গল্পঃনির্দোষ লেখকঃরনি হাসান পর্বঃ১৬

গল্পঃনির্দোষ

লেখকঃরনি হাসান
পর্বঃ১৬
গল্পঃনির্দোষ 16
গল্পঃনির্দোষ 16




এইদিকে রিদিতাকে থাপ্পড় মেরে কেন জানি একটা খারাপ লাগা কাজ করছে। কাজটা কি ঠিক করলাম। যা করেছি একদম ঠিক করেছি...। ও একটু বেশি বিরক্ত করছিলো। আজকের যে থাপ্পড় মেরেছি আমার সামনে আর আসবে না (আনমনে এসব ভেবে যাচ্ছি হঠাৎ কাকিমা চিৎকার মেরে আমার নাম ধরে ডেকে উঠলো...কাকিমার চিৎকার শুনে দুরুত্ব নিচে নেমে কাকিমাকে বললাম
কাকিমা এভাবে আমাকে ডাকছো কেন (আমি)
বাবা একটা তো অঘটন ঘটে ঘটেছে (কাকিমা ভয়ে)
কি অঘটন ঘটে গেছে (আমি)
সফিকের মেয়ে রিদিতা কিছুক্ষন আগে বিষ খেয়ে ফেলছে (কাকিমা ভয়ে চুপসে গিয়ে)
কাকিমার কথা শুনা মাত্রই। পায়ের নিচে মাটি যেন সরে গেলো। রিদিতা এইভাবে নিজেকে শেষ করতে পারে না। যদি ওর কিছু হয়েই যায়। তাহলে নিজেকে কীভাবে ক্ষমা করবো। না না রিদিতা বিষ খেতে পারে না। কাকিমা হইত ভুল শুনেছে...
কাকিমা তুমি যেটা বলছো সেটা ভুল শুনেছো নিশ্চয়ই (কাপা কাপা সুরে বললাম)
কাকিমা আমার কথা শুনে এক্টু রেগে গিয়ে বলল
এই তোর কি মাথা ঠিক আছে। পুরো এলাকা বাসী কথাটি জানাজানি হয়েছে। আর তুই বলছিস আমি ভুল শুনছি। বিশ্বাস না হলে রিদিতার বাড়িতে গিয়ে খবর নিয়ে দেখ। তাহলেই বুঝতে পারবি ভুল না সঠিক(কাকিমা)
নিশ্চুপ (আমি)
সত্যিই যদি রিদিতার কিছু হয়ে যায়। তাহলে তার বাবা মা কেমনে বাচবে। যে কেন বিষ খেতে গেলো। আল্লাহ এবারের মতো মেয়েটাকে বাচিয়ে দাও (কাকিমা )
কাকিমা রিদিতা আমার জন্য বিষ খেয়ে ফেলছে। (মুখ ফুসছে কথাটি বলে ফেললাম)
কি রিদিতা তোর জন্য বিষ খেয়েছে..? এই ছেলে বিষ খাওয়ার মানেটা কি বুঝিস..? ও তোর জন্য কেন বিষ খেতে যাবে (কাকিমা)
শুনো তাহলে (ব্যস সকালের থাপ্পড় মারার ঘটনাটি বলে ফেললাম। কাকিমা আমার কথা শুনে মাথায় হাত রাখে বলল
একি বলছিস ..? এখন তো দেখছি এর সম্পুর্ন দোষ তোর হবে।রিদিতা যদি সুসাইট নোডে তোর নামটি উল্লেখ করে রাখে তাহলে তো হিতে বিপরীত হতে পারে (কাকিমা)
কাকিমার সঙ্গের এসব কথা বলতেই হঠাৎ সফিক সাহেব কান্না করে আমাদের বাসায় এসে বলল
বাবা তুমি আমার মেয়ের জীবনটাকে বাচাও প্লিজ (সফিক সাহেব কান্না করে)
আপনার মেয়ে জীবন আমি কেমনে বাচাবো (আমি)
তুমি জলদি আমার সঙ্গে হাসপাতালে চলো তাহলে বুঝতে পারবে (সফিক সাহেব)
হ্যা চলুন তাহলে (আমি)
তারপর রিদিতার বাবার সঙ্গে হাসপাতালে চলে আসলাম। রিদিতাকে যে রুমে রাখা হয়েছে সে রুমে যেতে কান্নাকাটি আওয়াজে রিদয়ে যেন রক্তক্ষরণ হতে লাগলো। মনে মনে হাজার বার আল্লাহর কাছে রিদিতার সুস্থতা কামনা করতে লাগলাম। এসব ভেবে দরজার সামনে গিয়ে দাড়াতেই ডাঃ আমাকে দেখে বলল
আপনার নাম কি রনি (ডাঃ)
হ্যা (আমি)
কি একটা মুশকিল বলেন তো রোগীতো আপনাকে ছাড়া কোনো ট্রিটমেন্টই করতে দিচ্ছে না! তার একটা কথা আপনাকে না দেখে সে কোনো ট্রিটমেন্ট নিবে না। দরকার পড়লে মরেই যাবে। তারপরও সে কোনো ট্রিটমেন্ট নিবে না। বলেন তো এ সময় কি তার এরকম জিদ মানাই..? (ডাঃ)
এরকম করলে তো ও মারায় যাবে। তা হতে দেওয়া যাবে না। ডাঃ আপনি চলুন রিদিতাকে আমি বুঝিয়ে বলছি (আমি)
হ্যা চলুন (ডাঃ)
তারপর কেবিনে গিয়ে লক্ষ্য করলাম। ডাঃ রিদিতাকে মেডিসিন দিতে চাচ্ছে। কিন্তু ডাঃ এর দেওয়া মেডিসিন গুলো বার বার হাত সরিয়ে দিচ্ছে রিদিতা। এ দৃশ্য দেখে দুরুত্ব রিদিতার হাত চেপে বললাম
রিদিতা প্লিজ এবার পাগলামিটা বন্ধ কর (করুন দৃষ্টিতে তাকিয়ে)
অহহ তুমি তাহলে আসছো এখন আমার বাচা মরা সব তোমার হাতে বলো তুমি কি আমাকে চাও নাকি আমার লাশ চাও কোনটা চাও বলো (রিদিতা)
কোনো কিছু না ভেবেই বললাম
আমি তোমাকেই চাই। তোমার লাশ নই (আমি)
রিদিতা আমার কথা শুনে শুকনো একটা হাসি দিয়ে ডাঃ কে বলল
ডাঃ এখন আপনাদের ট্রিটমেন্ট করতে পারেন (রিদিতা)
তারপর রিদিতাকে কেবিনে রেখে ডাঃ বাহিরে যেতে বলল। রিদিতা বাবা মা বাহিরে চলে আসলো তাদের সঙ্গে আমিও বের হলাম। এইদিকে রিদিতার বাবা মা অবিরাম কান্নাকাটি করেই চলছে। নিজের কাছে কেমন জানি অপরাধবোধ কাজ করছে। রিদিতা এমনিতে আমার জন্য পাগল ছিলো।আজ সকালে ওসব কথা ওকে না বললে হইত এমনটা হতো না। সবটাই হয়েছে আমার জন্য। এখন রিদিতার বাবা মার সামনে দাড়িয়ে কি বলবো সে ভাষা যেন হারিয়ে ফেলছি। নিজেকে বড্ড অপরাধী মনে হচ্ছে। কোনো কথা না বলে দাঁড়িয়ে আছি হঠাৎ রিদিতার মা আমার সামনে এসে বলতে লাগলো
বাবা আমার মেয়েটা তিলে তিলে যে শেষ হয়ে যাচ্ছে সেটা আমরা তার বাবা মা হয়ে কেমনে সহ্য করবো বলো তো (রিদিতার মা কান্না করে)
নিশ্চুপ (আমি)
বাবা তুমি হইত জানো না। আমার মেয়েটা রোজ রাতে তোমার জন্য কান্না করে। যদি কখনো তার রুমে হুট করে যেতাম তখন রিদিতার কান্না করার বিষয়টা খুব সহজেই ধরে ফেলতাম। তখন আমার মেয়েটাকে বুঝাতাম যা হবার তা তো হয়েছেই সেটা এখন দুর্ঘটনা মনে করে সব ভুলে যা। কিন্তু ও এসব কিছুই ভুলতে পারেনি। যখন তোমাকে আমার ভাতিজি মিথিলার বিয়েতে সহপরিবারে দেখলাম তখন একটা কথা এভেবে আনন্দিত হয়েছিলাম।
ভেবেছিলাম তোমার দেখা যখন মিলেই গেছে এখন আর আমার মেয়ে কোনো কিছু ভেবে কষ্ট পাবে না। কিন্তু ও যখন তোমার ইগোটা দেখলো তখন থেকেই তার পাগলামিটা বেরেই চলছে।আজ যে বিষ খেয়ে ফেলবে তা আমরা কখনো দুর্স্বপ্নও কল্পনা করেনি (রিদিতার মা চোখের জল মুছে)
নিশ্চুপ (আমি)
বাবা তুমি কি আমার মেয়েটা ভালোবাসতে পারবে না..? (রিদিতা মা জিজ্ঞেস করে বলল)
(রিদিতার মার কথা শুনে এই মুহূর্তে কি বলবো আমার ভাষা যেন একদম হারিয়েই ফেলছি এরকম অবস্থা। আমার নিশ্চুপ থাকা দেখে রিদিতার বাবা বলল
থাক না রিদিতার মা। বাদ দাও এসব কথা (রিদিতার বাবা মাঝখান থেকে বলে উঠলো)
তুমি চুপ করো। তোমার সঙ্গে আমার কোনো কথা নেই। আজ মেয়েটা বিষ খেয়েছে কাল যদি আমাদের অগোচরে কোনো ভাবে সুসাইট করার চেষ্টা করে তখন তাকে কীভাবে ফিরাবো (রিদিতার মার এরকম কথা শুনে সফিক সাহেব চুপ্ হয়ে গেলেন)
বাবা তুমি এখন বলো আমার মেয়েটাকে কি আপন করে নিতে পারবে না..? (রিদিতা মা জিজ্ঞাসার দৃষ্টিতে)
আন্টি আমি আসলে (বলতেই কাকিমা তানিশা এসে বলল
রিদিতার কি অবস্থা.?(কাকিমা)
ট্রিটমেন্ট চলছে এখনো।(রিদিতা মা)
ভাবি আপনাকে একটা অনুরোধ করবো রাখবেন (রিদিতার মা কাকিমাকে অনুরোধ করে বলল)
হ্যা নিশ্চয়ই রাখবো আপনি বলুন (কাকিমা)
ভাবি আপনি কি আমার মেয়েটাকে আপনার ছেলের বউ করে ঘরে নিয়ে যেতে পারবেন না। (রিদিতা মা কান্না করে বলল)
নিশ্চুপ (কাকিমা)
আমি আমার মেয়েটাকে অকালে হারাতে চাইনা। দেখুন আজ বিষ খেয়ে ফেলছে কাল যদি অন্য কোনোভাবে সুসাইট করে তাহলে আমরা ওকে কেমনে বাচাবো বলুন (রিদিতা মার কান্না যেন থামছেই না)
নিশ্চুপ (কাকিমা)
ভাবি প্লিজ আপনি চুপ করে থাকবেন না। আপনি একবার আমার মনের অবস্থাটা বুঝার চেষ্টা করুন। আপনি যদি একবার রনিকে বুঝিয়ে বলেন তো ও নিশ্চয়ই আপনার কথা রাখবে (রিদিতার মা কাকিমার হাত জড়িয়ে ধরে বলল)
আচ্ছা ঠিক আছে রিদিতাকেই আমার ঘরে বউ করে নিয়ে যাবো। তার আগে রিদিতা তো সুস্থ হক (কাকিমা)
ভাবি আপনাকে যে কি বলে ধন্যবাদ দিবো (রিদিতার মা চোখের পানি মুছে)
একি বলছেন ভাবি রিদিতা মামুনি তো দেখতে শুনতে আলহামদুলিল্লাহ ভালোই তাছাড়া রনি ও তো ওকে ভালোবাসতো। তাদের মাঝে একটা দুর্ঘটনায় সব শেষ হয়েছে।আমি বিষয়টি দেখছি আপনি টেনশন করিয়েন প্লিজ (কাকিমা)
আজ এমন একটা পরিস্থিতি আমাকে মোকাবেলা করতে হবে। তা দুর্স্বপ্নেও কখনো কল্পনা করেনি। কিন্তু সেটার মোকাবেলা আজ করতে হচ্ছে। রিদিতা যে আমাকে এতো টা ভালোবাসবে তা আগে কখনো বিশ্বাস করতাম না। ভাবতাম আমার চোখের সামনে যেসব করছে সেটা অভিনয় মাত্র। কিন্তু আজ যেটা করলো সেটা তো অভিনয় হতে পারে না। নিজের জীবন থেকে তো মুল্যবান অন্য কিছু হতে পারে না। রিদিতা আমার জন্য তো জীবন দিতেইও রাজী। অতীতে যা কিছু হয়েছে সেটা এখন ভেবে থাকা যাবে না। হিতে বিপরীত কিছু হতে পারে তার থেকে রিদিতাকে মেনে নেওয়াই উত্তম (এসব আনমনে ভেবে যাচ্ছি হঠাৎ কাধে কারো স্পর্শে পিছনে ফিরে লক্ষ্য করলাম কাকিমা..!
বাবা রিদিতাকে মেনে নে। মেয়েটা তোকে সত্যিই অনেক ভালোবাসে। তার বাবা মার দিকে একবার তাকিয়ে দেখ তারা আজ খুব অসহায় তাদের মেয়ের জন্য। এমন অবস্থায় তাদের কথা ফিরানো উচিত হবে না(কাকিমা)
নিশ্চুপ (আমি)
বাবা এই অবস্থায় আর রাগ করে থাকিস না।রিদিতাকে মেনে নে (কাকিমা)
আচ্ছা ঠিক আছে..! তোমাদের যা ভালো মনে হবে তাই করো। এতে আমার কোনো দ্বিমত নেই (আমি)
এসব আলোচনা করতেই ওপাশ থেকে হঠাৎ রিদিতার বাবার কান্না আওয়াজ শোনামাত্র কাকিমা আমি দুরুত্ব রিদিতার কেবিনে গিয়ে যা দেখলাম..?
!
!
(চলবে)
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!