মেতে আছে এরমধ্যে রিদিতা কেন জানি একজনকে মনে মনে খুজতে লাগলো যদি ও তাকে ঘৃণা করে তারপর ও একজনের শুন্যতাই তার খারাপই লাগছে বেস রিদিতা নিজেকে সামলাতে না পেরে তানিশাকে বলে উঠলো
তানিশা তুর ভাই আসেনি (রিদিতা)
রিদিতার কথা শুনে তানিশা অনেকটাই অবাক হয়ে বলল
এতকিছু হবার পর ও ওর নাম নিচ্ছিস যে তোকে এত বাজে প্রস্তাব দিলো তার কথা কেমনে বলতে পারিস হ্যা (তানিশা)
দেখ ও যা করেছে তার শাস্তি তো সে পেয়েছেই কিন্তু তারপর কেন জানি সে বিষয়টা নিয়ে আমার কাছে এক্টু খারাপ লাগা কাজ করতো। তাছাড়া তুই তো জানিসই আমিও ওকে ভালোবাসতাম কিন্তু প্রকাশ করতে পারেনি। কিন্তু যখন প্রকাশ করতে যাবো এরমধ্যে তোর ভাইয়েই তো একটা বাজে প্রস্তাবে আমার মন্টা নিমিষেই ভেঙে ফেললো (রিদিতা)
ও আমার ভাই হলে কি হবে। আমি ও ওকে অনেক কথা শুনিয়েছি (এই বলে তানিশা বাড়িতে যা ঘটনা ঘটেছে সেটা রিদিতার সঙ্গে নিমিষেই সিয়ার করে ফেললো রিদিতা ঘটনা শুনার পর বলে উঠলো
এই তুই কি করেছিস। মানুষ মানেই তো ভুল। আর ও যা করেছে তার প্রাপ্য শাস্তি ও দিয়েছি। যাই হক বোন হিসেবে তোর ওসব কথা বলা একদমই ঠিক হইনি সরি বলে নিস (রিদিতা)
রিদিতার কথা শুনে তানিশা ও বুঝতে পারলো সেদিন তার এসব বলা ঠিক হইনি। হাজার হক ভাই তো। যদি ও রক্তের সম্পর্ক নেই। তারপর রক্তের সম্পর্ক চেয়েও তো কম না। তানিশা ও মনে মনে ঠিক করলো বাড়িতে গিয়ে সরি বলে সব সমাধান করে নিবে।
গজনী অবকাশে গিয়ে বাস থামলো বাস থেকে সবাই নামলো রিদিতার কেন জানি মন থেকে আনন্দের অনুভূতিটা আসছে না। যতই হক একটা মেয়ের পিছনে যদি কোনো ছেলে দুই বছর শুধু প্রেম নিবেদন করেই যাই সে মেয়ে যতই পাথর হক না কেন সেই ছেলেটার প্রতি কিছুটা হলেও আবেগ কাজ করবে। সেদিক থেকে রিদিতা ও ব্যতিক্রম নই।
এই রিদিতা কি ভাবছিস (তানিশা)
না কিছু না (রিদিতা অন্যমনস্ক হয়ে বলে উঠলো)
তাহলে বাসে একা বসে আছিস কেন (তানিশ)
বাস থেকে নামতেই সামনে দুর্জয় লাল গোলাপ ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। রিদিতা সেদিকে না তাকিয়ে দুর্জয়কে পাশ কাটিয়ে চলে আসতে যাবে এমন সময় দুর্জয় বলে উঠলো
রিদিতা দাড়াও (দুর্জয়)
কেন (রিদিতা)
না মানে এই ফুলগুলো তোমার জন্যে নিয়ে আসছিলাম তাই ফুল গুলো এখন তোমাকে দিতে আসছি(দুর্জয়)
সরি আমি কারো ফুল নিতে পারবো না (রিদিতা কিছুটা রেগে)
এই রিদিতা চল তো এসব ফালতু কথা না শুনাই ভালো (তানিশা)
নিজের ভাইয়ের বেলা তো খুব সুপারিশ করতে পারো এখন আমার হয়ে রিদিতাকে একটু বুঝাও নাহ (দুর্জয়)
এসব ফালতু কথা না শুনাই ভালো এই বলে যেই রিদিতা নিয়ে তানিশা চলে আসতে যাবে এরমধ্যে দুর্জয় রিদিতার হাত চেপে ধরে বলে উঠলো
আজ রিদিতাকে এই ফুল গুলো নিয়েই যেতে হবে নইত তার ফল ভালো হবে না (দুর্জয় অনেকটা রেগে)
দুর্জয় কি করছো আমার হাত ছেড়ে দাও নইত লোকজন ডাকতে বাধ্য হবো (রিদিতা)
দুর্জয় প্লিজ রিদিতার হাত ছেড়ে দাও (তানিশা)
অনেক অবহেলা সহ্য করছি আর নাহ আজ রিদিতাকে বলতেই হবে আমাকে ভালোবাসে কিনা যে কারনে রনিকে তোমার জীবন থেকে দুর করেছি এখন তো তোমার মনে রনি জন্য কোনো অনুভূতির শিহরণ জেগে নেই তাই না (দুর্জয় ডেবিল মার্কা হাসি দিয়ে বলল)
হুট করে দুর্জয় এসব কথা বলবে সেটা রিদিতা কখনো কল্পনা ও করতে পারেনি। রিদিতার সঙ্গে তানিশাও অবাক হয়ে বলল
তার মানে এসব তোর সাজানো নাটক ছিলো (তানিশা)
হ্যা নাটক ছিলো। তোমার ভাই একটু বেশি বাড়ছিলো বারন করছিলাম কিন্তু সে আমার কথা শুনেনি বেস এর জন্য মিথ্যা একটা চিঠি লিখতে হলো তারপর সেটা রনির নামে রিদিতার কাছে পৌছে দেই। রিদিতা ও রনিকে ভুল বুঝে বেস আমার লাইন পরিষ্কার হয়ে গেলো। কিন্তু আজ তো দেখছি রনিকে সরিয়ে দিয়ে কোনো লাভ ই হলো নাহ মাঝখান থেকে বেচারা রনি শুধু একটা মিথ্যা অপবাদ মাথা পেতে নিলো (এই বলে দুর্জয় ডেবিল মার্কা হাসি হেসে উঠলো
বেস কথাটা শুনা মাত্রই রিদিতা দুর্জয়ের গালে ঠাসস করে থাপ্পড় মেরে বলতে লাগলো
ছি তোর জন্য একজন নির্দোষ মানুষকে শুধু শুধু শাস্তি পেতে হলো আমি তোকে কোনোদিন ও ভালোবাস না ঘৃণা করি তোকে (রিদিতা রেগে)
আমাকে যখন ভালো বাসবিই নাহ তাহলে তোকে সেই ব্যবস্থাই করছি দাড়া (দুর্জয় এই বলে যখন রিদিতার দিকে কুমন্ত্রণা নিয়ে এগিয়ে যেতে লাগলো ঠিক তখনই তানিশা যা করলো
!
!
(চলবে)
(আজ খুব মাথা ব্যথা করছে তারপর ও আপনাদের জন্য লিখতে হলো)
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!