গল্পঃনির্দোষ লেখকঃরনি হাসান পর্বঃ১৫

গল্পঃনির্দোষ

লেখকঃরনি হাসান
পর্বঃ১৫

গল্পঃনির্দোষ 15
গল্পঃনির্দোষ 15



আমার কথা শুনে কাকাই হঠাৎ বলে উঠলো
সম্ভব না.....!!!
কথাটা শুনে রীতিমতো অবাক হয়ে কাকাই বললাম
কাকাই সম্ভব না কেন (আমি)
এই ইট পাথরের শহরে আমরা থাকতে পাররো নারে। তুই তো জানিস আমাদের গ্রাম ছেড়ে আমরা কখনো আত্মীয় স্বজনদের বাসাতে গিয়ে ও দুই একদিন থাকার চেষ্টা করিনি তাহলে এখানে কেমনে থাকবো(কাকাই)
আচ্ছা এসব কথা পড়ে হবে। এখন তানিশার দিকে এক্টু তাকা তো (কাকিমা হেসে)
কথার বলার মাঝে তানিশার কথা যেন ভুলেই গেছিলাম। কাকিমার কথা মতো তাকাতেই লক্ষ্য করলাম তানিশার কোলে বাচ্চাটি কান্না করছে। তড়িঘড়ি করে কাকিমাকে বলে উঠলাম
কাকিমা তানিশার কুলে এটা কার বাচ্ছা (অনেকটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম)
তুই চলে যাওয়ার একবছর পর তানিশার ভালো একটা বিয়ের সম্মন্ধ আসছিলো। তোর কাকাই ও আর না করতে পারিনি। তারপর বিয়েটা ধুমধাম করেই হয়ে গেলো। সেদিন তোকে ফোনে হাজারবার কল করছি কিন্তু তোকে পায়নি। হতাশা হয়ে ফোনটা রেখে দিয়েছিলো সেদিন (কাকিমা মন খারাপ করে বলল )
সরি কাকিমা আমার ইগো যে তোমাদেরকে এইভাবে কষ্ট দিবে সেটা আমি ভাবিনি (আমি)
অনেক হয়েছে এবার তানিশার কাছে গিয়ে তার অভিমানটা ভাঙা। তুই চলে যাওয়ার পর তানিশাও অনেক কেদেছে (কাকিমা)
আচ্ছা ঠিক আছে তোমরা এখন ফ্রেশ হতে যাও আমি বরং পেত্নীটার রাগ ভাঙায় (আমি)
তুই পারিসও বটে। ( কাকাই কাকিম হেসে ফ্রেশ হতে চলে গেলো আর এইদিকে
কিরে পেত্নী বিয়ে করে ফেলছিস তাহলে (তানিশার সামনে গিয়ে বললাম)
হ্যা তো (তানিশা রেগে)
আমার উপর রাগ করে আছিস মনে হই (আমি)
এখন কেন কথা বলছিস। আমাকে তো ভুলেই গেছিস ভুলেই থাক কথা বলতে হবে না আমার সঙ্গে (তানিশা কিছুটা রাগ করে)
সরি রে আমার চলে আসাতে যে তোদের উপর এর প্রভাব এতোটা পড়বে সেটা আমি ভাবিনি তাছাড়া তুই তো জানিস আমার আবার ইগো এক্টু বেশি..! সে থেকে মনোভাব নিয়ে ফেলছিলাম তোদের ওখানে আর যাবোই না (আমি)
অতীতে যা কিছু হয়েছে সেটা দুর্ঘটনা মনে করে ভুলে যা।এবং তোর লাইফটা গুছিয়ে দিতে পারবে এমন কাউকে ঘরে নিয়ে আই (তানিশা)
কথাটা মন্দ বলিসনি। কিন্তু আমার ভালো লাগার মতো কাউকে পাচ্ছি না (আমি)
কেন রিদিতার কথা কি ভুলে গেছিস তাকেই বউ করে ঘরে নে। আমার জানা মতে তুই ওকে অসম্ভব ভালোবাসিস (তানিশা)
হঠাৎ তানিশার মুখে রিদিতা নামটি আসবে তা কখনো আশা করেনি। এমনি রিদিতার কথা শুনলে পায়ের রক্ত মাথায় উঠে যায়। আর ও বলছে রিদিতাকে বউ করে ঘরে তুলতে। মেজাজটা নিমিষেই বিগড়ে গেলো তানিশার কথা শুনে। নিজের রাগটা নিজের মাঝেই চেপে রাখলাম।
আমার রাগান্বিত চেহারাটি দেখে তানিশা ভালো করে বুঝতে পারলো তার কথাটি বলা উচিত হইনি। কিছুক্ষন চুপ হয়ে থাকার পর তানিশা শান্ত গলায় বলল
দেখ আগে যা কিছু হয়েছে।সেটা তো রিদিতা জেনে বুঝে করেনি।তোদের মাঝে দুর্জয় যে মাষ্টার প্ল্যান করবে সেটা তো রিদিতা জানতো না।জানলে হইত তোদের ব্যাপারটা এমন হতো না (তানিশা)
এখন রিদিতার কথা না বললেই খুশি হবো। তাছাড়া রিদিতাকে নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র আগ্রহ কিংবা অনুভূতি নেই। যেদিন গ্রাম থেকে ঢাকায় আসছি সেদিনই আমার মন থেকে রিদিতার নামটা একদম মুছে ফেলছি। এখন চাইলেও সেটা সম্ভব না আশা করি আমার ব্যাপারটা তুই বুঝতে পেরেছিস (আমি)
রিদিতার কাছে সত্যটা যখন প্রকাশিত হয়েছে। তখন থেকেই তোকে ভালোবাসতে শুরু করেছে। ও তোকে আগে থেকেই পছন্দ করতো কিন্তু তোর প্রোপজাল পাবার পরও রাজি হইনি। তোকে পরীক্ষা করে দেখছিলো কতটুকু ভালোবেসেছিস। কিন্তু তোদের ভাগ্যক্রমে রিলেশনটা তার আগেই ভেঙে চুরমার হয়ে গেলো (তানিশা)
এখন এসব বলে কোনো লাভ নেই। আমি রিদিতাকে সম্পুর্নভাবে ভুলে গেছি। তার জন্য কোনো অনুভূতি জীবীত রাখিনি। সব গুলোকে মেরে ফেলছি। নেক্সট টাইম রিদিতার নামটা না উচ্চারণ করলেই খুশি হবো (আমি)
আচ্ছা ঠিক আছে আর বলবো না। কিন্তু তোর ভাগ্নেকে এই প্রথম দেখলি ওকে কিছু গিফট করবি না (তানিশার কুলে বাচ্চাটা দেখিয়ে)
এই সেরেছে ভাগ্নের কথা তো আমি ভুলেই গেছিলাম। চল আজ ভাগ্নের জন্য দোকানটাই নিয়ে আসবো। আমার একটামাত্র ভাগ্নে তার জন্য অল্প খেলনা দিয়ে কিছুই হবে না। খেলনার পুরো দোকান টাই তার লাগবে " কি মামা লাগবে তো (বাচ্ছাটির কপালে চুমু একে)
আজকের দিনটাতে অনেক ভালো লাগা কাজ করছে। কেন না এত বছর পর কাকাই কাকিমা তানিশা। এর মধ্যে তানিশার বিয়ে ও হয়েছে সেটা আমি জানতাম না। কিন্তু আজ তানিশা তার ছেলেকে নিয়ে আমার সামনে আসছে।আল্লাহ রহমতে ইতিমধ্যে মামাও হয়েছি এর চেয়ে কি আর খুশির বিষয় হতে পারে। একটা সময় তানিশার উপর ও রাগ হতো। কিন্তু আজ ভাগ্নেকে সাথে দেখে সেটা নিমিষেই গুলিয়ে ফেলছি। যাই হক এখন আর তাদের উপর রাগ অভিমান কোনো কিছুই নেই।উল্টো তারা আমার উপর রেগে আছে। সেটা আমি সহজেই কন্ট্রোল করে ফেলছি। এখন বলতে পারেন আমার সম্পুর্ন একটা পরিবার সংগঠন হয়েছে।কিছুদিন আগেও নিজেকে একাকিত্ব হিসেবে নিধারিত করছি।কিন্তু এখন আর আমি একা নেই। আমার পাশে কাকাই কাকিমা তানিশা ও তার ছেলে নিলয় বয়স মাত্র দুবছর হবে হইত। সবদিক ভালোই চলছে। কাকাই এর মতো গ্রামে চলে আসলাম।
কিন্তু রিদিতা আমাকে পাবার জন্য এক্টু বেশিই পাগলামি করছে। গ্রামে অনেক পর দিন আসায়। বন্ধুদের ভালোবাসা এক্টু বেড়েই চলছে। তো কলেজে ফেন্ডদের সঙ্গে আড্ডা শেষে চলে আসতে যাবো। মাঝ রাস্তায় রিদিতাকে দেখবো তা কখনো আশা করেনি। তো আমি আমার মতো বাইক চলাচ্ছি। হঠাৎ রিদিতা আমার বাইকের সামনে এসে হাত বাড়িয়ে দাড়ালো এক্সিডেন্ট হবার অবস্থা বাইক দুরুত্ব ব্র্যাক করে ফেললাম এবং রেগে গিয়ে বললাম
এই তোমার কি সমস্যা এক্টু জন্য তো আজ বেচে গেলে। ভাগ্য ভালো বাইকে ব্র্যাক সিস্টেমটা ভালো ছিলো নইত আজই ওপারে চলে যেতে (রিদিতাকে উদ্দেশ্য করে)
আমি তো মরতে চাই (রিদিতা)
মরলে অন্য কোথাও গিয়ে মরো আমার বাইকের সামনে কেন পড়তে গিয়েছিলে (আমি)
ভালোবাসার মানুষ কাছে মৃত্যু বরন করার এই সৌভাগ্য সবার হই না।তাই তো তোমার বাইকের সামনে দাড়ালাম বাচালে কেন মেরে ফেলতে আমাকে (রিদিতা)
তোমার মাথার তার সব কেটে গেছে। ভালো একটা ডাক্তার দেখাও (আমি)
ডাক্তারে কাজ হবে না। তুমি আমার পাশে থাকলেই হবে (রিদিতা)
সামনে থেকে সরে যাও প্লিজ আমার মন মেজাজ কিন্তু বিগড়ে যাচ্ছে এসব কথা শুনে (রেগে)
এত রাগ দেখচ্ছো কেন। আমি তো তোমাকে দেখার জন্যই রাস্তায় দাড়িয়ে ছিলাম (রিদিতা)
এসব করার মানে কি (আমি)
এসবের মানে একটাই আমি তোমাকে অনেক বেশিই ভালোবেসে ফেলছি কিন্তু তুমি আমাকে মেনে নিচ্ছো না কেন বলতো (রিদিতা)
কি আমাকে ভালোবেসে ফেলছো( কথাটা শুনামাত্রই পাগলের মতো হেসে উঠলাম... আমার এরকম হাসি দেখে রিদিতা অবাক হয়ে বলল
আমি তো হাসার মতো কোনো কথা বলেনি। তাহলে হাসছো কেন (রিদিতা)
রিদিতা.."আজ থেকে ৫ বছর আগে তুমি আমার নামে ইভটিজিং এর নালিশ করেছিলে এবং গ্রামবাসীর বিচারসভায় আমাকে সবার সামনে অপমান অপদস্ত করেছিলে। এমন কি আমাকে জাবেদ কাকার হাতে মারেও খাওয়াই ছিলা মনে আছে সে কথা..? (আমি)
নিশ্চুপ (রিদিতা)
তুমি হইত সেদিনের কথা ভুলতে পারো। কিন্তু আমি ভুলেনি। তোমার মনে যদি আমার জন্য একটু ভালোবাসা কিংবা ভালো লাগা থাকতো তাহলে কখনো জাবেদ কাকার হাতে বিচারসভায় আমাকে মার খাওয়াই তা না।
নিশ্চুপ (রিদিতা)
আমাকে যখন সবার সামনে আঘাত করছিলো তখন তুমি কি একবারের জন্য বলছিলা যে হবার তা হয়েছেই আপনি ওকে মারা বাদ দিন... সেদিন তো একথাও বলেনি আর আজ বলছো আমাকে ভালোবাসো। ভালোবাসা কখনো অন্যায় করার পর কিংবা অনুশোচনা থেকে ভালোবাসা জন্ম নেই না। নেক্সট টাইম আমার সামনে এই ভালোবাসার কোনো কথা বলবা না। একটা সময় হইত তোমাকে অনেক ভালোবাসতাম বর্তমানে তা আর নেই। এখন তোমার মাথা থেকে এসব চিন্তা ঝেড়ে ফেলে দাও। অন্য কোনো ছেলের পিছনে সময় দাও সে তোমার রুপ দেখে নিমিষেই পটে যাবে (আমি)
এসব বলে আমাকে আর কষ্ট দিয়েও না প্লিজ । ৫টা বছর আমি অনুতপ্তের আগুনে জ্বলে পুড়ে ছাই হয়েছি।এখন এসব কথা শুনে নিজেকে কেন জানি শেষ করে দিতে মন চাচ্ছে (রিদিতা কান্না করে)
তোমার এই লোক দেখানো কান্নাটা এবার বন্ধ করো ।বুঝতে পারছি না তুমি কেন আমার পিছনে লেগে আছো। তুমি চাইলে শত শত ছেলে তোমার পিছনে লাইন পড়ে যাবে। আমাকে কেন বিরক্ত করছো (অনেকটা বিরক্ত হয়ে)
তোমার মনে আমাকে একবার জায়গা দিয়ে দেখো প্লিজ (রিদিতা কান্না করেই)
সম্ভব না। এখন আমার সামনে থেকে সরে যাও নইত (রেগে)
না সরবো না (এই বলে রিদিতা বাইকের সামনে দাড়ালো)
এখন কিন্তু সত্যিই আমার মন মেজাজ খারাপ হচ্ছে সরে যাও বলছি (চোখ রাঙিয়ে)
না সরবো না (রিদিতা জিদ ধরে)
সরবে না (অনেকটা রেগে)
নাহ..... (বলতেই রিদিতা গালে ঠাসস করে থাপ্পড় মেরে দিলাম। রিদিতা থাপ্পড় খেয়ে অসহায়দের মতো আমার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে বাইক স্টার্ট দিয়ে সেখান থেকে চলে আসলাম...?
!
!
(চলবে)
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!