Rommo Golpo - বয়ফ্রেন্ড (রম্যগল্প)

Rommo Golpo - বয়ফ্রেন্ড (রম্যগল্প)


Rommo Golpo - বয়ফ্রেন্ড (রম্যগল্প)
Rommo Golpo - বয়ফ্রেন্ড (রম্যগল্প)


পাশের বাসার ১০ বছরের ছোট্ট কিউট মেয়েটি ইদানিং আমার দিকে এমনভাবে তাকিয়ে থাকে যেন সে সিনেমার হিরোইন, আর আমি হিরো ৷ হিরোকে প্রেমের ফাঁদে ফেলতে এভাবে প্রেমময়ী দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে! 

ভাবলাম পিচ্চি মেয়েটা কি মনে করে যে তাকিয়ে থাকে কে জানে? গোধূলি লগণ তাই ছাদে দাঁড়িয়ে গুণগুণ করে গান গাইছি আর ফেসবুকিং করছি ৷ হঠাৎ পিচ্চি মেয়েটা আমার পাশে এসে দাঁড়ালো ৷ ধীরে ধীরে আমার গায়ের সাথে ঘেঁষে দাঁড়ানোর চেষ্টা করল ৷ কিছুই বললাম না তাকে ৷ হঠাৎ সে নিজেই বলে উঠল,

----ভাইয়া, তোমাকে আমার ভাললাগে ৷ তোমাকে আমার বয়ফ্রেন্ড বানাবো! 

.

ছোট্ট মেয়েটার কথা শুনে বুকের ভেতর হাতুড়ি দিয়ে পিটাচ্ছিল কে যেন? মনে হলো আকাশে প্যারাস্যূট আর পাখা ছাড়াই উড়ছি, উড়তে উড়তে আকাশ ছুঁয়ে ধপাস করে মাটিতে পড়ে গেছি ৷ আরেকটু হলে হাত পা ভেঙ্গে বয়রা হয়ে যেতাম, তখন মেয়েটার একটা কথাও আর শুনতে পারতাম না! 

অবাক যতটা হলাম তারচেয়ে বেশি হাসি আসছিল ৷ যা পেটের ভেতরে চেপে রাখলাম ৷ পিচ্চি মেয়েটার লাল টুকটুকে গাল দুটো টিপে দিয়ে মুখে চাপা হাসির রেখায় বললাম,

-----কিন্তু আপু তুমি জানো আমি তোমার কত বড়? আমার সাথে তোমার প্রেম সম্ভব নয় ৷ তুমি বড় হও তারপর প্রেম করব! 

.

মেয়েটা চেঁচানো স্বরে বলল,

-----উহ, তুমি লম্বা ৷ এজন্য বড় বড় লাগে ৷ আসলে তো আমি তোমার চেয়ে একটু খানি ছোট, বেশি ছোট না ৷ বিশ্বাস না হলে আপুকে বলো ৷ আর গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ডের চেয়ে ছোটই হয়! 

.

এই মেয়ে তো কথাবার্তায় দারুণ চালু ৷ একে কথাতে কাবু করা যাবেনা ৷ তাকে নরম গলায় বললাম,

-----তোমার সাথে প্রেম করব ৷ এতে আমার একটা উপকার করে দিতে হবে ৷ দিবা?

.

খুশিতে পুলকিত হয়ে এক গাল হাসি হেসে বলল,

-----কি উপকার বলো? তোমার জন্য সব করবো!

-----তোমার আপুর নিকট আমার লেখা চিঠিগুলো পৌঁছে দিবে ৷ কি পারবেনা? 

----পারবো ৷ কিন্তু শোনো, ওগুলো কি লাভ লেটার? আপুকে চিঠি দিবে কেন? তার সাথেও কি প্রেম করবা? প্রেম করলে কষ্ট পাব! 

-----আচ্ছা তুমি এতো প্রেমের কথা জানো কেমনে? 

-----কেন জি বাংলা, স্টার জালসা, স্টার প্লাসে কত প্রেমের নাটক হয় ৷ তুমি দেখোনা? ঐ নাটকের হিরোদের মত তোমাকে দেখতে লাগে! তাইতো তোমার সাথে প্রেম করতে চাচ্ছি! জানো তোমার হাসিটা না অরণ্যের (ইয়াশ) মত লাগে! 

.

সেইরকম হাসি আসতে লাগলো ৷ কিন্তু হাসতে পারলাম না ৷ হাসলেই কঠিন কঠিন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হবে! 

তাকে বললাম,

-----ওকে আজ থেকে আমরা প্রেমিক প্রেমিকা, ওকে? কিন্তু আমি যা বলবো তাই করতে হবে! 

-----ওকে করবো ৷ এখন আমি যাই, রাত হয়ে যাচ্ছে ৷ আপু দেখলে বকে দেবে! 

.

পরেরদিন পিচ্চি মেয়ে সিমির হাতে চিঠি দিয়ে বললাম,

-----এটা তোমার আপুকে দিবে! 

সে মিষ্টি হেসে বলল,

------আচ্ছা! এখন আমার হাতটা ধরে হাঁটো! 

-----ওকে লক্ষ্মী বাবুটা! 

.

কিছুক্ষণ হাঁটার পর সিমি তার বোনের নিকট চিঠি নিয়ে গেল! 

.

পরেরদিন সিমির বোন চিঠির জবাব দিলো, সেটা চিঠির মাধ্যমেই ৷ আর চিঠিটা সিমিই এনে আমাকে দিলো ৷ 

.

এভাবে টানা ১ মাস চিঠি আদান প্রদানের মাধ্যমে সিমির বোন অধরা আমার প্রেমে ধরা দিলো! চলতে লাগলো প্রেম! 

এদিকে আমার ছোট ভাইটা যখন গ্রাম থেকে শহরে এলো ৷ তখন সিমি তাকে দেখে তার পিছু নেওয়া শুরু করলো ৷ ছোট ভাইটার নাগাল না পেয়ে সিমি আমাকে বলল,

----শোনো তোমার সাথে ব্রেকআপ ৷ এখন আমি তোমার ছোট ভাইয়ের সাথে প্রেম করবো ৷ তুমিই পারো তার সাথে প্রেম করিয়ে দিতে! 

.

সিমির কথা শুনে হাসিও আসছিল কান্নাও আসছিল,কিন্তু ঠিক কোনটা আগে করবো বুঝতেছিলাম না ৷ পরে দুটোই পেটের ভেতর চেপে রেখে সিমিকে বললাম,

-----এভাবে প্রেম করে ব্রেকআপ করা কোথা থেকে শিখলে? 

সিমি মুখ বাকা করে বলল,

-----কেন? স্টার জালসা, জি বাংলা থেকে! 

-----খুব ভাল ৷ আর আমি চেষ্টা করবো আমার ভাইয়ের সাথে তোমার প্রেম করিয়ে দিতে! 

.

সিমি এটা শুনে গান গাইতে গাইতে চলে গেল! 

.

এদিকে আমার আম্মা অধরার সাথে প্রেমের ঘটনা জানতে পেরে বিয়ের প্রস্তাব পাঠালো অধরার বাবা, মায়ের নিকট! 

তারা প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেল! 

বিয়ের দিন ঠিক করা হলো! 

বিয়ের দিন সিমি আমার ছোট ভাইটার পিছু খুব ঘুরঘুর করছিল ৷ কিন্তু ছোট ভাইটা পিচ্চি ভেবে তাকে এড়িয়ে চললো ৷ যখন সিমি দেখলো আমার ভাই ফোনে একজনের সাথে রোমান্টিক কথা বলছে তখন সে কাঁদতে কাঁদতে আমার কাছে এসে বলতে লাগল,

-----আমি তোমার ভাইয়ের সাথে প্রেম করবনা ৷ আমি তোমার সাথে প্রেম করব ৷ আমরা Patch Up করব রিলেশনের ৷

.

এতটুকুন মেয়ের মুখে এত কঠিন কথা শুনে হতভম্ব হয়ে গেলাম ৷ তাকে বললাম,

-----এটাও কি স্টার জালসা থেকে জানছো?

সিমি বলল,

-----নাহ, আমার বান্ধবীরা আছে না? ওদের থেকে!

.

হাসতেই হলো ৷ খিলখিল করে হাসলাম আর মনে মনে বললাম কি যুগ আইলোরে ৷ সিমি দেখি রাগে ফুলছিল ৷ তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললাম,

---- ওকে যাও আমরা Patch Up করলাম! 

.

অধরাকে বিয়ে করে আনলাম!

এদিকে রাত ১০ টা পার হয়ে গেছে ৷ অধরাকে নিয়ে বাসর ঘরে গল্প করছি ৷ হঠাৎ উচ্চ আওয়াজে কার যেন কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলাম? বুঝতে পারলাম সিমি কান্নাকাটি করছে ৷ যখন আমার নিকটে এলো তখন আমার শ্বাশুরি আম্মা দরজায় কড়া নেড়ে বলল,

----অধরা দরজাটা খোল, দেখ সিমি কি পাগলামী শুরু করে দিয়েছে?

.

অধরা দরজাটা খুলে দিলো ৷ সিমি আ আ আ করে কাঁদতে কাঁদতে বলছিল,

-----আপু তুমি আমার বয়ফ্রেন্ডকে কেড়ে নিয়েছো কেন বলো? আমি আমার বয়ফ্রেন্ডের সাথে থাকবো আজ! 

.

অধরা আমার দিকে হিংস্র বাঘিনীর মত রুপ নিয়ে চোখ দুটো শিকারী টাইপের বানিয়ে তাকিয়ে রইলো ৷ এরপর আমার কাছে এসে বলল,

-----ওকে লাই দিয়ে দিয়ে এতদূর পর্যন্ত নিয়ে আসছো? সব দোষ তোমার ৷ নাও ওর সাথেই থাকো তুমি ৷ আমি গেলাম!

তোরজোর করে অধরাকে বললাম,

----তুমি কি পাগল হলে বাচ্চা একটা মেয়ে, তার সাথে এমন কোনো আচরণ করা ঠিক না যাতে সে কষ্ট পায় ৷ সে এমনটা করছে ইন্ডিয়ার সিরিয়ালের প্রভাবে ৷ কয়েক বছর পরই সব ঠিক হয়ে যাবে! 

.

শ্বাশুরি আম্মা চলে গেলো ৷ সিমির কান্না থেমেছে ৷ এবার সে জোর গলায় বলল,

----তোমরা কিসের ঘুজুরঘুজুর আলাপ করো? আপু সরো আমি বয়ফ্রেন্ডের সাথে থাকবো! 

.

সিমিকে মাঝখানে রেখে শুয়ে পড়লাম ৷ অধরা আর আমি পালাক্রমে সিমির মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে গান শুনাতে লাগলাম ৷ একসময় সে ঘুমিয়ে গেলো! 

অধরাকে বললাম,

----চলো আমরা নিচে শুয়ে পড়ি!

সে বলল,

----সিমি জাগলে তখন?

----কিছুই হবেনা! 

.

মেঝেতে অধরাকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে শুয়ে পড়লাম!

১ ঘন্টা পর জোরেসোরে চিৎকার মেরে উঠলো সিমি ৷ সে হো হো করে কাঁদতে কাঁদতে বলছিল,

-----আমার বয়ফ্রেন্ড কই গেল? ও মা আমার বয়ফ্রেন্ড কই গেল? তোমার বড় মেয়ে আমার বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে ভেগে গেছে! 

.

অধরা কথাবার্তা নেই, তার দিকে চেয়ে দেখি সে বেহুশ! 

.

বয়ফ্রেন্ড (রম্যগল্প)

♥আরিয়ান খান

পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!