তোমার জন্য ফিরে আসা !! Part- 12 & 13

তোমার জন্য ফিরে আসা !! Part- 12 & 13


“বলা নেই কওয়া নেই দুম করে চুলের খোঁপায় ফুল দিলেন কেনো? আপনি তো বড্ড অসভ্য ।মেয়ে দেখলেই ঢোলে পরতে ইচ্ছে হয় ”

“একটু দম নিয়ে কথা বলুন, এতো উত্তেজিত হওয়া ভালো না ”

“মেয়েদের সম্মান করতে শিখেন ”

“অসম্মান জনক কিছু করি নি আর এটার অধিকার আমার আছে ”

“কে দিয়েছে আপনাকে অধিকার?

এই মিস্টার আমার ধারেকাছেও আসবেন না, ছ্যাকা খাবেন ”

“সেটা আমি বুঝে নিবো”

“ধ্যাত ”


ইভা চলে যাচ্ছে তখন ছেলেটা ইভার সামনে পথ আটকে দাঁড়িয়ে বললো,

“মহারানী এতো রাগ করেন কেনো? তবে রাগ করলে বেশি সুন্দরী লাগে গাল দুটো লাল হয়ে যায় তাই ”

“আমাকে মহারানী বলবেন না আমার নাম আছে। পথ থেকে সরে দাঁড়ান”


“না সরবো না আগে আমার সব কথা শুনবেন তারপর চলে যেতে দিবো ”

“মহা জ্বালা তো, বলুন কি বলার আছে? ”

“আমার দিকে ভালো করে তাকান? ”

“আজব তো, আপনার রুপ বেয়ে বেয়ে পরে নাকি যে ধরার জন্য আপনার দিকে তাকাবো “?

” তাকাতে বলছি, এতো কথা ভালো লাগে না ”

ইভা ভ্রু কুঁচকে ছেলেটার দিকে তাকালো।এতোক্ষণ কথা বলেও ছেলেটার দিকে তাকায় নি এবার তাকিয়ে দেখলো বেশি সুন্দর আছে চাপ দাঁড়ি তবে ছোট করে রাখা কিন্তু কেমন জানো চেনা লাগছে হ্যাঁ এটা তো আলিব। ও এখানে কেনো এসেছে, তাই জিজ্ঞাসা করলে,

“আপনি এখানে কেনো এসেছে? আমাকে একা কথা বলতে দেখলে সবাই এবার পাগল ভেবে পাগলা গারদে দিয়ে আসবে। ”

“একা কথা বলতে দেখবে না আমাকে সবাই দেখতে পাবে”

“কিভাবে? আপনি সত্যি মানুষ হয়ে ফিরে এসেছেন ”

“সব কথা বলবো আগে নানুর রুমে গিয়ে দেখে এসো তার অবস্থা কেমন ”

ইভা আর কথা বাড়ালো না। ইভার মাথায় অনেক প্রশ্ন ঘুরছে আলিবকে নিয়ে, ও কিভাবে সবার সামনে দৃশ্য হতে পেরেছে? ও একশো দিন থাকবে তার আগে কারো সামনে আসবে না কিন্তু আজ বিয়ের অনুষ্ঠানে কি করছে? নাহ্ আলিবের থেকে সব কিছু জানতে হবে কিন্তু এখন তো কথা বলতে পারবে না তাই ইভা ওর নানুর রুমে গিয়ে দেখলো নানু আগের থেকে একটু ভালো আছে। গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান শেষ তখন রিয়াদ ইভাকে নিয়ে ছাঁদে গেলো। ছাঁদের কোনে একজন দাঁড়িয়ে আছে সেটা স্পর্শ দেখা যাচ্ছে কিন্তু মুখ বুঝা যাচ্ছে না তাই ইভা বললো,

-ভাইয়া ছাঁদে কে দাঁড়িয়ে আছে?

-খুব স্পেশাল একজন।

-কে?

-আলিব এদিকে এসে।

আলিব সামনে এসে বললো,

-কি মহারানী এবার বিশ্বাস হলো তো আমি সবার সামনে দৃশ্য হয়েছি?

-ভাইয়া তুই সত্যি উনাকে দেখতে পাচ্ছিস? (ইভা)

-হ্যাঁ দেখছি তো (রিয়াদ)

-জানতে চাইবে না আমি কি করে দৃশ্য হয়েছি

ইভা মাথা নেড়ে হ্যাঁ সূচক দিলো তখন রিদায় বললো,

-তোমাদের মাঝে আমার থাকা ঠিক হবে না, আমি আমার বউয়ের সাথে কথা বলে আসি

রিয়াদ চলে যাওয়ার পর আলিব বললো,

“জাদুমনি গোলাপ আর সাতরং পাথর আমাকে সাহায্য করেছে দৃশ্য হওয়ার জন্য। সেদিনর বেল গাছের তলায় বেল পোড়া দিয়েছিলো সেখানে পাথর আর গোলাপ এক সাথে রাখতে আমি দৃশ্য হয়ে গেছি আবার চাইলে অদৃশ্য হতে পারবো সব কিছু সম্ভব হয়েছে তোমার জন্য। ”

“পাথর আমার কাছে রেখেছিলাম সেটা আপনার কাছে গেলো কি করে?”

“তোমার মা তোমার ব্যাগ থেকে তার আংটি বের করেছে তখন তার চোখে পড়ে পাথরটার দিকে সে সাধারণ ভেবে ফেলে দেয় আর সেটা পড়ে গিয়ে বেল গাছের তলায়। আমারও মনে পড়ে যায় জাদুমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য তারপর পাথর খুঁজে পেলাম ঠিক জায়গায় পড়েছে তাতে আমার কাজটা সহজ হয়েছে ”

“তাহলে আপনি আর ফিরে যাবেন না? ”

“হ্যাঁ ফিরে যেতে হবে ”

“কবে আপনি পুরোপুরি হয়ে আসবেন যেনো আর কখনো ফিরে যেতে না হবে? ”

“হতেও পারে চলে যাওয়ার একশো দিন পরে ফিরে আসবো ”

“আমি আপনার জন্য অপেক্ষা করবো ”

“ফিরে না আসলেও ভুলে যেওনা ”

“আপনার সাথে সময় কাটানো মুহূর্ত গুলো কখনো ভুলবো না ”

রিয়াদ এসে বললো,

-তুমি তো আমাদের সাথে সাধারণ ভাবে থাকতে পারো তাহলে আমার বিয়ের সব অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত তোমার থাকতে হবে

-হ্যাঁ থাকতে পারি তবে কেউ আমর পরিচয় জানতে চাইলে মুশকিল হবে

-আরে কিছু হবে না আমি আছি তো।

ওরা তিনজনে নিচে গেলো। আলিব সবারসামনে দৃশ্য হতে পেরেছে এবং থাকবে এটা জেনে ইভা খুব খুশি হয়েছে। সবার সাথে কথা বলে আলিব সবার মন জুগিয়ে ফেলেছে। পরের দিন রিয়াদের বিয়ে, কনে বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

ইভার বাবা আলিবকে ডেকে বললো,

-তুমি কি রিয়াদের বন্ধু? সব আত্মীয় সজনদের চিনি কিন্তু তোমাকে চিনতে পারি তাই জিজ্ঞাসা করলাম।

-হ্যাঁ আঙ্কেল আমি রিয়াদের বন্ধু

-তোমার বাড়িতে কে কে আছে?

-আমি একা।

-ওহ্ আচ্ছা , তোমাকে একটা কথা বলি কালকে থেকে তোমার আচার-ব্যবহার দেখে আমার খুব ভালো লেগেছে আমার মেয়ের জামাই হিসেবে তোমাকে চাই।

এমন কথার উওর আলিব কি দিবে বুঝতে পারছে না। থমকে তার দিকে তাকিয়ে আছে, ইভার বাবা আবার বললো,

-তোমাকে আমি ভুল কিছু বলি নি তো?

-না আঙ্কেল ঠিক আছে কিন্তু,,,,,

-কিন্তু কি?

-আমার চার মাস সময় লাগবে আপনার মেয়েকে দেখেছি আমিও ওকে পছন্দ করি তাই যদি সময় দেন।

-হ্যাঁ বাবা তুমি সময় নিতে পারো সমস্যা নেই

-হুম।

রিয়াদের বিয়ের সব অনুষ্ঠান শেষ। ইভারা নিজেদের বাসায় চলে এলো। আলিবও অদৃশ্য হয়ে থাকে। দেখতে দেখতে পূর্নিমার রাত চলে আসে। আলিব মানুষ হয়ে বাঁচার জন্য বাগান বাড়ির পদ্ম পুকুরে ডুব দিলো, ইভা পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে,

চলবে,,,,,,


তোমার জন্য ফিরে আসা !! Part- 13


আলিব পুকুর থেকে উঠে দাঁড়াতে ধপাস করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ইভা সাথে সাথে ওর হাত ধরে দেখলো প্রচন্ড ঠান্ডা এবং শরীর কাঁপুনি দিচ্ছে। ইভা পুকুর থেকে সাতটা পদ্মফুল এনে কুঁচিকুঁচি করে আলিবের শরীরে ছিটিয়ে দিলো। আলিবের হাতে আংটি এবং ইভার হাতের আংটি আলিবের হাতের মুঠোয় নিয়ে এক করলো। ধীরে ধীরে আলিবের শরীর কাঁপুনি দেওয়া কমে যাচ্ছে।

একটা কালো ছাঁয়া এসে বলে,

-তুই মুক্তি পেলি এবার উঠে দাঁড়া, চলে যা তোর আসল জীবনে।

আলিব স্বাভাবিক হয়ে উওর দিলো,

-সত্যি কি আমি আমার লক্ষ্যে পৌছাতে পেরেছি?


তোমার জন্য ফিরে আসা !! Part- 12 & 13


-হ্যাঁ পেরেছিস শুধু এই মেয়েটার জন্য নয়তো কখনো তোর অভিশপ্ত মুক্ত হতো না।

-একশো দিন পূর্ণ হতে আরো সময় ছিলো তাহলে এতো তাড়াতাড়ি আমাকে মুক্ত করলেন কেনো?

-কারন ও তোকে সত্যি ভালোবেসে ফেলেছে তোর মায়ায় জড়িয়েছে,কেউ কোনো জ্বীন-ভূতেদের ভালোবাসতে পারে না কিন্তু তুই লড়াই করে ভালো কাজ করে ওর মন জয় করেছিস। মানুষ হয়ে বাঁচতে তোর কোনো বাঁধা নেই। তোর অভিশাপ মুক্ত করতে তুই জাদুমন্ত্রীর লেখা তথ্য যোগাড় করে সব কৌশল জেনেছিস আর নিজের অজান্তে পুকুরে মধ্যে যে নীল পদ্ম আছে ওটা হাতে এনেছিস নয়তো তোর মুক্তি হতো না।

কালো ছাঁয়ার কথা শুনে আলিব ইভাকে জড়িয়ে ধরে বললো,

“তোমার জন্য ফিরে আসা আমার স্বার্থক হলো ”

“আমি আপনাকে অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে পেরেছি এতেই আমি অনেক খুশি ”

কালো ছাঁয়া বললো,

-এই মেয়ে তোর কি চাই বল? আমি তোর ইচ্ছে পূরণ করবো।

-আমার শুধু আলিবকে চাই ওকে নিয়ে যেনো বাকি জীবন পার করতে পারি (ইভা)

-তাই হোক কিন্তু আজ পূর্নিমার রাত শেষ হলে তুই তোর সমস্ত শক্তি, জাদু হারিয়ে ফেলবি।


-আমার কোনো জাদু শক্তি লাগবে না আমি ভালো ভাবে থাকতে চাই (আলিব)

-তোদের কথায় মেনে নিলাম আর আমার পক্ষ থেকে তোদের দুজনের হাতের আংটি টা দিয়ে দিলাম।

বলে কালো ছাঁয়া উধাও হয়ে গেলো সাথে ইভা আর আলিব হাওয়ায় ভাসতে ভাসতে ইভার রুমে চলে গেলো। আলিব চলে যাবে, বিদায় জানাতে ইভা কাঁদছে। আলিব ইভার হাতটা ধরে বললো,

“আমার জন্য ফিরে আসা হলে তেমার জন্য আমার বেঁচে থাকা হবে, আমার মহারানী বিদায় বেলায় কষ্ট পেলে আমারও কষ্ট হয় সেটা বুঝো না? ”

“কেনো আপনি শুধু শুধু আমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য এসেছেন, আগেই তো আমি ভালো ছিলাম ”

আলিব ইভার চোখের পানি মুছে দিয়ে বলে,

“এতোদিন মহারানীর ঘুরতে যেতে চেয়েছে আজ আমি মহারানীর সাথে আমি ঘুরতে যেতে চাই, যাবে?”

“হুম যাবো ”

“চলো ”

নদীর ধারে নৌকা,পাশে একটা ঝোপের মাঝে জোনাকির মেলা। প্রকৃতি চাঁদের আলোয় সেজেছে এবং আলিব ইভাকে কাঁচের লাল-নীল চুড়ি পড়িয়ে দিলো। চুড়ির ঝনঝন শব্দে আরো ভালো লাগছে। আলিব নৌকার বৈঠা বেয়ে চলছে, ইভা মাঝে মাঝে পানির ছিটিয়ে দিচ্ছে আলিবের গায়ে। আলিব বৈঠা রেখে দিলো, আপন মনে নৌকা চলছে।

“মহারানীর চঞ্চলতা, হাসি,রাগ হলে গাল লাল হওয়া, লম্বা চুল খুব মনে পড়বে ”

“মনে পড়লেই আমার কাছে চলে আসবেন ”

“হুম আসবো ”

“আচ্ছা এবার বাসায় ফিরে যাই আপনার সময় শেষ হয়ে যাবে ”

“হ্যাঁ তোমার সাথে থাকলে কখন যে সময় ফুরিয়ে যায় বুঝতে পারি না ”

“আমিও ”

চারটা বেজে গেছে তাই ইভাকে পৌঁছে দিয়ে আলিব চলে গেলো। অন্য দিনের তুলনায় আজ ইভা বিছানায় শুতে কেমন যেনো ঘুমের দেশে তলিয়ে যায়।

সকাল নয়টা বাঝে এখনো ইভা ঘুম থেকে উঠে নি। ইভার মা ডাকতে আসে।

-সারারাত জেগে ফোন টিপে সকাল হলে ঘুমায়, লেখাপড়া দিন দিন গোল্লায় যাচ্ছে। এখন ঘুম থেকে না উঠলে ক্লাস শেষ হয়ে যাবে উঠ তো।

-মা আলিবের সাথে একটু থাকতে দেও

ইভার মা ইভাকে ধরে শোয়া থেকে উঠিয়ে বসায়। ইভা চোখ মেলে তাকিয়ে দেখে ওর মা সামনে বসে আছে তাহলে আলিবের সাথে কাটানো সময় সেটা কি স্বপ্ন ছিল বাস্তবে না? কিন্তু হাতে তো একটা আংটি আছে।

-এবার ফ্রেস হয়ে কলেজে যা

ইভা মা রুম থেকে চলে গেলো। ইভা মনে পড়লো আলিবের কথা কিন্তু কেমন যানো স্বপ্ন লাগলো আবার হাতের আংটিটা সব হিসেব মেলাতে ইভা গুলিয়ে ফেলছে। তখন ইভার ফ্রেন্ড ইরা কল করে বললো কলেজে যেতে আজকেই এসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে। ইভা ফ্রেস হয়ে না খেয়ে কলেজ যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বেরলো। আনমনে হাঁটতে হাঁটতে কলেজের ক্যাম্পাসে ঢুকবে তখন চোখ গেলো একটা ছেলের দিকে ব্লু কালারের শার্ট পড়া, ছোট ছোট চাপ দাঁড়ি, গায়ের বর্ণ ফর্সা এটা তো আলিব ।

ইভার ফ্রেন্ড ইরা আর লিমা এসে বললো,

-তাড়াতাড়ি চল ক্লাস শুরু হয়ে যাবে

-তোরা যা আমি একটু পরে আসছি

-আরে না এখনই চল বলে ইভার হাত ধরলো লিমা। ইভা ওর হাত ছেড়ে দিয়ে,,,,,,

চলবে,,,,

পোস্ট রেটিং করুন
ট্যাগঃ
About Author

টিউটোরিয়ালটি কেমন লেগেছে মন্তব্য করুন!