Sad love - গল্পঃনির্দোষ পর্বঃ১০

গল্পঃনির্দোষ

লেখকঃরনি

Sad love - গল্পঃনির্দোষ পর্বঃ১০
Sad love - গল্পঃনির্দোষ পর্বঃ১০




পর্বঃ১০
বাড়ি ভরতি মেহমানের সামনে আরহী আমাকে এতটা ছোট করবে সেটা আমি কল্পনা ও করেনি। তারপর ফেলে দেওয়া গিফটটা হাতে নিয়ে আরহীর সামনে দাড়িয়ে বললাম
গিফটা না নিলে কোনো কষ্ট পেতাম না। কিন্তু বাড়ি ভরা মেহমানের সামনে এই অপমান করলেও পারতেন (এই টুকু বলে সেখানে থেকে রুমে এসে সব কিছু ব্যাগে গুজগাছ করতে লাগলাম...
এইদিকে আরহী নিজেই নিজের মধ্যে অনুশোচনা কাজ করছে।এতদিন রনিকে তাড়ানো জন্য যাই করুক না কেনো কখনো সবার সামনে অপমান অপদস্ত করেনি।কিন্তু আজ যেটা করলো সেটা মোটেও ঠিক করেনি তাছাড়া বাড়ি ভরা মেহমান তারা আমাকে কি ভাবছে না না রনির সঙ্গের আমি মোটুও ঠিক করেনি। আরহী আনমনে এসব ভেবে যাচ্ছে তার ভাবনার ইতি টেনে মেঘলা আরহীকে ঝাকিয়ে বলে উঠলো
কিরে কেক কাটছিস না কেন (মেঘলা)
হ্যা কাটছি (আরহী)
আরহীর জন্মদিনের অনুষ্ঠান এভাবেই শেষ হয়ে গেলো। কিন্তু রনিকে তার ত্রিসীমানায় দেখা গেলো না। আরহী ভাবছে আবার সে বেহায়াদের মতো ফিরে এসে জন্মদিনে অংশ গ্রহন করবে। আরহীর সে ধারনা ভুল প্রমানিত হলো। তাকে আর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ধারে কাছেও পাওয়া গেলো না। এবার এক্টু বেশিই আরহীর অনুশোচনা হতে লাগলো... অনুষ্ঠান শেষে যে যার মতো চলে গেলো। আরহী রুমে এসে বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই সেই গিফট ফেলে দেওয়ার দৃশ্য বার বার চোখের সামনে ভেসে উঠছে। কিছুই ভালো লাগছে না.. এসব ভেবে যাচ্ছে আরহী হঠাৎ দরজায় টকটক আওয়াজে দরজা খুলে লক্ষ্য করলো তার মা দাঁড়িয়ে আছে তারপর আরহী কিছুটা স্বাভাবিক ভাবে বলে উঠলো
মা কিছু বলবা (আরহী)
ছেলেটার সঙ্গে তখন এই মিস বিহেবটা না করলেও পারতি। তাছাড়া আমি এটাও জানি কেন তুই কোনো ছেলেকে সহ্য করতে পারছিস না। মারে সব ছেলেরাই কিন্তু খারাপ হই না। ভালো মন্দ মিলেই ও মানুষ। কিন্তু একজন তোর সঙ্গে ভালোবাসায় চিট করেছে দেখে সব ছেলেদেরকে যে একই ভাববি সেটা কিন্তু ভুল। রনির কাছে গিয়ে সরি বলে নিস। এই কথাটা তখনই বলতাম কিন্তু অনুষ্ঠান নষ্ট হবে দেখে তোকে কিছুই বলেনি (আরহীর মা এই বলে তার রুমে চলে গেলো)
আরহী শুধু নিরব শ্রোতাদের মতো তার মার কথা শুনেছিলো বলার মতো কোনো ভাষাই তার জানা নেই। কিছুক্ষণ পর আরহী মনোহিত করলো সরি বলে সবকিছু সমাধান করে নিবে।আর কখনো তার সঙ্গে মিস বিহেব করবে না। এসব ভেবে ছাদে চলে গেলো একাকিত্ব থাকার জন্য । আরহী সেখানে লক্ষ্য করলো রনি কার সঙ্গে যেন ফোনে কথা বলছে ইতিমধ্যে তার বলা ও শেষ পিছন ফিরে আরহীকে দেখা মাত্রই কোনো কথা না বলে চলে যেতে ধরলো এমন সময় আরহী বলে উঠলো
রনি দাড়াও প্লিজ (আরহী)
অপমান করবেন নিশ্চয়ই..! ছাদে আপনি আর আমি ছাড়া কেউ নাই দেখছি। একটা কাজ করেন যেখানে মানুষজন বেশি থাকবে সেখানে আমাকে অপদস্ত অপমান করবেন সেটাই ভালো হবে। যত যাই হক একটা মানুষ তো কারো অপমান সহ্য করে থাকবে না নিশ্চয়ই এটাই তো ভাবছেন..? (আমি)
নিশ্চুপ (আরহী)
কালকেই আমি এই বাসা ছেড়ে চলে যাচ্ছি।যদিও বাসাটা এক্টু আগেই পেয়েছিলাম আর সিদ্ধান্ত ও নিয়েছিলাম গিফটের মাধ্যমে আপনাকে বিষয়টা জানাবো কিন্তু তার আগেই আপনি সেটা না দেখেই ছুড়ে ফেলে দিলেন আর বাড়ি ভরা মেহমানের সামনে আমাকে ছোট করলেন (আমি)
সরি..... (আরহী করুন সুরে বলে উঠলো)
সরি বলার আর কোনো দরকার নেই। সকাল হলেই এখান থেকে চলে যাবো (এই বলে রনি সেখান থেকে চলে গেলো)
এইদিকে আরহী তার চলে যাওয়ার কথা শুনে নিজের কথা বলার ভাষা যেন হারিয়ে ফেলছে। সারারাত আরহীর নির্ঘুমে কাটিয়ে দিলো সকালে ঘুম থেকে উঠেই ছাদে চলে গেলো কিন্তু আজ রনিকে আর দেখতে পেলো না তারপর আগ্রহ নিয়ে তার রুমের দিকে যেতে লাগলো এবং রুমে তালা লাগানো দেখে রীতিমতো অবাক হয়ে গেলো সাদ সকালে তালা লাগানো দেখে আরহী তার মাকে জিজ্ঞেস করল
মা রনির রুমে তালা লাগানো কেন (আরহী
রনি কাল রাতেই এই বাসা ছেড়ে অন্য কোনো বাসায় উঠেছে (আরহীর মা)
কি রাতেই চলে গিয়েছে (আরহী অনেকটা অবাক হয়ে)
হ্যারে রাতে রনি এসে আমাকে বলল যে তুই নাকি কোনো ভাড়ায় টিয়ারা থাকুক সেটা চাস না। সে জন্য রনি চলে গেলো।যদি ও আমি রনিকে বলেছি
বাবা তুমি থাকো সমস্যা নাই। আমি আরহীকে বুঝিয়ে বলবো নে (সে আমার কথার প্রতিউত্তরে শুধু বলল
আন্টি সমস্যা নেই। আরেকটা রুম মেনেজ করে ফেলছি সেখানে আমার বন্ধুরাও আছে তো সেখানেই যাচ্ছি ভালো থাকবেন। আর হ্যা গত মাসের বাসা ভাড়া নিন (এই বলে বকেয়া বাসা ভাড়া পরিশোধ করে সে চলে গেলো)
চাইলে আটকাতে পারতাম কিন্তু তোর কথা ভেবে রনিকে আর আটকালাম না। আর হ্যা বাসা ভাড়া দেওয়া টোটাল বন্ধ করেছি এখন থেকে অই রুমটা তালা লাগানোই থাকবে ।আশা করি এবার নিশ্চয়ই খুশি হয়েছিস (আরহীর মা)
আরহী তার মার কথার উত্তর না দিয়ে রুমে দরজা আটকিয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই চোখ থেকে কয়েক ফোটা নোনা জল গাল বেয়ে পড়তে লাগলো।আর সেটা কেন পড়তে লাগলো সে উত্তর আরহী কোনো ভাবেই মিলাতে পারছে না।
অপরদিকে
আরহী মেয়েটা সত্যি অনেক সুন্দর কিন্তু তার যদি আচরণ ভালো থাকতো তাহলে হইত এতদিনে তাকে ভালোবেসে ফেলতাম।কিন্তু তার যে ব্যবহার এতে কোনো ছেলেই তাকে ভালোবাসবে তো দুরের বিষয়। তার ধারের কাছেই কেউ ঘেঁষবে নাহ..!! তাছাড়া আমি কেন এসব ভাবছি। তাদের বাসা ছেড়ে এখানে আসায় আমার তো একটা বিষয়ে ভালোই হয়েছে।কেউ আমাকে অপমান অপদস্ত করতে পারবে না। কিন্তু এ বাসা থেকে আরহীদের বাসা বেশি তো একটা দুরে না মাঝেমধ্যে অকারনেই দেখা। আর দেখা হলে বা কি ওর সঙ্গে তো আর ভালোবাসার কোনো সম্পর্ক নেই যে খারাপ লাগবে (আমি)
এভাবেই রনির ছন্নছাড়া জীবন কাটছে...! কথায় আছে না। সময় যখন খারাপ যায় তখন সবদিকেই যায়।তেমনি রনির সময়ে তাই হচ্ছে। যাকে দুইটা বছর ভালোবেসে গেলো সে ও তাকে বুঝতে পারলো না। ভুল বুঝে ইভটিজিং এর শাস্তি দিলো। যাদেরকে আপন ভেবে আসছে তারাও মুখের উপর বলে দিয়েছে... তারা রক্তের কেউ না। এই পৃথিবীতে মানুষের জনের আনাগোনা বেশি থাকলেও এরমধ্যে তার আপনজন নাই বলেই চলে.....
একদিক থেকে রনির একাকিত্ব জীবন ভালোই চলছে। কষ্টের হলেও সেটাকে আর কষ্ট বলে কিছু মনে করে না। এখন সব কিছুতেই যেন তার মানানসই হয়ে উঠেছে। এখন তার একটাই লক্ষ্য পড়ালেখা শেষ করে ভবিষ্যতে ভালো কিছু করবে। এরকম চিন্তা ভাবনায় সে নিজেকে নিয়োজিত করে ফেলছে..!
চলুন তাহলে এবার গল্পের বর্তমানে আসা যাক
কলেজে এডমিন হলেও তেমন একটা কলেজে যাওয়া হইনি।তো রেডি হয়ে কলেজে চলে আসলাম। এডমিন হওয়ার ২মাস পর আজ কলেজে আসলাম চারদিকে কলেজ মেন্টদের আনাগোনা দেখে ভালো লাগা কাজ করছে।
তারপর প্রিন্সিপাল স্যারের কক্ষে গিয়ে দেখা করতে গিয়ে স্যারকে সালাম দিলাম এবং স্যার সালাম নিয়ে বলে উঠলো
কী ব্যাপার রনি দু মাস আগে এডমিন হয়ে গেলা অথচ দুমাসের মধ্যে একদিন ও কলেজে আসলা না। আজ কি ভেবে আসছো (প্রিন্সিপাল স্যার)
স্যার আমি তো ভেবেছিলাম আপনি হইত আমাকে চিনবেনই নাহ। এখন তো দেখছি আমার কথা ঠিকই আপনার মনে আছে (আমি)
এত সহজেই যদি ছাত্রদের চেহারা ভুলে যায়। তাহলে তো আমার প্রতিষ্ঠান অল্পতেই লাটে উঠবে। সুতরাং আমার সৃতিশক্তি এতোটা ও খারাপ না যে অল্পতেই ছাত্রদের কথা ভুলে যাবো তাছাড়া আমার সৃতিশক্তি এখনো অনেক ভালো আছে যাকে একবার দেখি তাকে আর দ্বিতীয়বার চিনতে অসুবিধা হই না। এখন থেকে তোমাকে কিন্তু ক্লাসে নিয়মিত আসতে হবে তোমাদের ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষার বেশি একটা কিন্তু সময় নেই (প্রিন্সিপাল স্যার)
জি স্যার অবশ্যই আসবো (আমি)
কলেজে প্রথম দিন ক্লাসেই বেশ কয়েকটা বন্ধু পেয়ে গেলাম। প্রথম দিন ক্লাসেই ভালোই মজা হলো। কলেজ শেষে রাস্তায় এসে ফোনে নিউজ ফিড দেখছিলাম হটাৎ পরিচিত কন্ঠ আমার নাম ধরে ডেকে উঠলো। নিউজ ফিড দেখা বাদ তার দিকে তাকাতেই আমার চোখ যেনো কপালে উঠে গেলো। আজ দুই মাস পর আরহীর সঙ্গে কলেজে এভাবে দেখা হবে সেটা কখনোই আশা করেনি। নিশ্চয়ই আরহী এই কলেজেই পড়ে। ধুর ও পড়লেই কি না পড়লেই কি..? ওর সঙ্গে কথা না বলাই ভালো এসব ভেবে চলে আসতে যাবো এমন সময় আরহী আমার সামনে এসে বলতে লাগলো
!
!
(চলবে)
(আপনারা যারা পর্ব বড় করে লিখতে বলছেন তাদেরকে বলছি.. ব্যস্ততা এমন একটা জিনিস যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে গল্প লেখা আজকাল বড় একটা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্টুডেন্ট লাইফে গল্প লেখার সময় থাকলেও এখন কর্ম জীবনে সেই সময় আর নেই।যার দারুণ গল্প লিখাটা এখন অনেক টাফ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিশেষে একটা কথাই বলবো গল্প লিখার সময় যদি বেশি পায় তো আমি নিজ ইচ্ছায় পর্ব বড় করে লিখবো। আপতত এই সময়ে যা দিতে পারছি সেটাই Read করুন)
পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!