Sad Love - প্রতারকের চোখে অশ্রু মানায় না

Sad Love - প্রতারকের চোখে অশ্রু মানায় না



নুসরাতের দেয়া পাঞ্জাবিটা পড়ে আমি ঈদের পরের দিন শিফার সাথে ঘুরতে বের  হয়েছিলাম।
এক ফাঁকে নুসরাতকে লিখলাম" মিস ইউ বেবী"
নুসরাত কোন উত্তর দিলো না।


Sad Love - প্রতারকের চোখে অশ্রু মানায় না

Sad Love - প্রতারকের চোখে অশ্রু মানায় না 





কিছুদিন আগে নুসুকে মেসেঞ্জারে আবার নক করে বললাম, "তুমি কবে আসবে নুসরাত? তোমাকে ছাড়া ঢাকা খালি খালি লাগে। একা লাগে আমার। তুমি দ্রুত চলে আসো। ভালো লাগেনা তোমাকে ছাড়া "
নুসরাত প্রায় ৬ ঘন্টা পর রিপ্লাই দিলো, "হুম।"
সাথে অনেক গুলো "হাহা রিয়েক্ট"
আমার বুকের ভেতরটা ফুটানো ফেলুনের মত চুপছে গেলো। নুসরাত ইদানীং এমন কেন করছে? এ কেমন রিপ্লাই দিলো নুসরাত!
সাথে সাথেই রিহাকে নক করলাম, "চলো কাল ঘুরতে বের হই, তোমার সাথে ঘুরার জন্যে মনটা কেমন আনচান করতেছে!"
রিহা রিপ্লাই দিলো, " ঠিক আছে বাবু, কাল বিকেলেই আমি বের হবো সোনা। কোথায় যাবা আমাকে নিয়ে বাবু?"

-"তোমাকে নিয়ে চান্দের দেশে ঘর বানাবো। সেই ঘরে দুইজন মিলে থাকবো। আমাদের অনেক গুলো বাচ্চা-কাচ্চা হবে। ওরা চারদিকে ঘুরাঘুরি করবে। মাঝে মাঝে দুষ্টমি করলে তুমি ধমক দিয়ে থামিয়ে দিবা।"
রিহা কথা থামিয়ে দিয়ে বাচ্চা সুলভ আচরণ করে জানতে চাইলো, "চান্দের দেশে কি আইসক্রিম পাওয়া যাবে? আমি আইসক্রিম কোথায় পাবো সেখানে বাবু?"
- স্পেস যান দিয়ে তোমার জন্যে আইসক্রিম পাঠিয়ে দিবে"
কাল না হয় রিহার সাথে ডেটিংয়ে গেলাম। কিন্তু নুসরাত কেন আমার সাথে এমন আচরণ করছে? নুসরাতের প্রতি রাগে সমস্ত শরীর লাল হয়ে উঠছিলো বার বার। নুসরাতের জন্যে একদিকে রাগ অন্যদিকে ভালোবাসায় অশ্রু টলমল করতে লাগলো আমার।

নুসরাতের সাথে আমার সম্পর্ক ৪ বছরের। এই চার বছরে আমি ৬টা নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছি। যখনই নুসরাত জানতে পারতো আমার একেকটা নতুন সম্পর্কের কথা তখনই ভীষণ কান্না করতো। আমি বলতাম ওসব হলো আবেগ, বাস্তব হলে তুমি। তুমি হলে মূল ওসব হলো আগাছা। আমি মুহুর্তেই নিড়ানি দিয়ে ওসব পরিষ্কার করে ফেলতে পারি। এরকম একশোটা ভুলভাল গল্প বানিয়ে নুসরাতের বরফ শীতল মন আমি উষ্ণ মিথ্যে দিয়ে গলিয়ে দিতাম। কিন্তু আজ কেন নুসরাত আমার সাথে এরকম ব্যবহার করছে?

কলিজায় পানির বদলে রক্ত শূন্যতা হয়ে যাচ্ছে আমার।
মন খারাপ করে জানালায় হাত দিয়ে সামনের বিল্ডিংয়ের বারান্দায় নিশ্চুপ হয়ে তাকিয়ে আছি। এমন সময় জিন্নাতের মেসেজ, "বাবু কোথায় তুমি, একটু লাইভে আসবে? কব্বে থেকে তোমাকে দেখিনা।"
আমি মেসেজটা সীন করে মোবাইলটা আবার পকেটে রেখে দিলাম। জিন্নাত আমার ৩ নাম্বার প্রেমিকা। প্রতিদিন মিথ্যে বলে বলে এই মেয়েটাকে কাছে টেনে রাখছি। ওর সুন্দর চেহারা আমাকে খুব টানে। কিন্তু আজ কেন যেন টানছে না। 
সন্ধের আলো ঘনিয়ে এলো। রিহা, জিন্নাত, শিফা, বৃন্তি সবাই আমার জন্যে ফেসবুকে অপেক্ষা করছে। প্রেমিকের জন্যে অপেক্ষা।

কিন্তু জানালা থেকে উঠে দাড়ালাম না।
আমার জীবন, মন, শরীর এবং শরীরের প্রত্যেক শিরা উপশিরা আজ নুসরাতের অভাব অনুভব করছে।
"তুমি চাকরিটা কবে নিবে নীলু? পড়াশোনাটা করো, পাব্জি ছেড়ে দাও" এরকম হাজারটা বাস্তব মুখী কথায় নুসরাত আমার সমস্ত দিনটা অতিষ্ঠ করে তুলতো। কিন্তু আজ নুসরাত কেন এরকম ব্যবহার করছে?

রাত যত গভীর হতে থাকে ততবেশি নুসরাতের সাথে সম্পর্কের প্রাথমিক সময় গুলো আমার মনে পড়তে থাকলো। দ্বিতীয় সেমিস্টারে পরীক্ষার জন্যে সবাই ফর্ম ফিলাপ করলেও আমি ফর্ম ফিলাপ করতে পারিনি। বন্ধুরা মাঝেমাঝে জিজ্ঞেস করলে বলতাম পরে করবো। কিন্তু এক সময় ফর্ম ফিলাপের ডেট পার হয়ে যায়। স্যার একদিন ডেকে পাঠালেন, আমি স্যারের রুমে ঢুকতেই দেখি নুসরাত দরজায় দাড়ানো স্যারের অনুমতির অপেক্ষায় আছে। স্যার আমাকে জিজ্ঞেস করলেন "তোমার সমস্যা কি, ফর্ম ফিলাপ এখনো করছোনা কেন? আমি মাথা নিচু করে বসে থাকলাম বেশ কিছুক্ষণ। হঠাৎ বাবার ফোন আসায় স্যারের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে সোজা হসপিটালে চলে গেলাম। বাবার অপারেশনটা হওয়ার কথা ৩ সাপ্তাহ আগে। কিন্তু টাকা যোগাড় করতে দেরি হওয়ায় আরও দুই সাপ্তাহ পেছালো। হসপিটালের বিছানায় শুয়ে থাকা বাবার দিকে তাকিয়ে আমার বলার সাহস হয়ে উঠেনি " বাবা সেমিস্টার ফী লাগবে"।
পরেরদিন সকালে নুসরাতের ফোন "তুমি ফর্ম ফিলাপ করলেনা কেন নীলু? আমি স্যারের সাথে কথা বলেছি। তুমি জরিমানা না দিয়ে এখনো ফর্মটা ফিলাপ করতে পারবে।"


সেদিন নুসরাতকে আমি আমার পারিবারিক সব সমস্যার কথা বলেছিলাম। এবং সেমিস্টার পিছানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি বলে জানিয়ে দিলাম।
নুসরাত পরের দিন ইমার্জেন্সি ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্যে ফোন করলো। আমি ক্যাম্পাসে যেয়ে দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ নুসরাত আমায় আলাদা ঢেকে নিয়ে এক মুঠো টাকা দিয়ে বললেন, "ফর্ম ফিলাপ করো, হাওলাত দিলাম। দয়া বা করুনা নয়। অবশ্যই আমার টাকা ফেরত দিবে কিন্তু"
সেই সময় থেকে আজ চার বছর। এরকম অনেক ঘটনা আছে। কিন্তু নুসরাত এখনো সেই সেমিস্টারের টাকা ফেরত নেয়নি। যখনই ফেরত দিতে যাই, বলে চাকরি পেয়ে প্রথম বেতনের টাকা দিয়ে বাবা মায়ের জন্যে ভালো কিছু কিনবে। পরের মাসে টাকায় এই ঋণ পরিশোধ করবে।


আজ আমি সেই টাকা নিয়ে নুসরাতের জন্যে অপেক্ষা করছি। কিন্তু নুসরাত আমার ফোনের, মেসেজের কোন রিপ্লাই দিচ্ছে না। ভেতরটা কেমন স্বশব্দে চিৎকার করে উঠছে বারবার।
ভাইব্রেট করা মোবাইল পকেটে হঠাৎ কেঁপে উঠলো। পকেট থেকে বের করে দেখি রিহা ফোন দিচ্ছে। ফোন রিসিভ করলাম না। এসএমএস করলো, "তুমি আজ ফেসবুকে আসছোনা কেন বেবী?"
পৃথিবীর সমস্ত রিহাদের উপর আমার প্রচন্ড রাগে চোখ দুটো লাল বর্ণ হয়ে উঠলো। আমি নুসরাতকে চাই। শরীরের সমস্ত রক্ত বিন্দু দিয়ে হলেও নুসরাতকে চাই।
কিন্তু নুসরাত কেন এমন করছে?
রোজার ঈদে নুসরাতে দেয়া পাঞ্জাবিটা পড়ে ঈদের পরের দিন শিফার সাথে ঘুরতে বের হয়েছিলাম। এক ফাঁকে নুসরাতকে এসএমএস লিখলাম "তোমায় খুব মিস করছি"।
এদিকে শিফা বারবার জিজ্ঞেস করে, " আমায় ভুলে যাবেনা তো?"
-কক্ষনোনা বেবি, কক্ষনোনা।

এভাবেই প্রত্যেকবার, প্রত্যেক মুহুর্তে আমি নুসরাত নামের অবলাটাকে ঠকিয়েছি। অথচ আজ কি ভীষণ দরদে আমার ভেতরটা বার বার ফুপিয়ে উঠছে!
নুসরাতের স্কুল জীবনের বান্ধবী লিমাকে ফোন দিলাম।  
ঘটনা শোনে আমার ভেতরকার  আমিত্বকে পাপে পূর্ণ এক মূর্তি মনে হতে থাকলো আমার। রোজার ২৩ তারিখে আমি আর নুসরাত শপিং করতে বের হয়েছি। আমার নতুন কেনা এন্ড্রয়েড ফোনটা দেখে নুসরাতের দারুন পছন্দ হয়। বার বার ফিংগার প্রিন্ট লকে চাপ দিয়ে লক খুলতে চেষ্টা করেও সে পারছে না। আমি তার আঙ্গুলের প্রিন্ট মোবাইলে সেটাপ করে দিয়ে দেই। বার বার সে একবার লক করে, আবার খুলে। শপিংয়ের চেয়ে এতেই যেন তার বেশি মজা।


আমি হঠাৎ ফোনটা ওর হাতে দিয়ে ওয়াশরুমে যাই। এই ফাকে নুসরাত মোবাইলের লক খুলে আমার মেসেঞ্জারে যেয়ে দেখে রিহা, জিন্নাত আর শিফাদের দিয়ে আমার মেসেঞ্জার ভরা।
ভেতরে সেদিনের সেই কষ্ট নুসরাত লোকিয়ে রেখেছিলো।
নুসরাতের কাছে ফাস হয়ে যাওয়া আমার সকল স্কেন্ডাল নুসরাতকে ধীরে ধীরে মেরে ফেলতে লাগলো।
যাবার বেলায় নুসরাত মনে মনে শপথ করেছিলো "প্রতারকের কাছে কোন দিন ফিরব না, এমনকি মৃত্যু হলেও না"

নুসরাতকে দেয়া চার বছরের সকল মিথ্যে প্রতিশ্রুতি গুলো অশ্রু হয়ে চোখ দিয়ে বেড়িয়ে আসতে লাগলো। আমি হাত দিয়ে সেই জল স্পর্শ করি। চোখের সামনে এনে সেই জলকেই শান্তনা দেই
"প্রতারকের চোখে অশ্রু মানায় না"

লেখক - রায়হান
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!