গল্পঃনির্দোষ লেখকঃরনি হাসান পর্বঃ১৭

গল্পঃনির্দোষ

লেখকঃরনি হাসান
পর্বঃ১৭

গল্পঃনির্দোষ 17
গল্পঃনির্দোষ 17



এসব আলোচনা করতেই ওপাশ থেকে হঠাৎ রিদিতার বাবার কান্না আওয়াজ শোনামাত্র কাকিমা আমি দুরুত্ব রিদিতার কেবিনে গিয়ে যা লক্ষ্য করলাম
ডাঃ রিদিতা চোখ বন্ধ করে আছে কেনো (রিদিতার বাবা কান্না করে বলল।
আপনি কান্না করছেন কেন আপনার মেয়েকে মেডিসিন দেওয়া হয়েছে। এখন ঘুমাচ্চে দুর্চিন্তা করার নাম কারন নেই। (ডাঃ)
ডাঃ আমার মেয়ে ভালো হবে তো (রিদিতার বাবা)
সঠিকসময়ে যদি আপনার মেয়েকে এখানে না আনতে পারতেন তাহলে হইত আমাদের কিছু করার ছিলো না।ভাগ্যিস আপনার মেয়ে এবারের যাত্রায় বেচে গেলো। নেক্সট টাইম যেনো এরকম সুসাইট না করতে পারে সেদিকে খেয়াল রাখবেন (ডাঃ)
হ্যা অবশ্যই রাখবো (রিদিতার বাবা)
রিদিতা সুস্থ হবার একদিন পরই। কাকিমা বলল` বাবা আজ কিন্তু রিদিতাকে গায়ে হলুদ দিতে যাচ্ছি। তোর সব ফেন্ডদের
invited কর গিয়ে। কাকিমার কথা শুনে
আজ কেন জানি ইগোর কাছে হেরে গেলাম। রিদিতাকে তো আমি সহ্যই করতে পারি না। তাকে কেমনে বউ বানানো। এইদিকে কাকিমা রিদিতার বাবা মা। তারা আমাকে এমন অবস্থায় ফেলেছে এই অবস্থায় না করবো সেটার উপায় এখন নেই।
ইচ্ছার বলি দান দিতে হচ্ছে। আজ যদি কোনোভাবে এই বিয়েটা ভাংতে পারতাম তাহলে হইত এক্টু শান্তি পেতাম। রিদিতা কেন বিষ খেতে গেলো...। তারপর আরকি ইচ্ছা না থাকার পরেও রিদিতাকে বিয়ে করতে হলো। বাসর ঘরে দরজা খুলে রুমে প্রবেশ করতেই রিদিতা খাট থেকে নেমে সালাম করতে আসবে এমন সময় বলে উঠলাম
ওখানেই দাড়াও তুমাকে বিয়ে করেছি ঠিকই। কিন্তু আমার ইচ্ছামত করেনি। তুমি আমাকে ইমোশনাল ব্যাকমেইল করেছো তার জন্য আমাকে এই বিয়েতে মত দিতে হয়েছে নইত কখনো তোমার চেহারা পযন্ত দেখতাম না..
রিদিতা আমার কথা শুনে ছলছল চোখে তাকিয়ে কিছুটা বলতে যাবে। হঠাৎ কাচের গ্রাস ভাঙার শব্দে ধড়ফড়িয়ে করে ঘুম থেকে উঠলাম। লক্ষ্য করলাম নিলয় আমার রুমে জলসহ গ্লাসটা ফেলে দিয়েছে।এবং নন স্টপ কান্না করেই যাচ্ছে তারপর তানিশাকে একবার ডাক দেওয়ার মাত্র ও চলে আসলো। আর এসেই বলতে লাগলো
এই ছেলেকে নিয়ে হয়েছে আমার যত জ্বালা। কখন থেকে খুজছি আর দুষ্টটা মামার রুমে এসে পালিয়ে আছে (তানিশা নিলয়কে কুলে নিয়ে)
তানিশা এসব বলছে আচমকাই বলে উঠলাম
রিদিতা কি বিষ খেয়েছে (কিছুটা পাগলের মতো বললাম)
তানিশা আমার কথা শোনামাত্রই চোখগুলো বড় বড় করে বলল
এই তোর মাথা ঠিক আছে তো। এই দুপুরবেলা কিসব আবুল তাবুল বকছিস (তানিশা)
ইয়ে মানে রিদিতা বিষ খাইনি (স্বাভাবিক হয়ে)
নাহ রিদিতা কোনো বিষ টিষ খাইনি। আমার মনে হই এই দুপুরবেলা তুই কোনো বাজে স্বপ্ন দেখেছিস আর এখন সেটা বাস্তবে মিলাতে চাচ্ছিস (তানিশা)
তারমানে এতক্ষণ স্বপ্নই দেখছিলাম (অবাক হয়ে বললাম)
হ্যা স্বপ্নই দেখছিলি তোর চোখগুলো দেখে মনে হচ্ছে ঘুম এখনো পরিপূর্ণ হইনি।যা ফ্রেশ হয়ে নে (তানিশা এই বলে নিলয়কে চলে গেলো)
এইদিকে আমি যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম। তারমানে রিদিতা কোনো বিষ খাইনি এতক্ষন ঘুমে এসব আবুল তাবুল স্বপ্ন দেখছিলাম। তাছাড়া আমার তো আজ অফিসের মিটিংয়ের কথা ছিলো। কিন্তু আমি ঘুমাচ্ছিলাম কেন (এসব ভাবতেই পাশা রাখা ফোনটা মেসেজের টুনে বেজে উঠলো তড়িঘড়ি করে মেসেজর দিকে তাকাতেই আরহীর ফেসবুকের আইডি ভেসে উঠলো
এই সেরেছে ফেসবুকে আরহীর সঙ্গে chat করতেই কখন যে ঘুমিয়ে পড়ছিলাম সেটা খেয়ালই নেই। আর এইদিকে আরহী মেসেজের রিপ্লাই না পেয়ে হাজারটা টেক্সট পাঠিয়েছে । তড়িঘড়ি করে ফোনটা হাতে নিয়ে ছাদে চলে আসলাম। আরহীর ফোনে কল দেওয়ামাত্র রিসিভ করে বলতে লাগলো
তোর খুব ভাব বেড়ে গেছে তাই না কখন থেকে তোকে মেসেজ সেন্ট করছি রিপ্লাই দিচ্ছিলি না কেন (আরহী )
আরে রাগ করছিস কেন আমি তোর সঙ্গে chating করতেই কখন যেনো ঘুমিয়ে পড়ছিলাম খেয়ালই ছিলো না (আমি)
বুঝি বুঝি সবই বুঝি। আজ যদি আমি তোর গার্লফ্রেন্ড হতাম তাহলে তো আমাকে এভাবে এড়িয়ে চলতে পারতি না। এখন নিশ্চয়ই ফেসবুকে কোনো একটা গার্লফ্রেন্ড পেয়ে গিয়েস আমার সঙ্গে কথা বলে কি লাভ (আরহী)
তোকে আমার গার্লফ্রেন্ড বানাতে চাই না বউ বানাতে চাই..! বউ হবি আমার (ফাজলামো করে আরহীকে বলে ফেললাম)
ধুর ফাজলামো করছিস না তো (আরহী)
তুই যদি চাস আমি তাহলে কাকিমাকে বলে আংকেলের কাছে বিষয়টা বলতে পারি (আমি )
তুই কি আজ পাগল হয়ে গেছিস কিসব আবুল তাবুল বকছিস (আরহী রেগে)
যা বলছি সব সত্যিই বলছি তুই আমার বউ হবি কিনা সেটা বল (আরহীকে আরও রাগান্বিত করার জন্য বললাম)
ঘুম থেকে উঠে এসব কি আবুল তাবুল বলছিস। আমি তো ফান করে গার্লফ্রেন্ড হবার কথাটা বললাম। আর তুই এসব কি বকছিস আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না (আরহী)
আমি দেখতে খারাপ নাহ নেশা করি যে আমাকে তোর যোগ্য বলে মনে হই না (আমি)
অহহ তারমানে তুই আমাকে এতদিন বন্ধুর চোখে দেখিস নি। নিশ্চয়ই খারাপ চোখে দেখেছিস (আরহী ভুল বুঝে)
এইরে আরহীর সঙ্গে ফাজলামোটা মনে হই। একটু বেশিই হয়ে গেলো। ভিষণ ক্ষেপে গেছে। নাহ এবার বলে দেই বিষয়টা ফাজলামো করেছি নইত ভুল বুঝবে।ইতিমধ্যে ভুল বুঝেই ফেলছে।
আরে রাগ করছিস কেন আমি তো এতক্ষণ তোর সঙ্গে ফান করছিলাম মুড ভালো করার জন্য (আমি)
চুপ আরেক্টা কথা ও তুই ও বলবি না। এতদিন ভেবেছিলাম তুই আমাকে নিশ্চয়ই ভালো চোখে দেখিস কিন্তু আজ বুঝতে পারলাম। আমি তোকে বন্ধু ভাবলেও। তুই আমাকে অন্যকিছু ভাবতি ছি আজ তোর আসল রুপ্টা পেয়ে গেলাম। শুরুতে যেমন ছেলেদের ঘৃণা করতাম এখনো তাই করবো (আরহী রেগে)
আরহী তুই কিন্তু আমাকে ভুল ভাবছিস। আমি তোর সঙ্গে একটু ফান করেছি। এতে যে তুই এরকম রেগে যাবি সেটা জানলে কখনো তোর সঙ্গে এমন ফান করতাম না ভুল বুঝিস না প্লিজ (আমি)
তোর সঙ্গে বন্ধুত্ব করাটাই আমার ভুল হয়েছে। তোর মনে যদি আমাকে নিয়ে ফিলিংস নাই থাকতো তাহলে এসব কথা বলতি না (আরহী রেগে)
সরি ভুল হয়েছে আর এরকম ফাজলামো করবো না (আমি)
তোর সঙ্গে আর বন্ধুত্বই রাখবো না। ফোন রাখ আর কখনো আমাকে ফোন দেওয়ার চেষ্টা করবি না (আরহী রেগে)
এখন যদি ফোনটা রাখিস। নেক্সট টাইম কিন্তু আজীবনের জন্য আমাকে হারাবি (আমি)
ধ্যাৎ ( আরহী এই বলে ফোনটা কেটে দিলো)
আরহীর সঙ্গে ফান করতেই ও যে এভাবেই রেগে যাবে। তা কখনো কল্পনা ও করেনি।যাই হক রাগ কি শুধু ওর একার আছে নাকি। বললাম না কথা। দেখি কে আগে ফোন দেই।ধুর আজ ঘুমটায় কাল হয়ে দাড়িয়েছে। বিকালে বন্ধুদের সঙ্গে কলেজ মাঠে আড্ডা দিয়ে রাতে বাসায় ফিরলাম। ফ্রেশ হয়ে টেবিলে খেতে বসছি।এর মধ্যে কাকিমা বলে উঠলো
রিদিতার বাবা বিয়ের সম্মন্ধ নিয়ে আসছিলো (কাকিমা)
কার জন্য (একলোকমা ভাত মুখে দিয়ে বললাম)
এমন ভাবে বলছিস তুই ছাড়া যেন আমার আরও কয়েক্টা ছেলে আছে (কাকিমা)
এই গাধা বিয়ে সাদি কি করতে হবে না।সারাজীবন কি একাই চলবি (তানিশা দাত চেপে বলে উঠলো)
অহহ তারমানে আমার বিয়ের কথা বলছিস (আমি ভাত খাওয়া বাদ দিয়ে)
এত অবাক হওয়ার কি আছে বিয়ে সাদী কি করবি না (তানিশা)
প্রজন্ম বাড়ানোর জন্য নই বিয়েটা করলাম। কিন্তু রিদিতার বাবা কেন আমাদের বাসায় তার মেয়ের বিয়ে সম্মন্ধ নিয়ে আসবে। তার মেয়েকে তো আমার বউ হিসেবে গ্রহণ করবো না। বিয়ে যদি করতেই হই" তাহলে অন্য কাউকে করবো। তবুও সফিক সাহেবের মেয়ে রিদিতাকে নই কথাটি যেন তোমাদের মনে থাকে (এই বলে টেবিল থেকে খাওয়া বাদ দিয়ে রুমে চলে আসলাম
ধ্যাৎ মেজাজ টাই খারাপ করে দিলো। এমনিতেই আজ বাজে একটা দুর্স্বপ্ন দেখলাম তারমধ্যে রিদিতা বাবা আজ সত্যিই বিয়ের সম্মন্ধ নিয়েছিলো। তারমানে দুপুরে যে স্বপ্নটি দেখলাম তার কিছুটা অংশ মিলে যাচ্ছে। স্বপ্নের মতো যদি রিদিতা কোনো ইমোশনাল ব্যাকমেইল করে তখন তো বাধ্য হয়ে তাকেই বিয়ে করতে হবে....? না না সেটা কোনো ভাবেই সম্ভব না। (চেয়ারে বসে আনমনে ভাবছি এরমধ্যে কাকিমা এসে বিনয়ের সুরে বলল..?
!
!
(চলবে)
পাঠক ভাইদের কাছে আজ আমার একটা প্রশ্ন..?
গল্পের শুরুতে তো রনিকে বিচার সভায় অনেক অপমান অপদস্ত করেছে রিদিতা। এমন কি গ্রাম বাসির সামনে মারও খেতে হয়েছে রনির। যদি ও রিদিতা এসব ভুল বুঝেই করেছে। এখন প্রশ্নটা হলো আপনি যদি রনির জায়গায় থাকতেন তাহলে কি রিদিতা স্ত্রী হিসাবে মেনে নিতেন করতেন_____?
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!