গল্পঃনির্দোষ পর্বঃ১২

গল্পঃনির্দোষ

লেখকঃরনি হাসান

গল্পঃনির্দোষ পর্বঃ১২

 গল্পঃনির্দোষ পর্বঃ১২



পর্বঃ১২
মেসেজটা পড়ে কেন জানি ঘুরের মধ্যে পড়ে গেলাম। আজ সিমটা অপেন করতেই অচেনা নাম্বার থেকে কে এসব মেসেজ দিচ্ছে। রিদিতা নইতো......কৌতুহলবশত সেই নাম্বারে কল দিলাম ফোনটা রিসিভ করে ওপাশ থেকে যখন হেলো শব্দটি আসলো তখন বুঝতে আর রইলো না কে এইটা। তারপর কথা না বলে দুরুত্ব লাইন কেটে দিলাম....! আর ওপাশ থেকে অবিরাম কল আসতেই লাগলো
এক পযার্য়ে সিমটাই অফ করে রেখে দিলাম।এখন হইত রিদিতার সামনে সত্যটা প্রকাশ হয়েছে।এর জন্য আমাকে খুজছে তার ভুলের ক্ষমা চাওয়ার জন্য। কিন্তু আমি তো তাকে ক্ষমা করবো না। গ্রামবাসীর সামনে আমাকে অনেক অপমান অপদস্ত করেছে। আর সেটা দুরুত্ব কেমনে ভুলি। একটা সময় রিদিতাকে অনেক ভালোবাসতাম। ওকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন ও ছিলো কিন্তু বর্তমানে রিদিতার প্রতি একটু অনুভূতি ও জেগে নেই।সব গুলোকে মেরে ফেলছি। যে কিনা অল্পতেই ভুল বুঝে। সত্য মিথ্যা বাছাই না করেই ভুল বুঝে। তারা শর্তবার ক্ষমা চাইলোও..! আমার কাছ থেকে কখনো সেটা পারে না।
সত্যটা জানার পর হইত রিদিতা আমাকে পাগলের মতো খুজেছে আফসোস আমাকে পাইনি। আজ সত্যিই তাদের কর্মকাণ্ড দেখে অনেক খারাপ লাগছে।যাই হক রিদিতা আমাকে যত যাই করুক না কেন তাকে কখনো ক্ষমা করবো৷ আর ভালোবাসার কথা জানতে চাচ্ছেন তো। সেটা সেদিনই শেষ। এখন নতুন করে রিদিতার প্রতি কোনো অনুভূতি জন্ম নেইনি" আর নিবেও নাহ।
এইভাবেই দিনকাল কাটতে লাগলো।কিন্তু কদিন ধরে লক্ষ্য করছি আরহী আমার সঙ্গে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়বে দেখে উঠে পড়ে লেগেছে। যতই তাকে এড়িয়ে চলি ততই পিছু লেগেই থাকে। সেদিনের ঘটনা..! ক্লাস শেষ করে। জুবায়ের সঙ্গে কলেজের মাঠে আড্ডা দিতেছিলাম আরহী হুট করে সামনে এসে বলতে লাগলো
এই আপনার সমস্যাটা কি যতই আমাকে দেখেন তখনই এড়িয়ে চলে যান সেটা কেনো..? (আরহী রেগে)
আরহীর কথা উত্তর না দিয়ে জুবায়েরকে বললাম
চললাম রে এখানে আর ভালো লাগছে না (এই বলে সেখান থেকে চলে আসতে যাবো তার আগেই আরহী আমার পথ আটকিয়ে বলল
খুব ভাব হয়েছে আপনার তাই না (আরহী সামনে দাড়িয়ে বলল)
সামনে থেকে সরে (কিছুটা রেগে)
এমন করছো কেন..? বন্ধুত্বের সম্পর্ক তো গড়তে বলছি এতে সমস্যা কি (আরহী)
সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব করলেই যে আপনার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে হবে। তেমন তো কোনো কথা নেই। তাছাড়া আপনি আমার পিছনে এতো উঠে পড়ে গেছেন কেনো.? আমি কি কোনো সেলিব্রিটি পারসন যে আমার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতেই হবে (আমি)
আপনি তাহলে আমার সঙ্গে বন্ধুত্ব করবেন না..? (আরহী)
হুমম না (আমি)
আপনি যদি না রাজি হন তাহলে কিন্ত লোকজনের হাতে গনপিটুনি খাওয়াবো (আরহী)
কেমনে (কিছুটা হেসে)
দাড়ান দেখাছি (আরহী চিৎকার মেরে বলতে লাগলো
কে কোথাও আছো আমাকে এই বখাটে ছেলের হাত থেকে বাচাও (আরহী)
এইরে সেরেছে। আরহী যেভাবে লোকজন ডাকতে লেগেছে আমার তো হাটিগুটি মার খাইয়ে এক করে ফেলবে। না একটা ব্যবস্থা করতে হবে।
কে কোথায় আছো আমাকে এই বখাটের হাত থেকে রক্ষা করো (আরহী)
প্লিজ থামুন নইত লোকজন এসে গেলো মহা বিপদে পড়ে যাবো (আমি)
রাজি না হলে বলতেই থাকবো কেউ কোথায় আছো জলদি এখানে আসো প্লিজ..( আরহী আর ও ফাজলামো করে বলতে লাগলো)
থামতে বলছি কিন্তু (রেগে)
না থামবো না কে কোথা.... (কথাটা বলতেই ঠাসস করে আরহীর গালে থাপ্পড় মেরে দিলাম..! ব্যস আরহী আমার দিকে এক পলক তাকিয়ে ছোট বাচ্ছাদের মতো এ.... এ... কান্নাই বলল
আপনি আমাকে থাপ্পড় মারলেন (আরহী)
সরি আমি আসলে বুঝতে পারি নাই থাপ্পড়টা এক্টু জোরে লাগবে (এইরে সেরেছে আরহী যেভাবে ছোট বাচ্ছাদের মতো কান্না করছে একে কীভাবে চুপ করবো)
আমি থানায় গিয়ে আপনার নামে মামলা করবো। আপনি আমাকে থাপ্পড় মেরেছেন (আরহী কান্না করে)
প্লিজ এসব মামলা টামলা কইরেন না দরকার পড়লে আপনি আমাকে ও থাপ্পড় মারতে পারেন (কিছু ভয়ে পেয়ে)
আপনি আমাকে থাপ্পড় মেরেছেন আপনাকে তো আমি জেলের ভাত খাইয়েই ছাড়বো (আরহী লক্ষ্য করলো তার এসব বলাতে সে ভয়ে চুপসে গেছে। সেটা দেখে আরহী আরেক্টু অভিনয়ে এসব বলছে)
কি মুশকিল আপনি তো আমাকে রাগিয়ে দিলেন নইত কি আর আপনাকে থাপ্পড়টা মা'রতাম (আমি)
আমি এখনি থানায় যাচ্ছি আপনার নামে কেস করতে দাড়ান (আরহী অভিনয়ে করে এসব বলতে সে একদম চুপসে গেছে। এই অবস্থাই আরহী ভালো মজা নিচ্ছে)
এই দাড়ান দাড়ান কোথায় যাচ্ছেন (আমি)
কেন থানায় (আরহী ভাব দেখিয়ে)
ইয়ে মানে এসব নিজেদের ফেন্ডলি দুষ্ট মিষ্টি চর থাপ্পড় এর জন্য কি থানায় যেতে হবে দরকার পড়লে আপনি ও আমাকে মারতে পারেন তবুও এসব থানা পুলিশে যায়েন না( অনুরোধ সুরে)
এইদিকে আরহী এসব কান্ড দেখে নিজের হাসি চেপে রাখতে পারছে না তবুও নিজের হাসি চেপে রেখে বলছে
আমি আপনার কোনো কথায় শুনছি না। জেলের ভাত যখন পেটে পড়বে।তাছাড়া পুলিশ মামু তো পিটুনি দেওয়ার জন্য আছেই তখন বুঝবেন থাপ্পড় মারার কেমন শাস্তি (আরহী)
আমরা তো একই কলেজে পড়ি তো সেই হিসাব অনুযায়ী আমরা ফেন্ডই। নই এক্টু ভুল করেই ফেলছি তাই বলে থানায় যাবেন আচ্ছা ঠিক আছে চলুন আমি আপনার সঙ্গে থানাতেই যাবো (চাপে পড়লে যা হই আর কি)
হ্যা তাই চলুন (আরহী এই বলে রনির হাতটি ধরে ফেললো)
আপনি আমার হাত ধরলেন কেন (আমি)
থানায় যাবার আগেই যদি পালিয়ে যান তো (আরহী)
আচ্ছা ঠিক আছে চলেন (আমি)
তারপর আরহীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে যেতে লাগলাম এইরে সেরেছে..! আরহী তো সত্যি সত্যি আমাকে থানায় নিয়ে যাচ্ছে নাহ একটা ব্যবস্থা করতে হবে
ইয়ে মানে আমরা কি সত্যিই থানায় যাচ্ছি (আমি)
হ্যা অবশ্যই (আরহী নিজের মধ্যে হাসিটা চেপে)
ইয়ে মানে আজ না গেলে হই না (আমি)
অহহ আচ্ছা আপনি তাহলে আজ যাবেন না কাল যাবেন (আরহী)
হ্যা কালকেই যাবো এবার আমি আসি (তড়িঘড়ি করে চলে আসতে যাবো বেস সামনে দুই পা ফেলতে আরহী ফিক করে হেসে উঠলো এই মুহূর্তে আরহী তো হাসার কথা না। তাহলে হাসছে কেন। বিষয়টি জানতে পিছনে দিকে তাকাতেই আমি যেন ব্যকুব বনে চলে গেলাম। এই মেয়ে তো দেখছি হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে
এই আপনি হাসতেছেন কেন (আমি)
আপনি এতবোকা কেন হ্যা (আরহী হেসে)
আমি আবার কি করলাম (আমি)
থানার কথা শুনে আপনি তো রীতিমতো ভালোই ভয় পেয়েছেন দেখছি (আরহী)
ইয়ে মানে ক ক কই ভয় পাচ্ছি (আমি)
ভয় না পেলে তুতলিয়ে কখনো কথা বলতেন না (আরহী)
নিশ্চুপ (আমি)
থাক আপনার নামে কোনো মামলা টামলা করবো না (আরহী)
সত্যি বাচালেন আমাকে (অনেকটাই খুশি হয়ে)
অহহ তার মানে আপনি সত্যি থানা পুলিশে যেতে ভয় পান (আরহী)
বর্তমান যুগে থানা পুলিশ শুধু মেয়েদের কথাই শুনে। আপনি যদি এক্টু বানিয়ে পুলিশের কাছে আমার নামে নালিশ করতেন তাহলে তো আমার পিটে হাজারটা লাঠির চার্জ পড়তো (আমি)
সরি ফান করার জন্য। কিন্তু আপনাকে ভয় পাওয়ার অবস্থায় দেখতে ভালো লাগছিল এর জন্য অভিনয়টা ভালোভাবে করতে হলো (আরহী হেসে)
আপনি ভালোই অভিনয় করতে পারেন। আমি তো বিষয়টি সত্যি ভেবেনিয়েছিলাম (আমি)
আরহীর সঙ্গে এইভাবেই বন্ধুত্বটা হয়ে যায়। আপনি থেকে তুই সম্পর্কে রুপান্তরিত হলো।প্রথম আরহী যে খারাপ আচরণ করতো। এ দেখে ভেবেই নিয়েছিলাম। ও হইত ভালো আচরণ করতেই জানে না। যখন বন্ধুত্বের সম্পর্ক হলো। তখন বুঝতে পারলাম।তার মাঝে ভালো রুপ টাও আছে। আরহী সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়ে একদিক থেকে ভালোই হয়েছে। কথার বলার মতো একটা মানুষ হয়েছে। আগে তো সেটা ছিলো না। গ্রাম থেকে ঢাকা শহরে কেন আসছি" আরহী একদিন জিজ্ঞেস করলো
আচ্ছা তুই হুট করে ঢাকায় আসলি কেন..? (আরহী)
এতদিনে এইটা জিজ্ঞেস করছিস..? (আমি)
হ্যা এখন বল কেন ঢাকায় এসেছিস (আরহী)
শুন তাহলে আজ থেকে এক বছর আগের ঘটনা (শুরু থেকে সবটা আরহীকে বলে ফেললাম। সবটা শুনার পর আরহী বলল
তোর জীবনে এতবড় একটা গল্প লুকিয়ে আছে কখনো তো আমাকে এ কথা গুলো বলিস নি (আরহী)
অতীতের ঘটনাগুলো স্বরন করলে খারাপ লাগা কাজ করে। খুব কষ্ট হই আগের কথাগুলো ভাবলে এর জন্য ঘটনাটী চেপে রাখতে চেয়েছিলাম কিন্তু সেটা বার বার সামনেই চলে আসলে (কথাগুলো বলতেই চোখে পানি জমে গেলো আরহী এদেখে বলল
সরি রে অতীতের কথা গুলো জানতে চেয়ে তোর কষ্টটা বাড়িয়ে দিলাম (আরহী)
সমস্যা নাই (আমি)
আচ্ছা চল রেস্টুরেন্ট থেকে কিছু খেয়ে আসি (আরহী)
তারপর রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসতেই পিছন দিক থেকে একবৃদ্ধ লোক বলে উঠলো
বাবা কেমন আছো..?
বৃদ্ধ লোকটির দিকে রীতিমতো অবাক হয়ে তাকিয়ে আছি কে ওনি...?
!
!
(চলবে)
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!