গল্পঃনির্দোষ লেখকঃরনি হাসান পর্বঃ১৪

গল্পঃনির্দোষ

লেখকঃরনি হাসান
পর্বঃ১৪

গল্পঃনির্দোষ   লেখকঃরনি হাসান  পর্বঃ১৪
গল্পঃনির্দোষ  



মিথিলার কথাটা আংকেল শুনা মাত্রই তার সঙ্গে রিদিতার বাবা মাও আমার দিকে তাকাতেই তাদের চোখ আর আমার চোখ এক হয়ে গেলো। তারপর কোনো কথা না বলে চলে আসতে যাবো তার আগেই রিদিতা বাবা আমার পথ আটকিয়ে বলল
বাবা তুমি এতোদিন এখানে থেকেছো অথচ আমরা কিছুই জানি না (রিদিতার বাবা)
বাবা আমাদের ভুল আমরা অনেক আগেই বুঝতে পারছি কিন্তু আফসোস তোমার কাছে গিয়ে যখন ক্ষমা চাইবো ঠিক তখনই আমাদেরকে চলে আসছিলা। বাবা তুমি আমাদের মাপ করে দাও প্লিজ। আমরা সত্যি অনেক অনুতপ্ত আর লজ্জিত (রিদিতার মা)
নিশ্চুপ (আমি)
দেখো বাবা আমি তোমার রাগটা বুঝতে পারছি।কিন্তু আমি তখন কি করতাম বলো। আমার জায়গা যে কেউ হলে তারা একই কাজ করতো যা আমি করেছি। এখন অতীতের সব কিছু ভুলে তুমি আমাদেরকে ক্ষমা করে দাও প্লিজ। (রিদিতার বাবা অনুরোধের সুরে বলল)
আপনাদের কথা বলা শেষ এখন আমি আসি (এই বলে বাসার বাহিরে চলে আসছি পিছন দিক থেকে রিদিতা দৌড়ে আমার সামনে দাড়িয়ে অশ্রু ভেজা চোখে বলল
এতদিন এখানে ছিলে অথচ আমি যে দুর থেকে কতগুলো মেসেজ কল দিয়েছি সেগুলো কি একবারে ও দেখার চেষ্টা করোনি। ভুল তো হতে পারে এবলে সবাইকে ছেড়ে চলে আসতে হবে (রিদিতা আমাকে জড়িয়ে এক না গাড়ে বলে কথাগুলো বলে উঠলো তার কথার কর্নপাত না করেই রেগে বললাম
আমাকে স্পর্শ করার সাহস তোমাকে কে দিয়েছে (রেগে)
রিদিতা আমার রাগী চেহারাটা দেখামাত্রই ভয়ে কিছুদুর সরে গিয়ে মাথাটা নিমিষেই নিচু করে ফেলল..
একটা কথা ভালোভাবে শুনে রাখো। তুমি আর তোমার বাবা ভুলেও আমার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করতে আসবে না। ঘৃণা নামক শব্দে তোমার আর তোমার বাবার নামটা খুব ভালোই করেই লেখা আছে। সেটা চাইলেও মুছে ফেলা সম্ভব না। (আমি)
ভুল তো মানুষের মাঝেই... (রিদিতা একথা বলতেই তার কথা থামিয়ে বললাম
চুপ আরেক্টা কথাও আমি শুনতে চাই না। (এ বলে আংকেলদের বাসা থেকে বের হয়ে আসলাম।
উপরদিকে
বাবা ওর রাগ কি ভাঙ্গানোর সম্ভব না..? (রিদিতা কান্না করে)
মারে তুই কান্না করিস না। আমি রনির কাছে যেভাবেই হক ক্ষমা চেয়ে তোর ভালোবাসাকে একত্রে করে দিবো। তার আগে রনির কাকাই কাকিমাকে বিষয়টা বলতে হবে (রিদিতার বাবা)
বাবা আমি এতকিছু জানি না।যেভাবেই হক ওর রাগ ভাঙাতেই হবে (রিদিতা)
রিদিতার আজ যেন বিশ্বাসী হচ্ছে না। এ কোন রনিকে দেখছে। যে রনি রিদিতাকে দেখার জন্য পাগলের মতো পিছু পিছু তার বাড়ি অব্দি গিয়েছে। আজ তার চোখেই রিদিতা ঘৃণা ছাপ স্পষ্ট দেখতে পেরেছে। এই ঘৃণা সহজেই কি মুছে ফেলতে পারবে। তাকে পারতেই হবে এত সহজে তাকে হারাতে রাজি না রিদিতা। বিছানায় সুয়ে কান্না করছে আর এসব ভাবছে হঠাৎ কাধে কারো স্পর্শ পেয়ে রিদিতা পিছনে ফিরে লক্ষ্য করলো তার মা ছলছল চোখে তার দিকে তাকিয়ে আছে..
মা তুমি এখানে (রিদিতা চোখের পানি মুছে)
কান্না করছিস (রিদিতার মা)
কই না তো (রিদিতা চোখটা আরও ভালোভাবে মুছে)
মারে সন্তানের মিথ্যা কথা যে মায়েরা খুব সহজেই ধরে ফেলে। আর এখন তুই কান্না করার পরও আমাকে মিথ্যা বলছিস সেটা আমি সিউর (রিদিতা মা)
একটা কথা কি জানো মা...? যার চোখে আমার জন্য ভালোবাসায় ভরপুর ছিলো। সে চোখে আজ আমি ঘৃণা স্পষ্ট দেখেছি।জানো মা ও আমার পিছনে দুইটা বছর ঘুরেছে। আমিও ওকে এমনি ঘুড়িয়েছি। তার প্রোপজাল গ্রহন করেনি। যখন ওকে ভালো লাগতে শুরু করলো। ঠিক তখন দুর্জয় এসে আমাদের মাঝে দেয়াল সৃষ্টি করে দিলো। মা তুমিই বলো আমি কি জেনে বুঝে এসব করেছি (রিদিতা কান্না করে)
নারে মা তুই এসব জেনে শুনে করিসনি। ঠিকই কিন্তু গ্রামবাসীর সামনে রনিকে অপমান অপদস্ত করা হয়েছে সে কথা রনি এখনো ভুলনি। (রিদিতার মা)
মা আমি যে ওকে ভিষণ ভালোবেসে ফেলছি সেটার কি হবে (রিদিতা কান্না করে)
তা বলতে পারবো না। কিন্তু তার মনে জায়গায় নিতে হলে আমাদেরকে যে ভাবেই হক তার কাছ থেকে ক্ষমা নিতেই হবে। (রিদিতার মা)
মা আমি ওকে না পেলে একটা কিছু করে ফেলবো (রিদিতা কান্না করে)
কি এসব অলক্ষুণে কথাবার্তা বলছিস। তোর যদি কিছু হয়ে যায়। আমরা কাকে ঘিরে বেচে থাকবো বলতো..? (রিদিতার মা)
তাহলে যে ভাবেই হক ওকে আমার কাছে এনে দাও মা ( রিদিতা পাগলের মতো বলে উঠলো)
ধুর পাগলি মেয়ে..! মায়ের সামনে কি এসব কথা বলতে আছে (,রিদিতা মা এক গাল হেসে)
মা তুমি হাসছো (রিদিতা কিছুটা রেগে)
না থাক আর হাসবো না (রিদিতার মা হাসি চেপে)
তারমানে তুমি আমার কথা সিরিয়াসলি নাওনি তাই তো (রিদিতা জিজ্ঞাসা দৃষ্টিতে)
আমার মেয়ে যেহেতু বলছে তো। জামাই বানালে রনিকেই বানাবো। এবার খুশিতো (রিদিতা মা হেসে)
মা সত্যিই বলছো (রিদিতা অনেকটা খুশি হয়ে)
হ্যারে মা সত্যিই বলছি তার আগে তোর আব্বুকে আর তোর মামুকে বলতে হবে (রিদিতার মা)
আমার বেস্ট মা (রিদিতা তার মাকে জড়িয়ে ধরে বলে উঠলো)
উপরদিকে
যাদের দেখলে মাথায় রক্ত উঠে যায়। তাদের সঙ্গে যে এইভাবে দেখা হয়ে যাবে সেটা দুর্স্বপ্নেও কল্পনা করেনি। কিন্তু রিদিতা আমাকে জড়িয়ে ধরলো কেন। ও নিশ্চয়ই আমাকে ভালোবেসে ফেলছে। কথায় আছে নাহ দুরুত্বই ভালোবাসা বাড়ে সে জো হয়েছে রিদিতার..! আগে তো তার পিছনে লেগেই থাকতাম তখন তো আমাকে ভালোবাসেনি। আজ তার ভুলে বুঝে অন্যায় করেছে এবং সে অনুশোচনা থেকে হইত আমার জন্য ভালোবাসা জন্মেছে। যাই হক তাকে নিয়ে ভাবার মতো সময় আমার কাছে নেই। গ্রামবাসীর সামনে আমাকে যে অপমান অপদস্ত করেছে সেটা তো আমি কখনো ভুলবোই না। আর ক্ষমা সেটা তো প্রশ্নই আসে না...
তবে একটা বিষয়ে মাথা কাজ করছে না। আংকেলের সঙ্গে রিদিতাদের কি সম্পর্ক হতে পারে সেটা তো বুঝতে পারছি না। এসব ভেবে আমার কোনো কাজ নেই। যেটা খুশি তা হক। আমার কি... বাসায় এসে আনমনে ভাবছি এরমধ্যে পাশা রাখা ফোন্টা ক্রিংক্রিং করে বেজে উঠলো। ফোনটা হাতে নিয়ে স্কিনে লক্ষ্য করতেই আরহী নামটা ভেসে উঠলো দেরি না করে রিসিভ করে বললাম
হ্যা বল (উচ্চো সুরে)
কি ব্যাপার রেগে আছিস মনে হই (আরহী)
আজ আমার মন মেজাজ দুই খারাপ (আমি)
বিষয়টি কি জানতে পারি (আরহী)
তোকে এক্টু পর বলছি এখন ফোনটা রাখ (আমি)
আচ্ছা ঠিক আছে পড়ে কথা বলবো নে রাখি তাহলে (আরহী এই বলে লাইন কেটে দিলো)
তারপরের দিন
সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে অফিসে যাবো এমন দরজায় কে জানি অবিরাম কলিং বেল বাজিয়ে যাচ্ছে ব্যস রেগেমেগে দরজায় কাছে গিয়ে বললাম কে (আমি)
ওপাশ থেকে রেসপন্স না পাওয়াই দরজা খুলে সামনে তাকাতেই আমার চোখ যেনো কপালে উঠে গেলো কাকাই কাকিমা তানিশার কুলে একটা আবার ছোট বাচ্ছা তাদের দেখে আমি যেন বাকরুদ্ধ হারিয়ে ফেললাম এরকম অবস্থা..! ব্যস নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম
কাকাই কাকিমা তোমরা কেমন আছো (একথা বলতে দেরি কাকিমা আমাকে থাপ্পড় মারতে দেরি হলো না। থাপ্পড়ে ভ্যাবাচেকা খেয়ে কাকিমাকে বললাম
কাকিমা আমাকে মারতে পারলে (আমি)
তুই এত পাষাণ কীভাবে হতে পেরেছিস বলতো। অইদিকে আমি দিনরাত কান্নাকাটি করে মরে যাচ্ছি আর তুই এদেখে আমাদের কথা ভুলেই গেছিস কখনো ফোনটা ও দিতি না। তোর কেনো এত জিদ বলতো (কাকিমা এই বলে কান্না করে দিলো)
নিশ্চুপ (আমি)
বাবা তোকে আমার ছেলের মতোই লালন পালন করেছি। কখনো কোনো কিছু অভাব তোকে বুঝতে দেইনি।তানিশাকে যা দিয়েছি তার থেকে তোর তোকে এক্টু সবকিছুতেই বেশি দিবার চেষ্টা করেছি। তুই কিনা আমাদেরকে এভাবে ভুলে গেছিস। কখনো তো আমাকে ফোন করে ও বলিসনি কাকাই তুমি কেমন আছো। কি বলেছিস কখনো তা কেন করবি তুই তো আমাদেরকে আপনই ভাবিস নাই। আজ যদি রিদিতার বাবা আমাকে ফোন করে না জানাতো তাহলে হইত তোকে খুজেই পেতাম না (কাকাই এক নাগাড়ে এসব বলল)
সরি কাকাই আমার ভুল হয়েছে (মাথা নিচু করে বললাম)
আসলে আমরা তোকে ভালোবাসলে কি হবে তুই তো আমাদেরকে ভালোবাসিস না আপনও ভাবছিস না (কাকাই কথাগুলো বলার মাঝে কাকিমা বলে উঠলো
হ্যা তুমিই ঠিকই বলছো ও যদি আমাদেরকে আপন ভাবতো তাহলে ঠিকই আমাদের কথা ভেবে বাড়ি গিয়ে না থাকলেও দেখা অন্তত করতো। তাছাড়া আমাদের কথা মনে রেখেই বা কি হবে এখন তো ওর ছোট নেই অনেক বড় হয়েছে গেছে। বাড়ি গাড়ি সব কিছুই তার হয়েছে এখন কাকাই কাকিমা না থাকলেই বা কি। চলো আমরা বরং গ্রামেই চলে যায়। (কাকিমা)
হ্যা সেটাই ভালো হবে চলো (কাকাই)
কাকাই কাকিমা তানিশা তারা চলে যেতে ধরলো তার আগেই দরজার সামনে গিয়ে বললাম
বলেই হলো আমার বাবা মাকে এত সহজেই ছেড়ে দিবো। ছেলে তো বাবা মার সঙ্গে রাগ অভিমান করবে এবলে তার ছেলের সঙ্গে যে বাবা মা অভিমান করবে এটা কিন্তু ঠিক না (আমি)
তুই অভিমান করে এতবছর আমাদেরকে ছেড়ে থাকতে পারলে। তো আমরা তোর সঙ্গে অভিমান করতে পারবো নাহহ (কাকিমা কান্না করে বলল)
হয়েছে আর কান্না করতে হবে না। এই দেখো আমি কান ধরছি আর কখনো তোমাদের উপর রাগ করে থাকবো না। এবার আমরা সবাই এই বাসাতে এক সঙ্গেই থাকবো (আমি)
আমার কথা শুনে কাকাই হঠাৎ বলে উঠলো
সম্ভব না.....!!!
কথাটা শুনে রীতিমতো অবাক হয়ে কাকাই দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি! আর ভাবছি কাকাই সম্ভব না কেন বলল
!
!
(চলবে)
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!