Romantic - গল্পঃনির্দোষ লেখকঃরনি হাসান পর্বঃ৭

গল্পঃনির্দোষ
লেখকঃরনি হাসান

গল্পঃনির্দোষ  লেখকঃরনি হাসান  পর্বঃ৭
গল্পঃনির্দোষ লেখকঃরনি হাসান পর্বঃ৭



পর্বঃ৭
এই ছেলে তোকে ছাদে আসার পারমিশন কে দিয়েছে (বাড়িওয়ালার মেয়েটি রাগ করে বলে উঠলো)
পিছন ফিরে তাকাতেই আমার চোখ যেনো কপালে উঠে গেলো এতো দেখছি নির্ঘাত বলিউডের নাইকা। মনে হচ্ছে শুটিং বাদ দিয়ে এখানে অবসরে ঘুরতে আসছে....!!! তাহলে তানবীরের কথা ঠিক। ও যা বিবরণ দিয়েছিলো এখন তো দেখছি তার থেকেই বেশি সুন্দরী...
অই হেলো ছাদে আসার পারমিশন তোকে কে দিয়েছে শুনি (বাড়িওয়ালা মেয়েটি চিৎকার মেরে বলল)
বাড়িওয়ালার মেয়ের চিৎকার মেরে বলাতে নিমিষেই ভাবনার বিচ্ছেদ ঘটে গেলো। এবং তার প্রতি উত্তরে বললাম
জি ইয়ে মানে আমি এখানে নতুন ভাড়ায় টিয়া (আমি)
তো ছাদে কেন আসছিস (বাড়িওয়ালা মেয়ে)
নিশ্চুপ (আমি)
কি হলো কথা বলছিস না কেন (বাড়িওয়ালার মেয়ে)
সরি ভুল হয়ে গেছে আর ছাদে আসবো না (আমি)
আমাদের বাসায় ভাড়া থাকবি ভালো কথা। কিন্তু ভুলেও আমার পারমিশন ছাড়া ছাদে আসবি না কথাটি যেন মনে থাকে (বাড়িওয়ালার মেয়ে)
জি আচ্ছা মনে থাকবে (আমি)
তারপর ও খানে আর কোনো কথা বললাম না। আমার জীবনেই এই প্রথম একজনকে দেখলাম যে কারন ছাড়াই মিস বিহেব করলো। কি সাংঘাতিক মেয়েরে বাবা আমাকে চিনে নাহ জানে নাহ আর আমার সঙ্গে কিনা দুর্ব্যবহার করলো। না এই মেয়েটার কাছ থেকে দুরে থাকতে হবে নইত যে কোনো সময় অঘটন ঘটে যেতে পারে।
এইদিকে
তানিশার বাবা মা ও ভালো নেই। যাকে ছোট থেকে কোলে পিটে করে মানুষ করেছে।আর সে কিনা মান অভিমানে তাদের বাসা ছেড়ে চিরতরে চলে গেলো। এই বিষয়টা তানিশার বাবা মা কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছে না। তানিশাও বাড়িতে তার বাবা মার মুখে বিষন্নতার প্রতিছবি লেগেই থাকে দেখে মন খারাপ হবার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেটা অবশ্য তার নিজের অপরাধ বলে মনে করে। আজ এই পরিস্থিতি এমনটা হতো না। যদি সে অই সব গালি না দিতো। কি থেকে কি হয়ে গেলো। তানিশা কিছুই বুঝতে পারলো না। তবে তার ও এখন অনুশোচনা হচ্ছে কেন সে তার ভাইকে এসব বলতে গেলো
রিদিতার ফ্যামেলি তো ইতিমধ্যে রনিকে খুজতে শুরু করে ফেলছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য। তারা যখন বুঝতে পারছে নির্দোষ একজন মানুষ যে কিনা বিনা অপরাধে গ্রাম বাসীর সামনে অপদস্ত অপমান সহ্য করলো। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে সে তো অপরাধ করেই নি তারপর ও তাকে শাস্তি পেতে হলো
এটা যার সঙ্গেই হক না কেন।মেনে নিবার কোনো ভাবেই সম্ভব ছিলো না। কিন্তু রনি তো পরিস্থিতির স্বীকার তার কথা তো তখন গলা ফাটিয়ে বললেও কেউ শুনতো না।
যখন গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে গেলো। তখন তাদের সামনে সত্যটা প্রকাশিত হলো। সত্যটা জানার পর রিদিতা সহ তার পরিবার অনেকটাই লজ্জিত আর অনুতপ্ত। অনুশোচনায় বার বার বিবেকে নাড়া দিয়ে উঠছে তাদের । কিন্তু তাদের এই অনুশোচনা এবং অনুতপ্ত সেটা এখন মুল্যহীন আবেগ ছাড়া কিছু নাহ।
এবার গল্পের বর্তমানে ফিরা যাক
দোস্ত বাড়িওয়ালার মেয়ের নাম টা কি বলতো (তানবীরকে উদ্দেশ্য করে বললাম
বাড়িওয়ালা মেয়ে নাম শুনে তুই কি করবি (তানবীর)
আরে ভাব ধরছিস কেন বলতে বলছি বল (আমি)
বাড়িওয়ালার মেয়ের নাম হচ্ছে আরহী এবার ইন্টার দ্বিতীয় বর্ষ পড়ছে (তানবীর)
দোস্ত তুই যা বলছিস একদম রাইট। দেখতে কিন্তু বলিউডের নাইকাদের ও হার মানাবে কিন্তু তার আচরণ একটুও ভালো না।বিকালে একটু ছাদে ঘুরতে গেলাম তো আরহী আমার সঙ্গে এমন দুর্ব্যবহার করলো দোস্ত যা বলার মতো না (আমি)
আগেই বলছিলাম বাড়িওয়ালা মেয়ে মানে আরহীর সামনে পড়িস না। মেয়েটা কোনো ছেলেই কে সহ্য করতে পারে না। আমিই তো আজ প্রায় ৩ - ৪ মাস এখানে আসছি ভুলেও তো তার সামনে পড়ি না।আরহীর বিষয়ে আংকেল আমাকে আগেই বলছে। আচ্ছা বাদ এসব কথা একটা কাজের কথা ছিলো তোর সঙ্গে (তানবীর)
কি কাজের কথা বল.?(আমি)
ঢাকা শহরে চলতে গেলে টাকার প্রয়োজন কিন্তু তুই যদি কোনো কিছু না করিস তাহলে থাকা খাওয়া কোনোটাই হবে না।তাই বলছিলাম যে কোনো একটা চাকরির ব্যবস্থা কর। নইত আমার সঙ্গে পার টাইম জব করতে পারিস সেটাতেই তোর খাওয়া থেকে শুরু করে বাড়ি ভাড়া পড়াশোনার খরচ ভালোই চলবে (তানবীর)
দোস্ত আমার কোনো সমস্যা নাই। তাছাড়া তুই যে জব করছিস সেটাতে আমার ভাবাভাবির কোনো বিষয় নেই তুই চাইলে কালকেই আমাকে জবে জয়েন করিয়ে দিতে পারিস (আমি)
দোস্ত কিছু মনে করিস না। আসলে আমার সমার্থ নেই যে তোকে কদিন এমনি খাওয়াতে পারবো। এর জন্য বাধ্য হয়ে চাকরির কথাটা বলতে হলো তুই আবার কথাটাকে অন্যরকম ভাবে দেখিস না প্লিজ (তানবীর নিজেকে কিছুটা নিচ মনে করে বলল)
আরে দোস্ত কিসব আবুল তাবুল বলছিস
তুই যে আমার জন্য যতটুকু করেছিস এতেই অনেক। তাছাড়া বাস্তবতা কি জিনিস তা আমি ভালো করেই জানি। তুই আমাকে পার টাইম জব নিয়ে দিতে চেয়েছিস এতেই অনেক।এছাড়া আমাকে ও তো কদিন পর এমনি চাকরি করতে হতো (আমি)
আচ্ছা আমি তাহলে বসকে ফোন করে তোর চাকরিটা বিষয়টা কনফার্ম করছি (তানবীর এই বলে ফোন বাহিরে নিয়ে চলে গেলো কিছুক্ষন কথা বলে এসে বলল
দোস্ত নো টেনশন তোর চাকরি হয়ে গেছে। আর হ্যা কালকে গিয়ে কলেজে এডমিশনটা করিয়ে নিবি কেমন (তানবীর)
ধন্যবাদ বন্ধু.." আমি আসলে কল্পনা ও করেনি ঢাকা শহরের অসময়ে এসে এড লিস্ট তোর কাছে এতটা হেল্প পাবো।বাড়ি থেকে রাকিবের কথা ভেবে ঢাকায় রওনা দিয়েছিলাম এবং তার ও খানে গিয়েছিলাম সে আমাকে আদর যত্নে করে খাওয়া দাওয়া করালেও যখন বললাম তোর এখানে দুইটা দিন হইত থাকতে হবে।বেস রাকিরের স্ত্রী আমার কথা শুনে। রাকিবকে কি যেনো একটা ইশারা করলো তখন রাকিব নিমিষেই তার রং পাল্টাতে লাগলো এবং আমাকে তাড়ানো বিভিন্ন রকমের বাহানা করলো। আমি ও তো আর ছোটবাচ্ছা না যে তার ইশারা করে কি বলল সেটা বুঝবো না। তারপর ওখানে থেকে বাহিরে চলে আসলাম। রাস্তায় ফূতফাতে দুইটা দিন নির্ঘুমে কাটাইতে হইছে।কারো কাছে যাওয়ার মতো কোনো রাস্তায় ছিলো না। একা একজনকে কেউ বাসা ভাড়া দিতে চাইনি তারপর তোকে দেখে এক বুক আশা নিয়ে সবটাই যখন তোকে বললাম সেটা শুনে তুই ঠিকই আমার পাশে এসে দাড়ালি। ঢাকা শহরের উপকার করলে একমাত্র তুই করেছিস। তোর এই উপকারের কথা আমি জীবনেও ভুলবো না দোস্ত (এইটু বলে থেমে গেলাম)
আরে সবাই কি বন্ধুর বিপদের পাশে থাকতে পারে..? পারে না তারা শুধু সুসময়ে বন্ধু। আজ তোর সময় ভালো সব বন্ধুই তোর পিছনে ঝুকে পড়বে। যখন কোনো বিপদের সম্মোখিন হবি তখন বুঝতে পারবি কে তোর আসল বন্ধু। তাছাড়া রাকিবের বিষয়ে যে কথা গুলো বললি এটা নতুন কোনো বিষয় না আসলে এই ঢাকা শহরের মানুষজন তারা আত্মীয়স্বজনরা তাদের বাসায় থাকবে তারা সেটা আশা করে না। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদের কে ভালো মন্দ খাইয়ে বিদায় করে দেই। তোর বেলা তাই হয়েছে। আচ্ছা যাই হক এখন রাত প্রায় ১০ টা বাজতে ১০ মিনিট বাকি খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড় (তানবীর)
ওকে দোস্ত (আমি)
তারপর রাতের খাবাবের পর্ব শেষ করে ঘুমাতে গেলাম।চোখটা বন্ধ করলেও ঘুমের কোনো ভ্রক্ষেপই নেই। বার বার শুধু কাকাই কাকিমা তানিশা তাদের কথা খুব মনে পড়ছে। ছোট থেকে তাদের ওখানে মানুষ হয়েছি কখনো বুঝতেই দেইনি আমি এতিম। যখন তানিশা বলল আমি তাদের রক্তের কেউ না। কথাটা শুনে নিমিষেই সব কেমন জানি উল্টো পাল্টা হয়ে গেলো। তানিশা কথাটা কি আদোও সত্যি বলছে নাকি মিথ্যা..?
মিথ্যা হতে যাবে কেন..? কাকাই তো আর মিথ্যা বলবে না। তাছাড়া এতদিন ভেবে আসছিলাম তারা আমার আপন কাকা কাকিমা কিন্তু ভাগ্যের কি পরিহাস সবটাই যেনো স্বপ্নের মতো বদলে গেলো।ভালো থেকো তোমরা। তোমাদের আমি আমার বাবা মা মতোই ভালোবাসি। আর হইত তোমাদের ওখানে যাবো না। এসব ভেবে কখন যে ঘুমিয়ে পড়ছি তা নিজেও জানি না
সকালে ঘুম ভাঙালো তানবীরের ডাকে
দোস্ত উঠ রেডি হয়ে নে বস ফোন করেছিলো আজকেই তোকে নিয়ে যেতে বলছে (তানবীর)
ওকে রেডি হচ্ছি (তারপর তানবীর সঙ্গে চলে গেলাম নতুন চাকরিতে লক্ষ্য করলাম অনেক বড় একটা রেস্টুরেন্ট এখানে সাধারণত বড়লোকই আসে রেস্টুরেন্ট দেখেই বুঝাচ্ছে। তানবীর একটা ভদ্রলোক লোকের সঙ্গে চাকরির ব্যাপারে কথা বলল অই লোকটা ও আমাকে চাকরি দিতে অমত পোষণ করলো না। চাকরিটা হয়ে গেলো। মাস শেষে স্যালারি নিধারিত করলো ১৫ হাজার টাকা এদিয়ে মাশাল্লাহ আমার ভালোই চলবে কোনো অসুবিধা হবে না। তানবীরকে আরেক বার ধন্যবাদ দিয়ে বললাম
দোস্ত চল আজ হাজীর বিরিয়ানি খাবো (আমি)
আমার কাছে টাকা নাই আরেকদিন খাওয়ামুনে (তানবীর)
আরে ধুর আমি তোকে খাওয়াবো। হাজার হক চাকরি নিয়ে দিলি ট্রিট তো তোর একটা প্রাপ্যই আছে চল (রাতে বাহিরে খাবার খেয়ে বাসার উদ্দেশ্য রওনা দিলাম গেটে আসতেই লক্ষ্য করলাম থালা ঝুলানো
এটা দেখেই রীতিমতো অবাক হয়ে তানবীরকে জিজ্ঞেস করলাম....?
!
!
(চলবে)
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!