Life Story - গল্পঃনির্দোষ পর্বঃ১

গল্পঃনির্দোষ

লেখকঃরনি হাসান


গল্পঃনির্দোষ,life story,sad story,golpo,dukkher golpo,dukkho
গল্পঃনির্দোষ



পর্বঃ১

ইভটিজিং এর অপরাধে গ্রামে বিচার সভায় মধ্যেমনিতে বসে আছি। সবাই রাগী চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। এরমধ্যে বিচারক সফিক সাহেব বলে উঠলেন 

আজ আমার মতে কোনো সিদ্ধান্ত নিবো না ইভটিজিং এর শাস্তি কি হতে পারে। তা আপনারা যারা বিচারসভায় উপস্থিত আছেন তারাই সিন্ধান্ত নিবেন। কেন না রিদিতা আমার মেয়ে। আর অই ছেলেটা আমার মেয়ের সঙ্গেই অসভ্যতামি করেছে (শফিক সাহেব রাগে শরীর কাপিয়ে বলে উঠলো। কেন না প্রতিটা বাবাই এরকম রাগান্বিত হয়ে উঠাই স্বাভাবিক সে জায়গায় থেকে সফিক সাহেব ও ব্যতিক্রম নন। তার জায়গায় সে অটুট..

দেখুন আজ যদি এই ছেলেটাকে আমরা গ্রামবাসীরা ছাড় দেই তো আজ শফিক সাহেবের মেয়ের সঙ্গে ইভটিজিং করেছে কাল আমাদের মেয়ের সঙ্গে যে ইভটিজিং করবে না তার কি গ্যারান্টি আছে..? সুতরাং আমি আজ এই ছেলেটার উপযুক্ত শাস্তি কামুনা করছি যাতে এই রকম জঘন্য কাজ না করতে পারে (জাবেদ সাহেব এলাকার বড় নেতা তিনি এসব কথা বলে উঠলেন তার সঙ্গে বিচারসভায় সবাই তার কথাতে একমত হয়ে গেলো 

(তার আগে ইভটিজিং এর বিষয়টা পরিষ্কার করে ফেলি শুনুন তাহলে... 

আমি রনি হাসান এবার ইন্টার দ্বিতীয় বর্ষ পড়ছি এবং যে মেয়ে আমার নামে নালিশ করেছে তার নাম রিদিতা। আমারই ক্লাসমেট। রিদিতার সঙ্গে আমার প্রায় দু'বছরের এক তরফা ভালোবাসা ছিলো । আমি ভালোবাসলোও রিদিতা আমাকে ভালোবাসতো না। আপনারা হইতো ভাবছেন রিদিতা আমাকে ভালোবাসে না দেখে তার সঙ্গে ইভটিজিং করছি....?

না আমি ইভটিজিং করেনি। সত্য কথা বলতে রিদিতা যেমন ভদ্র তেমন সুন্দরী যার দারুণ কলেজের সব ছেলেদের ক্রাশ ছিলো রিদিতা। এরমধ্যে আমিও ব্যতিক্রম হতে পারিনি। সবাই রিদিতাকে পছন্দ করলও সাহস করে রিদিতাকে ভালোবাসার কথাটি কেউ বলতে পারেনি।কেন না রিদিতার বাবা রাজনৈতিক দলে ভালো ক্ষমতা সম্পুর্ন ব্যক্তি। সে চাইলে একজনকে কোনো মিথ্যা মামলায় নিমিষেই জেল অব্দি পৌছাতে পারেন। কিন্তু মানুষ হিসেবে তিনি যথেষ্ট সৎ। 

একদিন আমার চাচাতো বোন তানিশকে দিয়ে প্রোপজাল দিয়েছিলাম রিদিতার কাছে সে প্রতিউত্তরে একটা কথা বলেছিলো 

বাবা মার পছন্দের ছেলেকে সে নিজের স্বামী হিসেবে মেনে নিবে। কিন্তু এই প্রেম ভালোবাসায় তার বিশ্বাস নেই। তানিশার মাধ্যমে এসব কথা জানতে পেরেছিলাম সেদিন। এরপর থেকেই রিদিতাকে নিত্যনতুনভাবে  ইমপ্রেস করার চেষ্টা করি। রিদিতা ও রেসপন্স দিতে লাগলো। কিন্তু সেটা অপ্রকাশিতভাবে। মনের কোনে জায়গা হয়েছিলো ও কিন্তু হঠাৎ একদিন দুর্জয় এসে বলতে লাগল

দেখ বন্ধু তোকে ভালোভাবে বলছি তুই রিদিতার জীবন থেকে সরে যা। নইত তার ফল ভালো হবে না এই আমি বলে দিলাম (দুর্জয়) 

তুই কি আমাকে থ্যার্ড দিচ্ছিস (আমি)

হুম তুই যেটা ভাবতে পারিস (দুর্জয়) 

আচ্ছা ঠিক আছে রিদিতাকে আমি ভুলতে পারবো না।আমিও দেখি তুই কি করতে পারিস (আমি)

ভুল করলি দোস্ত তুই আমাকে ভালোভাবে চিনিস না। আমি কতটা ডেঞ্জারাস হতে পারি সেটা আমি নিজেও জানি না (দুর্জয়) 

ধুর বা.. কি করতে পারবি করিস যা। (সেইদিন দুর্জয়ের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি করে  আসছিলাম তবে দুর্জয় ও নাকি রিদিতা অনেক ভালোবাসে। সেটা আমি জানলেও আমি আমার জায়গায় অটুট আর দুর্জয় তার জায়গায় অটুট। এইদিকে রিদিতার সঙ্গে রিলেশনটাই প্রায় গেছিলো আমার । এর পিছনে আবার আমার চাচাতো বোন তানিশার সাহায্যে এগুতে পেরেছিলাম 

ভালোই চলছিলো দিনগুলো 

কলেজের ক্লাস শেষে মাঠে ক্রিকেট খেলতে ছিলাম। এমন সময় রিদিতা কান্না করে আমার সামনে দাড়িয়ে বলতে লাগলো 

ছি রনি ছি এইছিলো তোমার মনে। তোমাকে আমি ভালোবাসিনি ঠিকই। কিন্তু মানুষ হিসেবে তো ভালো ভেবেছিলাম আজ এই তার প্রতিদান (হাতে চিঠিটা ধরিয়ে দিয়ে বলল আর এইদিকে রিদিতার কান্না অবিরাম চলছে সেই মুহূর্তে কেমন জানি চুপসে গিয়েছিলাম কি হচ্ছে এসব। চিঠিতে তো ভালোকিছুই লেখেছিলাম কিন্তু রিদিতা কান্নার করার মানে তো কিছু বুঝতে পারলাম না।  তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে চিঠি হাতে নিয়ে ভালোভাবে লক্ষ্য করতেই আকাশ ভেঙে যেন আমার মাথার উপর পড়ল। হাই আল্লাহ চিঠিতে এসব নোংরা কথা কেন উল্লেখ করা আছে আমি তো এসব কথা কল্পনা ও করতে পারি না তাহলে লিখবো কীভাবে।তাছাড়া এখানে  হাতের লেখার ধরন আর আমার হাতের লেখা ধরন হুবুহু সেম আমার হাতের লেখার মতোই । 

চিঠিটা পড়ে তারপর  কাপা সুরে বলে উঠলাম 

রিদিতা বিশ্বাস করো তোমার জন্য চিঠি আমি ঠিকই লিখেছিলাম কিন্তু এসব বাজে নোংরা কথা আমি লিখিনি হইত আমাকে কেউ ফাসাতে চাচ্ছে (আমি)

একথা বলতেই রিদিতা সবার সামনে ঠাসস করে থাপ্পড় মেরে বলতে লাগলো 

আমাকে কি বোকা পেয়েছিস তোর হাতের লেখা আমি এর আগেও পড়েছি এই নিয়ে আমার কাছে তোর চিঠি ১০বার এসেছে। আগের চিঠি গুলো পড়ে বুঝতে পারতাম যে তুই আমাকে ভালোবাসিস কিন্তু আজ যে চিঠি আমাকে দিয়েছিস সেটা পড়ে আমি বুঝে গিয়েছি তুই কেমন ছেলে... (রিদিতা কান্না মিশ্রিত রাগ নিয়ে বলল)

রিদিতা আমি সত্য বলছি তোমার নামে কোনো নোংরা চিঠি লিখিনি। হইত কেউ আমাকে ফাসাতে চাচ্ছে তুমি আমার কথাটা বিশ্বাস করো প্লিজ (আমি)

আজই আব্বুর কাছে গিয়ে তোর নামে নালিশ করবো এবং তোর লুচ্চামি গিরি করাও বন্ধ করার ব্যবস্থা করবো আর সেটা আজই (রিদিতা এই বলে চলে গেলো) 

এর মধ্যে তানিশা এসে বলল

চিঠিতে এসব নোংরা কথা কেন লিখেছিস (তানিশা রেগে)

তানিশা বিশ্বাস কর আমি এসব লিখিনি আমি ওকে আগের মতোই লাভ লেটার অই দিয়েছিলাম (আমি)

ঠাসস চুপ আরেক্টা কথা ও তুই বলবি না। তোর এই রিলেশনের জন্য কিনা করেছি।আজ কেমনে পারলি রিদিতাকে বাজে প্রস্তাব দিতে (তানিশা) 

শেষে তানিশাও আমাকে অবিশ্বাস করলো এখন সারাদিন চিৎকার মেরে বললেও কেউ আমার কথা শুনবে না। কি আর করার চুপ হয়ে মাটির দিকে তাকিয়ে আছি এর মধ্যে দুর্জয় ডেবিল মার্কা হাসি দিয়ে বলল

ছি ছি দোস্ত তোর দ্বারা এই জঘন্য কাজ আমি মোটুও আশা করেনি (এই বলে শয়তানের একটা হেসে দিয়ে চলে গেলো) 

এবার বুঝতে পারলাম এই সবকিছুমধ্যে  দুর্জয় দায় কিন্তু এখন সকলকে বললেই কি আমার কথা বিশ্বাস করবে কখনোই নাহ।  তারা ভাববে অপরাধী অপরাধ  করে সে তো নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করবে এটাই স্বাভাবিক কিন্তু আমি এখানে দোষ না করেই দোষী হয়ে গেলাম 

এইছিলো কয়েক ঘন্টার অতীতের কথা এখন বাস্তবে ফিরা যাক 

তারপর বিচার সভায় কাকা কাকিমা তারা আসলো। (তারাই আমাকে আমাকে লালন পালন করে বড় করেছেন। মাঝে মধ্যে আমার বাবা মার কথা জিজ্ঞেস করলে কাকিমা মন খারাপ করে বলত আমরা কি তোর বাবা মা মতো না। 

হ্যা তা তো বটেই..

তাহলে বাবা মার কথা জিজ্ঞেস করছিস কেন..?

তারপর ও আমার বাবা মার ব্যাপারে জানতে হবে (আমি)

আমি চাইনা তোর বাবা মার অতীত কাহিনি বলে তোর মনটা খারাপ করতে। এর জন্য তো বিষয়টা গোপন রাখছি বুঝতে পারছিস না কেন তাছাড়া আমরা ও তোকে খুব ভালোবাসি আমার মেয়ে তানিশার এর থেকেও তোকে আমরা আদর যত্ন বেশি করি তাহলে অতীতের এসব কথা শুনে মন খারাপ করার কোনো লাভ  আছে (কাকিমা)

আচ্ছা ঠিক আছে আর জিজ্ঞেস করবো না এসব কথা (আমি)

বেস কাকিমা না করার কারনে আমি আর তাকে বলতে বাধ্য করেনি এর জন্য বিষয়টা আজই ও আমার অজানা। 

তারপর 

কাকা কাকিমা তারা বিচার সভায় এসে শফিক সাহেবের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করতেই তারা চিঠিটা তাদের সামনে ধরল বেস কাকা কাকিমা তারাও নিমিষেই চুপ হয়ে গেলো । তাদের মুখের ভাষা যেন হারিয়ে ফেলছে। সফিক সাহেব তার মেয়েকে ডাক দিয়ে বিচার সভায় উপস্থাপন করলো এবং জিজ্ঞাসা করলো

এই ছেলেই কি তোমাকে চিঠিতে বাজে প্রস্তাব দিয়েছে মামুনি (সফিক সাহেব)

জি আব্বু এই সেই ছেলে (রিদিতা)

রহমান এবার আমি তুমি বলো তোমার ভাতিজাকে কি শাসন তুমিই করবা নাকি আমরাই করবো। তাছাড়া গ্রাম বাসীরা ও দেখুক তারাও যেন এই ইভটিজিং করা থেকে বিরত থাকে (সফিক সাহেব )

আপনারা যা ভালো মনে হই তাই করুন (কাকা এই বলে চোখে পানি মুছে কাকিমাকে নিয়ে চলে আসলো আর আমি অখানে অসহায়ের মতো মাটির দিকে তাকিয়ে রইলাম)

সালমান তুমি গিয়ে কাচা বেত ভেঙে নিয়ে আসো যাও (এলাকার বড় নেতা জাবেদ সাহেব  বলে উঠলেন 

বেস কথাটা শুনা মাত্রই চুপসে গেলাম। বেস  তারপর এলাকার  বড় নেতা সে বেত দিয়ে ১০ টা হাতের শক্তিতে আঘাত করল। আর এই দিকে বেতের আঘাত টা সহ্য করতে না পেরে এক্টু সরে দাড়াতেই চোখের কোনের দিক সজোরে আঘাতটা লাগে যার দারুণ চোখের কোন থেকে  রক্ত বের হতে লাগলো আমার এমন অবস্থা দেখে সফিক সাহেব বলল 

জাবেদ ভাই থাক ছোট মানুষ এবার ওর ভুল বুঝতে পারবে (সফিক সাহেব)

এই ছেলে যা রিদিতার কাছে গিয়ে সরি বলবি এবং সেই সঙ্গে এটাই ও বলবি তার আশেপাশে  আর ঘুরঘুর করবি না (জাবেদ সাহেব)

তারপর রিদিতার সামনে গিয়ে বলল

রিদিতা আমার ভুল হয়েছে আর তোমাকে বিরক্ত করবো না (কান্না করে বলে ফেললাম। মারের আঘাত গুলো না যতটা কষ্ট পেয়েছি তার থেকে মান সম্মান সব ধুলোয় মিশিয়ে গেলো সেটা ভেবেই চোখ থেকে অঝোরে জল গড়ছে 

আমার এমন করুন অবস্থা দেখে রিদিতা মাথা নিচু করে ফেললো। সে হইত চাইছিলো আমাকে শাস্তি দিতে। কিন্তু এভাবে যে সব হয়ে যাবে সেটা রিদিতা কল্পনা ও করেনি। 

বেস বিচার শেষে সব চলে গেলো। এবং রিদিতার বাবা শফিক সাহেব এসে বলল

এই ছেলে তুমি এটা ভেবেনিয়েও নাহ যে আমার মেয়ের সঙ্গে ইভটিজিং করার অপরাধে এক্টু বেশিই শাস্তি দিলাম এটা কিন্তু না। আমার মেয়ের জায়গায় অন্য কেউ থাকলেও আমি সেটাই করতাম (শফিক সাহেব কিছুটা অনুশোচনাই বলল)

আপনাদের বিচারে যা শাস্তি আসছে দিয়েছেন তো এখন আর এসব মানবতার কথা আপনাকে বলতে হবে না (অনেকটা রেগে সফিক সাহেবের মুখের উপর বলে  আসছিলাম উপর দিকে রিদিতা শুধু  নিরব দর্শকদের মতো দেখেই যাচ্ছিলো 

এখন আর রিদিতার প্রতি ভালোবাসার বিন্দু পরিমান অনুভূতি নেই যা আছে সব ঘৃণায় পরিনত হয়েছে। কিন্তু আজ একটা বিষয়ে কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছি না। দোষ করলো দুর্জয় আর সেটার শাস্তি পেলাম আমি।এখন এসব এভেবেই বা কি হবে। দুর্জয় তো রিদিতাকে পাবার জন্য একটা গেম খেলছে আমি চাইলে দুর্জয়কে সবার সামনে তার ডেবিল চেহারাটা দেখাতে পারবো না। 

বেস সব ভাগ্য বলে মেনে নিয়ে বাড়ির গেইটে ঢুকতেই আমার রুম থেকে ভাংচুর করার শব্দ পেলাম বেস দুরুত্ব আমার রুমে গিয়ে লক্ষ্যে করতেই দেখলাম  তানিশা আমার ব্যবহাকৃত জিনিস গুলো ফ্লোরে ফেলে দিয়ে ভেঙে ফেলছে এবং সেটাতেই আগুন ও লাগিয়ে দিয়ে পুড়ছে 

তানিশাকে কিছু জিজ্ঞেস করতেই কাকা সামনে এসে যা বলল তা শুনে মাথা কেমন জানি মাথা চক্কর দিয়ে উঠলো...!

!

!

(চলবে)

পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!