x সাইটম্যাপ ফেসবুক পেইজ আমাদের সম্পর্কে ডিসক্লেইমার গোপনীয়তা নীতিমালা
x সাইটম্যাপ ফেসবুক পেইজ আমাদের সম্পর্কে ডিসক্লেইমার গোপনীয়তা নীতিমালা

Top News

...About Me...

I Am Student Of Architechture And Interior Design.
I Like Design And Writing A Love Story.

...Recent Music...

...Recent Blogger...

...Recent Post...

» টিউনমেন্টঃ কোন মন্তব্য নেই

গোলাপী রঙের পরী (দুষ্টু মিষ্টি ভালোবাসার গল্প) - ShohorToly

গোলাপী রঙের পরী (দুষ্টু মিষ্টি ভালোবাসার গল্প) - ShohorToly

গোলাপী রঙের পরী (দুষ্টু মিষ্টি ভালোবাসার গল্প) - ShohorToly
গোলাপী রঙের পরী (দুষ্টু মিষ্টি ভালোবাসার গল্প) - ShohorToly


 -- এই মামা যাবেন?
 -- কই যাইবেন?
 -- প্যারিস রোড।
 -- চলেন... .
ঘড়িটা পড়তে পড়তেই রিক্সায় উঠলাম। রওনা দিলাম প্যারিস রোডের উদ্দেশ্যে। . চুপ থেকে কি লাভ যেতে যেতে আমার পরিচয়টা দিয়েই নেয়। কি বলেন ? আমি ধ্রুব। ঈশ্বরদীতে থাকি। আর আমি প্যারিস রোডে কেন যাচ্ছি নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছে করছে। আসলে নিমকির সাথে আজকে আমার প্রথম দেখা হবে। আর ও ওখানেই আসবে বলেছে। ও আপনাদের তো নিমকির কথা বলায় হয়নি। আসলে নিমকি হচ্ছে আমার একমাত্র গার্লফ্রেন্ড। আমি ওকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসি। আমাদের পরিচয়টা আসলে একটু অন্যভাবে। . আমি আর আমার ফ্রেন্ডরা মিলে একদিন ঘুরতে বের হয়েছিলাম। হঠাৎ করেই ওখানে একটা মেয়েকে আমার খুব ভালো লাগে। আমার ফ্রেন্ড কে বললাম। ও বললো ওই মেয়ে নাকি তার চেনা। সৌভাগ্য বশত ওর কাছে মেয়েটার ফেসবুক আইডি ছিল। ব্যাস মিটে গেল। আমাকে আর পায় কে। বাসায় এসেই মেয়েটার আইডি খুঁজে বের করলাম। কিন্তু দেখি মেয়েটার আইডি তে শুধুমাত্র রিকোয়েস্ট পাঠানো ছাড়া কোন অপশন ছিল না। তাই বাধ্য হয়ে রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে অপেক্ষা করতে হলো। হঠাৎ একদিন সন্ধ্যা বেলা দেখি ওই আইডি থেকে মেসেজ....
. -- হাই।
 -- কেমন আছেন?
 -- ভালো। আপনি? -- ভালো ।
 -- আপনি কি আমাকে চিনেন?
 -- চিনি মানে...
আপনাকে এক জায়গায় ঘুরতে গিয়ে দেখছিলাম। . এভাবেই কথা হয় তার সাথে। আমি ভাবতেই পারছিলাম না যে সে আমাকে মেসেজ করবে। আমি মেসেজ পেয়েই আগে তার আইডি তে গেলাম দেখি এক্সেপ্টও করছে। আমার যে কি ভালো লাগছিল। এভাবেই অল্প অল্প কথা বলতে বলতে কেটে যায় কিছুদিন। জানতে পারি ও রাজাপুর স্কুলে পড়ে। আমি অনেক কিছু জানতে চেষ্টা করি। তার ভালো লাগা মন্দ লাগা বিষয় গুলো। আস্তে আস্তে তার সাথে ভালো বন্ধুত্ব তৈরি
হয়ে যায়। এর মাঝে একদিন ওর ফোন নাম্বারটা দিয়ে দিলো। তারপর থেকে ফোনেই বেশি কথা হতো। একদিন.... .
 -- হ্যালো।
 -- হ্যাঁ বলো।
 -- কি করছো?
 -- এই তো ছাদে বসে আছি। তুমি?
 -- আমি তো রুমে।
 -- একটা গান শোনাবা?
 -- এখন... -- হুমম এখন।
 -- আচ্ছা। .
 এভাবে সবসময় আমার ছোট ছোট আবদার গুলো নিমকি মেনে নিতে লাগলো। আমি বুঝতে পারলাম ও আস্তে আস্তে আমার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ছে। এইবার ওকে বলে দিতে হবে আমার মনের কথা। কিছুদিন পার হয়ে গেল। ডিসিশন নিলাম আজকে নিমকি কে বলে দিবো আমার মনের কথা। যেই ভাবা সেই কাজ। ফোন দিলাম... .
 -- হ্যালো।
 -- হ্যালো। নিমকি?
 -- হুমম। বলো...
 -- আমি তোমাকে কিছু বলতে চাই।
 -- হুমম বলো শুনছি তো।
 -- আমি তোমাকে ভালোবাসি।
 -- সেতো আমি আগে থেকেই জানি।
 -- মানে?
 -- মানে আমি তো অপেক্ষা করছিলাম তোমার মুখ থেকে শোনার জন্য।
 -- তার মানে তুমিও আমাকে ভালোবাসো?
 -- হুমম। .
 বলেই ফোন কেটে দিল। জীবনের সবথেকে বেশি খুশি মনে হয় সেদিন হয়েছিলাম। কাউকে ভালোবেসে হারানোর কষ্টটা যেমন বেশি হয় তেমনি ভালোবেসে কাউকে পাওয়ার আনন্দ টাও অনেক বেশি হয়। সেদিন থেকেই শুরু হলো আমাদের ভালোবাসার সম্পর্ক। আমরা দুজনই চেষ্টা করতাম আমাদের সম্পর্কটা যেন সবসময় মধুর থাকে। . প্রায় দুই মাস হয়ে গেছে আমাদের সম্পর্কের। সম্পর্কের পর আজ প্রথম দেখা করতে যাচ্ছি। তাই একটু বেশিই উত্তেজিত। . প্রায় আধা ঘন্টা পর এসে রিক্সা থামলো। রিক্সা থেকে নেমে ভাড়া দিয়ে দিলাম। আশে পাশে তাকিয়ে দেখি অনেক খানি দূরে একটা মেয়ে গোলাপী রঙের শাড়ি পরে রাস্তার ধারে বসে আছে। বুঝলাম ওইটাই নিমকি। কারন আমার নীল রঙ প্রিয় হওয়া সত্ত্বেও আমি ওকে আজ গোলাপী রঙের শাড়ি পড়তে বলেছিলাম। . আমি কিছু না বলে ওর পাশে গিয়ে বসলাম। বসে ওর দিকে তাকিয়েই আছি। চোখ ফেরাতে পারছি না। আসলে আমি অনেক পরীর নাম শুনছি যেমন লাল পরী, নীল পরী ইত্যাদি। কিন্তু আজ আমি গোলাপী পরী দেখছি। কি সুন্দর করে সেজেছে। গোলাপী শাড়ি সাথে সাদা ব্লাউজ, হাতে গোলাপী কাঁচের চুড়ি, চোখে কাজল, মুখে হালকা মেকআপ আর ঠোঁটে হালকা গোলাপী লিপস্টিক। যেন একেবারে গোলাপী রঙের পরী।
. -- কি দেখছো এভাবে?
 -- তোমাকে...
 -- আমাকে আবার নতুন করে দেখার কি হলো?
 -- গোলাপী রঙ...
 -- মানে?
 -- না মানে তোমাকে আজ গোলাপী রঙের পরীর মতো লাগছে।
 -- সত্যি?
 -- হুমম তিন সত্যি।
 -- ধ্যাত।গোলাপী রঙের পরী হয় নাকি?
 -- আজ থেকে হয়।
 -- মানে?
 -- মানে আমার বউটায় শুধু গোলাপী রঙের পরী।
 -- ও তাই বুঝি। তা বিয়া করলা কবে শুনি?
 -- এই যে এখন।
 -- তাই না...
 -- হুমম.... .
বলতে বলতেই ওর কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে পরলাম। .
 -- এই এই করছো? সবাই দেখছে তো...
 -- তো কি হইছে। দেখলে দেখুক। আমি তো আমার বউয়ের কোলে মাথা রেখে শুয়ে শুয়ে আকাশের তারা গুনছি।
 -- দিনের বেলায় তারা কই পাইলা?
 -- ও তাইতো। তাহলে এভাবেই শুয়ে থাকি রাত হলে তারা গুনে বাসায় যাবো।
 -- তুমি সত্যিই একটা পাগল।
 -- হুমম তোমার জন্য।
 -- এভাবেই সারাজীবন ভালোবাসবে তো?
 -- না।
 -- মানে?
 -- এর থেকেও বেশি ভালোবাসবো পাগলী।
» টিউনমেন্টঃ কোন মন্তব্য নেই

Bangla Love SMS Part-01

[SMS]
Valo Lage Tor Chokhe Chokh Rakte. Valo Lage Tor
Sathe Onekta Poth Haat Te. Valo Lage Tor Sathe Sopner
Jaal Bunte.Ar Ai Mon Chai Sarata Jibon Toke Ujar Kore
Valobaste

[/SMS]

[SMS]

Kobitar Upomay Kujini 2my, Kujini Ganer Sure, Jani
2me Aco Sudu Amr Ei Ridoy Jure. Hajaro Prosner 1 Tai
Answer, R Karo Noy, 2me Sudhu Amar..

[/SMS]

[SMS]

Diner Shuchonay Chay Tomay. Rater Jhochonay
Chai Tomay. Boro Beshi Valobashi Ami Tomay. Ak
Mutho Prem Jodi Deo. Ak Prithibi Sukh Dibo. Ai Tomake
Apon Kore Nibo

[/SMS]

[SMS]

Jethay Surjo Chole Jai Raat Ase Chader Alote
Jochona Hashe.Shei Jochonar Alote Dariye Tumi Ami
Khup Kacha Kachi Aaj Akhoni Ei Somoy Bole Dei Tomay
Ami Valobashi..!

[/SMS]

[SMS]

Kon Rongeri Chuai Tui Vule Asish Amai,Ajo Ami Eka
Asi Sudhu Tor Asai,Sopno Amar Duti Cokhe Toke Sudhu
Ghire,Kemon Kore Thakisre Tui Amake Vule..!

[/SMS]

[SMS]

Ektu Jodi Takao Tumi Megh Gulo Hoi Sona…
Akash Khule Bose Achi Tao Keno Dekchona…
Eki Akash Mathar Upor Tao keno Ek Vabcho na !!!"""

[/SMS]

[SMS]

Tumi akasher oi nil,Aami meghe meghe shopnil.
Tumi hawa hoye asho,Sudhu amakei bhalobesho.
Tumi moner alpona,Tumi shei prio kolpona... 
Tumi chuye dile ai mon Ami urbo ajibon......
[/SMS]

[SMS]

Tumi Se KoBita, Jake Vabi Kinto Likhte Parina, 2mi Sei chobi, Jake Kolpona Kori, Kinto Akte PariNa, Tumi Sei Manush Jake Ami Valobashi Kinto Bujhate Parina.
[/SMS]

[SMS]

Cokher Osru Ke Hira Baniye Dey Valobasa. Kosto Ke
Santona Dey Valobasa. Jokhon Beche Thakar Kono
Obolombon Na Thake Tokhon Moron Ke- Jibon Baniye
Day Valobasa..That Is True Love..Am I Right?..!

[/SMS]

[SMS]
Jotoi Dekhi Valo Lage, Chokh Shore Na. Tumar
Theke Dore Gale, Mon Mane Na. Ato Bhalobashi Tumay,
Tumi Bujho na

[/SMS]

[SMS]
Monta Amar Pete Chai Sudhu 2make,Ar Koto Din
Thakbe Bondhu Vule Amake,Onek Sopno Jome Ase Amar
Cokher Kone,1din 2mi Fire Ese Valobasbe More..!

[/SMS]

[SMS]
Brishti Pore Akash Jure.mon Je Kade 2mr
Tore.bondhu 2mi Onek Dure.2mr Lagi Poran Je
Pure.Esho 2mi Amar Tore. Basbo Valo Jibon Vore.

[/SMS]

[SMS]
Cheye Deko Chader Dike,Koto Kos2 Tar Buke.
Kokono Mege Dheke Jai,Kokono Adare Harai. Tobu Sob
Kicu Vule Hase,Karon Se Akash K Vison V'base?

[/SMS]

[SMS]
Bidhi Tumi Toh Sob E Jano. Jano Moner Kotha.
Ajo Toh Pelam Na Amar Bam Pajorer Dekha. Je Amay
Valobashe Pase Thakbe Sarati Khon. Je Amay
Valobashe Ranggiya Dibe Amar Vhubon. Bolo Na Bidhi
Tar Dekha Pate Ar Koto Khon.

[/SMS]

[SMS]
Prodip Jaliye Reko.Adar Kete Jabe.Chok Buje
Theko.Shopno Dekte Pabe.Mon Kule Reko.Sukh Ure
Asbe.Hridoy Diye Dko.2mar Maje Amy Khuje Pabe. .

[/SMS]

[SMS]
Sopner Suru 2make Diye! Valo Lagar Prothom
Muhurto Gulo 2mak Niye! Nistobdo Rat Kate 2mar Kotha
Vebe! Tai Hoyto A Moner Sob "Valobasha 2my Ghire".

[/SMS]

[SMS]
Ami Chad Caina,Se Utbe Rate.Ami Rat Caina,Se
Harabe Provate.Ami Ful Caina,Se Jorbe Diner Sese.Cai
1ta Sundhor Mon,J KoKo9 Vulbe Na Amk.

[/SMS]

[SMS]
Ai Prithibir Buke Jodi 2make Amar Ceye Besi Kew
Valobase,Plz Sedin Amak 1tu Khobor Dio,2mar Hasi
Mukta 1ta Nozor Dekhe Sara Jiboner Jonno 2mar
Cokher Aral Hoye Jabo,Kotha Dilam..!

[/SMS]

[SMS]
Prosno Jetai Hok,Uttor 2mi? Rasta Jetai Hok,Lokko
2mi? Kos2 Jotoi Hok,Suk 2mi? 2mr sathai Jotoi Rag
Kori Na Kno? Tovo O Amr Priyo valobasa 2mi..!

[/SMS]

[SMS]
Adhar Ghorer Bati Tumi Chader O Hashi. Amr
Thake Tomay Ami Onk Valobashi. Jhosna Rater Tara
Tumi Moner Akasher Chad. Tumi Amay Valobesho Diba
Nishi Raat.


[/SMS]
» টিউনমেন্টঃ কোন মন্তব্য নেই

হবে কথা বাসর ঘরে - Honeymoon Night Love Story - Romantik Love Story -- ভালবাসার অনুভূতি

হবে কথা বাসর ঘরে - Honeymoon Night Love Story - Romantik Love Story -- ভালবাসার অনুভূতি

হবে কথা বাসর ঘরে - Honeymoon Night Love Story - Romantik Love Story -- ভালবাসার অনুভূতি
হবে কথা বাসর ঘরে - Honeymoon Night Love Story - Romantik Love Story -- ভালবাসার অনুভূতি

মা-বাবার কথা মত তাদের পছন্দের মেয়েকে বিয়েটা করেই ফেললাম।বিয়ে পরে কি হল সেটা জানার জন্য সম্পূর্ণ গল্পটি মন দিয়ে পড়ে নিবেন,কেমন।

আর সম্পূর্ণ গল্পটি পড়ে আপনিও অব্যশই এই অনুভূতিটি অর্জন করবেন।আসলে কি জীবন এমন হয়।সত্যি কি এত সুখ জীবনে অর্জন করা সম্ভব হয়ে থাকে।

বিয়ে পরে বাসর ঘরে......
আমি যখন বাসর ঘরে ঢুকতে যাবো ঠিক সেই মুর্হুতে দরজার সামনে এসে দাঁড়িয়ে গেলাম।

বুকের ভিতর হার্ট বিট টা যেন ক্রমাগত বাড়তেই লাগল।

জীবনের প্রথম কোন মেয়ের কাছে যাবো। তাও আবার একই ঘরের মধ্য ভেবে কেনো জানি আমার ভয় ভয় লাগছে।

ভাবিরা,বন্ধুরা আমার অবস্থা দেখে তারা জোর করে বাসর ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে বাহিরে থেকে দরজাটা আটকে দিল।

দেখি লাল বেনারসী শাড়ি পড়ে আমার বউটা বক্স খাটের উপর মাথায় লম্বা ঘুমটা দিয়ে বসে আছে।

আমি আস্তে আস্তে করে তার দিকে এক পা দু পা করে এগিয়ে গেলাম।আমি কাছে যেতেই বউ আমাকে সালাম দিল।

বউয়ের সালামের উওর দিতে গিয়ে আমার গলাটা আটকে গেল।ভয়ে যেন গলাটা আমার শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।এমন সময় নতুন বউ পানির গ্লাস বাড়িয়ে দিয়ে বলল এই নেন পানি খেয়ে নেন।

আসলে তখন ঐ মুর্হুতে আমার পানির খুব প্রয়োজন ছিল।তার পরে এক গ্লাস পানি আমি ঢগ-ঢগ করে খেয়ে ফেললাম।

তার পরে আস্তে করে বউকে বললাম অনেক ধন্যবাদ।

বউ নরম সুরে বলল ধন্যবাদ বলতে হয় না,বলেন শুকরিয়া।

আমি তার বাধ্যগত হয়ে বললাম শুকরিয়া।

দরজাটা বন্ধ করে আসেন।

আমি তার কথায় আস্তে আস্তে করে দরজাটা বন্ধ করে আসলাম।

তার পরে বউ আমাকে প্রশ্ন করল আপনার কি ওযূ করা আছে।না করা থাকলে যান ওযূ করে আসেন।

আমি মনে মনে বিবাহিত বন্ধুদের কে গালি দিলাম।বাসর ঘরে যে ওযূ করে ঢুকতে হয় সেই শালারা বিয়ে করেছে আমাকে তো বলেনি বাসর ঘরে ওযূ করে ঢুকতে হয়।অনন্ত বউয়ের কাছে আমাকে ছোট হতে হতো ও না।

তার পরে আমি ওয়াসরুম গিয়ে ওযূ করে আসলাম।

তার পরে বউ বলল চলেন।আমরা দুজনে দু রাকাত নফল নামাজ পড়ে আমাদের নতুন জীবন শুরু করি,কেমন।

নামাজ পড়া শেষ করে দুজনেই খাটের উপর বসলাম।

তার পরে বউ আমাকে প্রশ্ন করল, আপনি কি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন।না পড়লে এখন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়বেন আর কোন অবস্থাতেই নামাজ কাযা করবেন না।

ওকে.....ঠিক আছে।

আমি মনে মনে ভাবছি বউ তো আমাকে হুকুম করেই যাচ্ছে।করুক খারাপ কিছু তো বলছে না।

এমন সময় বউ বলল আমরা দুজন জন আজ সারা রাত গল্প করব।আপনার জীবনের ছোট বেলার গল্প বলবেন তার পরে আমার টা বলবো।

মহা বিপদে পড়ে গেলাম এখন কি গল্প বলবো।

আমি বললাম এখন কি গল্প বলবো।

এমন সময় বউ আমাকে এমন প্রশ্ন করে বসল।যার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।

বউ আমাকে বলল আপনি কি কখনো প্রেম ট্রেম করেছেন।

এই প্রশ্নের কি উওর দিবো। ভাবলাম কেবল নামাজ পড়ে আসলাম মিথ্যা কথা কি করে বলি।

তাই বউকে সত্যি কথা বলতে লাগলাম।

সত্যি কথা বলতে কি প্রমের কথা শুনলে আমার খুব হাসি পায়।

আমি যখন ক্লাস নাইনে পড়ি তখন পাড়ার একটি মেয়ে খুশবু। তাকে আমার খুব ভালো লাগত।ভিশন মায়াবি চেহারা ছিল।ও ক্লাস অষ্টম শ্রেণীতে পড়ত। লুকিয়ে লুকিয়ে খুশবুকে দেখা ছাড়া আমার কোন কাজ ছিল না।

স্কুল শেষে স্কুল গেটে ওর জন্য আমি দাঁড়িয়ে থাকতাম।খুশবু ওর বান্ধুবীদের সাথে বাড়িতে যেতো আর আমি ওর পিছনে পিছনে যেতাম।

মুখ ফুটে কোন দিন খুশবুকে বলতে পারি নাই ভালো লাগার কথা। মনে মনে কত প্ল্যান করেছিলাম খুশবুকে ভালোবাসি কথাটা বলে দিবো কিন্তু সেই কথাটি বলার মত সাহস আমার হয়ে ওঠেনি।
তার কিছু দিন পরে জানতে পারলাম খুশবু নাকি ওর মামা তো ভাইকে ভালোবাসে।

মনে একটি আঘাত পেয়ে আমি সেখান থেকে কেটে পড়লাম।

ক্লাসের সব চেয়ে সুন্দরী মেয়ে আয়েশা। এক সময় তাকে আমার খুব ভালো লেগে যায়।

আমি একটা ক্লাস ও মিস করতাম না আয়েশার জন্য।

আয়েশা প্রতিদিন সব সময় প্রথম সারিতে বসত।তাই আমিও প্রতিদিন আগে আগে প্রথম সারিতে বসতাম শুধু আয়েশাকে দেখার জন্য।

ক্লাসে বসে লুকিয়ে লুকিয়ে শুধু আয়েশাকে দেখতাম।শুধু আমি না অনেক ছেলেরাই তার দিকে তাঁকিয়ে থাকত।যখন অন্য ছেলেরা আমার মত আয়েশার দিকে তাঁকিয়ে থাকত।তাদের প্রতি আমার খুব হিংসা হত কারণ আয়েশাকে শুধু আমি দেখবো তারা কেন ওর দিকে তাঁকিয়ে থাকবে।

যখনি আমার চোখ আয়েশার দিকে পড়ত তখনি আয়েশা মিটিমিটি হাসত।তখন আমার মাঝে একটি ভালো লাগা কাজ করত।

ভাবতাম আয়েশাও মনে হয় আমাকে ভালোবাসে।

এক বার মনে মনে ভাবলাম আয়েশা কে একটি চিঠি দিবো।

সারা জেগে একটি চিঠিও লিখে ফেললাম আয়েশাকে দিবো বলে।

দুঃখের বিষয় হল বুক পকেট থেকে চিঠি টা বের করে আয়েশাকে দেওয়ার মত সাহস আমার হয়নি।

এক দিন শুনলাম আয়েশার বাবা যেহেতু পুলিশ সেহেতু ট্রান্সফার হওয়াতে আয়েশারা সবাই নাকি মাগুরা চলে গেছে।

মনের মধ্য আরেকটি ধাঁক্কা খেলাম।

যখন স্কুল শেষ করে কলেজে পা দিলাম।তখন কলেজের একটি মেয়ে আমার মন কেড়ে নিল।নাম তার মিম।

ভাবলাম স্কুল জীবনে যা হবার তা হয়ে গেছে কিন্তু এই মেয়েটার সাথে আমার প্রেম করতেই হবে।

কিন্তু সমস্যা তো আমার একটাই ঐ যে ভালো লাগার কথাটি বলার মত সাহস আল্লাহ্ আমাকে দেয় নি।যে কোন মেয়েকে সহজ ভাবেই বলে দিবো যে আমি তোমাকে ভালোবাসি।

হা......হা......হা।

কলেজে জীবনে এসে আবার একটি ধাঁক্কা খেলাম।

আমি আসলেই অনেক বোকা। তা না হলে কি করে ভাবি আমার মত গাইয়া খেত গোবিন্দ পুর গারোয়ান পাড়া গ্রাম থেকে আসা কলেজের ছাত্র কে শহরের একটি সুন্দরী মেয়ে ভালোবাসার জন্য নিজেকে এখনও নিজেকে সিঙেল রেখেছে।

এক দিন দেখলাম মিম কলেজে শেষ করে একটি ছেলের সাথে রিক্সায় চড়ে রিক্সার হুক লাগিয়ে চলে গেল।

এভাবে প্রতি দিন দেখতাম মিমের জন্য ছেলেটি কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে থাকত।তার পরে জানতে পারলাম মিম নাকি ঐ ছেলেটিকে ভালোবাসে।

তার পর থেকে আর কোন মেয়ের দিকে আমি নজর দেয়নি।

আসলে আমার ভালো লাগা গুলো ভালো লাগা পর্যন্ত সিমা বন্ধ ছিল।

কখনো ভালো লাগা গুলো ভালোবাসার বাস্তব রূপ পায়নি।

বউ আমার গল্প শুনে হেসে ফুটে পরছে।

তার পরে হাসতে হাসতে বলল সত্যি ই তো আপনি খুব বোকা।

আসলেই আমি বোকা।

ভাগিস আপনি বোকা ছিলেন।তা না হলে আমার ভালোবাসার ভাগ্য কত আপনার কাছে থেকে অন্য মেয়ে ভালোবাসা নিয়েই নিতো।আসলেই তো আমার ভালোবাসার ভাগ যদি সত্যি আপনি অন্য কোন মেয়েকে দিতেন তাহলে মেরে আপনার হাড্ডি ভেঙে দিতাম।

আপনার কপাল ভালো যে আমি আজ পর্যন্ত কোন ছেলের সাথে প্রেম করিনি।শুধু আপনাকে মনে প্রাণে ভালোবাসবো বলে।

আমার সব ভালোবাসা যত্নে রেখে দিয়েছি শুধু আপনাকে দেওয়ার জন্য।

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে সব সময় আল্লাহর কাছে মনের মত এক জন স্বামী চেয়েছি।

আল্লাহ্ আমার সেই কথা রেখেছেন।

আমিও অনেক আবেগের সুরে বললাম আল্লাহর কাছে লাক্ষ কোটি শুকরিয়া।যে বিয়ের আগে আল্লাহ্ আমাকে কোন মেয়েকে ভালোবাসার মত সুযোগ করে দেননি।

হুম এখন থেকেই শুধু আমাকেই ভালোবাসবেন,কেমন।

আচ্ছা,কিন্তু তুমি আমাকে কেনো আপনি আপনি করছো।

আপনি তো তুমি করে বলার মত অনুমতি দেন নাই।

স্বামীকে তুমি করে বলার জন্য কোন অনুমতির প্রয়োজন হয়। এখন থেকে আর আপনি নয় শুধু তুমি করে বলবে,ওকে।

বউয়ের হাতটি ধরার জন্য মনটা আমার আনচন আনচন করছে।সাহস করে বলেই ফেললাম আমি কি তোমার হাতটি একটু ধরতে পারি।

বউ হেসে দিয়ে বলে ফেলল তুমি এত কেনো বোকা।বউয়ের হাত ধরতে স্বামীর অনুমতি লাগে নাকি।

সাহস করে বউয়ের হাতটি ধরেই ফেললাম।আমি তোমার কাছে সারা জীবন বোকাই থাকতে চাই।আজ বোকা বলেই তোমার মত এক জন সুইট বউ পেয়েছি।

বউ আমার হাতটি শক্ত করে ধরেই রইল।

আর আমি মনে মনে আল্লাহর দরবারে লাক্ষ কোটি শুকরিয়া জানালাম।তিনি আমাকে জীবনের সব শ্রেষ্ট উপহার দিয়েছেন "আলহামদুলিল্লাহ্"।

Writer By Probashi Mohammed Hasan Chowdhury

Tag:- হবে কথা বাসর ঘরে - Honeymoon Night Love Story - Romantik Love Story -- ভালবাসার অনুভূতিtrue sad love stories that will make you cry, sad stories about love and death, true sad love stories in hindi, heart touching short sad love stories, true sad stories, painful love stories, short sad love story, sad love stories movies
» টিউনমেন্টঃ কোন মন্তব্য নেই

একজন স্ত্রী - Story Of A Wife In Bangla - Valobasar Onuvuti

একজন স্ত্রী - Story Of A Wife In Bangla - Valobasar Onuvuti


"বিবাহিতদের জন্য সুন্দর একটা গল্প, বিবাহিত সবাই পড়বেন, অবিবাহিতরাও পড়বেন কিন্তু”

একজন স্ত্রী - Story Of A Wife In Bangla - Valobasar Onuvuti
একজন স্ত্রী - Story Of A Wife In Bangla - Valobasar Onuvuti

স্ত্রী → আচ্ছা তুমি আমার সাথে কত দিন বাচতে চাও,?
স্বামী → তার স্ত্রীকে জরিয়ে ধরে বললো অনন্ত কাল বাচতে চাই তোমার সাথে, যে সময়ের কোন শেষ নাই।
স্ত্রী== আমরা এই দুনিয়াতে তো অল্প কয়দিন বাচবো, এর পরে তো আরেকটা দুনিয়া আছে সেই দুনিয়াতে মানুষ অনন্তকাল ধরে বেচে থাকবে, সেই সময়ে আমি তোমাকে আমার সাথে চাই আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না,কিছুটা বিনয়ের সুরে।
স্বামী == আচ্ছা আচ্ছা যাইতেছি। স্বামী বুঝে গেলো তার স্ত্রী কি বলতে চায়, মসজিদে আযান দিচ্ছ নামাজ পড়তে যেতে হবে। স্বামী যখন পান্জাবী টুপি নিয়ে রওয়ানা দিলো স্ত্রী মুচকি মুচকি হাসছে।
প্রতিদিন এভাবেই নামাজ পড়তে পাঠিয়ে দেয় স্বামীকে, তার স্বামী নামাজের পক্ষে একটু কাচা যখন আযান হয় তখন স্ত্রী কোন কোন মধুর কথা বলে আর স্বামী সেটা বুঝে চলে যায় নামাজ পড়তে। তখন স্ত্রী মনে করে পৃথিবীর বুকে সেই একমাত্র ভাগ্যবতী স্ত্রী, তারপর সেও নামাজ পড়তে চলে যায়। স্ত্রী নামাজ শেষ করে টেবিলে খাবার নিয়ে স্বামীর জন্য অয়েট করে তারপর স্বামি চলে আসলে দুজনে মিলে একসাথে খায়। স্বামী একটা চাকরি করে প্রতিদিন অফিসে যাওয়ার সময় স্ত্রী নিজে এসে স্বামী শার্ট , কোর্ট, জুতা, পড়িয়ে দেয় স্বামী যখন নিজে পড়তে যায় স্ত্রী দৌড়ে চলে আসে তুমি না তুমি আমি পড়িয়ে দিবো, তারপর যখন অফিস থেকে আসলে নিজে শরীর থেকে খুলে নেয়। কিন্তু স্বামীর কাছে এটা কেমন যেনো ঠেকলো একদিন ফ্রেশ হয়ে আসতেই দেখলো স্ত্রী তার শার্ট কোর্ট উল্টায় পাল্টয় দেখতেছে শুকতেছে এটা বেশকিছু দিন ধরে দেখতেছে।
স্বামী == কি দেখো?
স্ত্রী == কিছুটা আতকে উঠলো, না দেখছি তোমার এগুলা ঠিক আছে কিনা?
স্বামী == না এটার নিশ্চয়ই একটা কারন আছে, আমি অনেকদিন যাবত দেখছি আমি ফ্রেশ হতে গেলে তুমি দেখো। বলো
স্ত্রী == না মানে তুমি একটু বেশি কিউট তো, যে কোন কেউ নজর দিতে পারে যদি আমার কাছ থেকে কেউ তোমাকে কেরে নিতে চায়, বিশ্বাস করো তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না সে ভয়ে প্রতিদিন তোমার মোবাইল সব কিছু চেক করি বলে স্ত্রী নিচের দিক তাকিয়ে থাকে না জানি তার স্বামী তাকে কি বলে ফেলে। স্বামী তখন স্ত্রীর কাছে গিয়ে মুখটা উচে করে হাসিমুখে বললো
স্বামী == পাগলী তোমার স্বামী তোমার কাছেই থাকবে, পৃথিবীর কেউ কেরে নিতে পারবে না। স্ত্রী তার স্বামীকে শক্ত করে জরিয়ে ধরলো।।
স্ত্রী == আচ্ছা তুমি কোরাআন শরীফ পড়তে পারো?
স্বামী == হুম পাড়তাম কিন্তু এখন সব ভুলে গেছি।।
স্ত্রী == এখন শিখো?
স্বামী == পাগল নাকি তুমি, এখন শিখতে গেলে হুজুর হাসবে তাছাড়া এখন সময় আছে।
স্ত্রী == তুমি যদি কিছু মনে না করো তাহলে আমার কাছে শিখতে পারো।
স্বামী == হেসে বললো আমি রাজি আছি কিন্তু ভুল হলে আমার চুল টেনে দিতে পারবা না। স্ত্রী তখন লাফ মেরে স্বামীর চুল গুলো টেনে বলবো ওকে দিবো না হিহহিহিহিহি, রাতে ঘুমানের সময়
স্ত্রী == কালকে তো শুক্রবার, তোমার অফিস বন্ধ
স্বামী == হুম
স্ত্রী == তাহলে আজকে রাত ৩.০০টায় উঠবো তাহাজ্জত নামাজ পড়বো স্বামি তখন চুপ মেরে ঘুমের বান ধরে অন্যপাশে ফিরে গেলে
স্ত্রী ==হেসে হেসে যতই চালাকি করো তোমাকে উঠতেই হবে না হয় চুল একটাও থাকবে না মাথায় রাত ২ এলার্মের শব্দে ঘুম ভেঙ্গে গেলো স্ত্রী উঠে গায়ের কাথাটা শরিয়ে স্বামীকে ডাকাডাকি শুরু করলো স্বামী চোখ বুঝে হাসতে লাগলো।
স্ত্রী ==উঠো
স্বামী == তুমি পড়ো আমার বিষন ঘুম পাচ্ছে। স্ত্রী অনেক ডাকাডাকি চেস্টা করেও যখন পারলো না
স্ত্রী == তুমি যদি এখন আমার সাথে নামাজ পড়ো তাহলে দুপুরে তোমার সকল পছন্দের খাবার তৈরি করবো, যদি না পড়ো তাইলে পাকই করবো না। স্বামী তখন বাধ্য হয়ে উঠে গেলো। নামাজ পড়া শেষে
স্বামী == নামাজ তো শেষ আমি ঘুমাই
স্ত্রী == না একটু পর ফজরের আযান হবে একসাথে সেটা পড়ে ঘুমাবো
স্বামী ==আমার ঘুম পাচ্ছে কি করবো?
স্ত্রী ==আমাকে জড়িয়ে ধরে বসে থাকো।
তারপর দুজনেই ফজরের আযানের অপেক্ষায় এমন একটা সুন্দর সংসার কয়জনেই বা করতে পারে? আবার একজন স্ত্রী চেস্টা করে তাহলে অনেক সহজে হয়ে যায়।

Tag:- একজন স্ত্রী - Story Of A Wife In Bangla - Valobasar Onuvuti, very sad love story, short sad love story, sad love story status, sad love story movies, sad love story - korean drama, sad love story bangla, true sad love stories, sad love story video download
» টিউনমেন্টঃ কোন মন্তব্য নেই

বউ এর ভালবাসা ২ - Wife Love Season 2 - Romantik Love Story - ভালবাসার অনুভূতি

বউ এর ভালবাসা ২ - Wife Love  Season 2 - Romantik Love Story - ভালবাসার অনুভূতি
বউ এর ভালবাসা ২ - Wife Love  Season 2 - Romantik Love Story - ভালবাসার অনুভূতি
বউ এর ভালবাসা ২ - Wife Love  Season 2 - Romantik Love Story - ভালবাসার অনুভূতি

--- একটা কথা বলার ছিল
--- বলো
--- তোমার অফিসের বস আজ দুপুরে কল দিয়েছিলেন
--- কি বললো?
--- বললেন... ভাবি কি করেন? কী রান্না করলেন আজকে? এরপর চিংড়ি মাছের কথা শুনে রসালো প্যাচাল জুড়িয়ে দিলেন... "সেই কবে নাকি গ্রামে গিয়ে চিংড়ির দোপেয়াজা খেয়েছিল সাথে চিকন চিকন কাচা মরিচের ঝাঁজালো টেস্ট, আহা! এখনো উনার মুখে লেগে আছে, কতদিন হল তিনি খাননা, এরপর বললেন... ভাবি একদিন দাওয়াত দিলেই তো পারেন, আপনার হাতের রান্নার কোনো তুলনাই হয় না!
অনন্ত দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলে জিজ্ঞেস করলো 
--- এরপর কি বললে তুমি? দাওয়াত দিয়ে দিলে তাইতো?
--- তো কি করবো, মুখের উপর না করতে পারি নাকি? বললাম ভাই চলে আসেন সময় করে। দোপেয়াজা রান্নাকরে খাওয়াবনি, ভাবিকে নিয়ে আসেন আড্ডাও দেওয়া যাবে একত্রে
অনন্ত তাচ্ছিল্যের সুরে বললো.. "স্যার নিয়ে আসবেন তার বউ কে! হাহা কখনোই আসবে না। বউকে সাথে আনলেতো আর তোমার সাথে রসালো কথাবার্তা বলতে পারবে না, সালার লুইচ্চা"
.
অনন্ত মেজাজ ঠান্ডা করতে রুমথেকে উঠে বারান্দায় চলে যায়। পকেটে থাকা সিগারেট জ্বালিয়ে আচ্ছন্ন ধোয়ার মাঝে বসে সুখটানে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। চিন্তিত বিষন্ন মন তাকে বার বার ধেয়ে বেড়াচ্ছে। হাজার হলেও অফিসের বস উনি, চাইলেও মুখের উপর কিছু বলতে পারে না। তার প্রমোশন.. ক্যারিয়ার অনেকাংশ তার হাত দিয়েই ঘটেছে, ভবিষ্যতে ঘটবে। সেই সুযোগে টাকলু ইদানিং কয়েকমাস বেশ ভালই উৎপাত শুরু করে দিয়েছে। কিছু বাহানা পেলেই বাসায় চলে আসে। কাছাকাছি বাসা হওয়ায় বিপদ আরও বেড়েছে। কখনো অফিসের কাজের ছলে, কখনো অফিসে যাওয়ার পথে রিসিভ করতে, আবার কখনো এভাবে চেয়ে চেয়ে দাওয়াত নিয়ে ছ্যাবলার মতোন বাসায় চলে আসেন। উদ্দেশ্য একটাই অনন্তের বউ সাবিহার দেখা পাওয়া, মিষ্টি মিষ্টি দু চার লাইন কথা শুনা। সখ্যতা বেড়ে যাওয়ায় আজকাল মোবাইলেও কল দেয়া শুরু করেছে! অনন্ত অনেকটা বাধ্য হয়ে চুপচাপ। কিছু ক্ষেত্রে দেয়ালে পিঠ ঠেকার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। ইদানিং মনে হচ্ছে সেই দেয়াল খুব বেশি দূরে নেই। বেশি উৎপাত শুরু হলে দ্রুত এলাকা ছাড়তে হবে, প্রয়োজনে অন্য একটা চাকরি খুজে নিতে হবে, এরপর শালাকে উচিত শিক্ষা দেওয়া যাবে।
.
পরেরদিন ডিনারে বস শফিক সাহেব দাওয়াত খেতে চলে আসেন। যথারীতি এবারও বউ বিহীন একা একা। অনন্ত ফিসফিসিয়ে সাবিহার কানে কানে বলছিল "বলেছিলাম না, বউ আনবে না, বেটা থার্ডক্লাস নাম্বার ওয়ান" সাবিহা অনন্তর দিকে আড়চোখে তাকিয়ে বাকা হাসি দিয়ে রান্নাঘরে চলে গেল।
.
শফিক সাহেব ড্রয়িং রুমে বসে অপেক্ষা করছেন৷ কিছুক্ষণ বাদে ডাকাডাকি শুরু করে দেন.. ভাবি কই গেলেন... আপনার খাবারের সুঘ্রাণে তো পুরো বাড়ি ভরে গেছে!
সাবিহার কোনো সারা শব্দ নেই। অনন্ত তার স্যারের পাশে বসে সময় দিচ্ছে। অফিসের এটা সেটা নিয়ে আলাপ চলছে। বসের সেদিকে তেমন একটা মনোযোগ নেই। উনার চোখ মুখের চাহনিতে স্পষ্ট ফুটে উঠছে তার আর তর সইছে না, একটু পরপর দরজার দিকে আড়চোখে তাকাচ্ছে। অনন্ত দাঁতে দাঁত লাগিয়ে পাশে বসে। একটুপর স্যারের মুখে হঠাৎ ঈদের আনন্দ, আনন্দে পুরো দেহ উথলিত, মুখ ফিরে তাকিয়ে দেখে সাবিয়া রুমে ঢুকছে!
.
--- আরে ভাবি কই ছিলেন এতক্ষণ? বাসায় ঢুকে খাবারের সুঘ্রাণে ক্ষুধা তো দ্বিগুণ বেড়ে গিয়েছে, হা হা
--- তাই নাকি! কেমন আছেন ভাই? ভাবি বাচ্চারা কই??
--- আপনার ভাবির তো অনেক জ্বর, আসতে বললাম আসলো না।
--- ও...
অনন্ত মুখ ফুটে বলে উঠলো "ভাবির জ্বর! কই আজই তো দেখলাম তাকে সুস্থ শরীরে শপিং করতে!"
শফিক সাহেব হাসি মুখে গম্ভীর স্বরে বললেন "আজকাল মানুষ চোখে দেখেই জ্বর মাপা শিখে ফেললো নাকি!"
সাবিহা চোখের ইশারায় অনন্তকে চুপ থাকতে বললো, বেয়াদবী করতে নিষেধ করলো। কথা স্বাভাবিকে ঘুরিয়ে নিতে সাবিহা আবার খাবারের আলোচনায় ফিরে গেলো। এভাবে একের পর এক টপিক উঠে যাচ্ছে আর চলছে রমরমা আড্ডা। আড্ডার মাঝে অনন্ত হঠাৎ খেয়াল করে বসলো সাবিহা বেশ আনন্দেই আড্ডায় জমে গিয়েছে। তার যে ফরমালিটি পালন করে ভেতরে চলে যাওয়া উচিৎ সেদিকে তার খেয়ালই নেই। অনন্ত ইশারা দেওয়ার পরেও সাবিহা নড়ছে না। এভাবে চললো অনেক্ষণ যাবত আড্ডা। তার বউ যে এত গল্প জমাতে জানে এটাতো আগে জানা ছিল না! তাও আবার জেনেবুঝে এই অসভ্য মানুষের সাথে! ব্যাপারটা একটু হলেও অনন্তকে ভাবিয়ে তুলে।
.
ফ্রেশ হয়ে সবাই খাবার টেবিলে বসেছে। সাবিহা খাবার বেড়ে আনছে। খাওয়া শুরু করতেই অনন্তের ডিটেকটিভ চোখ অদ্ভুত একটা জিনিস আবিস্কার করে ফেলে। সাবিহার কপালের ছোট্ট বিন্দু টিপ! এটা কখন দিল? এটাকি আগেই ছিল খেয়াল করা হয়নি, নাকি মাত্রই দিয়ে আসলো?! মনেতো হচ্ছে এতক্ষণ ছিল না। যখনি দিক, এটা সে রাতেই দিয়েছে! অনন্ত মুখ গোমড়া করে খাবারে হাত বুলাচ্ছে, পেটের ক্ষুধা ইতোমধ্যে উধাও। বস বলে উঠলেন... 
--- কি ব্যাপার অনন্ত খাচ্ছ না যে?
--- খেতে ইচ্ছা করছে না, মনে হয় গ্যাস্ট্রিক প্রব্লেম, স্যার আপনি খান
--- কি যে বলো.. সাবিহা ভাবির রান্না খেলে কোনো প্রব্লেম থাকে নাকি..! তোমার তো সৌভাগ্য এমন একটা বউ পেয়েছো। গ্যাস্ট্রিক আলসার এমনেতেই সব পালিয়ে যাওয়ার কথা। একথা বলেই শশায় কচ কচ কামড় বসিয়ে দিল.. "আহা কি অমৃত টেস্ট! ভাবির রান্নার কোনো তুলনাই হয় না" 
তেল দিতে দিতে এমন অবস্থায় চলে গিয়েছে যে স্লাইস করা শশাতেও ভাবির হাতের ভিন্ন ভিন্ন টেস্ট খুজে পাচ্ছে!
সাবিহা মিটমিটিয়ে হাসছে। অনন্তের মাথায় আগুন দাউ দাউ। মনে মনে বলছে "এই বেটা যাহ তাড়াতাড়ি, রাত বাজে সারে দশটা, খাওয়া শেষ করে দূর হ এখনি"
মনের কথা শুনতে পেয়েছে কিনা কে জানে, খেয়ে আর দেরি নেই, দ্রুতই বিদায় নিয়ে চলে যান শফিক সাহেব।
.
খাটের উপর জোড়াশিং হয়ে বসে আছে অনন্ত। তাকিয়ে তাকিয়ে সাবিহার কাপড় ভাজ করা দেখছে। "কি হয়েছে এভাবে তাকিয়ে আছ কেন?" দুবার জিজ্ঞাস করেও কোনো উত্তর পাওয়া যায় নি। সাবিয়া তার মত চুপচাপ কাজ করে যাচ্ছে। অনন্ত তখনো তাকিয়ে তাকিয়ে সাবিহাকে দেখছে। সাবিহা এক পর্যায়ে ঝাড়ু হাতে বিছানা রেডি করতে আসলে অনন্তকে সরে বসতে বলে ঠিক তখনি একটানে সাবিহাকে তার পাশে টেনে বসায়। নিস্তব্ধ রুম। সাবিহা তৃতীয়বারের মতো গালে হাত রেখে জিজ্ঞেস করে ...
--- কি হয়েছে একটু বলবা?
--- তোমার কপালের টিপটা কই?
--- একটু আগে খুলে রেখেছি। কেন?
--- খুলেই যেহেতু রাখবে তবে পড়েছিলে কেন? পড়েছিলেই যেহেতু তবে আজ রাতেই কেন? সারাদিন কই ছিল?
সাবিহা বড় বড় চোখ করে অবাক হয়ে তাকিয়ে
--- কি বলতে চাচ্ছো তুমি?!! যা বলতে চাচ্ছো স্পষ্ট ভাবে বলো.... ?
--- নাহ, কিছু বলতে চাচ্ছি না, শুধু একটু জিজ্ঞেস করলাম মাত্র!
সাবিহা চোখের পানি ফেলতে ফেলতে ওয়াশরুমে ছুটে যায়। 
এভাবে সরাসরি সন্দেহের চোখে জিজ্ঞাস করাটা ঠিক হয়নি, সাবিহা তাকে অনেক ভালবাসে, মেয়েটা অনেক কষ্ট পেয়েছে। অনন্ত বিছানায় শুয়ে নিজের মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে ঝিমাতে থাকে। তবে যা কিছু নিজ চোখে একয়দিন দেখে যাচ্ছে এতে সন্দেহ না করেও উপায় পাচ্ছে না। এক হাতে কখনও তালি বাজে না। মাথায় তোলপাড় শুরু হয়ে যায়। এলোমেলো চিন্তায় সেভাবেই ঘুমিয়ে পড়ে।
.
মাঝরাতে সজাগ পেয়ে দেখতে পায় মশারি টাঙ্গানো, গায়ে ভারি কম্বল টেনে দেওয়া। পাশে সাবিহা নেই। জানালা দিয়ে দেখা যাচ্ছে সাবিহা ব্যালকনিতে দাড়িয়ে আছে। দূর দিগন্তে টিপ টিপ জ্বলে থাকা ল্যাম্পপোষ্টের আলোরাশির দিকে এক ধ্যানে তাকিয়ে। সেখানে পিপিলিকার মতোন গাড়িগুলো ছুটে বেড়াচ্ছে। গাড়িগুলোর ভেতর একেকটা মানুষ, একেকটা জীবন, একেকটা গল্প, কারো সুখের কারো দুঃখের। মাঝরাতে কান পেতে কখনও শুনতে পাওয়া যায় কারো আহাজারি কারো চিৎকার, কখনো দূর জানালা দিয়ে দেখা মেলে কারো ভেঙে যাওয়া সংসারের শেষ দৃশ্য। সাবিহার মন খারাপ থাকলে এভাবে মাঝরাতে এলোমেলো ভাবনায় ডুবে যায়, এভাবেই দূর দূরান্ত থেকে ভেসে আসা অন্যের কান্না শুনে নিজেকে 'ভাল আছি' শান্তনা দিয়ে যায়।
আজকের মন খারাপ এটাতো সামান্য অজুহাত মাত্র, ছোট্ট মন খারাপ মাঝরাতে হাজারো দমিয়ে রাখা কষ্ট গুলিকে জাগিয়ে তোলে। সপ্ত তলায় দক্ষিনমূখী এই বারান্দাটিতে সাবিহা প্রায় রাতেই এভাবে দাঁড়িয়ে থাকে, নির্জনে একাকি, প্রতীক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকে.. একদিন সুখ পাখিটা নীড়ে ফিরবে বলে। 
.
সাবিহা বুঝতে পারে পাশে অনন্ত এসে দাঁড়িয়েছে। নূন্যতম বিচলিত না হয়ে সেভাবেই বাহির পানে চেয়ে। নীরবতা ভেঙে অনন্ত বলে উঠে...
--- আমি দুঃখিত, এভাবে বাজে সন্দেহে দোষারোপ করা ঠিক হয় নি। বসের কথা বার্তা আর চাহনিতে ভেতরটা এলোমেলো হয়ে গেছিল। তাই আর কি....
--- ঠিক আছে। হুম এটাই স্বাভাবিক। নিজের ভালবাসার মানুষের পাশে কেউ অন্যের অধিকার সহ্য করতে পারে না। তোমাকে কিছু কথা বলতে চাই ... যদি সন্দেহ না করো তবে কি কিছু কথা বলতে পারি?
--- আমি একটুও সন্দেহ করবো না, যা বলার একদম ফ্রি মাইন্ডে বলে ফেলো
--- তোমার বস শফিক সাহেবকে যতই লুচ্চা বলো, মানুষটা কিন্তু ভালো, অনেক কেয়ারিং, অনেক ফ্রেন্ডলি, কাজকর্ম সব কিছুতেই একটিভ পারসন, সম্পত্তি পজিসন এসবেও কমতি নেই। এখন হয়তো তার বয়স বেড়েছে কিন্তু ইয়াং বয়সে অবিবাহিত হলে অনেক মেয়েই তার সাথে মিশলে তারা সহজেই পটে যেত। আরেকটু খুলে বলি..? তোমার সাথে আমার কোনদিন পরিচয় না হলে.. আজ আমি অবিবাহিত পাত্রী হিসেবে থাকলে শফিক সাহেব যদি অবিবাহিত পাত্র হিসেবে আমার সামনে এসে দাঁড়াতো হয়ত আমিও পটে যেতাম। কোনো মানুষের প্রতি ভাললাগা সৃষ্টি হতে আমাদের কারো হাত থাকেনা। ভালো মানুষের প্রতি, সুন্দর চেহারার প্রতি এমন অনেক কিছুর উপর ভিত্তিকরে ধীরে ধীরে ভালবাসা গড়ে উঠে। ভাললাগাতে কোনো অপরাধ নেই সেখানে আমাদের হাত নেই অপরাধ হচ্ছে নিজেকে কন্ট্রোলে না এনে বাধা-নিষেধ ডিঙিয়ে অবৈধ ভালবাসার স্বপ্ন দেখে যাওয়া। যতটুকু বুঝতে পেরেছি শফিক সাহেব আমার প্রেমে পরেছেন। আমাকে অনেক ভালবাসেন। আমি তার অনুভূতিকে ছোট করে দেখি না, ছোট করে দেখি তার স্বপ্নকে। ঘৃণা করি শফিক সাহেবের কল্পনাকে যে তার পরিবারের কথা না ভেবে নিজেকে অবৈধ পথে টেনে নিচ্ছে সাথে অন্যকেও সেই পথে নিতে চাচ্ছে। শফিক সাহেব যদি রিগুলার এভাবে যোগাযোগ করে যায় আর আমাকেও যদি সবকিছু জেনে বুঝে এভাবে যোগাযোগ রেখে প্রতিদিন হাসিমুখে কথা বলে যেতে হয় তবে একটাদিন হয়তো আমিও তার সঙ্গটাকে ভালোবেসে ফেলব। প্লিজ ভুল বুঝো না, আমার কিছুই হয় নি, শুধু এটুক বলে দিচ্ছি আমরা ভুল পথে আছি। একটা সম্পর্কে তৃতীয় কোন ব্যক্তি ঢুকে যায় কখন জানো? ঠিক তখনই যখন আমরা ঢুকার রাস্তাটা খুলে দেই। অনন্ত.. আমি চাচ্ছি তুমি সেই রাস্তাটা বন্ধ করে দাও, আগলে রাখো আমাকে.. আগলে রাখো নিজেকে.. আগলে রাখো আমাদের সুখের সংসারকে। আমি চাইনা তৃতীয় কোন মানুষ আশেপাশে চলে আসুক, অনেক ভালবাসি তোমাকে অনেক। 
.
সাবিহা অনন্তকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগে। অনন্ত তাকে বুকে জড়িয়ে স্বান্তনা দিয়ে বলে যায়...
--- যা বলতে চাচ্ছো বুঝেছি আমি, তুমি কোনও টেনশন নিও না, সামনের মাসে এলাকা চেইঞ্জ করে ফেলবো। তোমার নাম্বারটা চেইঞ্জ করে দিব। প্রয়োজনে সরাসরি স্যারের সাথে কথা বলবো। কাউকে আসতে দিবনা তোমার পাশে কাউকেই না। চেইঞ্জ করে দিব.. সব চেইঞ্জ.. 
বলতে বলতে ঢুকরে কেঁদে উঠে। কিছু একটা বলতে গিয়ে অনন্ত থেমে যায়। সাবিহাকে বুকে চেপে রেখে নিজ কথা থামিয়ে নীরবে চোখের পানি ফেলে যায়।
সাবিহা সেদিন তার না বলা কথা গুলি বুঝে নিতে একটুও ভুল করেনি। 
.
.
দুই মাস পর...
পার্কের বেঞ্চিতে একপ্রান্তে বসে আছে সাবিহা। অপর প্রান্তে বসে আছেন শফিক সাহেব!! 
এটাই দুজনের দ্বিতীয় এবং শেষ গোপন সাক্ষাৎ। দুজনের মুখে আজ আনন্দের হাসি। তারা পেরেছে চার চারটা জীবন রক্ষা করতে। যেদিন তাদের প্রথম দেখা হয়েছিল সেদিন দুজনেই ছিল ধ্বংসের মুখে দাড়িয়ে। শফিক সাহেব সবকিছু খুলে বলে দেয়, প্রমাণ সহ অনেককিছু দেখিয়ে দেয়.. অনন্ত এবং তার স্ত্রীর মাঝে বিশেষ বন্ধুত্বের তিক্ত কাহিনী! একই অফিসে জব করেন শফিকের স্ত্রী, স্পষ্ট করে বলতে গেলে দুজন পরকীয়া প্রেমে জরিয়ে পড়েছিল। শফিকের সাথে তার স্ত্রীর সম্পর্ক খুব একটা ভাল যাচ্ছিলো না। এসুযোগে তার স্ত্রী অনন্তের সাথে আরও বেশি সময় দেওয়া শুরু করে দেয়। তারা ভেবে নিয়েছিল এবং এখনও ভেবে বসে আছে তাদের যোগাযোগ নিয়ে কেউ কিছু জানে না। কিন্তু চৌখস শফিক সাহেব ব্যাপারটা বুঝে নিতে খুব বেশি দেরি করেনি। চুপচাপ প্রমাণ সংগ্রহ করে যায়। ঠান্ডা মাথায় সাবিহাকে ডেকে এনে বুঝায়। হই হুল্লোর করে লাভ নেই, বরং দুজন মিলে এমন কিছু করি যাতে তারা তাদের আপন মানুষদের কষ্ট বুঝতে শিখুক। বাচ্চাদের ধরে বেধে আটকে রাখা যায়, বড়দের নয়, বড়দের আটকাতে হয় বিবেকের রশিতে। একসিডেন্টে ভেঙে যাওয়া কাচের গ্লাস পাড়ালে ভাঙা টুকরো গুড়ো হয়ে যাবে.. পা কেটে রক্তাক্ত হয়ে যাবে.. তবু গ্লাস আর ফেরত পাওয়া যাবে না, বরং একটা একটা টুকরো লাগাতে বসি একদিন হয়ত পুরোগ্লাসটাই ফেরত পেয়ে যাবো। শফিক সাহেব আর সাবিহা ঠিক এই কাজটিই ধৈর্য ধরে করে গিয়েছেন, সুদিন ফেরার অপেক্ষায়। সেদিনের উপলব্দির পর অনন্ত নিজ থেকে অফিসে ট্রেন্সফারের আবেদন করে দিয়েছিল। আজ তারা বদলি হয়ে রাজশাহী চলে যাচ্ছে। আজ শেষ দেখা করতে সাবিহা ও শফিক সাহেব দুজন মুখোমুখি।
.
--- কেমন আছেন ভাবি?
--- আলহামদুলিল্লাহ অনেক ভাল, আপনার চলছে কেমন?
--- আমারও অনেক ভাল। আজ রাতেই চলে যাচ্ছেন?
--- হ্যা, সবকিছু রেডি। ভাই ভাল থাকবেন, আপনি যে উপকারটা করেছেন আজীবন মনে রাখবো। আপনার আইডিয়াতে আজ সবকিছু ফিরে পেয়েছি। কিভাবে বিপদে ধৈর্য ধরে মাথা ঠান্ডা রেখে এগিয়ে যেতে হয় আপনার থেকে শিখতে পেরেছি।
--- কি যে বলেন ভাবি, ডায়লগ তো সব আপনিই শিখিয়ে দিলেন! জীবনে নিজ বউকেই কোনদিন প্রশংসা শুনাতে পারি নাই আর আপনাকে অনন্তের সামনে কি দিয়ে কি যে বলেছি!
--- হুম এরপর ভাবির সামনে বেশি বেশি তার দুর্নাম কইরেন তখন বুঝবেন আবার মজা , হাহা
--- তওবা তওবা, এখন তো আমি রোমান্টিক ছেলে হয়ে গিয়েছি, সকাল বিকাল বউয়ের প্রশংসা করি! তোমার দেওয়া টিপস গুলো দিয়ে সত্যিই সম্পর্কটা অনেক গুছিয়ে আনতে পেরেছি।
--- দেইখেন ভাই.. একটু সাবধানে, অতি প্রশংসা করতে গিয়ে সেদিনের মতো যেন শসার প্রশংসা না করে বসেন! শসা খেয়ে বাহ বাহ কি অমৃত রান্না!! হি হি..
--- হা হা হা.......
--- আচ্ছা ভাই এখন উঠি, ভাল থাকবেন
--- তুমিও ভাল থেকো বোন
উঠে যেতে যেতে শফিক সাহেব বলে উঠেন..
--- ভাবি! আপনার হাসিটা কিন্তু মারাত্মক সুন্দর!
--- এহেম এহেম.... ভাইজান আমরা কিন্তু এখন ক্যারেক্টারের বাহিরে আছি!
দুজন হো হো করে হেসে উঠে, বিদায়ের নিস্তব্ধতা কাটিয়ে তুলতে শফিক তার মত করে মজা লুটে যাচ্ছে.. " বিশ্বাস করেন ভাবি, আপনার কোকিল কন্ঠ এখনো রয়ে রয়ে কানে বেজে যায়! আপনার রান্না একদিন খেলে সাত দিন মুখে লেগে থাকে....!ইত্যাদি ইত্যাদি"
সাবিহা হা হা করে হেসে যাচ্ছে। 
.
শফিক সাহেব তার বউকে ফিরে পেয়ে নতুন করে বাঁচতে শিখেছে। গোমড়া মুখো লোকটা আজ হাসি তামাশা করতে শিখেছে। অফিসের বদ্ধ চার দেয়ালের সিরিয়াস জীবনের বাহিরেও যে সুন্দর একটি জীবন রয়েছে তা তিনি বুঝতে শিখেছে।
দুজন পার্ক থেকে বেড়িয়ে যায়। 
.
সাবিহা বিদায় নিয়ে হেঁটে যেতে থাকে তার গন্তব্যের পথে। হাতে সময় নেই, সাবিহা দ্রুত হেঁটে যায়। সুখ পাখিটা আজ প্রতীক্ষায় বসে আছে তার বাড়ি ফেরার অপেক্ষায়.....


Tag:-বউ এর ভালবাসা ২ - Wife Love  Season 2 - Romantik Love Story - ভালবাসার অনুভূতি,romantic love story bangla, romantic love story movie, romantic love story in english, romantic love story | short film, romantic love story song, romantic love story reading, romantic bedtime story, romantic love story in tamil
Help
X