Obohela - অবহেলা

Obohela - অবহেলা

.
Obohela - অবহেলা
Obohela - অবহেলা


'ফ্রী আছো ?"
"না , টিউশনিতে আসছি।
পরে কথা বলবো।"
"তুমি কী বিজি ?"
"আমি একটু বাইরে , আড্ডা দিচ্ছি ,
ফিরতে দেরী হবে ,পরে ফোন দিবো,
কেমন পাখি?"
"কী করো? কথা বলি একটু?"
"ধূর কী যে করোনা তুমি ,
জানোনা এইটা আমার পড়ার সময়?
নিজেও পড়বা নাআমাকেও
পড়তে দিবা না ..."
"কী করছো? তুমি না বলছিলা অনেক
কথা জমা আছে"
"হুম বলছিলাম , কিন্তু এখন বিজি, বড়
ভাইদের সাথে মিটিং আছে , রাখছি।"
.
হতাশ হয়ে একসময় ফোনটা রেখে দেয়
মেয়েটা।
গত কয়েকটা মাস ধরে এভাবেই চলছে।
সবসময় ব্যস্ততা ,
সব কিছুর জন্য সময় আছে , শুধু ওর জন্য
কোন সময় নেই ছেলেটার।
সারা ক্ষণ কিছু না কিছু করছে।
সম্পর্কের শুরুর
দিকটার কথা খুব মনে পড়ে মেয়েটার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরুর দিন গুলোতে খুব হৈ হুল্লোর
করে চলতো ও , সারাদিন
আড্ডা ঘুরাঘুরি।
তারপর কীভাবে কীভাবে যেন ক্লাসের
সবচাইতে শান্ত মুখচোরা ছেলেটাকে ভালো লেগে গেলো।
কী থেকে যে কী হয়ে গেলো ...।
সবাই ওদের লাভবার্ড বলতো ।
মেয়েটা হুট করে দুষ্টু থেকে শান্ত
শিষ্ট হয়ে গেলো আর
ছেলেটা ক্লাসের স্বীকৃত দুলাভাই
হিসেবে অনেকগুলো শালা পেয়ে গেলো।
.
.
আজ প্রায় দুবছর বেশি হলো ওদের
সম্পর্কের।
ইদানিং অনেক বেশি দূরত্ব তৈরী হচ্ছে ওদের মধ্যে ।
এমন না যে ছেলেটা মেয়েটাকে ভালোবাসে না ,
কিন্তু বড় বেশি ব্যস্ত সে।
তার উপর ফোর্থ ইয়ারের পরীক্ষাও সামনে।
আগে ফোন দিলে একটু হলেও
কথা বলতো , এখন ফোন ধরারও টাইম
নেই তার।
কেঁদে কেঁদে বহুবার বালিশ ভিজিয়েছে মেয়েটা।
এখন আর কাঁদে না । আগে ছেলেটার
কাছে খুব অভিযোগ করতো এসব নিয়ে।
এখন করে না ।
শেষ কবে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে আইসক্রীম
খেয়েছে মনে পড়ে না।
অথচ একসময় বৃষ্টি হলেই দুজন ব্যাঙাচির
মতো লাফিয়ে উঠতো ।
ছেলেটার ঠান্ডার সমস্যা দেখে মেয়েটা ভিজতে চাইতো না ,
কিন্তু ছেলেটাই ওকে হাত ধরে বৃষ্টিতে নামিয়ে আনতো।
সবই স্মৃতি এখন।
মেয়েটা আর জোর করে না এখন।
যে যেমন থাকতে চায়
তাকে তেমন থাকতে দেওয়া উচিত।
ছেলেটা যদি এভাবেই
ভালো থাকে তাহলে মেয়েটাও
ভালো থাকবে।
বুক ভরা অভিমান নিয়ে সবার সাথে খুব
ভালো থাকার , হাসিখুশি থাকার
অভিনয় করে মেয়েটা।
কার কী এসে যায় তাতে !
.
.
সন্ধ্যাবেলা ঘুম ভাঙে মেয়েটার।
আজকাল ওর সব নিয়ম কানুন ওলট পালট
হয়ে গেছে।
কিছুই ভালো লাগে না।
ওর ঘুম ভাঙতে দেখে মা এগিয়ে আসে।
যাক , তোর ঘুম ভাঙলো। মায়ের
খুশি খুশি চেহারা দেখে একটু অবাক
লাগে তার।
আশেপাশে তাকিয়ে দেখে পুরো বাড়িতেই
উত্সব উৎসব ভাব।
অনেক মেহমান এসেছে। মা হাসিমুখে বলেন ,
"বাড়ির বড়রা আসছে তোকে দেখতে।
পছন্দ হলে আজই.....।
ওতো তোকে আগে থেকেই পছন্দ
করে রেখেছে।"
অবাক হয়ে প্রশ্ন করে মেয়েটা , কার
কথা বলছো মা ?"
"হায় হায় , ভুলে গেছিস ? তোর
ফিরোজ আঙ্কেলের ছেলে । কদিন
আগে এমবিএ করে ফিরেছে দেশে ।
তোকে না বলেছিলাম কদিন
আগে ?"
অস্পষ্টভাবে মনে পড়ে মেয়েটার ।
তখন মায়ের
কথা সিরিয়াসলী নেয়নি।
ভূতে পাওয়া মানুষের মত ফোন
হাতে নেয় । ব্যস্ত হাতে ছেলেটার
নাম্বার ডায়াল করে ।
ওপাশে ডায়াল টোন
বাজতে থাকে । একবার । দুবার ।
তিনবার । কেউ রিসিভকরে না ।
.
.
হতাশায় ভেঙ্গে পড়ে মেয়েটা ।
আবার ডায়ালকরতে থাকে ।
অসংখ্যবার ডায়াল করার পর ফোন
রিসিভকরে ছেলেটা । রিসিভ
করেই ধমকে উঠে , "উফ ,
আমাকেকী একটু শান্তিতেও
থাকতে দিবা না তুমি?" চোখের জল
মুছে ভাঙ্গা গলায় বলে মেয়েটা ,
"আমার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে । প্লিজ
কিছু করো ।"
বিরক্ত হয়ে ছেলেটা বললো ,
তাহলে বিয়ে করো ।
আমাকে বলছো কেন ?
কান্নাভেজা কন্ঠে প্রায় আর্তনাদ
করে উঠে মেয়েটা , বিয়ে করবো !
অন্য কাউকে ! কী বলছো এসব ?
ভুলটা কী বললাম ? বিজি আছি ,
ডিস্টার্ব করো না । ফোন
কেটে দেয় ছেলেটা । আবার ফোন
দেয় মেয়েটা । কেটে দেয় । আবার
ফোন। এবার বন্ধ । ফোন বন্ধ
করে মনে মনে গজ গজ
করতে থাকে ছেলেটা , কোন
কমনসেন্স নেই মেয়েটার । এমনিতেই
এত পড়া আর কাজের
চাপে মাথা ঠিক নাই , আরো যতসব
আজগুবি কথা । কী দেখে যে এই
মেয়ের প্রেমে পড়েছিলাম !
আয়নার সামনে শেষবারের মত
নিজেকে দেখে নেয় মেয়েটা ।
.
.
বিয়ের সাজে অপূর্ব লাগছে ওকে ।
বাবা মা অসম্ভব খুশি । তাদের
থুশী দেখে নিজেরও
ভালো লাগছে ওর । যেই মানুষটার
কাছে ওর কোন মূল্য নেই তার
কথা ভেবে আর কষ্ট
পেতে দেবে না নিজেকে ।
বরং যেই মানুষটা ওর সব কিছু জেনেও
ওকে আপন
করে নিতে চেয়েছে তাকে নিয়ে এখন
থেকে স্বপ্ন দেখবে ও । সব
চোখের জল
মুছে ফেলে প্রতিঙ্গা করলোআর
কাঁদবেনা । রাত এগারোটার
দিকে একরাশ খুশি আর আনন্দ
নিয়ে বিয়েটা হয়ে গেলো।
,
,
সপ্তাহখানেকপর হঠাত্ একদিন ফিল
করে ছেলেটা , ওকে এখন আর কেউ
বিরক্ত করে না । খুশী হওয়ার
বদলে একটু মন খারাপ হয় ছেলেটার ।
সেদিনকী একটু
বেশী বকে দিয়েছিলো মেয়েটাকে ?
মেয়েরা বড় বেশি অভীমানি হয় ।
এখনো নিশ্চয় ঠোঁট
ফুলিয়ে রেখেছে । থাক , আজ নাহয়
ওকেই একটু টাইম দেওয়া যাক । কান
ধরে একবার স্যরি বললেই সব অভিমান
গলে জল হয়ে যাবে । মেয়েটার
নাম্বার ডায়াল
করতে থাকে ছেলেটা । প্রায় তিন
বছর পর এই প্রথম একটা বিশ্রি মেয়েকন্ঠ
বার বার ঘ্যান ঘ্যান করতে থাকে ,
আপনি যে নাম্বারে ডায়াল
করেছেন তা এইমুহুর্তে বন্ধ আছে .....।
,
,
ছেলেটা এখন মস্ত বড় চাকুরিজীবি ।
বাড়ি গাড়ি সম্মানজনক
চাকরি ভালো সেলারি সবই
আছে তার। তবু জীবনটাবড্ড
বেশি ফাঁকা ফাঁকা লাগে । যার
জন্য একদিন ভালো ক্যারিয়ার
দরকার ছিল ক্যারিয়ারের
পেছনে ছুটতে ছুটতে তাকেই
যে হারিয়ে ফেলেছে সে !
,
,
এখনো মাঝরাতে কারো ঘুম
ভেঙ্গে যায় ।
আলতো পায়ে বারান্দায়
এসে দাঁড়ায় সে। একরাশ অভিমান
আর বহু পূরোনো মিষ্টি কিছু
স্মৃতি মনকে দোলা দিয়ে যায় ।
অভিমান গুলো কান্না হয়ে ঝরে পড়ে ।
মিশে যায় রাতের কালিগুলা আধাঁরের সাথে ...।।
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!