তোমার জন্য ফিরে আসা ! Part- 04 & 05

তোমার জন্য ফিরে আসা ! Part- 04 & 05


“জাদুকরী বিশাল আয়নার মধ্যে তোমাকে নিয়ে যাবো পূর্বপুরুষের বাড়ি যেটা তোমার বাগান বাড়ি নামে চিনো”

“ওই বাড়িতে কি আছে? আর আমি ওই বাড়ি যাবো না”

“যাবে না কেনো? ”

“আমার মা নিষেধ করে দিছে তাই ”

“তোমার মা তো জানে না তোমার সাথে আমি আছি তাই নিষেধ করে দিছে কিন্তু তোমাকে যে আমার সাথে যেতেই হবে নয়তো আমার বেশি সময় লাগবে কাজ শেষ করতে”

“আমি বাগান বাড়ি গিয়ে কি করবো তাও আবার রাতের বেলা? ”

“একটা পুকুরের মধ্যে অনেক পদ্মফুল আছে সেই পুকুর থেকে তোমাকে পদ্মফুল এনে রাখতে হবে আমাবস্যা রাত পর্যন্ত তারপর কি করতে হবে সেটা আমাবস্যা রাতে বলবো ”

“আচ্ছা বুঝলাম কিন্তু আমার বা আমার পরিবারের কারো কোনো ক্ষতি হবে না তো? প্লিজ আপনি আমাদের কারো ক্ষতি করবেন না ”

“আরে না আমি কারো ক্ষতি করবো না ”

“আচ্ছা চলুন ”

আলিব জাদুকরী আয়নার সাহায্যে ইভাকে নিয়ে বাগান বাড়ি গেলো। চারপাশে অনেক গাছ লতাপাতা, পরিত্যক্ত বাড়ি আর পুকুর আছে। ইভা সাহস করে আলিবের হাত ধরলো। আলিব পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে আয়না থেকে আলো তৈরি করলো। পুকুরে পদ্ম ফুলগুলো স্পর্শ দেখা যাচ্ছে। ইভা পুকুরে পাশ থেকে একটা পদ্ম ফুল তুলে নিয়ে বললো,

“একটা পদ্ম নিলেই কি হবে নাকি আরো লাগবে? ”

“নাহ্ ”

তোমার জন্য ফিরে আসা ! Part- 04 & 05
তোমার জন্য ফিরে আসা ! Part- 04 & 05


“আপনাকে এতো গম্ভীর দেখাচ্ছে কেনো? ”

“অনেক বছর পরে পুরনো স্মৃতি চোখের সামনে দেখে কষ্ট হচ্ছে ”

“আপনি এখানে থাকতেন? ”

“মাঝে মাঝে আসতাম। আমাদের মিথ্যে কথা বলে ধ্বংস সব করে দিছে ”

“কোনো ভাবে কি প্রতিশোধ নিয়ে জাদুকরীকে শেষ করা যায় না?”

“জাদুকরী শেষ হয়ে গেছে, নিজের স্বার্থ তাকে শেষ করছে ”

“ওহ্, চলুন আমরা বাসায় ফিরে যাই ”

“হ্যাঁ চলো ”

আলিব ইভাকে নিয়ে বাসায় ফিরে এলো।আলিব একটা রুপোর ছোট্টো কলসির পানিতে পদ্মফুল রেখে দিলো আর বললো,

“শুনো যত্ন করে ফুলটা রাখবে প্রতিদিন ফুলের পানি পরিবর্তন করবে ”

“হুম ”

“আমি ভাবতে পারি নি তুমি এতো ভালো হবে, তোমার জন্য ফিরে আসা হলেও তুমি ভালো ভাবে আমাকে মেনে নিবে তা জানা ছিলো না ”

“আপনি ভালো মানসিকতা দেখিয়েছন বলে আমি ভালো, খারাপ জ্বীন-ভূত হলে কবে আপনাকে তাড়িয়ে দিতাম ”

“হাহাহাহ্ খারাপ হলেও তাড়িয়ে দিতে পারতে না ”

“ইসসসহ্ বললেই হলো নাকি ঝাড়ুর বারি মেরে বিদায় করতাম ”

“থাক বাবা আমি ঝাড়ুর বারি খেতে চাই না, তুমি ঘুমাও। চলে গেলাম ”

“আচ্ছা যান ”

আলিব চলে গেলো আর ইভাও ঘুমিয়ে গেলো। সকালে ইভার ঘুম ভাঙ্গে চেচামেচি শুনে। কিসের জন্য এতো চেচামেচি তা দেখতে গিয়ে শুনে পাশের বাসায় একজনে রাতের বেলা দেখেছে ইভাকে হাওয়ায় উড়ে বাগান বাড়িতে যেতে তাই দেখতে এসেছে ইভা ঠিক আছে কি না? ইভাকে দেখে লোকটা বিশ্বাস করলো যে উনি ভুল দেখেছে। এসব শুনে ইভা রেগেমেগে হাতের আংটি খুলে রাখে দিলো। কলেজে যাওয়ার সময় সায়ন্ত সামনে পড়ে।

ইভা সায়ন্তকে দেখেও না দেখের ভান করে এড়িয়ে চলে যাচ্ছে। সায়ন্ত বার বার ইভাকে ডাকছে কিন্তু কোনো সাড়া দিচ্ছে না। ইভার সাথে আজকে লিমাও নেই একা আছে তাই সায়ন্তনের সাথে কথা বলতে চাইছে না। হঠাৎ করে ইভা অনুভব করে ওর ওড়না টেনে ধরা হয়েছে, পিছনে ফিরে দেখে সায়ন্ত ওর ওড়না টেনে ধরেছে। এরকম অসভ্যতামি দেখে ঠাসসসস্ ঠাসসস্ থাপ্পড় মেরে দিলো। সায়ন্ত অপমান সইয়ে না পেরে ইভাকে কোলে তুলে নিয়ে গাড়িতে উঠায়, সায়ন্ত গুন্ডা টাইপের তাই আশেপাশে কেউ কিছু বলছে না।

ইভা কি করবে কিছু বুঝতে পারছে না। হাতের আংটি থাকলে আলিব আসতো এখন তো আলিব আসবে না তাহলে কি সায়ন্ত ওর ক্ষতি করবে?


ইভার সামনে কি জানো এসপ্রে করা হলো। ইভা অজ্ঞান হয়ে গেছে। জ্ঞান ফিরে নিজেকে আবিষ্কার করলো একটা বাড়িতে ।

[আজকে গল্পের পার্ট ছোট করে দেওয়ার জন্য দুঃখিত। পরের পর্ব বড় করে দিবো ]

চলবে,,,,,


...Part- 05...


“আজকে বাসায় কেউ নেই তাহলে বুঝতে পারছো তোমার সাথে কি হতে পারে ”

“আপনাকে আমি অনেক বার বলেছি আপনার মতো খারাপ মানুষের সাথে আমি রিলেশন করবো না তারপরেও আপনি কেনো আমার ক্ষতি করতে চাইছেন?”

“আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি তোমার জন্য মারামারি করা বাদ দিয়েছি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া শুরু করেছি। তুমি আমার ভালোবাসা গ্রহন না করে উল্টো অপমান করেছো ”

“হ্যাঁ হ্যাঁ আপনাকে অপমান করেছি বেশ করেছি।এখন বুঝলাম থাপ্পড় মারা কম হয়ে গেছে আপনার যদি সত্যি আমার জন্য ভালোবাসা থাকতো তাহলে ভালোবাসার মানুষের ক্ষতি করতে চাইতেন না ”

“আমি তোমার কোনো ক্ষতি করবো না শুধু একবার ভালোবাসি বলো ”

“মরে গেলোও বলবো না ”

“তুমি নিজের ক্ষতি নিজে ডেকে আনতে আছো ”

“আমি চিৎকার করবো, আমার কাছে আগাবেন না ”

“বাইরে অনেক বৃষ্টি হচ্ছে তোমার চিৎকার কেউ শুনবে না আর শুনলেও কেউ আসবে না ”

সায়ন্ত ইভার কাছে এগিয়ে গেলো। ইভাকে দেয়ালে সাথে পিঠ ঠেকিয়ে দিলো। ইভা গায়ের সমস্ত শক্তি দিয়ে সায়ন্তকে ধাক্কা মেরে নিচে ফেলে দিয়ে দৌঁড় দিলো। পুরো বাসা অন্ধকার হয়ে রয়েছে, কারেন্টও নেই। মেইন দরজা কোনটা ইভা বুঝতে পারছে না। বিপদে পরলে মাথাও কাজ করে না কি করবে না করবে? ইভা ডাইনিং টেবিলের নিচে গিয়ে বসলো।


 


সায়ন্ত ফোনের ফ্লাশলাইট অন করে ইভাকে খুঁজছে, ঠিক সেই সময় সায়ন্ত দেখলো কালো ধোঁয়া উড়তে। গ্যাস অন করা না তাহলে ধোঁয়া আসছে কোথা থেকে?ধীরে ধীরে সারা ঘর ধোঁয়ায় ভরে যাচ্ছে । সায়ন্ত ভয় পেয়ে গেছে যে ঘরের আশেপাশে আগুন লেগেছে তার জন্য ঘর ধোঁয়ায় ভরে গেছে তাই সায়ন্ত ইভার কথা না ভেবে বাসা থেকে বেরিয়ে গেলো।

ইভা টেবিলে নিচে বসে কাঁদছে ওর প্রান এই বুঝি চলে গেলো। সায়ন্ত বাসা থেকে বেড়িয়ে গেছে দেখে ইভা সাহস করে চোখ মুছতে মুছতে টেবিলের নিচে থেকে বেরিয়ে এসে দেখে আলিব ওর সামনে দাঁড়িয়ে।

আলিবকে দেখে যেনো ইভা প্রান ফিরে পেলো সাথে সাথে আলিবকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে দিলো।

আবিল ইভার মাথায় হাত বুলিয়ে বললো,

“আমার মহারানী বিপদে পরেছে আর আমি আসবো তা কি হয়? ”

“আপনি খুব পঁচা, আসতে এতো দেরি করলেন কেনো? ”

“আমি না আসলেই বা কি? তুমি তো রাগ করে আমার দেওয়া আংটি ফেলে দিছো ”

“একজন এসে বলেছে আমাকে হাওয়ায় উড়ে বাগান বাড়ি যেতে দেখে, আমি ভেবেছি আপনি আমার ক্ষতি করছেন নয়তো আমাকে কেউ বাগান বাড়ি যেতে দেখতো না ”


 


“মহারানী তুমি সাহসী সেটা জানতাম কিন্তু যে বলদীও জানতাম না ”

“কিহ্ আমি বলদী “?

” তা নয়তো কি হ্যাঁ? তুমি মানুষ তোমাকে তো সবাই দেখবেই তোমাকে তো আমি অদৃশ্য করে দেই নি। তোমাকে কেউ যদি অবিশ্বাস্য ব্যাপারে দেখে সেটা নিয়ে আমার সাথে কথা বলে দেখতে আমি তোমাকে রক্ষা করার জন্য প্রস্তুত থাকি ”

“আমার ভুল হয়ে গেছে রাগের মাথায় বুঝতে পারি নি ”

“তুমি ভুল করলেও আমার মহারানী। তোমার উপর আমি রাগ করে থাকতে পারবো না। চলো বাসায় পৌঁছে দেই ”

” আপনি অনেক বেশি ভালো ”

আলিব মুচকি হাসলো। বাসায় গিয়ে আবার আলিব ইভার হাতে আংটি পরিয়ে দিলো। ইভা আলিবকে জিজ্ঞাসা করলো,

“সায়ন্তনের বাড়ির আশেপাশে আগুন লেগেছিলো কিন্তু কোথাও পোড়া গন্ধ পেলাম না কেনো শুধু ধোঁয়া উড়ছে”

“আমি ধোঁয়া তৈরি করেছি যাতে ও ভয় পেয়ে পালিয়ে যায় আর আমি তোমাকে নিয়ে আসতে পারি ”

“হুম, সায়ন্তকে একটা উচিত শিক্ষা দিতে হবে ”

“হ্যাঁ আজকে রাতে ওকে এমন নাকানিচুবানি খাওয়াবো যে ও জীবনেও কোনো মেয়েকে অসম্মান করবে না ”

“আচ্ছা তাহলে রাত কয়কাটায় আসবেন? ”

“এমনিতে তুমি যখন ডাকবে তখন আসবো তাছাড়া রাত বারো টায় ”

“ওক্কে, এবার চলে যান ” আলিব চলে গেলো।

ইভা ফ্রেস হয়ে রান্না ঘরে গেলো, ওর মাকে বললো,,,,,

-মা আজকে খিচুড়ি রান্না করো।

-বৃষ্টি শুরু হলে তুই খিচুড়ি রান্না করতে বলবি নয়তো বিরিয়ানি তাই আমি তোর বলার আগেই খিচুড়ি রান্না করে আছি।

-আচ্ছা, আমি একটু ঘুমাই রান্না হলে ডাক দিও

-এই দাঁড়া দাঁড়া তুই না কলেজ গিয়েছিলি, কখন বাসায় এলি?

-এইতো কিছুক্ষন হলো তুমি রান্নায়,ব্যাস্ত ছিলে তাই ডাক দেই নি।

-তাহলে তোকে দরজা খুলে দিলো কে?

-আরে মা দরজা খোলা ছিলো

ইভা আর কিছু না বলে চলে গেলো। ওর মায়ের কাছে বেশিক্ষণ থাকলে মিথ্যা ধরা পরতো। রুমে গিয়ে ঘুমালো দুপুরে খেয়ে বিছানায় শুয়ে আলিবের কথা ভাবছে যে ” ও না থাকলে আজ অনেক বড় ক্ষতি হতো। আলিব সত্যি অনেক ভালো নয়তো ও আমার জন্য এতো ভাবতো না। ওকে বিশ্বাস করে ভুল করছি না ”

ইভার খালাতো বোন হিয়া এসে ইভার গাল টেনে বললো,

-কি রে কার প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিস যে আমি এসেছি সেদিকে খেয়াল নেই

-আমি আবার প্রেমে হাবুডুবু খাবো সেই কপাল আমার হয় নি যাই হোক তুই কখন এসেছিস?

-এতো সবার সাথে দেখা করে তোর রুমে এসেছি।

-এসে ভালোই করেছিস

-দেখি তোর হাতের আংটিটা তো খুব সুন্দর, কোথা থেকে কিনেছিস

-ফুটপাত থেকে

-যাহ্ এসব ফুটপাতে পাওয়া যায় নাকি?

-যায় তো তুই খুঁজে দেখিস

-আচ্ছা তোকে নিয়ে খুঁজবো।

ওরা দুজনে একসাথে আছে,কথা যেনো ফুরাচ্ছে না। হিয়া আসাতে ইভা আলিবের কথা ভুলে গেলো বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হলো আলিবের সাথে কথা হলো না। ইভা বেশ কিছুক্ষণ বই পড়ে রাতে খাওয়ার জন্য ডাইনিং টেবিলের কাছে যেতে ওর মনে পরলো আলিবের কথা তখন সাথে সাথে রুমে এসে আলিবকে ডাকলো। আলিব মুখ গোমড়া করে বলছে,

“তোমার সাথে আমার কোনো কথা নেই ”

“কেনো কেনো?”

“এতোক্ষণ আমার কথা মনে পড়লো, সবাইকে পেলে আমাকে ভুলে যাও হুহ ”

“না মানে হিয়া অনেক দিন পরে এসেছে তাই আর কি ”

“হুম বুজেছি ”

“আজকে রাতে হিয়া আমার সাথে ঘুমাবে তাহলে কি করে আপনার সাথে গিয়ে সায়ন্তকে শাস্তি দিবো ”

আলিব ইভার হাতে একটা চকলেট দিলো আর বললো,

“এটা হিয়াকে খাওয়াবে তাহলে ও সকালের আগে ঘুম থেকে উঠবে না ”

“আচ্ছা এবার আপনি যান ”

আলিব চলে গেলো। রাতে খেয়ে ইভা হিয়াকে চকলেট খাওয়ালো তাতে ও ঘুম মগ্ন হলো। রাত বারোটায় আলিব এসে ইভাকে সায়ন্তের বাসায় গেলো। রুমে দরজা খোলার শব্দ শুনে সায়ন্ত শোয়া থেকে উঠে বসে বলে,

-কে তুমি?

-আমি তোর জম (বলে ইভা রুমে দরজা লক করে দেয়)

-একি দরজা লক করো কেনো?

ইভার চুলগুলো এলোমেলো করে রাখা, মুখ দেখা যায় না।রুমে ধোঁয়া ভরে গেছে। ইভ মোমবাতি জ্বালিয়ে হাতে নিয়ে ধীরে ধীরে সায়ন্তনের দিকে এগিয়ে যায়। আলিব সায়ন্তকে শূন্য ভাসিয়ে পুরো রুম জুড়ে ঘুরায় আর ইভা হাসতে হাসতে বলে,

-তোকে এখানে মেরে লাশ গুম করে দিবো আজ তোকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। তুই মেয়েদের অসম্মান করিস তার শাস্তি তো তোকে পেতে হবে।

আলিব সায়ন্তকে ধপাস করে নিচে ফেলে দেয়। কোমরে, মাথায়, হাতে পায়ে প্রচন্ড ব্যাথা পেয়েছে। কোনো মতে কাকুতি মিনতি করে বলে তাকে যেনো এবারের মতো মাফ করে দেয় আর কোনো দিন কোনো মেয়েকে অসম্মান করবে না।

ওরা সায়ন্তের ওখান থেকে চলে আসে। বাসায় ফিরে ইভা ঘুমালো।

চলবে,,,,,,,

পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!