Romantic Story - গল্পঃনির্দোষ পর্বঃ৯

গল্পঃনির্দোষ

লেখকঃরনি হাসান

Romantic Story - গল্পঃনির্দোষ পর্বঃ৯
Romantic Story - গল্পঃনির্দোষ পর্বঃ৯



পর্বঃ৯
আরহীর এমন ধারা কথা শুনে মনটা চাচ্ছে যে তার গালে কষে কয়েকটা থাপ্পড় মেরে দেই। কথায় আছে না সব চাওয়া পুরুন হই না। সেটা ভেবেই নিজের রাগ কন্ট্রোল করলাম। তারপর কোনো কিছু না বলে রুমে এক পা সামনে বাড়াবো এমন সময় আরহী পিছন দিক থেকে বললে উঠলো
এই সব ছ্যাচড়া লোকদের যতই বলি না কেন তারা কখনোই সেটা কানে নিবে না। যতসব ছ্যাচড়া আমার বাসায় থাকছে তোকে শেষ বারের মতো বলছি কালে যেনো আর এ বাসায় তোকে না দেখি (আরহী)
আরহীর এমন ধারা কথা শুনে নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে না পেরে আরহীকে দেয়ালের সঙ্গে চেপে ধরে বলতে লাগলাম
এই আপনার কি মাথায় সমস্যা আছে। চেনা নাই জানা নাই। অপরিচিত লোকদের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হই সেটা কি জানেন নাহ কেন আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছেন হ্যা। (রাগের কারনে আরহীকে দেয়ালের সঙ্গে হাতটি চেপে ধরাই তার হাত লাল হয়েছে সেদিকে কোনো ভ্রক্ষেপই নেই।
হাত টা ছাড় বলছি (আরহী)
আরহীর কথায় রাগের ঘোর কাটলো এবং সরি বলে রুমে চলে আসলাম। এতদিন তানবীর থাকাই কোনো সমস্যার সম্মোখিন হতে হইনি। আজ যেই তানবীর চলে গেলো এই সুযোগ আরহী দুর্ব্যবহার করতে শুরু করেছে। এখন এবাসা ছেড়ে দিলেও তো রাস্তায় থাকতে হবে।আবার এখানে থাকলেও আরহীর দুর্ব্যবহার৷ সহ্য করতে হবে। কি করবো কিছু বুঝতে পারছি না।
অপরদিকে আরহী অবস্থা
আরহী খেতে আই (আরহীর মা)
মা আজ আর খাবো না (আরহী রেগে)
আরহী রেগে বলাতে তার মা কিছুটা আচ করতে পারে বলে উঠলো
আরহী রেগে আছিস কেন কেউ কি কিছু বলছে তোকে (আরহীর মা জিজ্ঞেস দৃষ্টিতে)
মন চাচ্ছে অই বদছেলে কে গিয়ে খুন করে ফেলি।কতবড় সাহস আমার হাত চেপে ধরে রাখে এর প্রতিশোধ আমি ভালোভাবেই নিবো। এমন টর্চার শুরু করবো এবাসা থেকে দুই দিনেই পালিয়ে যেতে বাধ্য হবে (আরহী এসব মনে মনে ভাবতেই আরহীর মা বলে উঠলো
আরহী ঠিক আছিস মা (আরহীর মা)
হ্যা ঠিকই তো আছি (আরহী স্বাভাবিক হয়ে)
কখন থেকে কি যেনো ভেবে যাচ্ছিস কি ভাবছিস বলতো (আরহী মা)
কই কিছু নাহ তুমি খাবার রেডি করো গিয়ে আমি খেতে যাচ্ছি (আরহী বিষয়টাকে ধামাচাপা দিয়ে বলে উঠলো)
আচ্ছা ঠিক আছে খেতে আই (আরহীর মা এইটুকু বলে চলে গেলো)
আরহী এমনিতেই রনিকে সহ্য করতে পারে না।তার উপর আজ যে ঘটনা ঘটে গেলো। এতে তো আরহী আরও ক্ষেপে গেছে।
সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ মনে ছাদে গিয়ে কিছুক্ষন ঘুরে রুমে আসলাম। এবং কাল যে ঘটনা ঘটেছে। সেটা জন্য কেমন জানি অনুশোচনা হচ্ছে। আরহীর সঙ্গে কাল যা মিস বিহেব করেছি সেটা একদমই ঠিক করেনি।তাছাড়া আরহী বদমেজাজি খিটখিটে তা তো আর অজানা নাহ।তানবীরের সঙ্গে ও এই সেম ব্যবহারি করেছে। যাই হক আরহীর কাছে একসময়ে সরি বলে নিবো নে। এসব ভেবে খাবারের পর্ব শেষ করে রুমে তালা লাগিয়ে যখন বের হতে যাবো এমন সময় আরহী সামনে চলে দাড়ালো এবং তার হাত দুইটি পিছনে রেখে বলল
কই যাওয়া হচ্ছে শুনি (আরহী)
আজ হঠাৎ আরহীর ভালো ব্যবহার শুনে মন্টা নিমিষেই ভালো হয়ে গেলো। হাসি মুখে তার কথার উত্তর দিলাম
এই তো কাজে যাচ্ছি (আমি)
অহহ চাকর গিরি করতে যাচ্ছেন বুঝি (আরহী শয়তানি হাসি হেসে)
আরহীর এমন ধারা কথা শুনে নিজেকে অনেকটা অপমানিত হলাম।সাদ সকালে আরহী এমন অপমান করে কথা বলবে সেটা আমি কল্পনা ও করেনি। তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে আরহীর কথার দিলাম
কর্ম কোনোটাই ছোট না।তাছাড়া আমি যথেষ্ট সৎ টাকা উপার্জন করি। চুরি করি তো আর খাই না (আমি)
চুপ আরেক্টা কথা ও বলবি না। কালের ঘটনা কিন্তু আমি একটু ভুলেনি। তোর সাহস দেখে আমি সত্যি অবাক হয়ে গেছিলাম। আজ পযন্ত কেউ আমাকে স্পর্শ করতে পারেনি। আর তুই কিনা আমার হাত চেপে ধরে রেখে ছিলি (আরহী)
কালকের ঘটনার জন্য সরি। একে তো তানবীর চলে গেলো তারউপর আপনি আমাকে উল্টো পাল্টা কথা বলে রাগিয়ে দিলেন। তো রাগের ঘোরে এসব করে ফেলছি। সরি আমার ভুল হয়ে গেছে এখন প্লিজ সামনে না দাঁড়িয়ে আমাকে কাজে যেতে দিন (এই বলে চলে আসতে যাবে এরমধ্যে আরহী বলে উঠলো
এমন ভাব ধরে বলছিস যেনো অফিসে যাচ্ছিস। রেস্টুরেন্টে গিয়ে তো সারাদিন মানুষের চাকর গিরিই করবি (আরহী খুজা মেরে বলল)
নিশ্চুপ (আরহীর কথাতে অনেকটা অপমানিতই হলাম।মেয়েটা আমার পিছনে কেন যে লাগছে..
কিরে সত্য কথা বলছি দেখে গায়ে লাগছে (আরহী)
আপনি শুধু দেখতেই সুন্দর কিন্তু আপনার ব্যবহার এক্টু ভালো না। মানুষের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হই সেটা আপনি জানেনই না। আর হ্যা আপনি আমার সঙ্গে কথা বলবেন না। (এই বলে কাজে চলে গেলাম)
কাজ করে বাসায় রাতে ফিরলাম। রুমের তালা খুলে ফ্রেশ হয়ে কিছু নিজের খাবার জন্য ডিম বাজি করে যখন একলোক ভাত মুখে দিবো এমন সময় দরজার অপাশ থেকে টক টক আওয়াজ আসলো। তারপর খাওয়া বাদ দিয়ে দরজা খুলে আমি তো অবাক হয়ে আরহীর দিকে তাকিয়ে আছি... আজ প্রায় এখানে ৬ মাস এর মতো আছি কখনো আমার রুমে ধারের কাছেও আসেনি। বরং সবসময় আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছে আর আজ কিনা আমার জন্য টিফিন বক্সে খাবার হাত নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
অই হেলো আপনার জন্য মা খাবার পাঠিয়েছে এই নিন (আরহী টিফিন বক্সটি এগিয়ে বলল)
আপনি আমার জন্য খাবার নিয়ে আসছেন (আমি অনেক্টাই অবাক হয়ে বললাম)
হ্যা আমিই তো নিয়ে আসলাম (আরহী)
আপনি তো আমাকে দেখতেই পারেন না। তাহলে আজ হঠাৎ খাবার নিয়ে আসলেন তাই বলছিলাম আর কি (আমি)
এত কথা বলতে পারবো না। এখন আপনি কি নিবেন না নিলে বলেন চলে যায় (আরহী)
না থাক আন্টি যখন খাবার পাঠিয়েছেন তো দিয়ে যান (আমি)
এটা খেলেই বুঝতে পারবি কত ধানে কত চাল (আরহী খাবারের টিফিনটা হাতে বিড়বিড় করে বলল)
কিছু বললেন (আমি)
না কিছু না খেয়ে নিন ঠান্ডা হলে আর ভালো লাগবে না। সুতরাং এখনোই খেয়ে নিন (আরহী)
আচ্ছা ঠিক আছে (এই বলে খেতে শুরু করলাম খাবারের কিছুটা মুখে দিতেই মাত্রা ছাড়া ঝাল অনুভব করতে লাগলাম। মনে হচ্ছে মুখটা পুড়ে ছাই হয়ে গেলো। খাবারটা টেবিলে রেখেই ওয়াশরুম চলে গেলাম এবং অবিরাম পানি খেতে লাগলাম এভাবে কিছুক্ষন ওয়াশরুম থাকার পর বের হয়ে বিছানায় সুয়ে পড়লাম এরমধ্যে আরহী এসে বলতে লাগলো
কি খাওয়া শেষ (শয়তানির হাসি হেসে বলল)
আরহীর এই শয়তানি হাসি দেখে বুঝে ফেললাম যে কাজটা তারই । তারপরও আরহীকে বললাম
আন্টি মনে হই ঝাল এক্টু বেশিই দিয়ে ফেলছে (আমি)
ভুল ভাবছিস ঝাল তো আমি দিয়েছি। মা দেইনি (আরহী হেসে)
আমি আগেই সন্দেহ করেছিলাম কাজটা আপনারই হবে। আচ্ছা আমাকে একটা কথা বলুন তো আমার সঙ্গে আপনার কিসের শত্রুতা (আমি)
শত্রুতা শুধু তোর সঙ্গে না। এবাসায় যারা ভাড়া থাকবে তাদের সঙ্গেই এমন দুর্ব্যবহার করবো যাতে তারা এবাসা ছাড়তে বাধ্য হই। কিন্তু তোর সঙ্গে এত দুর্ব্যবহার করে তাড়ানো চেষ্টা করছি তারপর ও কেন যাচ্ছিস না বলতো (আরহী)
আর কটা দিন সময় দিন এখান থেকে সত্যিই চলে যাবো তার আগে আমাকে তো আরেকটা বাসায় উঠতে হবে। অলরেডি বাসা খুজার মিশন শুরু করে ফেলছি বাসাটা পেয়েই এখান থেকে চলে যাবো।তাছাড়া আমার ও এখানে ভালো লাগছে না আপনার এই দুর্ব্যবহার শুনে (আমি)
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এখন থেকে বিদায় হ নইত এমন দুর্ব্যবহার প্লাস অপমান করেই যাবো (আরহী এই বলে চলে গেলো)
এভাবে আরহী একেক সময় একভাবে আমাকে তাড়ানো চেষ্টা করেই চলছে। কিন্তু আমি তো যাচ্ছি না। প্রকৃত পক্ষে আরহীদের বাসায় থাকার ইচ্ছাটা একদমই নেই। তারপর ও আমাকে থাকতে হচ্ছে। বাসা পেলেই
চলে যাবো। আরহীর এই মিস বিহেব শুনতে আর ভালো লাগছে না
এভাবেই কেটে গেলো ৬টা মাস। একদিন বাড়িওয়ালা আংকেল এসে বলল
আমাদের বাসাতেই থাকছো অথচ তোমার সঙ্গে এক্টু আড্ডা দিবো তার সময়ও নেই। তুমি যখন আছো তখন আড্ডা দেওয়াই যাবে তার আগে একটা কথা তো তোমাকে বলাই হইনি (আংকেল)
কি কথা আংকেল (আমি)
কাল আরহীর জন্মদিন এই উপলক্ষে প্রত্যেক বছরই অনুষ্ঠান করে পালন করি তো এবার বছরেও কোনো ব্যতিক্রম করবো না ভাবছি।আর হ্যা তুমি কিন্তু অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পযন্ত থাকবে কেমন (আংকেল)
জি আংকেল অবশ্যই থাকবো (আমি)
একদিনেই পুরো বাড়িটা ডেকোরেশনের লাইটীং এর আলোই আলোকিত করে ফেলছে আর এইদিকেও আরেকটা বাসা পেয়েছি। তাই ভাবছি আরহীকে গিফটের সঙ্গে এটাও লিখে দিবো তাদের এখানে আর থাকছি না
জন্মদিনের দিন
আজ আরহীদের বাড়িতে আত্নীয়স্বজনে ভরে গেছে।সব জায়গায় আত্নীয় স্বজনে জমজমাট হয়ে আছে। আরহীকে আজ সাদা ড্রেসে সাদা পরীদের মতো লাগছে। ও এমনিতেই অনেক সুন্দরী তারউপর আজ এক্টু সেজেছে এতেই তাকে অনেক কিউট লাগছে।তো কিছুক্ষণ পর লক্ষ্য করলাম সবাই আরহীকে গিফট দিচ্ছে আরহী ও হাসি মুখে তাদের গিফট নিচ্ছে তো আমি গিয়ে গিফট টা আরহীর
হাতে দিয়ে বললাম এটা আপনার জন্য (আমি)
আমি কোনো ভাড়ায় টিয়াদের দেওয়া গিফট নেই না। (আরহী এই বলে সকলের সামনে গিফটি ফ্লোরে ছুড়ে ফেলে দিলো....
বাড়ি ভরতি মেহমান তারা সবাই আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে। আরহী এমন
কান্ডতে সবার সামনে আমাকে এভাবে ছোট করবে সেটা আমি কল্পনা ও করেনি ব্যস কোনো কথা না বলে আমার রুমে এসে সব কিছু গুজগাছ করে নিলাম। আর এখানে থাকা সম্ভব না। কাল সকালেই এবাসা ছেড়ে চলে যাবো।আরহী আমাকে তাড়ানো জন্যই তো এসব করছে। আমি বরং চলেই যাবো..?
!
!
(চলবে)
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!