Romantic golpo - গল্পঃনির্দোষ পর্বঃ৮

গল্পঃনির্দোষ

লেখকঃরনি হাসান

Romantic golpo - গল্পঃনির্দোষ পর্বঃ৮
Romantic golpo - গল্পঃনির্দোষ পর্বঃ৮



পর্বঃ৮
রাতে বাহিরে খাবার খেয়ে বাসার উদ্দেশ্য রওনা দিলাম গেটে আসতেই লক্ষ্য করলাম তালা ঝুলানো এটা দেখেই রীতিমতো অবাক হয়ে তানবীরকে জিজ্ঞেস করে উঠলাম....?
দোস্ত গেটে তালাবদ্ধ থাকলে কি করে রুমে যাবো।রাত তো ১০ টায় বাজে নাই। এরমধ্যে তারা গেটে লাগিয়ে ঝুলিয়ে দিলো..( আমি)
এই বাড়িওয়ালার মেয়ে আরহী ইচ্ছা করে রাত ৯ টার সময়ই গেটে তালা লাগিয়ে দেই।মেয়েটা বদমেজাজি প্লাস মিচকা শয়তানি । দোস্ত টেনশন করিস না। আংকেল কে ফোন করে জানিয়ে দিচ্ছে (এই বলে তানবীর বাড়িওয়ালা আংকেলের কাছে ফোন করে জানিয়ে দিলো কিছুক্ষনের পরেই বাড়িওয়ালা আংকেল গেটে এসে বিনয়ের সুরর বলতে লাগলো
বাবারা তোমরা কিন্তু বিরক্ত হয়ো না প্লিজ। আরহী মাঝেমধ্যেই গেটের তালা লাগিয়ে চাবি তার কাছে রেখে দেই (বাড়িওয়ালা আংকেল)
আংকেল আরহী এসব কেন করেন (আমি)
আরহী চাইনা এই বাসাতে কেউ ভাড়া থাকুক! তোমরাদের ও বাসা ভাড়া দিতাম না কিন্তু তানবীর আমার কাছে পূর্বে পরিচিত ছিলো যার দারুণ তাকে আর না করতে পারেনি। আচ্ছা বাদ দাও এসব কথা এই চাবিটা তোমাদের কাছেই রাখো মাঝে মধ্যে আরহী যদি তালা লাগিয়ে দেই। তো তার ডুপ্লিকেট চাবি এইটা (আংকেল এই বলে গেটের অপাশ থেকে চাবিটা তানবীরের হাতে দিলো তারপর রুমে চলে গেলাম।
অপরদিকে
তানিশা তোর ভাইয়ের খুজ কি এখনো পাসনি (রিদিতা)
ও ছোট থেকেই একটু জেদি। যা বলে তাই করে। ও তোকে প্রোপজাল দিয়েছিলো আর তুই তাকে রিজেক্ট করছিলি সেইদিন আমিও বাড়িতে গিয়ে এবিষয়ে প্রচুর পরিমাণ জ্বালিয়েছি এবং মজা করে বলছি
তোর এই ক্ষ্যাত মার্কা চেহারায় কোন মেয়েই তোকে ভালোবাসবে না বুঝলি। আগে নিজের গেট আপ ঠিক কর তারপর কাউকে প্রোপজাল দিস (সে আমার প্রতি উত্তরে শুধু একটাই কথা বলছিলে
একদিন রিদিতাও আমাকে ভালোবাসবে দেখে নিস। আর আমি যেটা বলি তা কিন্তু করে ছাড়ি সেটা তুই ভালো করে জানিস (রনি)
সেদিন থেকে তোর পিছনে ও কাঠালের আঠা এর মতো দুইটা বছর লেগে থাকলো কিন্তু তুই তো কোনো রেসপন্স দিলি না।তাহলে একবার ভাব তার জিদটা কেমন। আর আমি যদি টেলিভিশনে সিয়াল দেখি ও গিয়ে ক্রিকেট খেলা দেখবে নইত মুভি দেখবে তবুও আমাকে কিছু দেখতে দিবে না। টেবিলে খেতে বসলে আগে ওর ওকে দিতে হবে তারপর সেন আমি খেতে পারবো সবসময়ই এমন প্যারাই দিতো।রিদিতা বিশ্বাস কর মাঝে মধ্যে মনে হতো আমাদের বাসা থেকে ও চলে যাচ্ছে না কেন...? চলে গেলেই হইত এক্টু শান্তি পেতাম। কিন্তু ও এমন বিহেব করতো যেন আমার আপন ভাই।তাছাড়া রনিও জানতো না যে ও এতিম। তোদের সেই ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর আমিই রেগে সব বলছি যে তুই আমাদের রক্তের কেউ না।অনেক জ্বালিয়েছিস এবার আমাদের বাসা ছেড়ে যেদিকে খুশি সেদিকে চলে যা। ও তাই করলো আমাদেরকে ছেড়ে চলে গেলো ঠিকই কিন্তু তার সব মেমোরিস গুলো আমাদেরকে এখন এমন কষ্ট দিচ্ছে সেটা তোকে বলে বুঝতে পারবো না। (এই বলে তানিশা চোখের পানি মুছে নিলো)
তানিশার কথা শুনে রিদিতার যেন রিদয়ে রক্তক্ষরণ হতে লাগলো তার জন্য তো এসব ঘটনা ঘটেছে এসব ভেবে রিদিতা নিজেই মধ্যেই অনুতপ্ত হচ্ছে। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে বলতে লাগলো
তাহলে কি তোর ভাই গ্রামে আর আসবে না (রিদিতা করুন সুরে বলে উঠলো)
আমার মনে হই না যে ও আর গ্রামে আসবে (তানিশা)
রিদিতা কথাটা শুনো মাত্রই তার যেন নিমিষেই সব আশা শেষ হয়ে গেলো। রিদিতা মনে মনে তাকে নিয়ে ভালোবাসার বীজ বপন করছিলো ঠিকই কিন্তু তানিশার কথাতে সেটা নিমিষেই ভেঙে চুরমার হয়ে গেলো। তারপর ও কেন জানি তার অপেক্ষা থাকবে রিদিতা মনে মনে সিন্ধান্তে উপনিত হলো...!
এভাবে তাদের দিন কাটতে লাগলো। কথায় আছে নাহ দাত থাকলে কেউ দাতের মূল্য কেউ বুঝে না তেমনি রনি চলে যাওয়াতে রিদিতার ভালোবাসা এক্টু বেশি বেড়েই চলেছে...
এইদিকে হুট করেই সফিক সাহেব তার তার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলল
এই রিদিতার মা একটা খুশির খবর আছে..(সফিক সাহেব)
কি বলো (সফিক সাহেবের স্ত্রী পারভিনা বেগম)
রেহেনা আফা আমাদের রিদিতা মামুনিকে পছন্দ করেছেন বিয়ের কথাও বলছেন (সফিক সাহেব)
ও তার মানে রেহেনা আফার ছেলে নিলয়ের সঙ্গে আমাদের রিদিতা মামুনির বিয়ের কথা উঠেছে (পারবিনা বেগম)
হ্যা আমি বাজারে যাচ্ছিলাম হঠাৎ রেহেনা আফা আমাকে ডেকে বাসায় নিয়ে গেলো এবং খাবারের পর্ব শেষ করে রিদিতা মামুনিকে নাকি রেহেনা আফার অনেক পছন্দ তাই রিদিতা মামুনিকে নিলয়ের বউ করে নিয়ে যেতে চাই..! রেহেনা আফার কথা শুনে তার প্রতিউত্তরে আমি শান্ত গলায় বলাম
আফা আমি আগে আমার মেয়ের মত টা শুনি তারপর আপনাদের জানাচ্ছি এই বলে তাদের বাসা ত্যাগ বাসায় আসলাম। এখন বলো নিলয়ের সঙ্গে আমাদের রিদিতা মামুনিকে কেমন মানাবে (সফিক সাহেব তার পারভিনাকে উদ্দেশ্য করে বলল)
নিলয় তো দেখতে শুনতে ভালো কিন্তু তার আগে রিদিতাকে জানাও সে কি মত দেই (পারভিনা বেগম)
হ্যা ভালো একটা কথা বলছো। আগে রিদিতাকে বলতে হবে। (সফিক সাহেব তার স্ত্রী পারবিনার সঙ্গে এসব কথা আলোচনা করছে এরমধ্যে রিদিতা কলেজ থেকে ফিরলো। কিন্তু মুখ ভার করে। সফিক সাহেব তার মেয়ের মুখটা ভার দেখে বলে উঠলো
রিদিতা.... (সফিক সাহেব)
জি আব্বু বলো (রিদিতা)
মা আমরা একটা সিদ্ধান্ত নিতে চাচ্ছি কিন্তু এখানে তোমার মত লাগবে তাহলেই আমরা এবিষয়ে এগুতে পারবো (সফিক সাহেব)
আব্বু কি সিন্ধান্ত নিয়েছো (রিদিতা)
সিন্ধান্তটা হচ্ছে আমাদের রিদিতা মামুনি তো এখন অনেক বড় হয়েছে তারজন্য বিয়ের সম্মোধন আসছে। আর এখন তাকে বিয়ে দিয়ে আমাদের বাসা থেকে বিদায় দিতে চাচ্ছি ( সফিক সাহেব এক্টু বলে হেসে উঠলো)
সফিক সাহেব কথাটি হেসে খেলে বলেও রিদিতার মনে ইতিমধ্যে তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে।এমনিতেই কলেজের তানিশার কথা শুনে রিদিতার মন খারাপ হয়ে আছে এরমধ্যে আবার তার বাবা এসব বলছে।
রিদিতা নিজেকে সামলে নিয়ে তার বাবাকে
বলল
আব্বু তুমি যদি জোর করে কাউরো কাছে বিয়েটা দিয়ে দাও তাহলে তোমার মেয়েকে হারাবে এইটুকু মনে রেখো (রিদিতা এই বলে তার রুমে চলে গেলো
সফিক সাহেব তার মেয়ের কথা শুনে থতমত খেয়ে পারভিনাকে বেগমকে জিজ্ঞেস করলো..'
এই তোমার মেয়ের কি হয়েছে বলো তো
।আমি শুধু বিয়ে ব্যাপার এক্টু বললাম আর এতেই আমি নাকি মেয়ে হারাবো এটা কেমন কথা হ্যা (সফিক সাহেব)
আমার মনে হই রিদিতা কাউকে পছন্দ করে এর জন্য বিয়ের কথা শুনেই রিয়াক্ট করতে শুরু করেছে (পারভিনা বেগম)
হ্যা সেটাই হইত হবে (সফিক সাহেব কিছু চিন্তা করে বলল)
উপর দিকে
তানবীরের নতুন চাকরির সুবিধার জন্য তাকে অন্য জায়গায় চলে যেতে হচ্ছে
তানবীর ব্যাগে সবকিছু গুছগাছ করে নিচ্ছে সেটা দেখেই রনি বলে উঠলো
আরে দোস্ত সবকিছু এভাবে গোছগাছ করে নিচ্ছিস কেন (আমি)
দোস্ত আমার তো চাকরিটা হয়ে গেছে। তোকে কিছুদিন আগে যে চাকরির কথাটা বলছিলাম নাহ সে চাকরিটাই হয়ে গেছে এখন সেখানেই যেতে হবে (তানবীর)
সেখানে মানে কোথায় যাচ্ছিস (আমি)
চিটাগং। দোস্ত আংকেলকে তোর কথা বলছি তুই এখানেই থাকতে পারবি (তানবীর)
নিশ্চুপ (আমি)
আরে বন্ধু মন খারাপ করিস না। চাকরি জন্যই তো যেতে হচ্ছে তবে মাঝে মধ্যে তোর সঙ্গে ঢাকা এসে দেখে যাবো এখন আমাকে বাস স্টেশনে এগিয়ে দে (তানবীর হাতে ব্যাগ নিয়ে বলল)
মন্টা নিমিষেই খারাপ হয়ে গেলো। ঢাকা শহরে একটা মাত্রই বন্ধু পেয়েছিলাম আজ সেও চাকরি জন্য চলে যাচ্ছে।যার সঙ্গে সব কিছু সিয়ার করতাম আজ থেকে সেটা আর হবে না এসব ভাবতেই তানবীর কাধে হাত রেখে বলে উঠলো
কিরে দোস্ত যাবি না আমার কিন্তু দেরি হয়ে যাচ্ছে (তানবীর)
হ্যা হ্যা চাচ্ছি চল (এই বলে তানবীরকে বাস স্টেশনে নিয়ে গেলাম। তানবীরকে বাসে তুলে দিয়ে আসতে লাগলাম পিছন দিক থেকে তানবীর বলে উঠলো
দোস্ত ভালো থাকিস আর মাঝে মধ্যে ফোন দিস। ভুলে যাস না কিন্তু (তানবীর)
নারে দোস্ত তোকে ভুলবো না।তুইও ভালো থাকিস (এসব কথা শেষ করতে গাড়ি স্টার্ট দিলো তারপর তানবীরকে বিদায় দিয়ে বাসায় আসলাম। আরহী দরজার সামনে দাড়িয়ে থেকে বলতে লাগলো
তোর বন্ধু চলে গেলো তাহলে তুই কেন এ বাসায় আটকে গেলি। তুইও চলে যেতি তোর বন্ধুর সঙ্গে (আরহী)
আরহীর এমন ধারা কথা শুনে মনটা চাচ্ছে যে তার গালে কষে কয়েকটা থাপ্পড় মেরে দেই। কথায় আছে না সব চাওয়া পুরুন হই না। সেটা ভেবেই নিজের রাগ কন্ট্রোল করলাম। তারপর কোনো কিছু না বলে রুমে এক পা সামনে বাড়াবো এমন সময় আরহী পিছন দিক থেকে এমন একটা কথা বলল যেটা শুনে নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে না পেরে আরহীকে দেয়ালের সঙ্গে চেপে ধরে বলতে লাগলাম
!
!
(চলবে)
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!