গল্পঃনির্দোষ লেখকঃরনি হাসান পর্বঃ১৯

গল্পঃনির্দোষ

লেখকঃরনি হাসান
পর্বঃ১৯

গল্পঃনির্দোষ   লেখকঃরনি হাসান  পর্বঃ১৯
গল্পঃনির্দোষ 19



অতীতকেও এতো সহজে ভুলবো না। এবং তোমাকেও স্ত্রী হিসাবে মেনে নিবো না। যতদিন তুমি আমার কাছে থাকবে ততদিন অবহেলিত হয়েই থাকবে। কখনো আমার ভালোবাসাটা পাবে না। (এই বলে পাশের রুমে চলে যেতে ধরবো এমন সময় রিদিতা আমার পা জড়িয়ে কান্না করে বলতে লাগলো....?
তুমি আমাকে এভাবে একা রেখে যেই না প্লিজ লোকজনেরা জানলে তারা কি ভাববে। আমি মানছি আমার একটা ভুল হয়েছে তারজন্য তো অনেক কান্না করেছি। ক্ষমা চেয়েছি তারপর ও তোমার কাছ থেকে ক্ষমা পাইনি। আজ আমাদের বাসর রাত এই রাত অন্তত আমাকে একা রেখে অন্য কোনো রুমে যেয়োও না প্লিজ (রিদিতা কান্না করে)
সামনে থেকে সরে যাও বলছি (রেগে)
৫ টা বছর অনেক অনুতপ্তের আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছি।আজ যদি তোমার ইগোর জন্য আমাকে এভাবে একা ছেড়ে চলে যাও সে কষ্টটা আমি মেনে নিতে পারবো না ( রিদিতা কান্নায় ভেঙে পড়ে)
এইদিকে রিদিতার কান্না দেখে নিজের রাগটা অনেক হালকা হয়ে যাচ্ছে। একটা সময় রিদিতাকে অনেক ভালোবেসেছি। এখন হইত তার জন্য ভালোবাসাটা নেই। কিন্তু তার কান্না কেন জানি সহ্য করতে পারছি না। আমার ও খারাপ লাগছে। দেখে বললাম..
আচ্ছা ঠিক আছে আমি এখানে থাকবো। তবে আমাদের মাঝে স্বামী স্ত্রীর কোনো সম্পর্ক গড়বে না (কথাটা বলা মাত্রই রিদিতা আমার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে শব্দ ছাড়াই চোখের জল ছাড়তে লাগলো)
রিদিতার কষ্টটা আরও বাড়ানোর জন্য নিজেকে শক্ত করে বললাম
আর হ্যা ডিভোর্স নিতে চাইলে আমাকে এক্টু বললে হবে আমি খুব শীঘ্রই দিয়ে দিবো (আমি)
আজকের রাতে এসব কথা না বললে কি হই না। আমার কাছ থেকে প্রতিশোধ নিতে খুব ভালো লাগছে তাই না (রিদিতা কান্না মাখা সুরে)
আমি কারো কাছ থেকে প্রতিশোধ নেই না। উল্টো তারা আমার কষ্ট গুলো বুঝতে চাই না (এই বলে খাটে এসে কম্বল গায়ে দিয়ে চোখ বুঝে ফেললাম। কিছুক্ষন পর রিদিতা আমার পাশেই সুয়ে পড়লো।কিছুটা আমার দিকে এগিয়ে আসতেই রেগে বললাম
আমার এদিকে এগিয়ে আসছো কেনো।
তোমার অইদিকে কি জায়গায় অভাব হয়েছে... (আমি)
বকা দিচ্ছো কেন ঠান্ডা লাগছে তো (রিদিতা)
(এইরে কম্বল তো একটাই দেখছি এখন আমার কম্বল নিয়ে টানাটানি শুরু করবে তার থেকে আলমারি থেকে আরেক্টা বের করলেই ঝামেলা চুকে যাবে। যে ভাবা সেই কাজ আলমারি থেকে আরেক্টা কম্বল বের করে রিদিতার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললাম
এই নাও (আমি)
দুই কম্বলের কি দরকার ছিলো এক্টাই চলতো (রিদিতা)
একটা কম্বল নিয়ে দুইজনের টানাটানি করে ঠান্ডায় জমে যাওয়ার থেকে দুইজনের টা
আলাদা আলাদা থাকাই ভালো (আমি)
খুব ভাব দেখানো হচ্ছে সময় আমারও আসবে তখন আমি তোমাকে বুঝাবো (কম্বল হাতে নিয়ে রিদিতা বিড়বিড় করে বলল)
বিড়বিড় করে কি বললা (কিছুটা আচ করে)
না কিছু না (রিদিতা)
ঘুমিয়ে পড়ো (এই বলে মুখ ফিরিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম)
তোমার ইগোতে আমি জল টেলে ছাড়াবো। অনেক কষ্ট দিয়েছো আমাকে আর না। এবার তোমাকে নিজের করে নিবোই তার জন্য কিছুদিন আমাকে তোমার অবহেলা সহ্য করতে হবে। সেটা আমি ভালো করেই বুঝে গেছি (রিদিতা মনে মনে এসব কথা ভেবে ঘুমিয়ে পড়লো। মাঝে রাতে কখনো যে রনিকে জড়িয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে রিদিতা নিজেই জানে না।
মাঝ রাতে বুকে ভাবি কিছু অনুভব করলাম। চোখ মেলে নিজের দিকে তাকাতেই চোখ যেনো কপালে উঠে গেলো। রিদিতা আমাকে এমন আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে রেখেছে এটা হইত ঠান্ডা লাগার কারনেই আমার সংস্পর্শে এসেছে। এই দিকে তার কম্বলটাও ফ্লোরে পড়ে আছে। এই অবস্থায় রিদিতাকে সরিয়েও দিতে পারছি না। কি একটা মুশকিলে পড়লাম।
এই হেলো (রিদিতাকে ডেকে)
রিদিতার কোনো রেসপন্স নেই। উল্টো আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়ল (রিদিতা)
রিদিতাকে আজ এতো কাছ থেকে দেখছি অথচ আমার মনে তার জন্য কোনো অনুভূতি কিংবা ভালোবাসা নেই। আগেই কতই নাহ রিদিতার পিছনে পড়ে থেকেছি। তার কোনো হিসাব নেই। খুব ভালোবাসতাম রিদিতাকে। সেই ভালো লাগার মানুষটা যে আমাকে এইভাবে সবার সামনে ভুল বুঝে ছোট করবে সেটা ভাবায় যায় না। এতকিছু পরও রিদিতা আমাকে বিয়ে করতে বাধ্য করালো ও হইত ভেবেছে। তার সুখটা আমার কাছেই নিহিত। এতো সহজে তাকে মেনে নিবো না। মনের মাঝে একরাশ রাগ অভিমান নিয়ে রিদিতাকে ঝাকিয়ে গর্জন দিয়ে বললাম..
_ এই হেলো
রিদিতা আমার গর্জন শুনে ঘুম থেকে তড়িঘড়ি করে উঠে বলল
আমি কি এমন অপরাধ করলাম যে আমার কাচা ঘুমটা ভাঙালে..? (রিদিতা চোখ বুঝে)
আমাকে এরকম আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরে রেখেছিলে কেন (রেগে)
অন্য কাউকে তো আর জড়িয়ে ধরেনি। আমার স্বামীকেই জড়িয়ে ধরেছি এতে অপরাধের কি আছে হুম (রিদিতা)
কিসের স্বামী। আমি তোমাকে স্ত্রী হিসাবে মেনেই নেইনি (আমি)
তাহলে আমার সঙ্গে বিছানায় থাকছো কেন..? (রিদিতা দুষ্টমি করে বলে ফেললো)
আমি থাকতে চেয়েছি কই তুমি তো আমাকে থাকতে বললে (আমি)
আমি থাকতে বললাম দেখে থাকতে পারছো কিন্তু আমাকে মেনে নিতে বলছি সেটা কেন পারছো না..? (রিদিতা)
এর উত্তরটা তুমিই ভালো জানো।আর হ্যা তোমার সঙ্গে এক বিছানায় থাকাটা আমার ভুলই হয়েছে যাকে স্ত্রী হিসাবে মেনেই
নেইনি তার সঙ্গে এক বিছানায় থাকাটা অন্যায়। আমি বরং পাশের রুমেই থাকবো (এই বলে বিছানা ত্যাগ করবো রিদিতা আমার সামনে দাড়িয়ে বলল
কেন আমার সঙ্গে এমন করছো।মানুষ মাত্রই তো ভুল। আমার জায়গায় অন্য কেউ হলেও সে ও একই কাজ করতো। এখন অতীতের কথা ভেবে কেন আমাকে কষ্ট দিচ্ছো বলো তো (রিদিতা অসহায় সুরে)
সামনে থেকে থেকে সরে যাও বলছি (আমি)
না সরবো না তুমি এখানেই থাকবে (রিদিতা)
আমি বলছি এখানে থাকবো না তো থাকবো না। (এই বলে পাশে রুমে চলে আসলাম)
রিদিতা আমাকে আটকানো অনেক চেষ্টা করেছে কিন্তু আমি তার বাধ্য মানিনি। একই ছাদে নিচে থাকলে হইত রিদিতা প্রতি সহজেই দুর্বল হয়ে যেতাম। কিন্তু আমি তো সহজেই দুর্বল হবো না। রিদিতাকে কদিন মানুষিক টর্চার করবো যদি সে টিকতে পারে তবেই তাকে মেনে নিবো তার আগে না। এসব চিন্তা ভাবনা করে পাশের রুমেই ঘুমিয়ে পড়লাম। এবং ওপাশ থেকে রিদিতা দরজা ধাক্কিয়ে কান্না করে বলছে
প্লিজ দরজাটা খুলো সকালে যদি কেউ জেনে যাই স্বামী স্ত্রী দুইজন দুই রুমে থেকেছে তাহলে তারা কী ভাববে..? রাগ করে থেকো না প্লিজ দরজাটা খুলো (রিদিতা কান্নাই ভেঙে পড়ে)
রিদিতার কথার কোনো কর্নপাত না করে ঘুমিয়ে পড়লাম।
আজ রিদিতার করুন অবস্থা দেখে এক্টু মায়া লাগছে। কিন্তু যখন মেনে নিবো বলে মনোস্থির করি ব্যস তখনই অতীতের কথা
মনে পড়ে যায়। তারপর আর কি বাকি রাতটুকু পাশের ঘুমিয়ে পাড় করলাম....
সকালে ঘুম এক্টু আগেই ভেঙে গেলো। ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলতে লক্ষ্য করলাম রিদিতা সোফায় বসে আছে এবং সেই সঙ্গে তার চোখের জল ফেলছে! সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না দিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেলাম। ফ্রেশ হয়ে বাহিরে বের হবো এরমধ্যে রিদিতা দরজার সামনে এসে বলল
আমাকে কষ্ট দিয়ে শান্তি পেয়েছেন (চোখের পানি মুছে)
রিদিতার চোখেরদিকে তাকাতেই আমার চোখ যেনো কপালে উঠে গেলো। কি ব্যাপার রিদিতার চোখ এরকম লাল হয়ে আছে কেন নিশ্চয়ই কান্না করেছে আর করলেই কি আমি তো চাই ও কান্না করুক। এসব ভাবতেই রিদিতা বলল
আমিও দেখি কতদিন আমার কাছ থেকে তুমি দুরে থাকতে পারো (রিদিতা)
তোমার সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছা আমার নেই। শুধুমাত্র একটা কথা মনে রাখবা আমাদের মাঝে যাই হক না কেন সেটা কাকিমা কিংবা তানিশা যেনো না জানতে পারে (এই বলে বাহিরে বের হয়ে আসলাম
অপরদিকে
কি কেমন বাসর রাত কাটালি (তানিশা দুষ্টমী করে)
নিশ্চুপ (রিদিতা)
রিদিতার নিশ্চুপ থাকা দেখে তানিশা কিছু আচ করতে পেরে বলে উঠলো
রিদিতা তোদের মাঝে ঝগড়া হয়ে কি (তানিশা)
কই না তো (রিদিতা মিথ্যা হাসার চেষ্টা করে)
ও যদি কখনো তোর সঙ্গে মিস বিহেব করার চেষ্টা করে তো মার কাছে গিয়ে দুরুত্ব নালিশ করবি কেমন। মা ও কে এমন কান মলা দিবে নাহ ও কখনো আর তোর সঙ্গে মিস বিহেব করবে। (তানিশা)
আচ্ছা ঠিক আছে সেটা তখন দেখা যাবে (রিদিতা হেসে)
এইদিকে
বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে সকাল গড়িয়ে বিকালে হয়েছে সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। ক্ষুধা লাগায় বাড়ি যাওয়ার কথা মনে পড়ে গেলো। যে ভাবা সেই কাজ চল। দরজায় আসা মাত্রই কাকিমা রেগে বলল
অইখানেই দাড়া আর এক পা সামনের দিকে বাড়াবি না (কাকিমা ভিষন রেগে)
এইরে সেরেছে রিদিতা কি তাহলে কাকিমার কাছে সব বলে ফেলছে। এর জন্য হইত কাকিমা রেগে আছে। দরজায় দাড়িয়ে এসব ভাবতে রিদিতা এসে যা বলল..?
!
!
(চলবে)
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!