গল্পঃনির্দোষ লেখকঃরনি হাসান পর্বঃ১৩

গল্পঃনির্দোষ

লেখকঃরনি হাসান
পর্বঃ১৩

গল্পঃনির্দোষ
গল্পঃনির্দোষ



রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসতেই পিছন দিক থেকে একবৃদ্ধ লোক বলে উঠলো
বাবা কেমন আছো..?
বৃদ্ধ লোকটির দিকে রীতিমতো অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি কে ওনি চিনতে পারছি না দেখে বৃদ্ধলোকটি বলল
বাবা আমাকে চিনতে পারছো না (বৃদ্ধলোক)
সরি আংকেল মাপ করবেন। সত্যিই আপনাকে চিনতে পারছি না (আমি)
এক বছর আগে কিছু বখাটের হাত থেকে আমার মেয়েকে বাচিয়েছিলে মনে আছে (আংকেল)
জি আংকেল এবার মনে পড়েছে। কেমন আছেন আপনি (আমি)
হ্যা ভালো। সেদিন তোমাকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করেই বাসায় চলে গেছিলাম। বাসায় যাওয়ার পর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করতে পারাই অনুশোচনা কাজ করছিলো। তারপর আবার ফিরে আসছিলাম কিন্তু তোমাকে খুজে পাইনি। হতাশা হয়ে বাসায় ফিরে যেতে হয়েছে। আজ একবছর ভাগ্যক্রমে রেস্টুরেন্টে তোমার দেখা পেয়ে গেলাম (আংকেল)
সরি আংকেল আমি আসলে বুঝতে পারিনাই আপনি আমাকে এতটা খুজেছেন নইত আমিই আপনার সঙ্গে দেখা করে আসতাম (আমি)
না থাক সেটা আর করতে হবে না।তো এখন কি করছো (আংকেল)
পড়াশোনা করছি।এবং তার পাশাপাশি পারটাইম জব করছি এই আরকি (আমি)
বাবা তোমাকে একটা অনুরোধ করবো রাখবে (আংকেল)
আংকেল অনুরোধের কথা বলছেন কেনো।আপনি আমাকে আদেশ করতে পারেন সেটা আমি অবশ্যই শুনবো (আমি)
বাবা আমার অফিসে অনেক শত্রু লেগে গিয়েছে। অফিসে কাকে বিশ্বাস করবো তেমন কোনো পারসনকে খুজে পাচ্ছি না। তুমি যদি রাজি থাকো তাহলে ভালো একটা পোস্টে তোমাকে জব দিতে পারবো। এতে তোমার লাইফ ও রঙিন হয়ে উঠবে (আংকেল)
আংকেলের কথা শুনে কিছু একটা ভাবতেই ওপাশ থেকে আরহী বলে উঠলো
আংকেল আপনি টেনশন নিয়েন না। ও চাকরিটা পেলে অবশ্যই করবে সেটা আমি গ্যারান্টি (আরহী)
বাবা কি ভাবছো (আংকেল)
না মানে আংকেল আমি যে পার টাইম জব করছি এতে ভালোই চলছে অন্য কোনো চাকরি না করলেও হবে (আমি)
চাকরিটা করলে এক তোমার পক্ষেও ভালো হবে। আমার দিক থেকে ভালো বিশ্বাসস্ত একজনকে পেয়ে গেলাম সেটা কিন্তু দুইদিক থেকেই ভালো হবে। কথাটি একবার ভেবে দেখো (আংকেল)
আংকেল যে কথা বলছে। তা ঠিকই বলছে চাকরি হলে তো আমার লাইফটাকে সাজাতে পারবো। তাছাড়া আংকেল যেহেতু নিজ ইচ্ছায় সুযোগটা দিচ্ছে সেটা হাত ছাড়া করা মানে বোকামি। এসব ভেবেই আংকেল কে বললাম
আংকেল আপনি যেহেতু চাকরি কথা বলছেন এতে আমার কোনো অমত নেই।তাছাড়া পড়ালেখার শেষ করে তো এমন একটা চাকরির সন্ধানই করতাম (আমি)
বাবা তুমি আমাকে সত্যিই বাচালে...! তুমি হইত জানো না আমার কি পরিমাণ শত্রু লেগে আছে! সুযোগ পেলে ওরা আমাকে শেষ করে ফেলবে (আংকেল)
আংকেল আমি থাকতে আপনার কোনো টেনশন নেই। আমার সর্বোচ্চ দিয়ে হলেও আপনাকে শত্রু মুক্ত করতে চেষ্টা করবো (আমি)
বাবা এরকম ভরশা দেএয়ার মতোই একটা পারসনকে দরকার ছিলো।যাক অবশেষে তোমাকে পেয়ে গেলাম।
আংকেলের মাধ্যমে চাকরিটা পাওয়াই। কয়েক বছরের ব্যবধানে লাইফটা একদম চেঞ্জ হয়ে গেলো। এখন গাড়ি বাড়ি সব হয়েছে। কিন্তু পরিবার গড়তে পারিনি। মাঝেমধ্যে আংকেলকে কৃতজ্ঞতা সুরে বলি
আংকেল আপনি আমার পাশে ছায়ার মতো না দাড়ালে হইত এসব কিছুই করতে পারতাম না (তিনি আমার কথার প্রতি উত্তরে শুধু একটা কথা বলত
আমি তেমন কিছুই করেনি। তোমার সাফল্যের পিছনে যে পরিশ্রমটা দিয়েছো সেটা হইত সবাই পারবে না। দিনরাত সমান ভাবেই কাজ করেছো। যার জন্য আজ তুমি সাফল্য ব্যাক্তিদের মধ্যে একজন। আমি আরও দোয়া করি তোমার সামনের দিনগুলোতে যেনো আরও ভালো কিছু করতে পারো...
আংকেল আমাকে শুধু একথায় বলতো। তার সঙ্গে যদি ভাগ্যক্রমে দেখা না হতো তাহলে হইত আমার ভাগ্যের চাকাটা এইভাবে খুলতোই না।এই ছিলো ৫ বছর আগের ঘটনা এখন বর্তমানে আসা যাক....
অফিসে মনোযোগ সহকারে ল্যাপটপে কাজ করছি। হঠাৎ পাশা রাখা ফোন্টা ক্রিংক্রিং করে বেজে উঠলো। স্কিনে লক্ষ্য করতেই আংকেল নামে নাম্বারটি ভেসে উঠলো তড়িঘড়ি করে রিসিভ করে বললাম
হেলো (আমি)
বাবা কি করছো (আংকেল)
আংকেল অফিসে কাজ করছি (আমি)
তোমার যতই কাজ থাকুন না কেন..? কাল কিন্তু আমার মেয়ের বিয়েতে তোমাকে আসতেই হবে (আংকেল)
হ্যা আংকেল আমি অবশ্যই যাবো (আমি)
আচ্ছা ঠিক আছে ' কাজ করো। কাল যদি আমার মেয়ের বিয়েতে তোমাকে না দেখি তাহলে কিন্তু বাবা আমি অনেক মন খারাপ করবো (আংকেল)
আংকেল আপনি যেহেতু বলছেন তো আমি অবশ্যই যাবো (আমি)
আচ্ছা ঠিক আছে রাখি (আংকেল)
জি আচ্ছা (আমি)
কাল তো গুরুত্বপূর্ণ একটা মিটিং আছে। বিয়েতে গেলে মিটিং বাদ দিতে হবে। এইদিকে আংকেল ও অনেক রিকুয়েষ্ট করে বলছে যদি না যায় তো মন খারাপ করতে পারে। তাছাড়া এই লাইফটা তো আংকেলের মাধ্যমেই পেয়েছি। আজ আমি এতটা ব্যস্ততা সেটা একমাত্র আংকেল জন্যই। দরকার পড়লে মিটিং বাদ দিয়ে হলেও আংকেলের মেয়ের বিয়েতে যেতে হবে।
তারপর আংকেলের মেয়ে মানে মিথিলার বিয়েতে যেতে হলো। বাড়িতে প্রবেশ করতেই লক্ষ্য করলাম এটা যেনো একটা রাজপ্রসাদ ডেকোরেশন আর লাইটিং পুরো বাড়িটাই চাকচিক্য করে ফেলছে। ডেকোরেশন দেখছি এরমধ্যে আংকেল আমাকে দেখে বলে উঠলো
বাবা এসেছো আমি তো ভেবে নিয়েছিলাম তুমি আসবেই না (আংকেল)
আপনি আমাকে আসতে বলেছেন।আর আমি আসবো না এটা কি হই (আমি)
এসে ভালোই করছো (আংকেল)
আংকেল একটা বিষয়ে প্রশংসা না করলেই নই আপনার ডেকোরেশনের লাইটিং কিন্তু পুরো বাড়িটাকে রাজপ্রসাদ বানিয়ে ফেলছে (আমি)
একটা মাত্র মেয়ে আমার। আগে থেকেই স্বপ্ন ছিলো অনেক ধুমধাম করে বিয়েটা দিবো।তাই আর কি স্বপ্নটা সত্যি করলাম (আংকেল)
তাহলে তো আপনার স্বপ্ন সত্যিই হয়ে গেলো (আমি)
হ্যা (কথা বলতেই আংকেলের ফোন আসাতে বলল
বাবা তুমি বসো গিয়ে আমার এক্টু অইদিকে কাজ পড়ে গেলো (আংকেল)
জি আচ্ছা সমস্যা নেই আমি আছি (আমি)
তারপর আংকেল চলে গেলো। পুরো বাড়িটা ঘুরে ঘুরে দেখছি হঠাৎ পিছন থেকে কে যেন বলে উঠলো
আরে দোস্ত কেমন আছিস..?
পিছন ফিরে তাকাতেই লক্ষ্য করলাম। রাকিব ও তার স্ত্রী আমার দিকে তাকিয়ে হাসি উজ্জ্বল চেহারা নিয়ে কথাটি বলল।
আমি এক্টু গম্ভীর সুরে বললাম
হুম ভালো (আমি)
আমার কথার ধরন দেখে রাকিব বুঝতে পারলো তার সঙ্গে কথা বলার কোনো মুড নেই। তো সেখান চলে আসতে যাবো এমন সময় রাকিবের স্ত্রী বলল
ভাইয়া শুনেন (রাকিবের স্ত্রী)
হুম বলেন (আমি)
আপনি আমাদের দেখে এভাবেই চলে যাচ্ছেন যেনো আমাদেরকে চিনেনই না (রাকিবের স্ত্রী)
নিশ্চুপ (আমি)
দোস্ত সরি রে তোকে সেদিন বাড়ি থেকে এইভাবে তাড়ানোটা আমাদের ঠিক হইনি।তুই যখন চলে গেলি আমি আর নিলা তখন বাসা থেকে বের হয়ে কিছু দুর তোকে খুজেছি কিন্তু তোর দেখা মিলেনি। সরি দোস্ত অনেকদিন পর তোর সঙ্গে দেখা হলো মন খারাপ করে থাকিস না (রাকিব হাত ধরে কথাটি বলল)
তোর মতো বন্ধু না থাকায় ভালো (এই বলে ওখান থেকে সরে গেলাম। রাকিব ও তার স্ত্রী
আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে ওরা হইত আমার কাছে থেকে এরকম আরচণ আশা করেনি। ব্যস সোফায় গিয়ে বসে আনমনে ফেসবুকের নিউজ ফিড দেখছি হঠাৎ রিদিতার কণ্ঠে গানের আওয়াজ শুনতে পেলাম। বিষয়টি দেখার জন্য মঞ্চে দিকে এগিয়ে যেতে লাগলাম
মঞ্চের সামনে দাড়িয়ে লক্ষ্য করতেই আমার চোখ যেনো কপালে উঠে গেলো এই আমি কাকে দেখছি এ তো সত্যি রিদিতাই গান গাচ্ছে। রিদিতার সঙ্গে আরও কয়েক্টা মেয়ে তার গানের তালে তাল মিলাচ্ছে। এইদিকে রিদিতার মা বাবার আংকেল সঙ্গে সোফায় বসে গল্প সল্প করছে। তারমানে রিদিতাদের সঙ্গে আংকেল কোনো একটা সম্পর্ক জড়িত আছে। মাথাটা কেমন জানি ঘুরে গেলো তারা এখানে কি করছে। তাদের তো এখানে থাকার কথা না....। নাহ এখানে আর থাকা যাবে না তার আগেই আমাকে এখান থেকে সরে যেতে হবে। তাদের জন্যই আমাকে গ্রাম ছাড়া হতে হয়েছে। আনমনে এসব ভেবে চলে আসতে যাবে. দরজার কাছে যেতেই মিথিলা আমার সামনে দাড়িয়ে বলে উঠলো
ভাইয়া কোথায় যাচ্ছেন (মিথিলা আংকেলের মেয়ে)
ইয়ে মানে আমার একটা কাজ পড়ে গেছে সেখানে আমাকে দুরুত্ব যেতে হবে (আমি)
দাড়ান আব্বুকে বলছি। আব্বুকে বললে তো আর যেতে পারবেন না (মিথিলা)
এই না বইলো না প্লিজ (আমি)
আব্বু এই দেখো রনি ভাইয়া চলে যাচ্ছে (মিথিলা)
মিথিলার কথাটা আংকেল শুনা মাত্রই তার সঙ্গে রিদিতার বাবা মাও আমার দিকে তাকাতেই তাদের চোখ আর আমার চোখ এক হয়ে গেলো।
তারপর কোনো কথা না বলে চলে আসতে যাবো তার আগেই রিদিতা বাবা আমার পথ আটকিয়ে যা বলল
!
!
(চলবে)
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!