গল্পঃনির্দোষ লেখকঃরনি হাসান পর্বঃ২০

গল্পঃনির্দোষ

লেখকঃরনি হাসান
পর্বঃ২০

গল্পঃনির্দোষ 20
গল্পঃনির্দোষ 20




রিদিতা কি তাহলে কাকিমার কাছে সব বলে ফেলছে। এর জন্য হইত কাকিমা রেগে আছে। দরজায় দাড়িয়ে এসব ভাবতে কাকিমা রেগে বলল..
এখন তোর আসার সময় হলো..? বিয়েটা কি তোর ছিলো নাকি অন্য কারো সকালে যে কাউকে কিছু না বলে চলে গেলি আর কোথায় গিয়েছিস সেটা কি কাউকে বলে গেছিস। এখন দিনই প্রায় শেষ। বাড়ি ভরতি মেহমান "আমি একা তাদেরকে সামলাতে যে কতটা টাফ হয়ে দাঁড়িয়েছিলো সেটা আমি নিজেই বুঝতে পারছি (কাকিমা এসব বলতেই রিদিতা এসে কাকিমার উদ্দেশ্য বলল
মা থাক আর ওকে বকা দিয়েন না (রিদিতা)
দিন দিন তার জ্ঞান বুদ্ধি উন্নতি হবার থেকে অবনতি হচ্ছে বেশি। বউমা কে নিয়ে খেতে বস। মেয়েটা তোর জন্য সকাল থেকে না খাইয়ে আছে ( কাকিমা)
আমার জন্য সে না খাইয়ে থাকবে কেন..? (আমি)
কেন না খাইয়ে আছে সেটা বউমাকে জিজ্ঞেস কর (কাকিমা এই বলে তার রুমে চলে)
শুধু শুধু নিজেকে কষ্ট দিচ্ছো। না খাইয়ে থাকলে তাতে আমার কোনো যায় আসে না। আমার ক্ষুধা লাগলে সঠিক সময়ে খেয়ে নিবো।সুতরাং আমার জন্য না খাইয়ে থাকার কোনো মানেই হই না (এই বলে রুমে চলে আসলাম)
কিছুক্ষন পর রিদিতা আমার রুমে এসে বলল
আজ এমনটা না করলেও পারতে (রিদিতা)
নিশ্চুপ (আমি)
আব্বু আম্মু আসছিলো তোমার সঙ্গে দেখা করতে।তোমার ফোনে অনেকবার কল মেসেজ দিয়েছিলাম কিন্তু তার কোনো রেসপন্স পাইনি। এই দিকে আব্বু আম্মুকে একের পর এক মিথ্যা কথা বলেই যাচ্ছিলাম
যে তুমি খুব শীঘ্রই চলে আসবে কিন্তু তুমি তো আমার ফোনটা রিসিভ করেনি আসবে তো দুরের বিষয় (রিদিতা মন খারাপ করে )
তোমার বাবা মার সঙ্গে কথা বলার কোনো ইচ্ছায় আমার ছিলো না। এর জন্য ফোনটা ইচ্ছে করে ধরেনি এবার নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছো (আমি)
তুমি হইত ভুলে যাচ্ছো তারা আমার শুধু বাবা মা নাহ তোমার ও শশুড় শাশুড়ী। এড লিস্ট তাদেরকে কিছু বুঝতে দিয়ে ও না প্লিজ (রিদিতা)
নিশ্চুপ (আমি)
এভাবেই রিদিতার কথাই নিশ্চুপ থাকতাম। অনেক বারেই আমার কাছে আসার চেষ্টা করেছে।কিন্তু প্রতিনিয়ত তাকে দুরে সরিয়ে দিয়েছি। সারাদিন অফিসে থেকে বাড়িতে ফিরতাম অনেক রাত করে। সেটা অবশ্য নিজ ইচ্ছায় দেড়িতে ফিরতাম। কাকিমা তানিশা তারা ঘুমিয়ে পড়লেও রিদিতা ঠিক রাত জেগে অপেক্ষা করতো কখন বাড়িতে ফিরবো। এভাবেই কেটে গেলো ২ মাস। এখনো রিদিতাকে স্ত্রীর মর্যাদা দেইনি। একদিন রাতে অফিসের কাজ সেরে বাসায় ফিরছি হঠাৎ লিজান ফোন দিয়ে বলল
দোস্ত যেখানে থাকিস না কেন। আমাদের বাসায় চলে আই পার্টি আছে ..
কীসের পার্টি..? (আমি)
হারামী কিছুদিন আগে বললাম না আমার জন্মদিন এর উপলক্ষে আয়োজন করবো। এবং আমরা সব ফেন্ডরা এক হবো। এখন সবাই প্রায় চলে আসছে। শুধুমাত্র তুই আর সিয়াম এখানে উপস্থিত নেই (লিজান)
দোস্ত না গেলে হই না। আমি এইমাত্র অফিস থেকে বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা দিচ্ছি (আমি)
তুই না আসলে কেমনে কি হবে বল..? তাছাড়া সব ফেন্ডরা যখন আজ একত্র হতে পেরেছি। এরমধ্যে তুই যদি না থাকিস তাহলে সবাই তোকে মিস করবে দোস্ত। প্লিজ এক্টু সমস্যা হলেও চলে আই (লিজান)
আচ্ছা ঠিক আছে যাচ্ছি (আমি)
তারপর বাড়ি যাওয়া বাদ দিয়ে লিজানের ওখানেই চলে আসলাম। ইতিমধ্যে রিদিতা ৫ বার মিস কলের নোটিফিকেশন আসছে। ফোনের দিকে একবার তাকিয়ে পকেটে রেখে দিলাম। মাঝেমধ্যে রাত এক্টু বেশি হলেই রিদিতা ফোন কিংবা মেসেজে বলবে দেড়ি হচ্ছে কেন জলদি বাসায় এসো তার এসব মেসেজ প্রতিদিনই দেখতাম কিন্তু রেসপন্স দিতাম না। আজ ও রিদিতারকে এড়িয়ে গেলাম...
লিজানের বাসায় গিয়ে ভালোই আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠলাম। কলেজ লাইফের সব ফেন্ডরাই এখানে আছে। তারা আমাকে দেখা মাত্রই উরাধুরা মারতে শুরু করলো
আরে থাম থাম মারছিস কেন..? (আমি)
সালা বিয়ে করেছিস আমাদেরকে জানালি না কেন (রিপন "সজীব জুয়েল তারা একসাথে বলে উঠলো)
সরি দোস্ত ভুল হয়ে গেছে এবারের মতো মাপ করে দে (আমি)
আচ্ছা মাপ করে দিলাম। এখন বল রিদিতাকে নিয়ে হানিমুনে কোথায় গিয়েছিস (সব বন্ধুরা আগ্রহ নিয়ে বলে উঠলো)
(এইরে সেরেছে এদেরকে এখন কি বলবো। হানিমুন তো দুরের বিষয়। রিদিতাকে কখনো আমার কাছেই আসতেই দেই নাই। সবসময় দুরে দুরে রেখেছি। তাছাড়া ওর সঙ্গে কথাই ভালোভাবে বলি না আবার হানিমুন। এসব ভাবতেই বন্ধুরা বলল
দোস্ত কোথায় হারিয়ে গেলি বলছিস না কেন...?
এসব কথা পরে হবে। আগে লিজানের ডাউনলোড দিবস টা ভালোভাবে উৎযাপিত করি চল (তাদের কথা এড়িয়ে)
কিরে তোরা এখানে আমি অইদিকে একা চল কেক কাটার সময় হয়ে আসছে (লিজান এরমধ্যে এসে বলল)
যাক এবারের যাত্রায় বেচে গেলাম। তারপর কেক খাওয়ার পর্ব শেষ করে ভালো ইনজয় করলাম। কিন্তু তাদের সঙ্গে একটা জায়গায় তাল মিলাতে গিয়ে সমস্যায় পড়ে গেলাম..
তারা পার্টি শেষ করে ড্রিংক করবে।এইদিক আমি তো জীবনে ও গুলো ছুয়ে দেখেনি আজ তারা খেতে বলছে
দোস্ত সবাই ড্রিংক করছে তুই করছিস না কেন (জুয়েল মাতলামি করে)
না দোস্ত আমি এগুলো খেলে মাথার তার সব কেটে যাবে কাকে কি বলবো তার কোনো হিসাব নেই। দোস্ত তুই খাচ্ছিস খা। আমাকে এরমধ্যে নিস না (আমি)
আরে এত চাপ নিচ্ছিস কেন। একবার খেয়েই দেখ ( বোতলটা হাতে দিয়ে)
না দোস্ত সম্ভব না এ আমি খেতে পারবো না (আমি)
আরে বেডা একদিন খা। একদিন খেলে তেমন কিছু হবে না। তাছাড়া তোর মতো আমরাও নতুন কই আমরাও তো খাচ্ছি নে এবার খেয়ে ফেল ( জুর করে খাইয়ে দিয়ে)
জুয়েল তুই পাগল হয়ে গেছিস একে ড্রিংক করাছিস এ তো খেয়ে পাগলামি শুরু করে ফেলবে (লিজান এর মধ্যে এসে দেখেই বলল)
আরে একদিন ড্রিংক করলে কিছুই হবে না ।দোস্ত প্রথমবার ড্রিংক করে কেমন লাগছে (জুয়েল আমাকে উদ্দেশ্য করে)
হ্যা অনেক ভালো। (নেশার ঘোরে)
হ্যা এবার ঠিক আছে বোতলটা হাতে নিয়ে অল্প অল্প করে খেতে থাক। পুরোটা আবার খেয়ে ফেলিস না। আমি একটু মিউজিকের সাউন্ডটা বাড়িয়ে আসছি (এই বলে জুয়েল মিউজিকের সাউন্ড বাড়াতে গেলো। কিছুক্ষন পর এসে লক্ষ্য করলো
মাতাল অবস্থায় পড়ে আছে। এটা দেখে জুয়েল আর বুঝতে বাকি রইলো না। যে তার নেশা ধরেছে। লিজান তো রীতিমতো জুয়েলকে বলতে শুরু করে ফেলছে
আগেই বলছিলাম একে এসব খাওয়াস না দেখলি তো এখন কি অবস্থা হলো। নে এবার সামলা (লিজান)
আরে কিছুই হবে না। ডাক দে। না থাক আমিই ডাকছি (জুয়েল)
রনি ভাই তুই আছিস নাকি চান্দে গিয়েস (ফাজলামো করে বলল জুয়েল)
ধুর ইয়ারকি বাদ দে আর ওকে বাসায় পৌছানোর ব্যবস্থা কর (লিজান)
তারপর লিজান আর জুয়েলের সাহায্যে দরজা পযন্ত তারা এগিয়ে দিয়ে বলল
দোস্ত এবার তাহলে আমরা আসি (জুয়েল)
okay my friend gd night (মাতলামি করে)
ভাই যাই করিস নাহ কেন বাড়ির ভিতরে গিয়ে কোনো উল্টো পাল্টা কাজ করিস না। নিজেকে এক্টু কন্ট্রোল করে নিস কেমন (লিজান)
আমাকে জ্ঞান দেওয়ার তোকে কে সাহস দিয়েছে। তুই জানিস কে আমি (নেশার ঘোর)
কে ভাই তুই (লিজান)
আমি চাইলে তোদের দুইজন কে গ্রেফতার করে জেলে চালান করে দিতে পারি (আমি)
যা ভেবেছিলাম তাই হয়েছে। জুয়েল তারাতাড়ি এখান থেকে কেটে পড় এ কিন্তু নেশার ঘোরে আবুল তাবুল বকছে। আল্লাহই ভালো জানে বাড়ির ভিতরে গিয়ে কি কান্ড শুরু করবে (লিজান জুয়েল তারা এই বলে দুরুত্ব চলে গেলো)
এই দিকে আমি মাতাল অবস্থায় কলিং বেল বাজিয়ে যাচ্ছি ব্যস কিছুক্ষনের মধ্যে রিদিতা দরজা খুলে দিয়ে বললো
এই তোমার আসার সময় হলো। কখন থেকে তোমার অপেক্ষা বসে আছি তা কি একবারেও আমার কথা ভেবেছো (রিদিতা দরজা খুলেই এসব বলতে লাগলো)
সামনে থেকে সরে যা। আমার অনেক ঘুম পেয়েছে আমি ঘুমাবো (এই ভিতরে প্রবেশ করতেই ঠাস করে ফ্লোরে পড়ে গেলাম।
রিদিতা বুঝতে আর বাকি রইলো না যে তার স্বামী আজ ড্রিংক করেছে। যার জন্য আজ তাকে তুমি থেকে তুই করে বলছে ব্যস রিদিতা নিজেকে সামলে নিয়ে বলল
এই তুমি কি ড্রিংক করেছো (রিদিতা)
বেশি না এক্টু খেয়েছি কাজটা কি করেনি বলো (হেসে)
না ভালো করেনি কে তোমাকে এসব ছাইপাঁশ খাইয়েছে (রিদিতা)
তোকে কেন বলতে যাবো। হ্যা সে আমার অনেক ভালো বন্ধু। এখন সামনে থেকে সরে যা (এই বলে রুমে দিকে যাবো এমন সময় সিড়ি যেনো চারটা দেখছি এগুতে পারছি না.. রিদিতা আমার অবস্থা বুঝতে পেরে বলল
দাড়াও আমি তোমাকে রুমে নিয়ে যাচ্ছি (রিদিতা)
তোর কোনো সাহায্য আমার লাগবে না আমি একাই যেতে পারবো (এবলে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠবো হঠাৎ নিজের কন্ট্রোল হারিয়ে নিচে পড়তেই রিদিতা আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল
আমি না ধরলে তো নিচে পড়ে গিয়ে মাথাটা আগে ফেটে যেতো (রিদিতা)
তারপর রিদিতা নিজেই তার হাত কাধে নিয়ে রুমে এগিয়ে বিছানায় রেখে চলে আসতে যাবে আচমকাই তার হাত ধরে ফেললো। হঠাৎ রিদিতার ধরাতে। রিদিতা একটু ঘাবড়ে গেলো যে মানুষটা তার সঙ্গে কথাই বলতে ইচ্ছুক না সে মানুষ আবার তার ধরল সেটা রিদিতাকে এক্টু হতাশায় ফেললো।রিদিতা নিজেকে সামলে নিয়ে বলল
কি হলো আমার হাত ধরলে কেন (রিদিতা হাত ছাড়ানোর বৃথা চেষ্টা করে)
আজ রাত তুমি আমার সঙ্গেই থাকবে (নেশার ঘুরে)
রিদিতা এ কথা শুনে নিজের কানকে কেন জানি বিশ্বাসী করতে পারছে না। যে মানুষ বিয়ে করার পরও তার স্ত্রীকে অন্য রুমে থাকতে দিয়েছে সে কিনা আজ এসব বলছে না এখানে থাকা যাবে না। ও এসব নেশার ঘোরে বলছে। (রিদিতা এসব ভেবে বলল
আমি খুব ভালো করেই বুঝতে পারছি তুমি এসব নেশার ঘোরেই বলছো। প্লিজ আমার হাতটা ছাড়ো এবার (রিদিতা হাত ছাড়ানোর বৃথা চেষ্টা করে)
আমি নই তোমাকে ভালোবাসি না। তুমি তো আমাকে ভালোবাসো তাহলে আমার কাছ থেকে দুরে কেন থাকছো (এই বলে রনি নেশার ঘোরে রিদিতাকে বুকে টেনে নিলো
এইদিকে রিদিতা তার স্বামীর মাতাল অবস্থা দেখে তার মনে মধ্যে অজানা ভয় কাজ করছে ব্যস কান্নায় করে বলে উঠলো
আমাকে যেতে দাও প্লিজ (রিদিতা)
নাহ যেতে দিবো না আজ তোমাকে অনেক ভালোবাসবো। (এই বলে রিদিতার গলায় নাক ডুবিয়ে দিলো। রিদিতা তার স্বামী কাছ থেকে নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলেও তার স্বামীর বাহুডোর থেকে রক্ষা হলো না। তার স্বামী আহবানে অইচ্ছায় রেসপন্স দিতে হলো। ব্যস কিছুক্ষন পর তার স্বামীর চাহিদা নিরাবরণ করেই রিদিতার বুকের উপর ঘুমিয়ে পড়ল)
আজ তার স্বামী এরকম পশুর আচরণ দেখে রাগে ঘৃণায় কান্না করতে লাগলো। এবং তার স্বামীর প্রতি যে ভালোবাসাটা ছিলো সেটা নিমিষেই ঘৃণায় পরিনত হয়ে গেলো।
!
!
(চলবে)
(ভুল ত্রুটি হলে সুন্দর ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ সবাইকে)
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!