Love story - নীলপদ্ম ৪র্থ পর্ব

নীলপদ্ম ৪র্থ পর্ব


Love story - নীলপদ্ম ৪র্থ পর্ব

Love story - নীলপদ্ম ৪র্থ পর্ব 


রাসেল বেরিয়ে দিশাকে হৃদয়ের রুমে যেতে বলে, দিশা হৃদয়ের রুমে যেতেই হৃদয় তাকে হ্যাচকা টানে নিজের সাথে মিশিয়ে ফেলে। অফিস রুমের দরজা আটকে তাকে দরজায় ঠেসে ধরে। দিশা সেখান থেকে সরে যেতে নিলে, হৃদয় তার হাত দিশার দু পাশে রেখে তাকে ওখানেই আটকে দেয়। দিশাকে হৃদয়ের এরুপ আচরণ যেনো একরকম অস্বস্তিতে ফেলে দিচ্ছে। তার গলা শুকিয়ে যাচ্ছে, অনেক সাহস সঞ্চয় করে বলে,

- স্যার, এমন আচারণের কি মানে? যেতে দিন আমাকে!

- সেদিন আমাকে একা ফেলে কেনো চলে গিয়েছিলে? তুমি তো কথা দিয়েছিলে যে আমি চোখ খুলতেই তোমাকে দেখতে পাবো তাহলে? আমার ভালোবাসার এই মূল্য দিলে তুমি? জানো কতোটা পাগলে মতো হন্যে হয়ে তোমাকে খুজেছি। না তুমি জানো না জানবে কিভাবে? আসলে ভালো তো শুধু আমি বেসেছিলাম। আজ আমার সকল প্রশ্নের উত্তর চাই প্রেয়সী। 

- আপ...আপনি কি বলছেন আমি কিছুই বু..বুঝছি না।

- এখনো নিজেকে আমার থেকে আড়াল করবে প্রেয়সী? তোমার বাবার নাম মো.আলতাফ হোসেন। তুমি তোমার পড়াশুনা ক্যালিফোর্নিয়াতে শেষ করেছো। তুমি দু বছর পূর্বে দেশে ফিরো এবং স্বপরিবার চিটাগং শিফট করো। কোম্পানির এম.ডি তাওমাকে এখানে শিফট করে বিধায় তুমি ছ মাস আগে এখানে শিফট করেছো। তুমি জানো আমার প্রণ এ এলার্জি, আমি ঝাল খেতে পারি না। এসব কিছুর পর ও তুমি আমাকে বলবে তুমি আমার প্রেয়সী নও? তুমি জানতে না এই কোম্পানিটি আমি কিনেছি নয়তো কখনোই এই কোম্পানিতে তুমি জবে থাকতে না। তাই না?

হৃদয়ের কথাগুলো বলতে বলতে গলা ধরে আসছিলো। দিশার চোখ তখন হৃদয়ের চোখে স্থির। এই চোখে ভালোবাসার সাগর রয়েছে যা কেবল তার প্রেয়সীর প্রতি বিদ্যমান। দীর্ঘশ্বাস ফেলে ধীর কন্ঠে বলে,

- কিসের আড়াল? কে প্রেয়সী? কি বলছেন? মাথা ঠিক আছে? আমার বাবার নাম আলতাফ হোসেন তো কি দেশে একজন আলতাফ হোসেন ই আছে? আমি ক্যালিফোর্নিয়াতে ডিগ্রি কমপ্লিট করেছি তবে কি আমি একা মেয়ে যে কিনা ক্যালিফোর্নিয়াতে গিয়ে পড়াশুনা করে? আমি তো সেদিন বলেই ছিলাম আমারো প্রণে এলার্জি। এখনও কি আপনি এই পাগলামি কথা গুলোই বলবেন?

দিশার এমন কথায় একদৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকে হৃদয়। তার মন ভুল বলতে পারে না, প্রেয়সীর প্রতি তার অনুভূতি গুলো ভূল হতে পারে না। এক পর্যায়ে দিশাকে নিজের সাথে মিশিয়ে ফেলে হৃদয়। হৃদয়ের এরুপ কাজে দিশার হাত পা যেনো বরফ ঠান্ডা হয়ে যাবার জোগাড়। হৃদয়ের প্রতিটি স্পন্দন সে শুনতে পাচ্ছে। দিশা নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলে হৃদয় চাপা কন্ঠে বলে,

- তুমি এতোটা নিষ্ঠুর কেনো প্রেয়সী? আমার হৃদয়ের স্পন্দন কি তুমি শুনতে পাচ্ছো না নাকি বুঝতে চাইছো না? আমার প্রতিটি স্পন্দন বলে দিচ্ছ তুমি আমার প্রেয়সী। আমি ক্লান্ত, আমি সত্যি আর পারছি না। খুব খালি খালি লাগে পেয়সী। 

হৃদয়ের গলা কাপছে, তার কথাগুলো দলা পাকিয়ে যাচ্ছে। এতো দিনের ব্যাথিত হৃদয় যেনো আজ যেনো সব বলতে চাচ্ছে। আলতো হাতে দিশার মুখটি তুলে তার ঠোঁটের দিকে আগাতে থাকে হৃদয়। তাদের ঠোঁটের মাঝে এক ইঞ্চি ফারাক। দিশা অনেকক্ষণ চুপ করে একটা পর্যায়ে হৃদয়কে ধাক্কা মারে। হৃদয় তাল সামলাতে না পেরে সোফায় পরে যায়। কড়া কন্ঠে দিশা বলতে থাকে,

- কি পেয়েছেন টা কি? আমি বলছি তো আমি চিনি না আপনাকে। আপনি একটা পাগল মানুষ। আমি প্রেয়সী নই। - মরীচিকা চেনেন? মরুভূমিতে হাটতে হাটতে একটা সময় পথিকের ভ্রম হয়, চোখের ভ্রম। ঠিক তেমন আপনার মনেও ভ্রম হচ্ছে হৃদয় স্যার। আপনি মরীচিকার পেছনে ছুটে যাচ্ছেন। আর সেই মরীচিকাটি হচ্ছে আপনার প্রেয়সী। কে এই প্রেয়সী? আদৌ কি তার অস্তিত্ব আছে? আপনি তার আসল নামটি কি সেটাও জানেন না, আর চোখে দেখা সেটার কথা তো বাদ ই দিলাম। তাহলে কেনো এই প্রিয়তমাকে হন্যে হয়ে খুজছেন আপনি? বলি কি আজ বাদে কাল আপনার বিয়ে, জীবনের এই সময়টাতে অহেতুক একটা ছায়াকে ধরার  চেষ্টা ছেড়ে জীবনটাকে সাজানোর কথা ভাবুন।

দিশার কথাগুলো শুনে অবাক চোখে তাকিয়ে থাকে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে মাথা নিচু করে হৃদয় বলে,

- হ্যা, তোমার প্রতিটি কথা সত্যি। তবে দিশা, আমার চোখ তাকে না দেখলেও আমার অনুভুতি কখনোই ভুল হতে পারে না। হ্যা, আমি তাকে চোখে দেখি নি কিন্তু আমার রন্ধ রন্ধ তাকে অনুভব করেছে। তার গায়ের মিষ্টি গন্ধে আমার ভোর হতো, তার খিলখিল হাসি আমার অন্ধকার জীবনকে মুখোরিত করে রাখতো। তার কন্ঠস্বরের স্নিগ্ধতা আমার অন্ধকার জীবনের আলোর কিরণের মতো ছিলো। রাতের নিস্তব্ধতায় তার মাঝে আমি আমার পূর্ণতা পেতাম। আমার কালো অধ্যায়ের কালোকে গ্রাস করে, নবজীবনের আলোকে উন্মোচন করেছিলো সে। আমি তার নাম জানি না, আমি তার চেহারা দেখি নি কিন্তু আমার মন বলছে আমি তাকে ঠিক খুজে পাবো। সে যে আমার নীলপদ্ম, যে আমার বিবর্ণ জীবনের রং এর সূচনা করেছে। 

হৃদয়ের কথাগুলো শুনে স্তব্ধ হয়ে যায় দিশা। হৃদয়ের কষ্ট গুলো যেনো অনুভব করতে পারছে সে। হৃদয়ের চোখে প্রেয়সীর প্রতি ভালোবাসাটুকু সে অনুভব করতে পারছে। দাঁত দিয়ে ঠোট চেপে নিজের কান্নাটুকু থামালো দিশা। নিজেকে সামলে......

চলবে

Tags:- school love story,romantic love story,love story song lyrics,love story movies,love story film,love story (1970),love story taylor swift,love story book,my life story,life story writing,life story netflix,life story movie,life story episodes,life story documentary,life story episode 1,life story video

পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!