Life Story - গল্পঃনির্দোষ লেখকঃরনি হাসান পর্বঃ৫

গল্পঃনির্দোষ

লেখকঃরনি হাসান

Life Story - গল্পঃনির্দোষ   লেখকঃরনি হাসান পর্বঃ৫
Life Story - গল্পঃনির্দোষ   লেখকঃরনি হাসান পর্বঃ৫



পর্বঃ৫
আনমনে রাস্তায় হাটতেছি হঠাৎ একটা বৃদ্ধ লোক দৌড়ে আমার কাছে এসে বলতে লাগলো..বাবা আমার মেয়েটা অই বখাটের হাত থেকে বাচাও প্লিজ (বৃদ্ধ লোকটি)
বৃদ্ধ লোকটির মিনতির সুরে বলতেই কোনো কিছু না ভেবে বৃদ্ধ লোকটির সঙ্গে যেতেই কিছু দুর লক্ষ্য করলাম
২ টা বখাটে মেয়েটার শরীরে হাত দিচ্ছে চাচ্ছে কিন্তু মেয়েটা তার হাতটা বার বার সরিয়ে দিচ্ছে এই দৃশ্য দেখে নিজেকে সামলাতে পারলাম না। এক পা সামনে এগুতে মনে হতে লাগলো আমি তো একা ওদের সঙ্গে লড়াই করতে পারবো না। তবে কিছু একটা দিয়ে তাদের আঘাত করতে হবে তবেই না মেয়েটাকে ছাড়তে বাধ্য হবে এসব ভাবতেই বৃদ্ধ লোকটি বলল
বাবা প্লিজ আমার মেয়েটাকে বাচাও নইত এই নরপশু কাছ থেকে আমার মেয়ে রেহাই পাবে না (বৃদ্ধ লোকটি কান্না করে বলল)
আশেপাশে কিছু একটা খুজতেই দোকানে রাখা একটা লাঠি পেয়ে গেলাম সেটা নিয়ে দুরুত্ব সেখানে গিয়ে কোনো কথা না বলেই পিছন দিক থেকে দুই বখাটে কে মারতেই একটার মাথা ফেটে রক্ত ঝড়তে লাগলো আরেকটা দেখেই ভয় পেয়ে দৌড়াতে লাগলো কিন্তু এক বখাটে আমার কাছ থেকে রক্ষা পাইনি। তাকে লাঠি দিয়ে আর ও কয়েক্টা আঘাত করতেই বৃদ্ধ লোকটি বলে উঠলো
বাবা এবার ওকে ছেড়ে দাও নইত মারা যাবে
না আংকেল ওকে পুলিশের হাতে তুলে দিবো এদের ছাড় দিলে রাস্তা ঘাটে আরও বখাটে গিরি করবে (আমি)
ভাই প্লিজ আমাকে আর মাইরেন না। আমি আর জীবনে কোনো মেয়ের দিকে তাকাবো না তারপর ও আমাকে পুলিশের হাতে তুলি দিবেন না প্লিজ (বখাটে টি আমার পা জড়িয়ে বলল)
না ভাইয়া ওকে ছাড় দিবেন না। আজ আপনি আমাকে না বাচালে আসলে। কাল সমাজে আমি মুখ দেখাতে পারতাম না। সুসাইট করতে হতো (মেয়েটি কান্না করে বলল)
কি বলল শুনলি তো এখন তোকে কোনো ছাড় দেওয়া চলবে না। তোকে পুলিশের কাছেই রাখতে হবে। বেস আমার কথা শুনে বৃদ্ধ লোকটি ও বলল
বাবা এক্টু অপেক্ষা করো পুলিশ কে ফোন করে জানিয়ে দিয়েছি তারা আসতেছে (বৃদ্ধ লোকটি)
কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ এসে সেই বখাটে কে ধরে নিয়ে গেলো। তারপর আংকেল কে নিতে একটা প্রাইভেট কার এসে নিয়ে গেলো। গাড়ি দেখে বুঝতে পারলাম। আংকেলটি অনেক বড়লোক। আংকেল যদি ও আমাকে জিজ্ঞেস করছিলো যদি সমস্যা হই আমাকে জানিয়েও এই হলো আমার ভিজিটিং কার্ট..
প্রতি উত্তরে বলেছিলাম অবশ্যই আপনাকে জানাবো
বেস রাতটা ফুতফাতেই নির্ঘুমে কাটিয়ে দিতে হচ্ছে।এখন কাকা কাকিমা ছাড়া যে বাস্তবতা কত কঠিন তা এখন হারে হারে টের পাচ্ছি। গ্রামে যে ফিরে যাবো সেটা ও সম্ভব না। আল্লাহর উপর বিশ্বাস রেখে দীর্ঘ একটি নিশ্বাস ফেলে ভাবতে লাগলাম সকালে একটা না একটা থাকার ব্যবস্থা হয়েই যাবে।
উপর দিকে
মা আজ বাদরটাকে দেখছি না যে কই সে (তানিশা একথা বলতেই তানিশার মা কান্না করে বলল
মারে আমার মনে হই রনি আমাদের কে ছেড়ে অন্য কোনো শহরে চলে গিয়েছে (কাকিমা কান্না করে)
কি বলছো চলে গেছে মানে কোথায় গিয়েছে..? আমরা ছাড়া ওর কে বা আছে (তানিশার চোখের কোনে ইতিমধ্যে পানি জমে গিয়েছে
তানিশা ভাবতে পারছে না। যে তাদের কে এভাবে ছেড়ে চলে যাবে। এখন তানিশা নিজেই নিজেকে মনে মনে গালি দিচ্ছে । রক্তের সম্পর্ক হইতে ভাই না হতে পারে সে ।কিন্তু ভাইয়ের চেয়েও তো কম না। আর তাকেই কিনা বাজে ভাষায় অপবাদ দিয়েছে। এসব ভাবতেই তানিশা কান্না করে দিয়ে বলল
মা এখন আমি কার সঙ্গে ঝগড়া করবো ও তো ও চলে গেলো। (তানিশা কান্না করে বলল)
মারে সেদিন যদি ওসব কথা না বলতি তাহলে হইত ও আমাদের ছেড়ে চলে যেতো না। যদিও ও আমার পেটের সন্তান না তারপর তো ও তোকে নিজের বোন ভাবতো এমন একজনকে কেমনে এসব বাজে কথা বললি তোর মুখে কি একটুও আটকায়নি তখন (কাকিমা কান্না মিশ্রিত কন্ঠে বলল)
মা আমার ভুল হয়েছে সেদিন রাগের মাথাই এসব উল্টো পাল্টা কথা বলছি। কিন্তু তুমি ওকে চলে যেতে দিলে কেন (তানিশা)
আমি ও জানতাম না। তোদের কলেজের প্রিন্সিপাল আমাকে কয়েক ঘন্টা আগে ফোন করে বলল ও নাকি কলেজ থেকে টিসি নিয়েছে তার কারণ স্বরুপ এটাও বলছে আমরা নাকি সপরিবারে ঢাকায় চলে যাচ্ছি একথা প্রিন্সিপাল শুনে টিসিটা দিয়েছে (কাকিমা এই বলে থেমে গেলো)
মা রনি তাহলে আমাদের এখানে আর আসবে না (তানিশা)
তুই ও ওকে ভালো করে জানিস ও ছোট থেকেই একটু জেদি যা বলে তাই করে।আমাদের এখান থেকে চলে যেহেতু গিয়েছে তখন মনে হই না আর ফিরে আসবে। এটা ভাবতেই ভিতরে দুমড়েমুচড়ে উঠছে রে মা (কাকিমা তানিশার উদ্দেশ্য বলে উঠলো)
এইদিকে রিদিতাও অনেক আগ্রহ নিয়ে বসে আছে কাল কলেজে গিয়ে সব ভুল বুঝাবুঝি ভেঙে রনিকে প্রোপজ করবে সে। কিন্তু রিদিতার মাথাই একটা চিন্তায় বার বার খেলছে ও কি আমাকে ক্ষমা করে ভালোবাসাতে পারবে নাকি রিজেক্ট করবে। না না এমন কিছুই হবে না। যে ছেলে আমার পিছনে দুই বছর পড়ে থাকতে পারে। তাকে আমি যদি আগ বাড়িয়ে প্রোপজাল দিই তো সে আমাকে ফিরিয়ে দিতে পারবে না। রিদিতা আনমনে ভেবে কিছুটা আনন্দিত হয়ে উঠলো। বেস এরমধ্যে তানিশার কলে রিদিতার ফোন বেজে উঠলো
রিদিতা ফোনটা রিসিভ করেই বলে উঠলো
তোর ভাইকে কি মেনেজ করেছিস (রিদিতা আনন্দের সহিত বলে উঠলো
কিছুই মেনেজ করতে পারেনি তার আগেই সব শেষ হয়ে গেলো রে (এই বলে তানিশা কান্না করে উঠলো
তানিশার কান্না শুনে রিদিতা কিছুটা ভয় পেয়ে বলে উঠলো
তানিশা বাসায় কিছু হয়েছে কান্না করছিস কেন (রিদিতা)
রনি আমাদের বাসা ছেড়ে চলে গিয়েছে। আর কোথায় কার কাছে চলে গেছে কিছু বলে যাইনি। কলেজ থেকে ও টিসি নিয়ে ফেলছে। এখন নিজেকে খুব অপরাধী মনে হচ্ছে রে সেদিন যদি ওসব বাজে কথা না বলতাম তাহলে হইত আমাদের ছেড়ে চলে যাইতো না। সরি রে তোদের দুইজনকে আর মিলিয়ে দিতে পারলাম না! (কান্না করে বলল তার তানিশা)
তানিশার কথা শুনা মাত্রই রিদিতা যেন মুক্তির মতো পাথর হয়ে গেলো। এখন রিলেশন হবে তো দুরের বিষয়। সে যে তার সঙ্গে না বুঝে অন্যায় টা করেছে। তার ক্ষমাও তো নিতে পারবে না এসব ভেবে রিদিতা শব্দ ছাড়াই চোখ থেকে জল গড়তে লাগলো। রিদিতা এসব ভাবতে তানিশা ওপাশ থেকে বলে উঠলো
হেলো রিদিতা কথা বলছিস না কেন আচ্ছা পড়ে কথা বলবো নে এখন রাখছি (তানিশা এই বলে অপাশ থেকে ফোনের লাইন কেটে দিলো
এইদিকে রিদিতা ফুপিয়ে কান্না করতে লাগলো বেস রিদিতা মা তা শুনতে পেরে জিজ্ঞেস করে উঠলো
রিদিতা মা কান্না করছিস কেন কি হয়েছে আমাকে বল (রিদিতার মা)
মা আমার দ্বারা এতবড় অন্যায়টা কেমনে করতে পারলাম (রিদিতা কান্না করে বলল)
রিদিতা মা আমার কান্না করিস না কি হয়েছে সেটা আমাকে বল (রিদিতার মা)
তারপর রিদিতা শুরু থেকে শেষ পযন্ত যা কিছু ঘটনা ঘটেছে তা সব কিছু ভেঙে তার মার কাছে বলল। রিদিতার মাও রীতিমতো অবাক হয়ে গেলো তার ঘটনা শুনে রিদিতার মা তার মেয়েকে শান্তনা দিয়ে বলে উঠলো
প্রকৃত পক্ষে তোর তো কোনো দোষ নেই রে মা। যা কিছু করেছে অই দুর্জয় শয়তান টা। তোদের মাঝে ভুলটা অই শয়তানই তুলে ধরেছে। কিন্তু মাঝ খানে নির্দোষ ছেলেটা এভাবে এলাকার লোকের সামনে অপদস্ত করা হলো। সেদিকে লক্ষ্য করতেই আমাদের নিজের প্রতি সত্যিই খুব অনুশোচনা কাজ করছে রে মা। তাছাড়া তোর বাবা একথা শুনলে অনেকটা ভেঙে পড়বে (রিদিতার মা)
বাবাকে ও এবিষয়ে জানানোর দরকার মা (এরমধ্যেই সফিক সাহেব এসে বলতে লাগলো
কি রিদিতা মামুনি সেই ছেলেটা কি তোমাকে আর কখনো বিরক্ত করেছে। যদি আরেকবার ও আমার মেয়ে সঙ্গে ইভটিজিং করার চেষ্টা করে তাহলে কোনো কিছু না ভেবেই ওকে জেলের ভাত খাইয়ে ছাড়বো (শফিক সাহেব)
বাবা আমরা যাকে ইভটিজার ভেবে এলাকার সবার সামনে অপমান অপদস্ত করেছি সে আসলে এসব কিছু করেনি (রিদিতা)
এই রিদিতার মা শুনছো তোমার মেয়ে কথা..! এসব কি বলছে কিছুই তো বুঝতে পারছি না (শফিক সাহেব)
আমি বলছি শুনো তাহলে (এই বলে রিদিতা মা সবটা শফিক সাহেবকে জানালো। শফিক সাহেব ঘটনাটি জানার পর ঠাস করে সোফায় বসে পড়ল। আর অনুশোচনায় বলে উঠলো
আমার রাজনৈতিক ক্ষমতা থাকলেও কখনো কাউকে অন্যায় করেনি। কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার ও করেনি। আজ আমার দ্বারা নির্দোষ ছেলেটা এইভাবে শাস্তি পেলো (সফিক সাহেব অনেকটাই অনুশোচনা হয়ে বলে উঠলো
এখন এসব বলে কি হবে যা হবার তা তো হয়েই গেছে (রিদিতার মা)
রিদিতা মা চল আমরা বরং রনির কাছে গিয়ে আমাদের ভুল স্বীকার করে নেই আর ক্ষমা ও চেয়ে নিই (সফিক সাহেব)
বাবা সেটার সুযোগ ও এখন নেই। কিছুক্ষন আগে জানতে পারলাম ও কাউকে কিছু না বলে এই শহর ছেড়ে অন্য কোনো শহরে চলে গিয়েছে (রিদিতা কান্না করে বলল )
শফিক সাহেব তার মেয়ের কথা শুনে রীতিমতো অবাক হয়ে বলে উঠলো
শেষ পযন্ত ছেলেটা ক্ষমা চাওয়ার সুযোগটা ও দিলো নাহহ....!!!
!
!
(চলবে)
(ব্যস্ততার জন্য পোস্ট করতেই এক্টু লেট হয়ে) গেলো)
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!